শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত ছিয়াম পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে, যখন সক্ষম হবে (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৩৫৫; আল-মাজমূঊ, ৬/২৬৭; আল-মুগনী, ৩/১৪৯ পৃ.; তাফসীরুল কুরতুবী, ২/২৮৯ পৃ.)। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির লোকের ছিয়াম ও অর্ধেক ছালাত কমিয়ে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্যও ঐ অবস্থায় ছিয়াম ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন’ (তিরমিযী, হা/৭১৫; নাসাঈ, ৪/১৮০ পৃ.; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৬৭)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এক রমাযানের ক্বাযা ছিয়াম পালনে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েয নয়। কারণ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, ‘আমার উপর রমাযানের যে ক্বাযা ছিয়াম থাকতো তা পরবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত আমি আদায় করার সুযোগ পেতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬)। এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় রামাযানের পরে পালন করার কোন ছাড় নেই। যদি কোন ওজর ছাড়া এমনটি করে তাহলে সে গুনাহগার হবে এবং তার উপর ওয়াজিব হল দ্বিতীয় রামাযানের পর অবিলম্বে ক্বাযা ছিয়াম পালন করা। তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে, না-কি না এ ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক কথা হল, তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। আল্লাহ তা‘আলা এখানে ক্বাযা পালন ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব করেনি (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৭)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী গত বছর রামাযান মাসে কিছু ছিয়াম ভেঙ্গেছে। অতঃপর শা‘বান মাসের শেষদিকে ছিয়ামগুলোর ক্বাযা পালন শুরু করেছে। এর মধ্যে তার হায়িয শুরু হয়ে গেছে এবং এ বছরের রামাযান মাসও শুরু হয়ে গেছে। অথচ তার একটি ছিয়াম ক্বাযা পালন রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তার উপর কী কর্তব্য?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘সে নারী এ বছরের রামাযানের আগে যে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করতে পারেনি তার ওপর সে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করা ওয়াজিব। এ বছরের রামাযান মাস শেষ হলে গত বছরের যে ছিয়াম তার ছুটে গেছে সেটার ক্বাযা পালন করবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৮)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী নিফাসের কারণে রামাযানের ছিয়াম ভেঙ্গেছে এবং দুধ পান করানোর কারণে ক্বাযাও পালন করতে পারেনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় রামাযান শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তার উপর কী ওয়াজিব? উত্তরে তিনি বলেন, এ নারীর ওপর ওয়াজিব হল যে দিনগুলোতে সে ছিয়াম ভেঙ্গেছে সেগুলোর বদলে ছিয়াম রাখা। এমনকি সেটা যদি দ্বিতীয় রামাযানের পরে হয় তবুও। কেননা সে বিশেষ ওজরের কারণে প্রথম রামাযান ও দ্বিতীয় রামাযানের মাঝে ক্বাযা পালন করতে পারেনি। কিন্তু যদি শীতকালে ক্বাযা পালন করা তার জন্য কষ্টকর না হয়, সেটা একদিন বাদ দিয়ে একদিন হলেও তাহলে সেটাই তার উপর অনিবার্য। এমনকি সে যদি দুধ পান করায় তবুও। তার উচিত রামাযানের যে ছিয়ামগুলো ছুটে গেছে দ্বিতীয় রামাযান আসার আগেই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা। যদি সে না পারে তাহলে দ্বিতীয় রামাযান পর্যন্ত বিলম্ব করলেও কোন অসুবিধা নেই (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৬০)।

সারকথা হল, এ দিনগুলোর ছিয়ামের ক্বাযা পালন করা ঐ নারীর দায়িত্বে থাকা ঋণ। যখনই তার সক্ষমতা হবে তখনই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : রুকশানা, ধানমণ্ডি।




প্রশ্ন (৩২) : উঠাবাসা করতে সমস্যা হয় কিন্তু দাঁড়িয়ে থাকতে ও হাঁটতে কোন সমস্যা হয় না। বাজারেও হেঁটে বেড়ানো যায় কিন্তু মসজিদে ছালাতের সময় চেয়ার কিংবা টুলে বসে ছালাত আদায় করতে হয়। এ অবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : যে ব্যক্তি জুম‘আর দিনে সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে, সে ৮ দিন পর্যন্ত সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে, যদিও তার মাঝে দাজ্জাল এসে যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মুহাম্মাদ (ﷺ) দিনের কোন্ কোন্ সময় ঘুমাতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : হানাফী মাযহাবের আলেমরা বলে থাকেন যে, একটি মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে নিজে নিজে বিবাহ করতে পারবে। অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন নেই। তারা দলীল হিসাবে পেশ করে নিম্নের হাদীছটি। একদা রাসূল (ﷺ)-এর কাছে এসে এক মেয়ে বলল, আমাকে বিয়ে করুন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার প্রয়োজন নেই। তখন এক ছাহাবী দাঁড়িয়ে বলেন, আপনার প্রয়োজন না হলে আমার প্রয়োজন আছে। তখন রাসূল (ﷺ) তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দেন (বুখারী, হা/২৩১০; মুসলিম, হা/১৪২৫)।। তাদের দাবী কি সঠিক? কোন মেয়ে অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : অনেকেই বিশুদ্ধ আক্বীদা সম্পর্কে উদাসীন। প্রকৃতপক্ষে বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রতিদান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ‘কতক ক্বারীকে কুরআন লা‘নত করে’। এ মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : জনৈক বক্তা বলেন, মসজিদের ইমাম তার মসজিদের আশেপাশের চল্লিশ ঘর লোকের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মাফলার বা হুডি পরে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ইমাম দু‘আ কুনূত পাঠ করার সময় মুক্তাদীগণ শুধু আমীন আমীন বলবেন, না-কি ইমামের সাথে দু‘আ কুনূতও পাঠ করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন তোমাদের নিকট দিয়ে কোন ইহুদী বা খ্রিস্টান বা মুসলিমের লাশ অতিক্রম করবে, তখন তোমরা তার জন্য দাঁড়াবে। এটা তার সম্মানে নয়, তোমরা মূলত ফেরেশতাদের সম্মানার্থে দাঁড়াও’ (মুসনাদে আহমাদ হা/১৯৫০৯) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমি একজন ব্যবসায়ীকে কিছু পণ্য কিনে দিয়েছি এবং তাকে বলেছি যে, তার ইনছাফ মত আমাকে যা পার লাভ দিতে। এটা কি সূদ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোন মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর বিয়ে করার পূর্বে তার সাথে ঘুরতে যাওয়া বা হোটেলে খেতে যাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ