বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মায়ের আপন মামার মেয়েকে বিবাহ করা শরী‘আতের দৃষ্টিতে জায়েয। ইসলামে যেসব নারীদের সাথে বিবাহ হারাম, সেগুলো আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ী ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সংগত হয়েছ তার আগের স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত মেয়ে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্ব আছে, তবে যদি তাদের সাথে সঙ্গত না হয়ে থাক, তাতে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। আর তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী ও দুই বোনকে একত্র করা, আগে যা হয়েছে, হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আন-নিসা : ২৩)।

এই আয়াতে এবং এর পরবর্তী অংশে যে নারীদের উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই ‘মাহরাম’। তাদের সাথে কখনোই বিবাহ বৈধ নয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এখানে ‘মায়ের খালার মেয়ে’ বা ‘মায়ের মামাতো বোন’-এর কথা উল্লেখ নেই। সুতরাং, সে হারামদের অন্তর্ভুক্ত নয়। চার মাযহাবের আলেমগণও এ ব্যাপারে একমত যে, খালাতো, ফুফাতো, চাচাতো, মামাতো- এ ধরনের কাজিনদের সন্তান বা দূরবর্তী আত্মীয়দের মধ্যে, যারা মাহরাম তালিকায় পড়ে না, তাদের সাথে বিবাহ জায়েয। এ বিষয়ে মুগনীতে উল্লেখ আছে যে, ‘যে সকল নারী কুরআনে হারাম হিসাবে উল্লেখিত নয়, তাদের সাথে বিবাহ বৈধ’ (আল-মুগনী, ৭/৯০ পৃ.)।

একইভাবে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ‘মাহরাম ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়দের সাথে বিবাহ বৈধ’ এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে (আল-মাজমূ, ১৬/২০৬ পৃ.)। এছাড়া অনুরূপভাবে বলা হয়েছে যে, ‘নস (কুরআন-হাদীছ) দ্বারা নিষিদ্ধ নয়, এমন আত্মীয়তার মধ্যে বিবাহ বৈধ’ (বাদায়েউছ ছানায়ে, ২/২৫৮ পৃ.)। সুতরাং কুরআনের স্পষ্ট দলীল, ফিকহের মূলনীতি এবং চার মাযহাবের আলেমদের বক্তব্যের আলোকে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয় যে, মায়ের মামাতো বোনের সাথে বিবাহ সম্পূর্ণ জায়েয এবং এতে কোন শারঈ বাধা নেই।


প্রশ্নকারী : সীমান্ত, জামালপুর।





প্রশ্ন (৬) : অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ছিয়াম পালনে অক্ষম ব্যক্তিকে ফিদইয়া দিতে বলা হয়েছে। এর পরিমাণ সম্পর্কে কেউ বলছে এক ছা‘ আবার কেউ আধা ছা‘। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেয়া হয় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ‘তোমরা তিনটি কারণে আরবকে ভালবাসবে। প্রথমত, আমি হলাম আরবী, দ্বিতীয়ত, কুরআন মাজীদের ভাষা হল আরবী এবং তৃতীয়ত, জান্নাতীদের ভাষাও হবে আরবী। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হানাফী মাযহাব ফলো করে বা আক্বীদাগত সমস্যা রয়েছে এমন কোন উস্তাযের থেকে তাজবীদ বিষয়ে জ্ঞান নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ফরয ছালাতের আগে যে ইক্বামত দেয়া হয়, সেটা কি আযানের মত ২ বার করে বলতে হয়, না-কি একবার? আর ইক্বামতে ‘হাইয়া ‘আলাছ ছালাহ’ বললে কি ছালাতের জন্য দাঁড়াতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি জীবনে অনেকবার একটি পাপ করেছে এবং সে পাপ আর করবে না বলে বহুবার কসমও করেছে। কিন্তু বারবার সে কসম ভঙ্গ করে ফেলেছে। এখন অসুস্থ হয়ে পাপ ছেড়ে দিয়েছে। পরে সে জানতে পেরেছে যে, শপথের কাফ্ফারা দিতে হয়। এখন সে কীভাবে কাফ্ফারা দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতের ওয়াক্ত হলেই ছালাত আদায় করা উত্তম। এমন দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মাইগ্রেন (Migraine) রোগের কারণে ছিয়াম ছেড়ে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আমি বিবাহিত। কিন্তু স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণে আমি পুরোপুরি অক্ষম। অনেক চিকিৎসা করেছি। কিন্তু উপকার হয়নি। প্রশ্ন হল- স্ত্রীর যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে তার চাহিদা পূরণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’ বলা যাবে কি? যেমন- আমার আব্বু, দাদী এবং আত্মীয়-স্বজন অনেকের মুখে শুনি, তারা ভাত খাওয়ার পর বলেন ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ’, ‘ইয়া হাবীবাল্লাহ’। এমনকি তারা প্রায় সময় আল্লাহর যিকির না করে এইগুলো বলে থাকেন। এভাবে বললে কি শিরক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : পরিবারের উপার্জিত হারাম টাকা দিয়ে যদি কোন ব্যবসা করি, তাহলে তা হারাম হবে কী? যদিও উক্ত ব্যবসা হালাল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ