ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা
- আব্দুল্লাহ মুজাহিদ বিন সাঈদ*
রাষ্ট্র কোনো একদিনে জন্ম নেয় না। রাষ্ট্র জন্ম নেয় ইতিহাসের গর্ভে, মানুষের চিন্তার ভিতরে, নৈতিকতার স্তরে, চরিত্রের কাঠামোয়, বিশ্বাসের গভীরে। রাষ্ট্র আসলে ক্ষমতার কাঠামো নয়, রাষ্ট্র হলো একটি জাতির আত্মার/নফসের প্রতিফলন। যে জাতির আত্মা/নাফস দুর্নীতিগ্রস্ত, তার রাষ্ট্রও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়। যে জাতির নাফস ন্যায়পরায়ণ, তার রাষ্ট্রও ন্যায়পরায়ণ হয়। যে জাতির নাফস আল্লাহভীরু, তার রাষ্ট্রেও আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।*
ইসলামী রাষ্ট্র হলো এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আল্লাহর আইন হলো একমাত্র সংবিধান, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহই আদর্শ, আর তাক্বওয়া, সততা ও ইনসাফ হলো শাসনের ভিত্তি। এটি একটি সভ্যতা প্রকল্প (ঈরারষরুধঃরড়হধষ চৎড়লবপঃ)। এটি ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের রূপান্তরের আন্দোলন। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দু হলো তরুণ সমাজ, কারণ ইতিহাসের প্রতিটি সভ্যতা পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে তরুণদের হাত ধরেই। মহান আল্লাহ বলেন, اِنَّ اللّٰہَ لَا یُغَیِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتّٰی یُغَیِّرُوۡا مَا بِاَنۡفُسِہِمۡ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অন্তর ও চরিত্র পরিবর্তন করে’ (সূরা আর-রা‘দ : ১১)।
উপরিউক্ত আয়াত রাষ্ট্রতত্ত্বের মৌলিক সূত্র। রাষ্ট্র বদলাতে চাইলে আগে মানুষ বদলাতে হবে। ব্যবস্থা বদলাতে চাইলে আগে বিশ্বাস বদলাতে হবে। ক্ষমতা বদলাতে চাইলে আগে চরিত্র বদলাতে হবে।
হে তরুণ প্রজন্ম! ইসলামী রাষ্ট্র; কাঠামো নয়, মূল্যবোধের রাষ্ট্র। ইসলামী রাষ্ট্র মানে শুধু ইসলামী সংবিধান, ইসলামী আইন বা ইসলামী প্রতীক নয়। ইসলামী রাষ্ট্র মানে হলো :
১. আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ২. ন্যায়বিচারের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ৩. ইনসাফের সামাজিকীকরণ ৪. আমানতদারিতার রাষ্ট্রীয় রূপ ৫. তাক্বওয়ার রাজনৈতিক প্রকাশ।
ইসলামী রাষ্ট্র হলো এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে আইন কেবল দণ্ড দেয় না, মানুষ গড়ে তোলে। যেখানে ক্ষমতা কেবল শাসন করে না, নৈতিকতা রক্ষা করে। যেখানে রাজনীতি কেবল কৌশল নয়, এটি ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
أَلَا كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالْإِمَامُ الَّذِيْ عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَهُوَ مَسْؤُوْلٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ.
‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। সুতরাং জনগণের শাসকও একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ক্বিয়ামতের দিন তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে।[১]
এই হাদীছ রাষ্ট্রতত্ত্বকে ব্যক্তিগত নৈতিকতার সাথে যুক্ত করে দেয়। ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি তাই শাসকের হাতে নয়, নাগরিকের বিবেকে।
তরুণরা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নয়, রাষ্ট্রের বর্তমান। প্রচলিত ধারণা বলে, ‘তরুণরা ভবিষ্যৎ’। কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রতত্ত্ব বলে, তরুণরাই বর্তমান। কারণ পরিবর্তনের গতি আসে তরুণদের হাত ধরেই। ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে তরুণরাই ছিল পরিবর্তনের ইঞ্জিন।
ইসলামের প্রথম প্রজন্মের দিকে তাকালেই দেখা যায়, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), মুস‘আব ইবনু উমায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু), উসামা ইবনু যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সহ অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। তারা শুধু সাহসী ছিলেন না, তারা ছিলেন নৈতিকভাবে পরিশুদ্ধ, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রস্তুত, আদর্শিকভাবে দৃঢ়।
হে তরুণ ভাইয়েরা! ঈমানহীন রাজনীতি রাষ্ট্রের নৈতিক মৃত্যু। যে রাজনীতির ভিত্তি ঈমান নয়, সে রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতালিপ্সায় রূপ নেয়, ফ্যাসিবাদের জন্ম নেয়। যে রাজনীতির ভিত্তি তাক্বওয়া নয়, সে রাজনীতি দুর্নীতিতে পরিণত হয়।
যে রাজনীতির ভিত্তি আখিরাতচিন্তা নয়, সে রাজনীতি যুলুম উৎপাদন করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, إِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ‘যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে, তখন ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করো’। জিজ্ঞেস করা হলো, আমানত নষ্ট হওয়া কী? তিনি বললেন, যখন অযোগ্যদের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হবে।[২]
ইসলামী রাষ্ট্রের পতন শুরু হয়, তরুণদের অযোগ্যতা দিয়ে, চরিত্রহীনতা দিয়ে, নৈতিক দুর্বলতা দিয়ে। কিন্তু হায় আফসোস! আজ এই যুবসমাজের বেহাল দশা, নৈতিক অবক্ষয় কি আদৌ কাম্য ছিল?
ইসলামের প্রাথমিক যুগে যুবকরাই ছিল ইসলামের অন্যতম প্রধান শক্তি। ‘ইউনিসেফ’-এর শিশু অধিকার সনদে বলা হয়, ১৮ বছরের নীচে শিশু এবং ১৮ বছর থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত যুবক।[৩]
আল মুনজিদ প্রণেতা বলেন, বালেগ বা স্বপ্নদোষ হওয়ার পর থেকে নিয়ে ত্রিশ বছর পর্যন্ত যুবক। এ চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে যৌবনকালটি শুরু হয় বালেগ বয়সে উপনীত হওয়ার পর থেকে তথা ১৫ বছর থেকে। আর তা শেষ হয় প্রায় ৪০ বছর বয়সে। আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে যে সকল নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাদের অধিকাংশই যুবক অবস্থায় নবুওত প্রাপ্ত হয়েছেন। যুবকরা পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর। তারা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাদের উদ্দেশ্যে এক প্রাঞ্জল ভাষণ দেন, সেখানে তিনি যুবকদেরকে তরবারীর তীক্ষ্ণ সুচালো ধারের সঙ্গে তুলনা করেন।[৪]
যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন যুবকেরা তা তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এ কারণে পৃথিবীতে যত বিজয় অর্জিত হয়েছে, দেখা যায় তার মূলে যুবকদেরই ভূমিকা সর্বাগ্রে। মানব জাতির সবচেয়ে বড় চাওয়া হল জান্নাত। সেই জান্নাতের অধিবাসীরা হবেন যুবক। দুনিয়াতে যেমন তারা দুনিয়াবাসীর নিকট শ্রেষ্ঠ, তেমনি তারা জান্নাতেও থাকবে মর্যাদাশীল।
বর্তমান বাংলাদেশে ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকের সংখ্যা পৌনে পাঁচ কোটি। এর সঙ্গে ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুব জনসংখ্যাকে ধরলে বলা যায় যে, জনসংখ্যার তিন ভাগের দুই ভাগই যুবক।[৫]
এই বিপুল যুবগোষ্ঠীর অধিকাংশই আজ আদর্শিক জ্ঞানের অভাবে অন্ধকারের অতল তলে নিমজ্জিত। আল কুরআন ও হাদীছের সঠিক জ্ঞান না থাকায় তারা শত বাঁধায় বিভক্ত। পাঠক বৃন্দ, একবার চিন্তা করুন!
১. তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড
২০২০ সালে উচ্চ সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের এক পরিসংখ্যান তথ্য হতে জানা যায়, ১৮ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৭%, ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৩৪%, ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৩৬%, ৩৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যে ২০% এবং ৫৫ থেকে বেশি বয়সী নারী ও পুরুষের মধ্যে ৩% তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নানান রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।[৬]
২. যুব সমাজের অনলাইন গেমস আসক্তি
বর্তমান সময়ে দেশে ব্যবহার করা ২৬০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের ৫০ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে টিক টক, লাইকি, রিলস, পাবজি, অনলাইন গেমস ও পর্নোগ্রাফি সাইট দেখার জন্য। এ সকল অনলাইন গেমস/সাইট যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
৩. যুব সমাজের কিশোর গ্যাং এর সাথে সংশ্লিষ্টতা
তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারে যুব সমাজের মানসিকতার ব্যাপক পরিবর্তন ও নৈতিক বিপর্যয় হচ্ছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন জেলায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। যার মধ্যে ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০টি, খুলনাতে ৩টি, যশোরে ১৫-২০টি, ফেনীতে ১০টি, রাজশাহীতে ৮১টি, চট্টগ্রামে ১৬টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।[৭]
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! তরুণদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি নির্মাণ। এটি বিনির্মাণে অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো হলো :
১. ঈমান ও আক্বীদার দৃঢ়তা
ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রথম শর্ত হলো বিশুদ্ধ ঈমান। তরুণদের হৃদয়ে যদি আল্লাহভীতি, রাসূলপ্রেম এবং আখিরাতচিন্তা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে বাহ্যিক কোনো ইসলামী কাঠামো টেকসই হয় না। তাই তরুণদের প্রথম দায়িত্ব হলো কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আক্বীদা গঠন, শিরক-বিদ‘আত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। মহান আল্লাহ বলেন,
وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسۡتَخۡلِفَنَّہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ کَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۪ وَ لَیُمَکِّنَنَّ لَہُمۡ دِیۡنَہُمُ الَّذِی ارۡتَضٰی لَہُمۡ وَ لَیُبَدِّلَنَّہُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِہِمۡ اَمۡنًا ؕ یَعۡبُدُوۡنَنِیۡ لَا یُشۡرِکُوۡنَ بِیۡ شَیۡئًا ؕ وَ مَنۡ کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ.
‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই যমীনে প্রতিনিধিত্ব (খেলাফত) দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন। তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে, আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না। আর এরপরও যারা কুফরি করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক’ (সূরা আন-নূর : ৫৫)।
২. চরিত্র গঠন ও আত্মশুদ্ধি
রাষ্ট্র গঠনের আগে আত্মগঠন যরূরী। তরুণদের প্রথম সংগ্রাম বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে নয়, ভেতরের নফসের বিরুদ্ধে। আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়াতুন নাফস) ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্র কল্পনামাত্র।
৩. জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতি
ইসলামী রাষ্ট্র মানে আবেগের রাজনীতি নয়, জ্ঞানের রাজনীতি। কুরআন, সুন্নাহ, ফিক্বহ, ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব সব বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ইসলামকে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়ে সমাজের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
৪. দাওয়াহভিত্তিক সমাজসংস্কার
রাষ্ট্র গঠিত হয় সমাজ বদলের পথ ধরে। সমাজ বদলায় দাওয়াহ দিয়ে। দাওয়াহ আসে চরিত্র দিয়ে। দাওয়াহ শুধু বক্তৃতা নয়, বরং জীবন দিয়ে ইসলামকে উপস্থাপন করা।
৫. সংগঠিত আদর্শিক শক্তি গঠন
ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণ ব্যক্তিক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ, আদর্শভিত্তিক তরুণ সমাজ। বিভক্তি নয়, ঐক্য। বিশৃঙ্খলা নয়, শৃঙ্খলা। আবেগ নয়, পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতি। এই নীতির উপর ভিত্তি করে তরুণদের এগিয়ে যেতে হবে।
৬. আধুনিক মাধ্যমকে ইসলামের জন্য ব্যবহার
বর্তমান যুগে মিডিয়া, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের চিন্তা গঠনের প্রধান মাধ্যম। তরুণদের দায়িত্ব হলো, এই মাধ্যমগুলোকে ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতির হাতিয়ার না বানিয়ে ইসলামী দাওয়াহ, শিক্ষা ও নৈতিকতার প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা।
ইসলামী রাষ্ট্র মানে একটি নতুন সভ্যতা নির্মাণ, যেখানে অর্থনীতি হবে ন্যায়ভিত্তিক, রাজনীতি হবে নৈতিক, শিক্ষা হবে চরিত্রকেন্দ্রিক, আইন হবে ইনসাফভিত্তিক, সংস্কৃতি হবে তাক্বওয়াভিত্তিক। এটি কেবল রাষ্ট্র নয়, এটি একটি মানবিক সভ্যতা (ঐঁসধহ-পবহঃবৎবফ পরারষরুধঃরড়হ)।
হে তরুণ প্রজন্ম! রাষ্ট্রের আগে মানুষ, মানুষের আগে তরুণ। ইসলামী রাষ্ট্র কোনো একদিনের বিপ্লব নয়, এটি প্রজন্মের সাধনা। আজকের তরুণ যদি হয়....
১. ঈমানদার ২. নীতিবান ৩. জ্ঞানী ৪. সুসংগঠিত ৫. দায়িত্বশীল ৬. আর আদর্শে অবিচল। তবে ইসলামী রাষ্ট্র ইতিহাসের বইয়ে নয়, বাস্তব সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। রাষ্ট্র গড়ে আইন, সভ্যতা গড়ে মানুষ, আর মানুষ গড়ে তরুণ।
তাই ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা কোনো অংশবিশেষ নয়, বরং এটাই মূল ভিত্তি, এটাই কেন্দ্র, এটাই হৃদয়, এটাই চালিকাশক্তি। শেষ করতে চাই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার লাইন দিয়ে,
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
* দাওরায়ে হাদীছ, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাধা, রাজশাহী।
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৭১৩৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮২৯।
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৪৯৬।
[৩]. Convention on the Rights of the Child, G.A. Res. 44/25, Article 1, (20 Nov. 1989).
[৪]. কাজী নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ভাষণ, ১৯৩২, নজরুল রচনাবলী, বাংলা একাডেমি।
[৫]. UNFPA. (2025). Bangladesh's population hits 17.57 crore: UNFPA. Daily Sun Report, Dhaka.
[৬]. https://www.blogacademy.tech/misuse-of information-technology.com
[৭]. Teen gangs running rampant across country. (2025, August 14). Daily Sun.