মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত ছিয়াম পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে, যখন সক্ষম হবে (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৩৫৫; আল-মাজমূঊ, ৬/২৬৭; আল-মুগনী, ৩/১৪৯ পৃ.; তাফসীরুল কুরতুবী, ২/২৮৯ পৃ.)। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির লোকের ছিয়াম ও অর্ধেক ছালাত কমিয়ে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্যও ঐ অবস্থায় ছিয়াম ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন’ (তিরমিযী, হা/৭১৫; নাসাঈ, ৪/১৮০ পৃ.; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৬৭)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এক রমাযানের ক্বাযা ছিয়াম পালনে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েয নয়। কারণ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, ‘আমার উপর রমাযানের যে ক্বাযা ছিয়াম থাকতো তা পরবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত আমি আদায় করার সুযোগ পেতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬)। এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় রামাযানের পরে পালন করার কোন ছাড় নেই। যদি কোন ওজর ছাড়া এমনটি করে তাহলে সে গুনাহগার হবে এবং তার উপর ওয়াজিব হল দ্বিতীয় রামাযানের পর অবিলম্বে ক্বাযা ছিয়াম পালন করা। তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে, না-কি না এ ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক কথা হল, তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। আল্লাহ তা‘আলা এখানে ক্বাযা পালন ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব করেনি (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৭)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী গত বছর রামাযান মাসে কিছু ছিয়াম ভেঙ্গেছে। অতঃপর শা‘বান মাসের শেষদিকে ছিয়ামগুলোর ক্বাযা পালন শুরু করেছে। এর মধ্যে তার হায়িয শুরু হয়ে গেছে এবং এ বছরের রামাযান মাসও শুরু হয়ে গেছে। অথচ তার একটি ছিয়াম ক্বাযা পালন রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তার উপর কী কর্তব্য?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘সে নারী এ বছরের রামাযানের আগে যে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করতে পারেনি তার ওপর সে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করা ওয়াজিব। এ বছরের রামাযান মাস শেষ হলে গত বছরের যে ছিয়াম তার ছুটে গেছে সেটার ক্বাযা পালন করবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৮)। তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী নিফাসের কারণে রামাযানের ছিয়াম ভেঙ্গেছে এবং দুধ পান করানোর কারণে ক্বাযাও পালন করতে পারেনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় রামাযান শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তার উপর কী ওয়াজিব? উত্তরে তিনি বলেন, এ নারীর ওপর ওয়াজিব হল যে দিনগুলোতে সে ছিয়াম ভেঙ্গেছে সেগুলোর বদলে ছিয়াম রাখা। এমনকি সেটা যদি দ্বিতীয় রামাযানের পরে হয় তবুও। কেননা সে বিশেষ ওজরের কারণে প্রথম রামাযান ও দ্বিতীয় রামাযানের মাঝে ক্বাযা পালন করতে পারেনি। কিন্তু যদি শীতকালে ক্বাযা পালন করা তার জন্য কষ্টকর না হয়, সেটা একদিন বাদ দিয়ে একদিন হলেও তাহলে সেটাই তার উপর অনিবার্য। এমনকি সে যদি দুধ পান করায় তবুও। তার উচিত রামাযানের যে ছিয়ামগুলো ছুটে গেছে দ্বিতীয় রামাযান আসার আগেই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা। যদি সে না পারে তাহলে দ্বিতীয় রামাযান পর্যন্ত বিলম্ব করলেও কোন অসুবিধা নেই (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৬০)।

সারকথা হল, এ দিনগুলোর ছিয়ামের ক্বাযা পালন করা ঐ নারীর দায়িত্বে থাকা ঋণ। যখনই তার সক্ষমতা হবে তখনই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : রুকশানা, ধানমণ্ডি।




প্রশ্ন (২৩) : আহলেহাদীছ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : শরী‘আত বিরোধী গঠনতন্ত্র ও সংবিধান সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সিরামিক ইট ব্যবহার করে সুন্দর করা হচ্ছে। এটা দেখে এলাকার লোকেরা ঠাট্টা করে বলাবলি করছে এখান থেকেই ক্বিয়ামত শুরু হবে। এভাবে বলা কি জায়েয?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক আলেম لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, এর ব্যাখ্যা হল নিম্নে দু‘আ- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَبِحَمْدِهِ، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ আর এর ফযীলত হল, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকালে উক্ত আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ছয়টি ফযীলত রয়েছে- (ক) সে শয়তান ও তার সহযোগীদের থেকে রক্ষা পাবে। (খ) তাকে এক কিনতার (অঢেল মাপ) পরিমাণ নেকী দেয়া হবে। (গ) তার জন্য জান্নাতে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। (ঘ) তার সাথে চোখ জুড়ানো হুরদের বিবাহ দেয়া হবে। (ঙ) তার নিকট দশজন ফেরেশতা উপস্থিত থাকবে। (চ) কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জীল ও যাবূর তেলাওয়াত করার মত নেকী দেওয়া হবে। বিশেষ করে সে একটি কবুল হজ্জ ও ওমরার নেকী পাবে। যদি সে ঐ দিন মারা যায় তবে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামের দৃষ্টিতে ছেলে-মেয়েদের সহশিক্ষা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মহিলাদের দ্বারা একটি ইয়াতীম বালিকা মাদরাাসা পরিচালিত হয়। যেখানে ৪৫/৫০ জন বাচ্চা আছে। যাদের বয়স ৭ বৎসর থেকে ১৫/১৬ বৎসর পর্যন্ত। তাদের ঘরের বাইরে খেলাধূলা করার কোনো সুযোগ নেই।  এমতাবস্থায়  তারা কি ঘরের মধ্যে লুডু, ক্যারাম বোর্ড ও দাবা, খেলতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কোন শী‘আ মেয়েকে কি বিয়ে করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : পড়াশুনার কারণে বাইরে থাকার সুবাদে অনেক সময় একাকী থাকতে হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : দীর্ঘ মেয়াদী ঋণী ব্যক্তি কি হজ্জ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কিছু কিছু গ্রন্থে বিশেষতঃ ‘আলি‌ফ লাইলা’ (একহাজার এক আরব্য রজনী) গ্রন্থে হারুনুর রশীদ সম্পর্কে লেখা হয়েছে যে, তিনি খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই চিনতেন না, মদ খেতেন, বাঁদি নাচাতেন, বাঁদিদেরকে তার কাছে কাছে রাখতেন ইত্যাদি। এগুলো কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একাধিকবার গ্লাসে পানি পান করার সময়, প্রতিবারই কি ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আমরা জানি, দাদার আগে যদি বাবা মারা যান তাহলে নাতি/নাতনিরা দাদার সম্পত্তির অংশ পাবে না, সেক্ষেত্রে দাদা ওসিয়ত করতে পারবেন। আমার প্রশ্ন দাদা যদি ওসিয়ত করে না যান সেক্ষেত্রে নাতি/নাতনিরা কি কিছুই পাবে না? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ওসিয়ত যে করা যায় এই বিষয়টা অনেকে জানেন না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ