বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমত এটা গায়েবের বিষয়। তাই যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। আর কোন বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, কথাটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন অথবা রাসূল (ﷺ) বলেছেন। ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত রাসূল (ﷺ)-এর প্রত্যেকটি কথার উপর কোন লজিক ও যুক্তিতর্ক ছাড়াই ঈমান রাখা অপরিহার্য। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একই প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের এই সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম দর্শন করেছেন, এবং তিনি দেখেছেন যে, কিছু মানুষকে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে আর কিছু মানুষকে নে‘মত, প্রাচুর্য-ঐশ্বর্য প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা কিভাবে? তার আকৃতি-প্রকৃতি সম্পর্কে আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। কেননা এগুলো ইলমে গাযব বা অদৃশ্যের বিষয়, যা উপলদ্ধি করা সম্ভবপর নয়। এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় করণীয় হল, যেভাবে ততটুকু বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই ততটুকু বিশ্বাস করা। আমরা তার ধরন ও আকৃতি-প্রকৃতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করব না। কেননা এই ধরনের বিষয়বস্তু উপলদ্ধি করার জন্য আমাদের বোধশক্তি খুবই ক্ষুদ্র ও নগণ্য...’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ২/৫৩-৫৪ পৃ.)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) মি‘রাজ থেকে ফিরে আসার পর জনসম্মুখে এই ঘটনা বর্ণনা করলে অনেকেই তা বিশ্বাস করতে পারছিল না। মক্কার মুশরিকরা এ খবর শুনে দ্রুত আবু বাকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট গমন করল এবং তাঁকে বলল, ‘দেখ, তোমার সাথী কী এক বিস্ময়কর কথা বলছে! সে নাকি এক রাত্রেই বাইতুল মাক্বদিস গিয়ে ফিরে এসেছে! উত্তরে আবূ বাকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, যদি প্রকৃতই তিনি একথা বলেছেন তবে অবশ্যই তিনি সত্য কথাই বলছেন। তারা বলল, তাহলে তুমি এটাও বিশ্বাস করছ যে, সে রাত্রিতে বাহির হয়ে সকাল হওয়ার পূর্বেই সিরিয়া হতে মাক্কায় ফিরে এসেছে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি এর চেয়েও আরো বড় বিষয় এর বহু পূর্ব হতেই বিশ্বাস করে আসছি। আমি এটা স্বীকার করি যে, তাঁর নিকট আকাশ হতে খবর পৌঁছে থাকে। আর এ সব খবর দেয়ার ব্যাপারে তিনি চরম সত্যবাদী’। ঐ সময় থেকেই আবূ বাকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘ছিদ্দীক্ব’ নামকরণ করা হয় (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩০৬)।

আলেমগণ বলেছেন, ‘জান্নাত ও জাহান্নাম ইলমে গায়ব বা অদৃশ্যের বিষয়। আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (ﷺ)-কে মু‘জিজা স্বরূপ জান্নাত ও জাহান্নামের ভবিষ্যৎ বিষয়াদি এবং তার অধিবাসীদের দর্শন করিয়েছেন। যাতে করে তিনি জান্নাতবাসীদের সুসংবাদ ও জাহান্নামবাসীদের সতর্ক করতে পারেন। আর তা নিম্নোক্ত দু’টি পদ্ধতির কোন একটি পদ্ধতিতে হতে পারে। যেমন, (ক) ‘কাশফ’-এর মাধ্যমে হতে পারে। ‘কাশফ’ অর্থ প্রকাশিত হওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক তাঁর কোন বান্দার নিকট ওহীর মাধ্যমে এমন কিছুর জ্ঞান প্রকাশ করা, যা অন্যের নিকট অপ্রকাশিত। আর এটি শুধু নাবী-রাসূলগণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (কিতাবুত তা‘রিফাত, পৃ. ৩৪)। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তিনি গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী। তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। তিনি তাঁর (ওহীর) সম্মুখে ও পশ্চাতে প্রহরী নিযুক্ত করেন’ (সূরা আল-জিন : ২৬-২৭)। এখানে ‘রাসূল’ বলতে জিবরীল ও নবী-রাসূলগণকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে একই প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন, এগুলি রাসূল (ﷺ)-এর উপর কাশফ করা হয়েছে। আর কাশফ সত্য, এটি আম্বিয়া ও রাসূলগণের জন্য নির্দিষ্ট। এই ধরনের কাশফ নবী ও রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কারো নিকট আসে না। এটি একটি চিত্র বা দৃষ্টান্ত, যার মাধ্যমে রাসূল (ﷺ)-এর নিকট জান্নাতী ও জাহান্নামীদের একটি ভবিতব্য বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি তা বিভিন্ন প্রসঙ্গে দেখেছেন। যেমন জোহরের ছালাত অবস্থায়, সূর্যগ্রহণের ছালাত অবস্থায় ইত্যাদি (দুরূসুন লিশশায়খ আলবানী, ৪/৮ পৃ.)।

(খ) স্বপ্নের মাধ্যমে হতে পারে। কারণ স্বপ্নের মধ্যে সবকিছুই দেখা সম্ভব। রাসূল (ﷺ) স্বপ্নে অসংখ্যবার জান্নাত ও জাহান্নামের ভবিতব্য বিষয়াদি এবং তার অধিবাসীদের দর্শন করেছেন। আর নবীদের স্বপ্ন সত্য, শয়তান তাঁদের ভুল স্বপ্ন দেখিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারে না। কেননা নবীদের স্বপ্ন ওহীর অন্তর্ভুক্ত। আর ওহী আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, শয়তানের পক্ষ থেকে নয়। সেজন্য তাঁরা যখন স্বপ্নে কিছু দেখতেন সেটা বাস্তবে রূপ দিতেন। যেমন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা। আমর (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন, আমি উবায়দ ইবনু উমায়র (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি, ‘নবীগণের স্বপ্ন ওহী’। অতঃপর তিনি তেলাওয়াত করলেন, إِنِّيْ أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّيْ أَذْبَحُكَ ‘ইবাহীম (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি কুরবানী করছি, এখন তোমার অভিমত কী বল’? (সূরা আছ-ছাফ্ফাত : ১০২; ছহীহ বুখারী, হা/১৩৮, ৮৫৯; ফাৎহুল বারী, ১/২৩৯ পৃ.; শারহু মুশকিলি আছার, ১৪/৪৬৫ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ১৭/৫৩২ পৃ.; মাদারিজুস সালিকীন, ১/৭৫ পৃ.)। উম্মুল মুমিনীন ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হত...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩, ৪৯৫৩-৪৯৫৬, ৬৯৮২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, নওদাপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৪) : অনেকে জ্বর এবং যাবতীয় বেদনার জন্য নিম্নের দু‘আটি আমল করেন- بِسْمِ اللهِ الْكَبِيْرِ أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَّمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ  ‘মহান আল্লাহ্র নামে, মর্যাদাবান আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সমস্ত রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে এবং জাহান্নামের উত্তাপ হতে’। এই দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইবাদতে শিরক কিভাবে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জনৈক ইমাম বলেন, ১০ যিলহজ্জের পরের দিনও অর্থাৎ ১১ যিলহজ্জও আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : শুক্রবারে সূরা আলে ‘ইমরান তেলাওয়াত করার ব্যাপারে কোন ছহীহ হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গরীব-মিসকীন ছাড়া কুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : যেখানে পানির ব্যবস্থা নেই সেখানে পেশাব করার পর শুধু টিস্যু পেপার দিয়ে পবিত্র হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : কুরবানীর গোশত কয় ভাগ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ডিফেন্সে চাকরি করতে হলে ট্রেনিংয়ের ছয় মাস নিয়মিত দাড়ি ক্লিন সেভ করতে হয়। আবার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে দাড়ি রাখার সুযোগ আছে। সাময়িকভাবে দাড়ি কেটে এই চাকুরী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে শাফা‘আত কত প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি সামনে ও পিছনে উভয় দিকে দেখতে পেতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যদি কোন সন্তান তার দৈনন্দিন খরচ থেকে দান করে, তাহলে এর ছওয়াব কি বাবা পাবেন, না-কি ছেলে পাবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জনৈক বক্তা বলেন, যে ব্যক্তি চারটি রাত জাগবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে- মিনা, আরাফা, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের রাত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ