রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ পোশাকের মূল বিধান হচ্ছে বৈধতা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পরিধানের জন্য যা সৃষ্টি করেছেন তা উল্লেখ করে তিনি আমাদেরকে তাঁর নে‘মতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন,

‘হে আদমের সন্তানেরা! আমি তোমাদেরকে লজ্জা নিবারণ ও সাজসজ্জার জন্য পোশাক দিয়েছি। আর তাক্বওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত; যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ২৬)। সুতরাং কেউ যদি কোন ধরন বা রঙের পোশাক হারাম বলে দাবি করে তাকে এর পক্ষে সুস্পষ্ট দলীল পেশ করতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ পুরুষদের জন্য তিন রঙের পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমরা মতভেদ করেছেন। যথা: ১- টকটকে লাল রঙের পোশাক, যার সাথে অন্য কোন রং মিশ্রিত হয়নি। যে লাল রঙের পোশাকের সাথে অন্য রং মিশ্রিত হয়েছে তা পরা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। ২- উসফুর দ্বারা রঞ্জিত। উসফুর বা কুসুম হচ্ছে একটি পরিচিত উদ্ভিদ, যা লাল রঙে রঞ্জিত করে। কুসুম ছাড়া অন্য কোন কিছু থেকে লাল রঙে রঞ্জিত হলে সেটি পূর্বের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। ৩- জাফরান দ্বারা রঞ্জিত। এটি হচ্ছে এমন উদ্ভিদ, যা হলুদ রং প্রদান করে। জাফরান ছাড়া অন্য কোনভাবে হলুদ রঙে রঞ্জিত হলে তা পরার বৈধতার ব্যাপারে আলেমরা একমত।

উসফুর বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত পোশাক পরার হুকুম প্রসঙ্গে আলেমদের তিনটি অভিমত রয়েছে। প্রথম মত : এমন পোশাক পরা হারাম। এটি যাহেরী মাযহাব এবং ইবনুল ক্বাইয়িমের মত। তাদের দলীল হচ্ছেÑ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল ‘আছ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পরনে দু’টি কুসুমের রঙে রঞ্জিত কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফেরদের পোশাক। তুমি এগুলো পরবে না’। অন্য বর্ণনায়, ‘তোমার মা কি তোমাকে এটা পরতে বলেছে? আমি বললাম, আমি কি এগুলো ধুয়ে ফেলব? তিনি বললেন, তুমি এগুলো পুড়িয়ে ফেলো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৭)। অন্যত্র আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘মুআসফার’ বা কুসুম দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৭৮)। দ্বিতীয় মত : এমন পোশাক পরা মাকরূহ। এটি হানাফী এবং মালেকীদের মত। হাম্বলীদের কাছেও এটি নির্ভরযোগ্য মত। তারা বলেন, পূর্বের নিষেধাজ্ঞাকে অপসন্দনীয়তার অর্থে নিতে হবে। কারণ বারা ইবনে ‘আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমি নবী (ﷺ)-কে লাল হুল্লা (একই রঙের চাদর ও লুঙ্গি) পরিহিত অবস্থায় দেখেছি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৭)। তৃতীয় মত : এমন পোশাক পরা জায়েয। এটি শাফেয়ীদের মত (আল-মাজমূঊ, ৪/৪৫০; আল-মুগনী, ২/২৯৯; আল-মুহাল্লা, ৪/৬৯; তাহযীবু সুনানি আবি দাঊদ, ১১/১১৭; হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন, ৫/২২৮)।

আল-খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহই সর্বজ্ঞ; তবে আমার কাছে হারাম হওয়ার মতটি অগ্রগণ্য। কারণ নিষেধাজ্ঞা মূলত হারাম করার জন্য হয়ে থাকে। আর নবী (ﷺ)-এর লাল রঙের পোশাক পরিধান করার অর্থ এই নয় যে, এটি কুসুমের রঙে রঞ্জিত হওয়ার কারণে লাল। বরং সেটি কুসুম ছাড়া অন্য কিছুর দ্বারা লাল রঙে রঞ্জিত ছিল’ (মা‘আলিমুস সুনান, ৪/১৭৯)। অন্যদিকে জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরার ব্যাপারে আলেমদের তিনটি মত রয়েছে। সবচেয়ে সঠিক মত হচ্ছে শাফেয়ীদের মত এবং তা হাম্বলীদেরও একটি বর্ণনা। সেটি হচ্ছে : পুরুষের জন্য জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। এর প্রমাণ হচ্ছে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুরুষকে জাফরানের রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৪৬; ছহীহ মুসলিম, হা/২১০১)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সঠিক মত হচ্ছে পুরুষের জন্য কুসুমের রঙে রঞ্জিত পোশাক পরা হারাম। আর জাফরানের রঙে রঞ্জিত পোশাকের হুকুমও অনুরূপ’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ২/২১৮; বিস্তারিত দ্র.: আত-তামহীদ, ২/১৮০; আল-ইনছাফ, ১/৪৮১; আল-মুহাল্লা, ৪/৭৬; আল-মাজমূঊ, ৪/৪৪৯; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৫/২২৮; আল-মুগনী, ২/২৯৯)।

তৃতীয়তঃ এই রঙগুলো ছাড়া অন্যান্য রঙের পোশাক পরার বৈধতার ব্যাপারে কোন আলেম দ্বিমত করেননি। বরং তারা এ ব্যাপারে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন (আল-মাজমূঊ, ৪/৩৩৭)।

প্রশ্নকারী : আতীকুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।




প্রশ্ন (১১) : ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলাকে মুসলিম ও কাফির সবাই কি দেখতে পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : তারাবীহর ছালাত নিয়মিত জামা‘আতের সাথে আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : বিকাশে মাঝেমধ্যে কার্ড টু বিকাশ এড মানিতে ক্যাশব্যাক দেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ ৫,৫০০/- কার্ড থেকে বিকাশে আনলে ৫০/- টাকা ক্যাশব্যাক দেয়া হয়। এটা সূদ না-কি হিবা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তামাক চাষ করে সেই তামাক বিক্রি করা টাকা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : তরকারী জাতীয় পণ্যে যাকাত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কারো বাবা সারাজীবন সূদী ব্যাংকে চাকরি করে ছেলে মেয়েদের ঐ বেতনের টাকা দিয়ে লালন পালন করেছেন। এখন তিনি অবসরপ্রাপ্ত। পেনশনের টাকা পান। এক্ষেত্রে ছেলেমেয়েদের কি গুনাহ হবে? বর্তমানে বাবার পেনশনের টাকায় কেনা খাবার খেতে বা পোশাক পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : পাত্রী দ্বীনদার কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল পাত্রী ফেসবুক মেসেঞ্জারে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলে। জানা সত্ত্বেও ওই পাত্রীকে বিয়ে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের পোশাক মানেই বিভিন্ন প্রাণীর কার্টুনযুক্ত পোশাক। এরূপ ছবি ও কার্টুনযুক্ত পোশাক বাচ্চাদের পরানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : রাতে ছালাত আদায়ের সময় মুছল্লীর ছায়া সামনে পড়লে কি কোন সমস্যা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর খুতবাহ চলাকালীন খত্বীব কর্তৃক হাত তুলে দু‘আ করা এবং মুক্তাদীগণের হাত তুলে আমীন আমীন বলা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ‘হস্তমৈথুন’-এর শাস্তি কী? এর থেকে ত‌ওবা করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ