রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
উত্তর : শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ আট শ্রেণীর মধ্যে কোন্ শ্রেণীর লোক যাকাত পাওয়ার অধিক উপযুক্ত? আমরা বলব, যে শ্রেণীর লোকদের প্রয়োজন সর্বাধিক তীব্র। কেননা এ শ্রেণীগুলোর প্রত্যেকে যাকাত পাওয়ার বৈশিষ্ট্যধারী। এদের মধ্যে যে শ্রেণীর প্রয়োজন তীব্র সেই শ্রেণী যাকাত পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। সাধারণতঃ গরীব ও মিসকীনদের প্রয়োজনই তীব্র হয়ে থাকে। তাই আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে তাদেরকে উল্লেখ করে বলেন, ‘ছাদাক্বাহ্ তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও ছাদাক্বাহ আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ১৮শ খণ্ড, প্রশ্ন নং ২৫১)।

যাকাত পাওয়ার অধিকারীরা সকলেই একই মর্যাদাভুক্ত নয়। বরং তাদের স্তরভেদ রয়েছে। মালিকী মাযহাবের আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, যাকাত প্রদানকারীর জন্য মুস্তাহাব হচ্ছে নিরুপায় ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তিদের উপর প্রাধান্য দেয়া এবং অন্য শ্রেণীর লোকদের চেয়ে তাকে বেশী দেয়া। যদি ফক্বীর বা ভিক্ষুক কাজ করতে অক্ষম হয়, কোন রোগ বা মুসিবতের শিকার হয়ে সে পঙ্গু হয়ে যায় তাহলে তাকে যাকাত দেয়াটা তাকীদপূর্ণ। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এগুলো অভাবগ্রস্থ লোকদের প্রাপ্য, যারা আল্লাহ্‌র পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘুরাফিরা করতে পারে না, আত্মসম্মানবোধে না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, আপনি তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে  পারবেন। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে চায় না। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ জ্ঞানী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৭৩; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৩/৩০৩ পৃ.)। সাঈদ ইবনু জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তারা এমন শ্রেণীর লোক যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে আহত হয়ে আজীবনের জন্য রোগা হয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের সম্পদে তাদের অধিকার সাব্যস্ত করেছেন’ (আদ-দুররুল মানছূর, ২/৮৯ পৃ.)।

সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, ছাদাক্বাহ বণ্টনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়ার মাপকাঠি হচ্ছে প্রয়োজন ও অভাব। যদি আপনার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ভিক্ষুকদের মধ্যে কোন একজন অন্যদের চেয়ে বেশী অভাবী, তাহলে সেই ব্যক্তি ছাদাক্বাহ পাওয়ার অধিক উপযুক্ত। আর আপনি যে পরিমাণ অর্থ ছাদাক্বাহ করতে চান সেটা যদি দু’জন ভিক্ষুকের প্রয়োজন পূরণ করার মত হয়, তাহলে আপনি দু’জনের মাঝে ভাগ করে দিন। যদি কেবল একজনের প্রয়োজন পূরণ করার মত হয়, তাহলে আপনি দু’জনের মধ্যে যে কোন একজনকে দিতে পারেন‌ এবং একজনকে দিতে হলে অন্যজন থেকে লুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করুন, যাতে করে তার মনে আফসোস বা হিংসা না হয় (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭৫৪০৬)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি যাকাত সামান্য হয়, তাহলে সেটা একটা অভাবী পরিবারকে দেয়াই সর্বাধিক উপযুক্ত ও অধিক উত্তম। যেহেতু অল্প মাল ভাগ করে দিলে এর উপকারিতা কমে যায়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১৪/৩১৬ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সুমন, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৪) : আমার ছেলে ঘরের ফ্লোরে বাথরুম করে কমোডে বসতে পারে না। তখন আমি বাচ্চাদের টিস্যু দিয়ে ফেলে দেই আর পরিষ্কার করে দেই। এখন সেই মেজেতে কি ছালাত পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : একজন মহিলা রামাযানের কিছু ছিয়াম রাখতে পারেনি। কিন্তু কয়টা ছিয়াম ছাড়া পড়েছে সে সংখ্যা ভুলে গেছেন। এখন সে কী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : মাছ মরে পানির উপরে ভেসে উঠলে তা খাওয়া বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত সংক্রান্ত কথা বলা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনার সুযোগ দেয়া হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরি, না-কি নূরের তৈরি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ‘যে ব্যক্তি কোন হাজীকে চল্লিশ কদম এগিয়ে দিবে, অতঃপর আলিঙ্গন  করে তাকে বিদায় করবে, উভয়ে পৃথক হওয়ার পূর্বেই আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দিবেন’ বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পূর্বে কি ওযূ করাতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক খতীব বলেছেন, খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইন্তেকাল হলে তার কবরের জবাব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিতে চাইলে না-কি স্বয়ং আল্লাহ নিজেই তার কবরের জবাব দিয়েছেন। উক্ত ঘটনাটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিত দু‘আ না করে কেউ যদি নির্ধারিত যিকির-আযকার মুখস্থ না থাকায় মোবাইল থেকে দেখে দেখে পাঠ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : আমি একজন প্রবাসী। গত পাঁচ বছর যাবৎ কয়েকটি দেশ হয়ে এখন আমি ইতালিতে বসবাস করি এবং আমার প্রয়োজনীয় সব কাগজ-পত্রও আছে। এটি যেহেতু অমুসলিম প্রধান দেশ, তাই আমার কিছু জিজ্ঞাসা রয়েছে, যা নিম্নোক্ত: (১) উন্নত জীবন-যাপনে জন্য কোন মুসলিম কি অমুসলিম প্রধান দেশে বসবাস করতে পারবে? এক্ষেত্রে পরিবার বা নিজস্ব চাহিদা পূরণ, দারিদ্রতা, দেশে চাকরি সংকট ইত্যাদি নানা অযুহাত দিয়ে এটাকে কি জায়েয করার কোন সুযোগ আছে? (২) যদি অমুসলিম প্রধান দেশে বসবাস জায়েয না হয়, তাহলে সেখানের আয়ের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? সেখানকার উপার্জন হালাল, না-কি হারাম? (৩) এই টাকা খেয়ে আমি বা আমার পরিবার ইবাদত করলে তা-কি কবুল হবে? (৪) আমি একজন মুসলিম হওয়ায় আমার কাছে দ্বীন পালন করা বড়, না-কি পার্থিব জীবনকে উন্নত বা ভালোভাবে বাঁচার চেষ্টা করা দরকার? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বন্ধক রাখার ছহীহ পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আশূরার দিনে সংঘটিত হওয়া কোন্ কোন্ ঘটনা ছহীহ ও প্রমাণিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ