বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ওয়াক্বফ্কৃত বা দানকৃত জমি বা অন্য কোন কিছু ফিরিয়ে নেয়া জায়েয নয়। কেননা তা ওয়াক্বফ্ করার সঙ্গে সঙ্গে মালিকের মালিকানা থেকে বেরিয়ে যায় (মারাতিবুল ইজমা‘, পৃ. ৯৭; ফাৎহুল বারী, ৫/২৩৫; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩/২৩ পৃ.)। সুতরাং নিঃসন্দেহে ঐ মসজিদে বাকি মুছল্লীদের ছালাত আদায় করা জায়েয হবে। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: ‘হিবা বা ছাদাক্বাহ করার পর তা ফিরিয়ে নেয়া কারোর জন্য হালাল নয়’ (অধ্যায় নং-৫১, অনুচ্ছেদ নং-৩০)। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দান করে তা আবার ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ ঐ কুকুরের ন্যায়, যে বমি করে এবং পুনরায় সে তার বমি খেয়ে ফেলে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬২২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২২; নাসাঈ, হা/৩৬৯৩; ইবনু মাজাহ, হা/২৩৯১)। ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) আরো অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যে, ‘নিজের ছাদাক্বাহ কৃত বস্তু ক্রয় করা যায় কি?’ (অধ্যায় নং-২৮, অনুচ্ছেদ নং-৫৯)।

অতঃপর তিনি বলেন, ‘অন্যের ছাদাক্বাহ কৃত বস্তু ক্রয় করতে কোন দোষ নেই। কেননা নবী (ﷺ) বিশেষভাবে ছাদাক্বাহ প্রদানকারীকে তা ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, অন্যকে নিষেধ করেননি। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করেন। উমার বিন খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি একটি উত্তম ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করি। কিন্তু সে ব্যক্তি (যাকে দেয়া হয়েছিল) ঘোড়াটির সঠিক দেখাশুনা না করে ঘোড়াটিকে দুর্বল করে ফেলে। আমার ধারণ হল, সে তা সস্তা দামে বিক্রি করে দিবে। আমি এ ব্যাপারে রাসূল (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তুমি তা ক্রয় করবে না এবং তোমার দানকে ফিরিয়ে আনবে না। কেননা যে ব্যক্তি আপন দান ফিরিয়ে নেয়, সে সেই কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭৭৫, ২৯৭১, ৩০০২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬২০, ১৬২১; আবূ দাঊদ, হা/১৫৯৩)। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল: এখানে রাসূল (ﷺ) যথার্থ কারণ থাকা সত্ত্বেও উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে টাকার বিনিময়েও স্বীয় দানকৃত ঘোড়া ক্রয় করতে নিষেধ করলেন। তাহলে একজন মানুষ কিভাবে নিজের দানকৃত জিনিস ফিরিয়ে নিতে পারে?

প্রশ্নকারী : সুলাইমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।





প্রশ্ন (১) : কেউ অন্যের নামে মিথ্যা কথা প্রচার করে থাকলে ক্ষমা নেওয়ার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কোন অমুসলিম যদি কালেমা পাঠ করে মুসলিম হয়, তাহলে তার কি সুন্নাতে খাৎনা করা এবং এভিডেভিট করা যরূরী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া হালাল হবে কি? উল্লেখ্য, ফল বা সবজিগুলোর মালিক থাকলেও আসে না, যে কারণে সেগুলো পরিপক্ক হয়ে মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কুরআন নিয়ে শপথ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মহিলারা কি কুরবানীর পশু যব্হ করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কসমের শব্দ কি ‘আল্লাহ’ হতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেউ যদি ছালাত ছেড়ে ছেড়ে পড়ে যেমন আছর পড়লে মাগরিব পড়ে না, এশার পড়লে ফজর পড়ে না। এমন ব্যক্তিও কি কাফের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : হালাল ১০ টাকা ধার করে একটা কলম কিনে হারাম টাকা দিয়ে ধার পরিশোধ করলে ক্রয়কৃত কলমটি কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : অনেকে জ্বর এবং যাবতীয় বেদনার জন্য নিম্নের দু‘আটি আমল করেন- بِسْمِ اللهِ الْكَبِيْرِ أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَّمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ  ‘মহান আল্লাহ্র নামে, মর্যাদাবান আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় চাচ্ছি সমস্ত রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে এবং জাহান্নামের উত্তাপ হতে’। এই দু‘আ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কেমন মেয়েকে বিয়ে করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) নির্দিষ্ট করে শুধু মহিলাদের জন্য মসজিদ তৈরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম তাবীযের ব্যবসা করে, জর্দা খায়, মিথ্যা কথা বলে এবং কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক ঈমান ও আমলকে ফিতনা মনে করে বিরোধিতা করে। উক্ত ইমাম দ্বিতীয় বিবাহের পর তন্ত্রমন্ত্র করে প্রথম স্ত্রীকে মেরে ফেলার জন্য হিন্দু গণকের কাছেও গিয়েছিল। এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা কিংবা তার ইমামতির বৈধতা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ