উত্তর : ফজরের ছালাত অন্ধকার থাকতেই আদায় করা সুন্নাহ এবং এটিই অধিকতর ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের নিয়মিত আমল ছিল অন্ধকার থাকতে ছালাত শুরু করা এবং অন্ধকার থাকতেই শেষ করা। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,
كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ صَلَاةَ الْفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوْطِهِنَّ، ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوْتِهِنَّ حِيْنَ يَقْضِيْنَ الصَّلَاةَ، لَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ
‘মুমিন মহিলারা চাদর মুড়ি দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ফজরের ছালাতে উপস্থিত হতেন। ছালাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরতেন, তখন অন্ধকারের কারণে তাঁদেরকে চেনা যেত না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৭৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৫)। আপনি যে হাদীছটির কথা শুনেছেন (أَسْفِرُوْا بِالْفَجْرِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ- ফজর ফর্সা করে পড়, এতে নেকী বেশি), এটি ছহীহ হলেও এর অর্থ সূর্য ওঠার আগ মুহূর্তে পড়া নয়। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাখ্যায় বলেন, والمراد بالإسفار: التحقق من طلوع الفجر، وليس المراد بالإسفار أن يؤخرها إلى ما قبل طلوع الشمس ‘ইসফারর (ফর্সা করার) উদ্দেশ্য হলো সুবহে ছাদেক উদিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া। এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, ছালাতকে সূর্য ওঠার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দেরি করা’ (শারহুল মুমতি‘, ২/১০৫ পৃ.)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উত্তম হলো ‘তাগলীস’ বা অন্ধকারের মধ্যে সময়ের শুরুতে ছালাত আদায় করা। এটিই নবী (ﷺ)-এর অধিকাংশ সময়ের আমল ছিল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনি বায, ১০/৩৮৩ পৃ.)। সুতরাং সুন্নাহ হলো অন্ধকার থাকতেই ফজরের ছালাত আদায় করা। ইমাম ছাহেব যে ‘বেশি ছাওয়াবের’ কথা বলেছেন, তা মূলত সুবহে ছাদেক নিশ্চিত হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে বলা হয়েছে। সুতরাং আপনারা অন্ধকার থাকতে ছালাত আদায় করাকেই প্রাধান্য দিবেন।
প্রশ্নকারী : মীজানুর রহমান ভূঁইয়া, মোমেনশাহী।