শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৫ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ পোশাকের মূল বিধান হচ্ছে বৈধতা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পরিধানের জন্য যা সৃষ্টি করেছেন তা উল্লেখ করে তিনি আমাদেরকে তাঁর নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,

‘হে আদমের সন্তানেরা! আমি তোমাদেরকে লজ্জা নিবারণ ও সাজসজ্জার জন্য পোশাক দিয়েছি। আর তাক্বওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত; যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ২৬)। সুতরাং কেউ যদি কোন ধরন বা রঙের পোশাক হারাম বলে দাবি করে তাকে এর পক্ষে সুস্পষ্ট দলীল পেশ করতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ পুরুষদের জন্য তিন রঙের পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমরা মতভেদ করেছেন। যথা: ১- টকটকে লাল রঙের পোশাক, যার সাথে অন্য কোন রং মিশ্রিত হয়নি। যে লাল রঙের পোশাকের সাথে অন্য রং মিশ্রিত হয়েছে তা পরা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। ২- উসফুর দ্বারা রঞ্জিত। উসফুর বা কুসুম হচ্ছে একটি পরিচিত উদ্ভিদ, যা লাল রঙে রঞ্জিত করে। কুসুম ছাড়া অন্য কোন কিছু থেকে লাল রঙে রঞ্জিত হলে সেটি পূর্বের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। ৩- জাফরান দ্বারা রঞ্জিত। এটি হচ্ছে এমন উদ্ভিদ, যা হলুদ রং প্রদান করে। জাফরান ছাড়া অন্য কোনভাবে হলুদ রঙে রঞ্জিত হলে তা পরার বৈধতার ব্যাপারে আলেমরা একমত।

উসফুর বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত পোশাক পরার হুকুম প্রসঙ্গে আলেমদের তিনটি অভিমত রয়েছে। প্রথম মত : এমন পোশাক পরা হারাম। এটি যাহেরী মাযহাব এবং ইবনুল ক্বাইয়িমের মত। তাদের দলীল হচ্ছেÑ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পরনে দু’টি কুসুমের রঙে রঞ্জিত কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফেরদের পোশাক। তুমি এগুলো পরবে না’। অন্য বর্ণনায়, ‘তোমার মা কি তোমাকে এটা পরতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কি এগুলো ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেন, তুমি এগুলো পুড়িয়ে ফেলো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৭)। অন্যত্র আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘মুআসফার’ বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৮)। দ্বিতীয় মত : এমন পোশাক পরা মাকরূহ। এটি হানাফী এবং মালেকীদের মত। হাম্বলীদের কাছেও এটি নির্ভরযোগ্য মত। তারা বলেন, পূর্বের নিষেধাজ্ঞাকে অপসন্দনীয়তার অর্থে নিতে হবে। কারণ বারা ইবনে ‘আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)-কে লাল হুল্লা (একই রঙের চাদর ও লুঙ্গি) পরিহিত অবস্থায় দেখেছি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৭)। তৃতীয় মত : এমন পোশাক পরা জায়েয। এটি শাফেয়ীদের মত (আল-মাজমূঊ, ৪/৪৫০; আল-মুগনী, ২/২৯৯; আল-মুহাল্লা, ৪/৬৯; তাহযীবু সুনানি আবি দাঊদ, ১১/১১৭; হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন, ৫/২২৮)।

আল-খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহই সর্বজ্ঞ; তবে আমার কাছে হারাম হওয়ার মতটি অগ্রগণ্য। কারণ নিষেধাজ্ঞা মূলত হারাম করার জন্য হয়ে থাকে। আর নবী (ﷺ)-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার অর্থ এই নয় যে, এটি কুসুমের রঙে রঞ্জিত হওয়ার কারণে লাল। বরং সেটি কুসুম ছাড়া অন্য কিছুর দ্বারা লাল রঙে রঞ্জিত ছিল’ (মা‘আলিমুস সুনান, ৪/১৭৯)। অন্যদিকে জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমদের তিনটি মত রয়েছে। সবচেয়ে সঠিক মত হচ্ছে শাফেয়ীদের মত এবং তা হাম্বলীদেরও একটি বর্ণনা। সেটি হচ্ছে : পুরুষের জন্য জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। এর প্রমাণ হচ্ছে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষকে জাফরানের রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০১)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সঠিক মত হচ্ছে পুরুষের জন্য কুসুমের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। আর জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাকের হুকুমও অনুরূপ’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ২/২১৮; বিস্তারিত দ্র.: আত-তামহীদ, ২/১৮০; আল-ইনছাফ, ১/৪৮১; আল-মুহাল্লা, ৪/৭৬; আল-মাজমূঊ, ৪/৪৪৯; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৫/২২৮; আল-মুগনী, ২/২৯৯)।

তৃতীয়তঃ এই রঙগুলো ছাড়া অন্যান্য রঙের পোশাক পরার বৈধতার ব্যাপারে কোন আলেম দ্বিমত করেননি। বরং তারা এ ব্যাপারে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন (আল-মাজমূঊ, ৪/৩৩৭)।

প্রশ্নকারী : আতীকুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।




প্রশ্ন (৩১) : মৃত্যুর প্রস্তুতি স্বরূপ কেউ কাফনের কাপড় কিনে রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিনে আমার উপর ৮০ বার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার ৮০ বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন ব্যক্তি যদি একাধারে কয়েক বছর যাকাত আদায় না করে, তাহলে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের শিক্ষাগত ও গঠনমূলক পরিচালনার দিক দিয়ে ইমাম ও মসজিদের কমিটির কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে? মসজিদ ও মাদরাসার কমিটির সদস্যদের কী কী গুণ থাকা আবশ্যক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আক্বীদা, আচরণ ও আমলের ক্ষেত্রে তাওহীদের হাক্বীক্বাত বা প্রকৃতি জানার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অধিকাংশ মানুষ ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট গুটিয়ে নিয়ে ছালাত আদায় করে থাকে। প্রশ্ন হল- শুধু ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯): ব্যাংকে সূদ নেয়া ব্যতীত টাকা রাখা বা সঞ্চয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : নিজ পরিবার রেখে জীবিকার জন্য প্রবাসে চাকরি করা কি বৈধ? এভাবে কতদিন থাকা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : গর্ভবতী মহিলার ২ বা ৩ মাসের বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে কি ছালাত-ছিয়াম পালন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মারফূ‘ আছার কাকে বলে? এই সকল হাদীছের উপর আমল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ছালাত আদায় করে না। এমন ব্যক্তিকে মসজিদের কমিটিতে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছাদাক্বাহ ও ওছিয়তের মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ