শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ আট শ্রেণীর মধ্যে কোন্ শ্রেণীর লোক যাকাত পাওয়ার অধিক উপযুক্ত? আমরা বলব, যে শ্রেণীর লোকদের প্রয়োজন সর্বাধিক তীব্র। কেননা এ শ্রেণীগুলোর প্রত্যেকে যাকাত পাওয়ার বৈশিষ্ট্যধারী। এদের মধ্যে যে শ্রেণীর প্রয়োজন তীব্র সেই শ্রেণী যাকাত পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। সাধারণতঃ গরীব ও মিসকীনদের প্রয়োজনই তীব্র হয়ে থাকে। তাই আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে তাদেরকে উল্লেখ করে বলেন, ‘ছাদাক্বাহ্ তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও ছাদাক্বাহ আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ১৮শ খণ্ড, প্রশ্ন নং ২৫১)।

যাকাত পাওয়ার অধিকারীরা সকলেই একই মর্যাদাভুক্ত নয়। বরং তাদের স্তরভেদ রয়েছে। মালিকী মাযহাবের আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, যাকাত প্রদানকারীর জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে নিরুপায় ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তিদের উপর প্রাধান্য দেয়া এবং অন্য শ্রেণীর লোকদের চেয়ে তাকে বেশী দেয়া। যদি ফক্বীর বা ভিক্ষুক কাজ করতে অক্ষম হয়, কোন রোগ বা মুসিবতের শিকার হয়ে সে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তাকে যাকাত দেয়াটা তাকীদপূর্ণ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এগুলো অভাবগ্রস্থ লোকদের প্রাপ্য, যারা আল্লাহ্‌র পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘুরাফিরা করতে পারে না, আত্মসম্মানবোধে না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, আপনি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে  পারবেন। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে চায় না। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ জ্ঞানী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৩; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৩/৩০৩ পৃ.)। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তারা এমন শ্রেণীর লোক যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে আহত হয়ে আজীবনের জন্য রোগা হয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের সম্পদে তাদের অধিকার সাব্যস্ত করেছেন’ (আদ-দুররুল মানছূর, ২/৮৯ পৃ.)।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, ছাদাক্বাহ বণ্টনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার মাপকাঠি হচ্ছে প্রয়োজন ও অভাব। যদি আপনার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ভিক্ষুকদের মধ্যে কোন একজন অন্যদের চেয়ে বেশী অভাবী, তাহলে সেই ব্যক্তি ছাদাক্বাহ পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। আর আপনি যে পরিমাণ অর্থ ছাদাক্বাহ করতে চান সেটা যদি দু’জন ভিক্ষুকের প্রয়োজন পূরণ করার মত হয়, তাহলে আপনি দু’জনের মাঝে ভাগ করে দিন। যদি কেবল একজনের প্রয়োজন পূরণ করার মত হয়, তাহলে আপনি দু’জনের মধ্যে যে কোন একজনকে দিতে পারেন‌ এবং একজনকে দিতে হলে অন্যজন থেকে লুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন, যাতে করে তার মনে আফসোস বা হিংসা না হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭৫৪০৬)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি যাকাত সামান্য হয়, তাহলে সেটা একটা অভাবী পরিবারকে দেয়াই সর্বাধিক উপযুক্ত ও অধিক উত্তম। যেহেতু অল্প মাল ভাগ করে দিলে এর উপকারিতা কমে যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১৪/৩১৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সুমন, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১) : বাইনারি ট্রেডিং বা ফরেক্স ট্রেডিং এর মাধ্যমে টাকা ডিপোজিট করে অর্থ উপার্জন করা যাবে কি? অনেক অনলাইন প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে এক্সপার্ট ব্রোকার রয়েছে, যারা গ্রাহকদের টাকা ডিপোজিট করার মাধ্যমে ডলার বিটকয়েন ও ইথিরিয়াম কেনা বেচা করে। এটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল মুদ্রা বিনিময় বা কেনাবেচা হয়ে থাকে, এতে কিছু সময় লাভ হয়, আবার লসও হয়। বিভিন্ন দেশের সরকার তা বৈধ ঘোষণা করেছে। তবে বাংলাদেশে এব্যাপারে অস্পষ্ট অবস্থান লক্ষনীয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : প্রথম কাতারে ছালাত আদায়ের গুরুত্ব কেমন? মসজিদে যদি কেবল একটিই কাতার থাকে তবে সেই ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : দাওয়াতের উদ্দেশ্যে মসজিদের ভিতরে ইসলামী বই কেনা-বেচা করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি একজন সিএনজি চালক। দিনের বেলায় যে জায়গার ভাড়া ২০ টাকা- রাতের বেলায় সে একই জায়গায় অনেক চালক ৪০ টাকা নিয়ে থাকে। এভাবে রাতে ভাড়া বাড়ানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের ইমাম যদি বিশ্বাস করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নূর থেকে মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন, তাহলে সেই ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের খেলনা হিসাবে বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির পুতুল বানানো হচ্ছে। বাচ্চাদের এগুলো ক্রয় করে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মুছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ যদি নিজের চাকরি বা অন্য কোন ব্যস্ততার কারণে রামাযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ না করতে পারে, তাহলে একদিন বা দুই অর্থাৎ কম সময় ই‘তিকাফ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : যে ব্যক্তি রামাযান মাসের শেষ জুম‘আয় ক্বাযা ছালাতগুলো আদায় করবে, তার জীবনের ৭০ বছরের ছুটে যাওয়া প্রত্যেক ছালাতের ক্ষতি পূরণের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্যের কোন প্রমাণ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : প্রতিদিন রাতে সূরা মুলক পড়া সুন্নাহ। প্রশ্ন হল- যদি কেউ মাগরিবের ছালাত অথবা এশার ছালাতের পর সময়ের ব্যস্ততার কারণে মসজিদ থেকে বের হয়ে কর্মস্থানে যেতে যেতে সূরা মুলক পাঠ করে, তাহলে কি ছওয়াব পাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : রাতে ছালাত আদায়ের সময় মুছল্লীর ছায়া সামনে পড়লে কি কোন সমস্যা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : আমাদের এলাকায় একটি হাদীছ প্রচলিত রয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে তার কোন মুসলিম ভাইকে দেখতে যাবে, তাকে জাহান্নাম হতে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৩০৯৭, ‘জানাযা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ