শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত ছিয়াম পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করবে, যখন সক্ষম হবে (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৩৫৫; আল-মাজমূঊ, ৬/২৬৭; আল-মুগনী, ৩/১৪৯ পৃ.)। হাসান বাছরী, ‘আত্বা বিন আবী রাবাহ, যাহ্হাক, নাখঈ, আবূ উবাইদ, আবূ ছাওর, ইবনুল মুনযির সহ সালাফে ছালিহীনের একটি জামা‘আত একই মত পেশ করেছেন (তাফসীরুল কুরতুবী, ২/২৮৯ পৃ.)। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির লোকের ছিয়াম ও অর্ধেক ছালাত কমিয়ে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্যও ঐ অবস্থায় ছিয়াম ছাড়ার সুযোগ দিয়েছেন’ (তিরমিযী, হা/৭১৫; নাসাঈ, ৪/১৮০ পৃ.; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৬৭)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আলিমদের প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী এক রমাযানের ক্বাযা ছিয়াম পালনে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েয নয়। কারণ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, ‘আমার উপর রমাযানের যে ক্বাযা ছিয়াম থাকতো তা পরবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত আমি আদায় করার সুযোগ পেতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯৫০; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৪৬)। এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় রামাযানের পরে পালন করার কোন ছাড় নেই। যদি কোন ওজর ছাড়া এমনটি করে তাহলে সে গুনাহগার হবে এবং তার উপর ওয়াজিব হল দ্বিতীয় রামাযানের পর অবিলম্বে ক্বাযা ছিয়াম পালন করা। তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে, না-কি না এ ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। সঠিক কথা হল, তার ওপর মিসকীন খাওয়ানো আবশ্যক হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূর্ণ করবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৫)। আল্লাহ তা‘আলা এখানে ক্বাযা পালন ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব করেনি (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৭)।
তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী গত বছর রামাযান মাসে কিছু ছিয়াম ভেঙ্গেছে। অতঃপর শা‘বান মাসের শেষদিকে ছিয়ামগুলোর ক্বাযা পালন শুরু করেছে। এর মধ্যে তার হায়িয শুরু হয়ে গেছে এবং এ বছরের রামাযান মাসও শুরু হয়ে গেছে। অথচ তার একটি ছিয়াম ক্বাযা পালন রয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তার উপর কী কর্তব্য? উত্তরে তিনি বলেন, ‘সে নারী এ বছরের রামাযানের আগে যে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করতে পারেনি তার ওপর সে ছিয়ামটির ক্বাযা পালন করা ওয়াজিব। এ বছরের রামাযান মাস শেষ হলে গত বছরের যে ছিয়াম তার ছুটে গেছে সেটার ক্বাযা পালন করবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৫৮)।
তাঁকে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক নারী নিফাসের কারণে রামাযানের ছিয়াম ভেঙ্গেছে এবং দুধ পান করানোর কারণে ক্বাযাও পালন করতে পারেনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় রামাযান শুরু হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তার উপর কী ওয়াজিব? উত্তরে তিনি বলেন, এ নারীর ওপর ওয়াজিব হল যে দিনগুলোতে সে ছিয়াম ভেঙ্গেছে সেগুলোর বদলে ছিয়াম রাখা। এমনকি সেটা যদি দ্বিতীয় রামাযানের পরে হয় তবুও। কেননা সে বিশেষ ওজরের কারণে প্রথম রামাযান ও দ্বিতীয় রামাযানের মাঝে ক্বাযা পালন করতে পারেনি। কিন্তু যদি শীতকালে ক্বাযা পালন করা তার জন্য কষ্টকর না হয়, সেটা একদিন বাদ দিয়ে একদিন হলেও তাহলে সেটাই তার উপর অনিবার্য। এমনকি সে যদি দুধ পান করায় তবুও। তার উচিত রামাযানের যে ছিয়ামগুলো ছুটে গেছে দ্বিতীয় রামাযান আসার আগেই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা। যদি সে না পারে তাহলে দ্বিতীয় রামাযান পর্যন্ত বিলম্ব করলেও কোন অসুবিধা নেই (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৯/প্রশ্ন নং-৩৬০)।

সারকথা হল, এ দিনগুলোর ছিয়ামের ক্বাযা পালন করা ঐ নারীর দায়িত্বে থাকা ঋণ। যখনই তার সক্ষমতা হবে তখনই সেগুলোর ক্বাযা পালন করা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : ফারজানা, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২৫) : মহান আল্লাহর ঋণ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেউ যদি ছালাত ছেড়ে ছেড়ে পড়ে যেমন আছর পড়লে মাগরিব পড়ে না, এশার পড়লে ফজর পড়ে না। এমন ব্যক্তিও কি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পিতা-মাতার দিকে রহমতের নযরে তাকালে একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ﷺ) নবজাতক অবস্থায় একদিন তাঁর মা বাড়ীর আঙ্গিনায় শুইয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে তাঁর জন্মের পূর্বে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তিকাল করাই মা আমিনার মন খারাপ ছিল। এমতাবস্থায় চাচা আবূ তালিব বলেন, আমি ঐ অবস্থায় লক্ষ্য করলাম যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) যখন তার হাত ডানদিকে নিচ্ছে তখন চন্দ্র ডান দিকে যাচ্ছে, আর যখন হাত বাম দিকে যাচ্ছে তখন চন্দ্র বাম দিকে যাচ্ছে। আর যখন উভয় হাত নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে, তখন চন্দ্রও তাঁর নিকটবর্তী হচ্ছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর চাচা আবূ তালিব এ সম্পর্কে রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জন্মের পূর্বে আমার পিতা মারা যাওয়ায় আমার মায়ের মন খারাপ ছিল। তাই ঐ সময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলা চন্দ্রকে আমার খেলনাস্বরূপ বানিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে আমার আনন্দের কোন ঘাটতি না পড়ে’। উক্ত ঘটনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : পবিত্র কুরআনে কখন কিভাবে রুকূ‘ সংযোগ করা হয়? তাছাড়া উপমহাদেশীয় নুসখায় এটা দেখা যায়, কিন্তু আরব বিশ্বের নুসখায় দেখা যায় না কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যদি কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করার সময় সন্দেহে পড়ে যে কয় চক্কর হল, তাহলে কি সাহু সেজদা দিবে? কারণ বায়তুল্লাহ্‌কে ত্বাওয়াফ করা ছালাততুল্য। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : প্রথম রাক‘আতে দ্বিতীয় সিজদার পর মাথা তোলার সময় তাকবীর দিয়ে জালসা ইস্তিরাহাতের জন্য বসতে হবে, না-কি জালসা ইস্তিরাহাতের পর তাকবীর দিয়ে দাঁড়াতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ত্বালাক্ব দেয়ার সময় স্ত্রীকে জানানো অথবা লিখিত দেয়া কি যরূরী? স্ত্রীকে না জানিয়ে ত্বালাক্ব দিলে সেই ত্বালাক কার্যকর হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পুরুষ চিকিৎসক দ্বারা মহিলাদের চিকিৎসা করালে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : এক লোক মারা যাবার সময় কিছু নগদ অর্থ (৭,৪৭,০০০) ও একটি বাড়ী রেখে গেছেন। এখন তার মা, স্ত্রী, সাত ছেলে ও ছয় মেয়ে তার সম্পদের কে কত অংশ পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং বলে, যা তোকে ছেড়ে দিলাম, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব বলে তিনবার উচ্চারণ করে। ভুল বুঝতে পেরে পরে ক্ষমা চায়। উক্ত ত্বালাক্ব কি সাব্যস্ত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : জনৈক বক্তা বলেন, আশূরার দিনেই ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ