উত্তর : ছালাতে নিয়মিত না হলে অন্যান্য কোন আমল কবুল হবে না। কারণ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কোন ব্যক্তি যদি অলসতাবশত অনিয়মিত ছালাত আদায় করে (অর্থাৎ কখনো পড়ে, কখনো ছাড়ে), তবে তার দান-ছাদাক্বাহর ছাওয়াব কবুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ، فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ ‘ক্বিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তার ছালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি ছালাত ঠিক থাকে, তবে সে সফলকাম হবে ও মুক্তি পাবে। আর যদি ছালাত নষ্ট হয়, তবে সে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিফল হবে’ (তিরমিযী, হা/৪১৩; নাসাঈ, হা/৪৬৫, সনদ ছহীহ)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-সহ অনেক আরব আলেম মনে করেন যে, যারা ইচ্ছা করে ছালাত ছেড়ে দেয়, তাদের অন্যান্য নেক আমল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাত হল ইসলামের খুঁটি। যে ব্যক্তি তা নষ্ট করল, সে অন্যান্য আমলকে আরও বেশি নষ্টকারী। আলেমদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ছালাত ত্যাগ করা ‘কুফরে আকবার’ বা বড় কুফরী’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১০/২৩৩ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَئِنۡ اَشۡرَکۡتَ لَیَحۡبَطَنَّ عَمَلُکَ ‘যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমলসমূহ অবশ্যই বিফলে যাবে’ (সূরা আয-যুমার : ৬৫)।
প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।