রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
উত্তর : অমুসলিমদের সঙ্গে ব্যবসায় অংশীদারিত্ব অথবা কাজে অংশগ্রহণ করা জায়েয। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) খায়বারের জমি ইয়াহুদীদেরকে এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নাফি‘ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-কে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর যামানায় কিছু মূল্যের বিনিময়ে যার পরিমাণটা নাফি‘ নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, কিন্তু আমার তা স্মরণ নেই, জমি ইজারা (লিজে) দেয়া হত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৮৫, ২৩২৮, ২৩২৯)। এটি ছিল নবী (ﷺ) ও ইয়াহুদীদের মধ্যে অংশীদারিত্ব জমিতে কাজের ক্ষেত্রে। কর্ম ছিল ইয়াহুদীদের আর জমি ছিল নবী (ﷺ)-এর। আর জমি থেকে উৎপাদিত শস্য উভয়ের মধ্যে বণ্টন করা হত। এই হাদীছটিকে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অংশীদারিত্বের অধ্যায়ে, ‘ভাগচাষে যিম্মী ও মুশরিকদের অংশীদার করা’ নামে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন (ছহীহ বুখারী, অধ্যায় নং-৪৭, অনুচ্ছেদ নং-১১)। তবে একজন মুসলিম যদি কোন কাফিরের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ব্যবসায় যুক্ত  হওয়ার পর এই ব্যবসার মাধ্যমে তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে কিংবা তার প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করে, তবে সেটি নিষিদ্ধ হিসাবে পরিগণিত হবে। অনুরূপভাবে তাকে কাফির ও ফাসিক্ব ব্যক্তির লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে করে সে যেন সূদ বা অন্যান্য হারাম কাজের মধ্যে ডুবে না যায়। শাইখ ছালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘একজন মুসলিমের জন্য কোন কাফিরের সঙ্গে পার্টনারশিপ এ ব্যবসা করা এই শর্তে জায়েয যে, কাফির ব্যক্তি একা লেনদেনের দায়িত্বে থাকবে না। বরং তা মুসলিম ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। যাতে করে কাফির ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তির তত্ত্বাবধান থেকে স্বাধীন হয়ে সূদ অথবা হারাম কাজের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে যায়’ (আল-মুলাখ্খাছুল ফিক্বহিয়্যু, ২/১২৪ পৃ.)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বন্ধুত্ব বা সখ্যতা গড়ে না তুললে, একজন মুসলিম ব্যক্তি কোন খ্রীষ্টান অথবা অন্যান্য কাফির সম্প্রদায়ের ব্যক্তির সঙ্গে পশুপালন, চাষাবাদ অথবা অন্যান্য বিষয়ে পার্টনারশিপ এ ব্যবসা করার বিষয়টি বৈধতার অন্তর্ভুক্ত। সে তাকে অর্থনৈতিকভাবে চাষবাসে অথবা পশুপালনে সাহায্য করতে পারে। আহলে ইলমের একটি জামা‘আত বলেন, শর্ত একটাই যেন, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন না করে, কেননা সে কাফির। তবে উত্তম হল- কাফিরদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ব্যবসায় যুক্ত না হওয়া’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব লিইবনে বায, ১/৩৭৭-৩৭৮ পৃ.)। অতএব নিজ ধর্মের উপর দৃঢ়ভাবে অটল থেকে কোন অসাম্প্রদায়িক বিধর্মী ব্যক্তির সাথে হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য করা জায়েয (সূরা আল-মুমতাহিনা: ৮)। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল- এই লেনদেনের মাধ্যমে তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা যাবে না (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২০৬৯৪)।


প্রশ্নকারী : শাহিনুর রহমান, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (২২): ‘দাতা ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী, মানুষেরও নিকটবর্তী, জাহান্নাম হতে দূরবর্তী। আর কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ হতে দূরবর্তী, জান্নাত হতে দূরবর্তী, মানুষ হতেও দূরবর্তী, নিকটবর্তী। নিশ্চয় মূর্খ দানশীল কৃপণ জ্ঞানী অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়’- মর্মে বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আহলে কিতাবদের যব্হ করা খাবার খাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৬) : ঈদগাহে ব্যবস্থা না থাকার কারণে মহিলারা কি মসজিদে অথবা বাড়িতে মহিলার ইমামতিতে জামা‘আতবদ্ধভাবে ঈদের ছালাত আদায় করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গর্ভবতী পশু দিয়ে কুরবানী করা কি হালাল? যদি সেটা জায়েয হয়, তাহলে গর্ভস্থিত পশুটির ক্ষেত্রে কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : মুওয়াযিযন আযান দেয়ার সময় মসজিদে প্রবেশ করলে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়া শুরু করবে না দাঁড়িয়ে থেকে মুওয়াযিযনের জবাব দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক ব্যক্তি এমন এলাকায় থাকে সেখানকার সকল মসজিদে ফজরের ছালাত অনেক দেরি করে আরম্ভ হয় এবং ছালাত শেষে দেখা যায় যে, আকাশ অনেক ফর্সা/আলোকিত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে অত্র মসজিদে জামা‘আত শুরুর আগে মসজিদে গিয়ে একা একা ছালাত পড়া কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১): জমি ক্রয় করার সময় কোন দৃঢ় নিয়ত ছিল না, সেখানে বাড়ি করব, না-কি ব্যবসা করব? এমতাবস্তায় উক্ত জমির উপর কি যাকাত ফরয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ঈদের ছালাতের আগে ইমাম ছাহেব মুছল্লীদেরকে ঈদের ছালাতের নিয়ত বলে দেন। এরূপ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যারা কোনো বিষয়ে সত্য জেনে তা জেনে বুঝে গোপন করে এবং এই ধারণা করে যে, তা প্রকাশ করলে সমাজে বিভ্রান্তি/ফিতনা হতে পারে তাদের বিধান কী? সত্যকে গোপন করে ইসলামের দাওয়াত দেয়া কতটুকু শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : লোকমুখে শুনা যায়, একজন ছাহাবীর মাত্র একটি দাড়ি ছিল, একদা তা দেখে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন। ফলে ঐ ছাহাবী দাড়িটি কেটে ফেললেন। পরে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে দেখে বললেন, তুমি দাড়িটি কেটে ফেললে কেন? তোমার দাড়িতে অনেক ফেরেশতা ঝুলছিল। উক্ত হাদীছ কোন্ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ