শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
উত্তর : কোন পুরুষ শিক্ষকের জন্য কোন তরুণী, পদার্পণকারিণী, জৈবিক চাহিদা সম্পর্কে অবহিত সাবালিকা মেয়েকে মুখোমুখি পড়ানো বিশাল বড় ফিতনা এবং দ্বীন ও চারিত্রিক দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। যিনি পড়ান আর যারা পড়ে উভয়ের জন্যই তা সমানভাবে প্রযোজ্য। স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার ইত্যাদিতে পুরুষ শিক্ষক দ্বারা মেয়েদেরকে এবং মহিলা শিক্ষিকা দ্বারা ছেলেদেরকে পড়ানো মারাত্মক ফিতনার কারণ। স্বাভাবিকভাবেই ইসলামের দৃষ্টিতে এভাবে পড়ানো জায়েয নয়। বরং তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৩৯৮)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন,

لا يجوز للرجل تدريس البنات مباشرة؛ لما في ذلك من الخطر العظيم والعواقب الوخيمة

‘কোন পুরুষের জন্য মেয়েদেরকে সরাসরি (মুখোমুখি) পাঠদান করা বৈধ নয়। কারণ এতে রয়েছে মারাত্মক বিপদ ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২/১৪৯ পৃ.)। উক্ত কমিটি আরো বলেন, প্রথমতঃ স্কুল, কলেজ অথবা অন্য কোথাও নারী-পুরুষের সহাবস্থান ও অবাধ মেলামেশা ভয়ঙ্কর গুনাহের কাজ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য বিশাল বড় ফিতনাহ। সুতরাং মেয়েদের জন্য এমন প্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া কিংবা চাকরি করা জায়েয নয় যেখানে নারী-পুরুষের সহাবস্থান রয়েছে এবং অভিভাবকদের জন্য তাকে এর জন্য অনুমতি দেয়া জায়েয নয়। দ্বিতীয়তঃ কোন পুরুষের জন্য জায়েয নয় মেয়েদেরকে পর্দাহীন অবস্থায় সরাসরি পাঠদান করা। কারণ একজন পরপুরুষের সামনে একজন মহিলার সবটাই আবৃত করা অপরিহার্য, মাথা খুলা রাখা কিংবা মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখাকে শারঈ পর্দা বলা হয় না এবং তাকে নির্জনে একাকী শিক্ষাদান করাও জায়েয নয়, যদিও সে শারঈ হিজাব পরিধান করে থাকে। কখনো কোন ছাত্রীকে একাকী পড়ানো যাবে না। কারণ কোন পরপুরুষ ও পরনারী নির্জন হলে শয়তান উভয়ের মনে কু-প্রবৃত্তি ও কামভাবকে উসকিয়ে দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘সাবধান! কোন পুরুষ কোনও মহিলার সাথে একান্ত নির্জনে মিলিত হলেই সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শয়তান অবস্থান করে (এবং পাপাচারে প্ররোচনা দেয়)’ (তিরমিযী, হা/২১৬৫; ছহীহুল জামি‘, হা/২৫৪৬)।

তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন কোন পরনারীর সাথে নির্জনে একত্রিত না হয় যখন তার মাঝে এবং সে নারীর মাঝে কোন মাহরাম পুরুষ না থাকে’ (ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭২, ১৯০৯)। তৃতীয়তঃ মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পর্দার আড়াল থেকে তাদেরকে শিক্ষাদান করা কোন পুরুষের জন্য দোষনীয় নয়। যেখানে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে সহাবস্থান হয় না (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১২/১৫৬ পৃ.)। সুতরাং পর্দার অন্তরাল থেকে তাদেরকে পড়াতে হবে। তাদেরকে আপনি দেখবেন না, তারাও আপনাকে দেখবে না। কথা বলার সময় মেয়েরা কোমল কণ্ঠ পরিহার করবে। একান্ত দরকার ছাড়া কথা বলবে না। হাসি-মজাক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। আল্লাহ তা‘আলা নারীদেরকে প্রয়োজনে পুরুষদের সাথে কথার বলার অনুমিত দিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কোমল কণ্ঠ পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল-আহযাব : ৩২; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭৯৫৪৯)।

তৃতীয়তঃ নারীদেরকে পড়িয়ে প্রাপ্ত বেতনের অর্থ হালাল হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, এই কাজের বিনিময় স্বরূপ আপনি যে অর্থ উপার্জন করবেন, তার দ্বারা আপনার লাভবান বা উপকৃত হওয়া দোষনীয় নয়, কারণ আপনি যে বেতন নিয়েছেন তা পাঠদানের বিনিময়ে অর্থ গ্রহন করেছেন এটি জায়েয। তবে পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হওয়ায় অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে। তাই আপনার জন্য উচিত এই ধরণের কাজ ছেড়ে দেয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা এবং অন্য একটি হালাল চাকরির সন্ধান করতে থাকা। যাতে আপনি হারাম ও ফিতনায় পড়া থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ১২/১৫৬ পৃ.)। কিন্তু একান্ত অপারগ অবস্থায় বা বিকল্প কোন পথ না পেলে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা বা করানো জায়েয আছে। কেননা ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের অন্যতম হল: الضرورات تبيح المحظورات ‘বিশেষ প্রয়োজন অবৈধ জিনিসকে বৈধতার অনুমতি প্রদান করে’ (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ১/৭৮ পৃ.)। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা যরূরী, যাতে পর্দা লঙ্ঘন বা আল্লাহর অসন্তুষ্টি মূলক কার্যক্রম সংঘটিত না হয়।


প্রশ্নকারী : মুহসিন, নরসিংদী।





প্রশ্ন (১৯) : কোন ব্যক্তি টাকা ধার নিয়ে সময়মত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। যাকাত দেয়ার সময় উক্ত টাকা বাদ দিয়ে যাকাত দিলে হবে কি? উল্লেখ্য, যে টাকা ধার দেয়, সে দেয়ার সময়ই নিয়ত করে যে, যদি সেই ব্যক্তি কোন কারণে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে উক্ত টাকা সে যাকাতের টাকা ধরে বাদ দিবে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রামাযান উপলক্ষে এক টিভিতে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে ক্বিয়ামতের দিন তাকে এমন একটি নূর দেয়া হবে, যা তার অবস্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করবে’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘হজ্জ ওমরাহকারী কিংবা আল্লাহ্র পথে যুদ্ধকারী ছাড়া কেউ যেন সমুদ্রে ভ্রমণ না করে। কারণ সাগরের নীচে আগুন আছে। আর আগুনের নীচে সাগর আছে’। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? সফর করা সম্পর্কে ইসলামে কী বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বড় ভাই আমাদের পারিবারিক খরচের জন্য আমাকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছে। এই টাকার কি যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : নবী (ﷺ)-এর ছাহাবী দাহিয়া কালবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার নিজের মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে পর্বতে নিয়ে হত্যা করেছিল। এই বিষয়টি তিনি ইসলাম গ্রহণের পর নবী (ﷺ)-এর কাছে বর্ণনা করেন। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : প্রতি বছর ‘আরাফার দিন (৯ যিলহজ্জ) ছিয়াম রাখা সুন্নাত। কিন্তু বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী সাধারণত ৮ কিংবা ৭ যিলহজ্জ তারিখে ‘আরাফা হয়। এক্ষণে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : কুরআন মাজীদের অনেক জায়গাতে আল্লাহ তা‘আলা নিজেকে আমরা (বহুবচন) শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মুহাম্মাদ (ﷺ) দিনের কোন্ কোন্ সময় ঘুমাতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ শ্লোগানের শারঈ ভিত্তি কী এবং এরূপ কথায় বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামের দৃষ্টিতে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ