উত্তর : মায়ের আপন মামার মেয়েকে বিবাহ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয। ইসলামে যেসব নারীদের সাথে বিবাহ হারাম, সেগুলো আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ী ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছ তার আগের স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত মেয়ে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্ব আছে, তবে যদি তাদের সাথে সঙ্গত না হয়ে থাক, তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী ও দুই বোনকে একত্র করা, আগে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৩)।
এই আয়াতে এবং এর পরবর্তী অংশে যে নারীদের উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই ‘মাহরাম’। তাদের সাথে কখনোই বিবাহ বৈধ নয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এখানে ‘মায়ের খালার মেয়ে’ বা ‘মায়ের মামাতো বোন’-এর কথা উল্লেখ নেই। সুতরাং, সে হারামদের অন্তর্ভুক্ত নয়। চার মাযহাবের আলেমগণও এ ব্যাপারে একমত যে, খালাতো, ফুফাতো, চাচাতো, মামাতো- এ ধরনের কাজিনদের সন্তান বা দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে, যারা মাহরাম তালিকায় পড়ে না, তাদের সাথে বিবাহ জায়েয। এ বিষয়ে মুগনীতে উল্লেখ আছে যে, ‘যে সকল নারী কুরআনে হারাম হিসাবে উল্লেখিত নয়, তাদের সাথে বিবাহ বৈধ’ (আল-মুগনী, ৭/৯০ পৃ.)।
একইভাবে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ‘মাহরাম ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়দের সাথে বিবাহ বৈধ’ এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে (আল-মাজমূ, ১৬/২০৬ পৃ.)। এছাড়া অনুরূপভাবে বলা হয়েছে যে, ‘নস (কুরআন-হাদীছ) দ্বারা নিষিদ্ধ নয়, এমন আত্মীয়তার মধ্যে বিবাহ বৈধ’ (বাদায়েউছ ছানায়ে, ২/২৫৮ পৃ.)। সুতরাং কুরআনের স্পষ্ট দলীল, ফিকহের মূলনীতি এবং চার মাযহাবের আলেমদের বক্তব্যের আলোকে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয় যে, মায়ের মামাতো বোনের সাথে বিবাহ সম্পূর্ণ জায়েয এবং এতে কোন শারঈ বাধা নেই।
প্রশ্নকারী : সীমান্ত, জামালপুর।