রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত ছিয়াম পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে, যখন সক্ষম হবে (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৩৫৫; আল-মাজমূঊ, ৬/২৬৭; আল-মুগনী, ৩/১৪৯ পৃ.; তাফসীরুল কুরতুবী, ২/২৮৯ পৃ.)। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির লোকের ছিয়াম ও অর্ধেক ছালাত কমিয়ে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্যও ঐ অবস্থায় ছিয়াম ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন’ (তিরমিযী, হা/৭১৫; নাসাঈ, ৪/১৮০ পৃ.; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৬৭)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এক রমাযানের ক্বাযা ছিয়াম পালনে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েয নয়। কারণ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, ‘আমার উপর রমাযানের যে ক্বাযা ছিয়াম থাকতো তা পরবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত আমি আদায় করার সুযোগ পেতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬)। এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় রামাযানের পরে পালন করার কোন ছাড় নেই। যদি কোন ওজর ছাড়া এমনটি করে তাহলে সে গুনাহগার হবে এবং তার উপর ওয়াজিব হল দ্বিতীয় রামাযানের পর অবিলম্বে ক্বাযা ছিয়াম পালন করা। তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে, না-কি না এ ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক কথা হল, তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। আল্লাহ তা‘আলা এখানে ক্বাযা পালন ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব করেনি (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৭)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী গত বছর রামাযান মাসে কিছু ছিয়াম ভেঙ্গেছে। অতঃপর শা‘বান মাসের শেষদিকে ছিয়ামগুলোর ক্বাযা পালন শুরু করেছে। এর মধ্যে তার হায়িয শুরু হয়ে গেছে এবং এ বছরের রামাযান মাসও শুরু হয়ে গেছে। অথচ তার একটি ছিয়াম ক্বাযা পালন রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তার উপর কী কর্তব্য?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘সে নারী এ বছরের রামাযানের আগে যে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করতে পারেনি তার ওপর সে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করা ওয়াজিব। এ বছরের রামাযান মাস শেষ হলে গত বছরের যে ছিয়াম তার ছুটে গেছে সেটার ক্বাযা পালন করবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৮)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী নিফাসের কারণে রামাযানের ছিয়াম ভেঙ্গেছে এবং দুধ পান করানোর কারণে ক্বাযাও পালন করতে পারেনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় রামাযান শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তার উপর কী ওয়াজিব? উত্তরে তিনি বলেন, এ নারীর ওপর ওয়াজিব হল যে দিনগুলোতে সে ছিয়াম ভেঙ্গেছে সেগুলোর বদলে ছিয়াম রাখা। এমনকি সেটা যদি দ্বিতীয় রামাযানের পরে হয় তবুও। কেননা সে বিশেষ ওজরের কারণে প্রথম রামাযান ও দ্বিতীয় রামাযানের মাঝে ক্বাযা পালন করতে পারেনি। কিন্তু যদি শীতকালে ক্বাযা পালন করা তার জন্য কষ্টকর না হয়, সেটা একদিন বাদ দিয়ে একদিন হলেও তাহলে সেটাই তার উপর অনিবার্য। এমনকি সে যদি দুধ পান করায় তবুও। তার উচিত রামাযানের যে ছিয়ামগুলো ছুটে গেছে দ্বিতীয় রামাযান আসার আগেই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা। যদি সে না পারে তাহলে দ্বিতীয় রামাযান পর্যন্ত বিলম্ব করলেও কোন অসুবিধা নেই (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৬০)।

সারকথা হল, এ দিনগুলোর ছিয়ামের ক্বাযা পালন করা ঐ নারীর দায়িত্বে থাকা ঋণ। যখনই তার সক্ষমতা হবে তখনই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : রুকশানা, ধানমণ্ডি।




প্রশ্ন (২৯) : ব্যবসায়িক মালের যাকাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : স্টুডিও-এর ব্যবসা যেমন ছবি তোলা, ছবি প্রিন্ট করা প্রভৃতির ব্যবসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : এক ব্যক্তির পৈত্রিক কিছু সম্পদ আত্মীয়-স্বজন অবৈধভাবে ভোগ করছে। ফিরিয়ে নিতে গেলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শরী‘আতে নিষিদ্ধ। এখন সে কোনটা প্রাধান্য দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যমীনের মধ্যকার সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলেন, এরূপ প্রশ্ন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছিয়াম অবস্থায় সাইনোসাইটিস রোগীর পেটের ভেতরে নাকের শ্লেষ্মা চলে গেলে তার ছিয়ামের হুকুম কী? একই রোগী যদি নাকে রক্তসহ ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং তার মুখে রক্তের স্বাদ পায় সেক্ষেত্রে হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আক্বীক্বার সপ্তম দিনে যদি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হয়, তাহলে আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ফার্মেসীতে যারা ওষুধ বিক্রয় করে তাদেরকে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। যেমন কোন নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ ১০,০০০ হাজার টাকার অর্ডার দিলে/বিক্রয় করলে কোম্পানি থেকে নগদ ২০০০ টাকা অথবা বিভিন্ন আসবাবপত্র উপহার দেয়। আবার অনেক ফার্মেসীর মালিক টাকা বা আসবাবপত্র না নিয়ে সেই সমপরিমাণ ওষুধ নিয়ে নেয়। এগুলো নেয়া জায়েয হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ইমাম সালাম ফেরানোর পর মাসবুক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ানোর সময় রাফ‘উল ইয়াদায়েন করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জনৈক ইমাম বলেন, যে ব্যক্তি ক্বদরের রাত্রে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর ২১ বার করে সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় করে দিবেন। আর তার জন্য জান্নাতে এক হাজার মনোরম বালাখানা তৈরি করা হবে (আশরাফ আলী থানবী, পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা, পৃঃ ৩০৯)। উক্ত মর্মে ছহীহ কোন বর্ণনা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ) তথা ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা‘বূদ নেই’ (وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًّا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ) ‘এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল’। এর প্রকৃত অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০): সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দুনিয়াতে আপন ভাই-বোনের মাঝে সম্পর্কই নাকি শেষ। পরকালে পরস্পরের মাঝে আর নাকি কখনো দেখা হবে না। এটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ