রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ পোশাকের মূল বিধান হচ্ছে বৈধতা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পরিধানের জন্য যা সৃষ্টি করেছেন তা উল্লেখ করে তিনি আমাদেরকে তাঁর নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,

‘হে আদমের সন্তানেরা! আমি তোমাদেরকে লজ্জা নিবারণ ও সাজসজ্জার জন্য পোশাক দিয়েছি। আর তাক্বওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত; যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ২৬)। সুতরাং কেউ যদি কোন ধরন বা রঙের পোশাক হারাম বলে দাবি করে তাকে এর পক্ষে সুস্পষ্ট দলীল পেশ করতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ পুরুষদের জন্য তিন রঙের পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমরা মতভেদ করেছেন। যথা: ১- টকটকে লাল রঙের পোশাক, যার সাথে অন্য কোন রং মিশ্রিত হয়নি। যে লাল রঙের পোশাকের সাথে অন্য রং মিশ্রিত হয়েছে তা পরা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। ২- উসফুর দ্বারা রঞ্জিত। উসফুর বা কুসুম হচ্ছে একটি পরিচিত উদ্ভিদ, যা লাল রঙে রঞ্জিত করে। কুসুম ছাড়া অন্য কোন কিছু থেকে লাল রঙে রঞ্জিত হলে সেটি পূর্বের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। ৩- জাফরান দ্বারা রঞ্জিত। এটি হচ্ছে এমন উদ্ভিদ, যা হলুদ রং প্রদান করে। জাফরান ছাড়া অন্য কোনভাবে হলুদ রঙে রঞ্জিত হলে তা পরার বৈধতার ব্যাপারে আলেমরা একমত।

উসফুর বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত পোশাক পরার হুকুম প্রসঙ্গে আলেমদের তিনটি অভিমত রয়েছে। প্রথম মত : এমন পোশাক পরা হারাম। এটি যাহেরী মাযহাব এবং ইবনুল ক্বাইয়িমের মত। তাদের দলীল হচ্ছেÑ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পরনে দু’টি কুসুমের রঙে রঞ্জিত কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফেরদের পোশাক। তুমি এগুলো পরবে না’। অন্য বর্ণনায়, ‘তোমার মা কি তোমাকে এটা পরতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কি এগুলো ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেন, তুমি এগুলো পুড়িয়ে ফেলো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৭)। অন্যত্র আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘মুআসফার’ বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৮)। দ্বিতীয় মত : এমন পোশাক পরা মাকরূহ। এটি হানাফী এবং মালেকীদের মত। হাম্বলীদের কাছেও এটি নির্ভরযোগ্য মত। তারা বলেন, পূর্বের নিষেধাজ্ঞাকে অপসন্দনীয়তার অর্থে নিতে হবে। কারণ বারা ইবনে ‘আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)-কে লাল হুল্লা (একই রঙের চাদর ও লুঙ্গি) পরিহিত অবস্থায় দেখেছি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৭)। তৃতীয় মত : এমন পোশাক পরা জায়েয। এটি শাফেয়ীদের মত (আল-মাজমূঊ, ৪/৪৫০; আল-মুগনী, ২/২৯৯; আল-মুহাল্লা, ৪/৬৯; তাহযীবু সুনানি আবি দাঊদ, ১১/১১৭; হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন, ৫/২২৮)।

আল-খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহই সর্বজ্ঞ; তবে আমার কাছে হারাম হওয়ার মতটি অগ্রগণ্য। কারণ নিষেধাজ্ঞা মূলত হারাম করার জন্য হয়ে থাকে। আর নবী (ﷺ)-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার অর্থ এই নয় যে, এটি কুসুমের রঙে রঞ্জিত হওয়ার কারণে লাল। বরং সেটি কুসুম ছাড়া অন্য কিছুর দ্বারা লাল রঙে রঞ্জিত ছিল’ (মা‘আলিমুস সুনান, ৪/১৭৯)। অন্যদিকে জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমদের তিনটি মত রয়েছে। সবচেয়ে সঠিক মত হচ্ছে শাফেয়ীদের মত এবং তা হাম্বলীদেরও একটি বর্ণনা। সেটি হচ্ছে : পুরুষের জন্য জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। এর প্রমাণ হচ্ছে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষকে জাফরানের রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০১)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সঠিক মত হচ্ছে পুরুষের জন্য কুসুমের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। আর জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাকের হুকুমও অনুরূপ’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ২/২১৮; বিস্তারিত দ্র.: আত-তামহীদ, ২/১৮০; আল-ইনছাফ, ১/৪৮১; আল-মুহাল্লা, ৪/৭৬; আল-মাজমূঊ, ৪/৪৪৯; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৫/২২৮; আল-মুগনী, ২/২৯৯)।

তৃতীয়তঃ এই রঙগুলো ছাড়া অন্যান্য রঙের পোশাক পরার বৈধতার ব্যাপারে কোন আলেম দ্বিমত করেননি। বরং তারা এ ব্যাপারে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন (আল-মাজমূঊ, ৪/৩৩৭)।

প্রশ্নকারী : আতীকুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।




প্রশ্ন (১১) : অনেক মসজিদ বা বাসা-বাড়িতে এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৪ কূল বেঁধে রাখা হয়। এর কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছাত্রাবাসে দেশের নতুন বিজয় উপলক্ষে এবং যারা মারা গেছে তাদের স্মরণে নফল ছিয়াম রাখে। এরকম আনুষ্ঠানিকভাবে নফল ছিয়াম রাখার কোন দলীল আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : দান, ছাদাক্বাহ, যাকাত অথবা যাকাতুল ফিতর নিকট আত্মীয় ভাই-বোনদের দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : মসজিদে বাম হাতের উপর ভর দিয়ে বসার ব্যাপারে কি কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আছে? জানা যায় যে, এটি ভাল নয়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : প্রচলিত আছে যে, সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ উপলক্ষে জন্মের সপ্তম দিন অথবা অন্য কোন দিনে গ্রামের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে খাবার অনুষ্ঠান করা যায়। যাকে ‘সাথলা’ নামকরণ করা হয়। প্রশ্ন হল, উক্ত অনুষ্ঠান করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : রুকূ‘র সময় দৃষ্টি কোথায় থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমার দুই সন্তান আছে। আমরা তাদের নিয়ে একটা সুখী পরিবার। এখন আমরা আর সন্তান নিতে চাই না। উল্লেখ্য, দরিদ্র্য হওয়ার ভয়ে নয়। এই দু’জনকে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শ্রম এবং সময় দিয়ে যোগ্য দ্বীনদার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এই চিন্তায় কি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ছালাত শুরুর প্রথম তাকবীর ‘আল্লাহু আকবার’ ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে কি উচ্চৈঃস্বরে বলতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কুরআন মাজীদ পড়ার সুন্নাতী আদবগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মহিলারা শাড়ি পরিধান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): জনৈক আলেম বলেন, জুম‘আর দিন মুসলিমদের জন্য ঈদের দিন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ