বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর: এ দৃষ্টিভঙ্গি ভুল। কারণ যার জন্য ইচ্ছা রিযিকের সমৃদ্ধিদানকারী ও সংকোচনকারী হচ্ছেন আল্লাহ তা‘আলা। অধিক জনসংখ্যা রিযিক সংকোচনের কারণ নয়। যেহেতু এ পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে সকলের রিযিকের ভার আল্লাহর উপরে। তবে, আল্লাহ তা‘আলা কোন হেকমতের কারণে রিযিক দেন এবং কোন হেকমতের কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত করেন। যে ব্যক্তি এমন বিশ্বাস করে তার জন্য নসীহত হচ্ছে- সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং এ বাতিল বিশ্বাস ত্যাগ করে। সে যেন জেনে রাখে, এ বিশ্বজগতের সদস্য যতই বৃদ্ধি পাক না কেন আল্লাহ চাইলে তাদের সকলের রিযিকে সমৃদ্ধি দিতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘যদি আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে রিযিকে সমৃদ্ধি দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত ও সূক্ষ্মদর্শী’ (সূরা আশ-শূরা: ২৭)।

কোন সন্দেহ নেই জন্মনিয়ন্ত্রণ ও জনসংখ্যা হ্রাস করার প্রচারণা নবী (ﷺ)-এর নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক। নবী (ﷺ)-এর নির্দেশ হচ্ছে, ‘তোমরা প্রমময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসবা নারীকে বিয়ে কর। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করবো’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৫০; ‘ইরওয়াউল গালীল, হা/১৭৮৪)। আল্লাহ তা‘আলা সকল মাখলূকের রিযিক নিশ্চয়তা দানকারী। তিনি বলেন, ‘আর পৃথিবীতে বিচরণশীল যে কারো রিযিক আল্লাহর উপর’ (সূরা হূদ: ৬)। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিরোধ করা; সেটা গর্ভ-নিরোধক বিভিন্ন উপায় গ্রহণের মাধ্যমে কিংবা গর্ভপাত ঘটানোর মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে; এ বিশ্বাস থেকে যে, মজুদকৃত সম্পদ অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য যথেষ্ট নয়, কিংবা জনকল্যাণের দাবী হচ্ছে- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো; নিশ্চয় এটি আল্লাহর রুবুবিয়্যত (প্রতিপালকত্ব) ও তাঁর রিযিকের প্রশস্ততাকে অস্বীকার করার নামান্তর। এটি মুশরিকদের বিশ্বাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; যারা দারিদ্র্যের ভয়ে তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ‘দারিদ্র্যের কারণে সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিযিক দেই’ (সূরা আল-আন‘আম: ১৫১)।

তিনি আরও বলেন, ‘দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই রিযিক দিয়ে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহা অপরাধ’ (সূরা বনী ইসরাইল: ৩১)। অধিক জনসংখ্যা আল্লাহর একটি নে‘মত; এ নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করা ও নিরংকুশভাবে তাঁর ইবাদত করা কর্তব্য। এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী শু‘আইব (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর কওমকে আল্লাহর কিছু নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে বলেন, ‘স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় কম ছিলে; তিনি তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেন’ (সূরা আল-আ‘রাফ: ৮৬)। অধিক জনসংখ্যা উম্মতের মর্যাদা ও শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যম। তাই তো আল্লাহ তা‘আলা বনী ঈসরাইলদের সম্পর্কে বলেন, ‘অতঃপর আমি তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে পালা ঘুরিয়ে দিলাম, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও পুত্রসন্তান দ্বারা সাহায্য করলাম এবং তোমাদেরকে জনসংখ্যার দিক দিয়ে একটা বিরাট বাহিনীতে পরিণত করলাম’ (সূরা বনী ইসরাঈল: ৭)।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু  ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জন্ম-নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন দেয়া নিঃসন্দেহে এটি মুসলিমদের শত্রুদের চক্রান্ত। শত্রুরা চায় মুসলিমদের সংখ্যা না বাড়ুক। কারণ মুসলিমদের সংখ্যা বাড়লে শত্রুরা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মুসলিমরা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যেতে পারে: নিজেরা চাষাবাদ করবে, ব্যবসা বাণিজ্য করবে- এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে ও আরও নানামুখি কল্যাণ অর্জিত হবে। আর যদি তারা সংখ্যায় অল্প হয়ে থাকে তাহলে লাঞ্ছিত হয়ে থাকবে এবং সবকিছুতে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে’ (ফাতাওয়া উলামায়িল বালাদিল হারাম, পৃ. ১০৮৪)।


প্রশ্নকারী : আল-আমীন, নওগাঁ।





প্রশ্ন (২১) : মেরু অঞ্চলের শীত প্রধান দেশে কিভাবে ছালাতের সময় নির্ধারণ করব? যেমন ফিনল্যান্ডে সূর্য ডুবে রাত ১২ টার পরে। আবার সূর্য উঠে ২টার দিকে। আসলে এখানে সূর্যই ডুবে না। এক্ষেত্রে ছালাত, ছিয়াম, ইফতার ইত্যাদির সময় কিভাবে নির্ধারণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জন্ম সনদে বয়স কমিয়ে দেয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমি কি আমার ছোট বোনের দুধ বোনকে বিবাহ করতে পারব? অনেক উলামায়ে কেরাম ফৎওয়া দিয়েছেন যে, তার সাথে বিবাহ বৈধ নয়। এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : টিন শীট দিয়ে তৈরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এখন তা ভেঙ্গে ইট দিয়ে তৈরি করা হবে তাহলে আগের টিনের ঘর কি বিক্রি করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের আগে কোন মুমিন থাকবে না এবং কেউ আল্লাহর নাম স্মরণ করবে না। এটি কি ক্বিয়ামতের পূর্বমুহূর্র্তে, না-কি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্ববর্তী সময়ে? উল্লেখ্য, ক্বিয়ামতের পূর্বে মুমিনদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বীনের বিজয় হবে। তাহলে এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কিভাবে নফসের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোঁকা কোলা কিংবা এমন পণ্য যা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত দেশের তৈরি, অথচ তা সরকার বয়কট করতে বলে না, তা কী ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সামাজিকভাবে বর্জন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোর্ট ম্যারেজ এবং কোর্টের মাধ্যমে ত্বালাক্ব দেয়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : যাদের মানহাজ-আক্বীদা সঠিক নয়, তাদের কুরআন তিলাওয়াত বা ইলমী আলোচনা শুনা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ব্যক্তি জুমু‘আর ছালাত আদায়ের পর কারো সাথে কথা না বলে বাসায় গিয়ে দরজা লাগিয়ে গোপন একটি আমল করে। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বর্তমানে স্পোর্টসের দোকানগুলোতে এবং যুবকদের মধ্যে ইউরোপীয় জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোর নামযুক্ত জার্সি পরার প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ক্লাবের কিছু লোগোতে ক্রস (খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক)ও রয়েছে। যদি এসব জার্সি বিক্রি বন্ধ করি, তাহলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব, এমনকি দোকান বন্ধ করে দিতে হতে পারে। তবে আমরা হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন। অতএব নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর হুকুম শরী‘আতের আলোকে কী হবে? (১) ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি কেনা, বিক্রি করা ও পরিধান করার হুকুম কী? খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকলে তা পরে ছালাত পড়া যাবে কি? (২) যেসব জার্সিতে নাম নেই, কেবল নম্বর আছে, সেগুলো বিক্রি করার হুকুম কী? (৩) যেসব জার্সিতে নাম বা নম্বর কিছুই নেই, সেগুলো বিক্রি করার হুকুম কী? (৪) যেসব জার্সির লোগো থেকে ক্রস মুছে ফেলা হয়েছে, সেগুলো বিক্রির হুকুম কী? (৫) এটি কি “عمت به البلوى” (সর্বব্যাপী সাধারণ বিপদ) হিসাবে গণ্য হবে? (৬) যদি এসব জার্সি বিক্রি করা বৈধ না হয়, তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ছালাত শেষে ইমাম যখন সালাম ফিরাবে, তখন মুছল্লীদেরকে কি উক্ত সালামের জবাব প্রদান করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ