বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ  

- হাসিবুর রহমান বুখারী* 


ভূমিকা 

কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচারব্যবস্থার স্বরূপ মূলত আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবকল্যাণ এবং জবাবদিহিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। এর উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি প্রদান নয়, বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারের সংরক্ষণ, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। নিচে সংক্ষেপে এর প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হল:

(১) শরী’আতের সার্বভৌমত্ব

কুরআন ও সুন্নাহই আইন প্রণয়নের উৎস এবং এটিই সংবিধান, যার কাছে বিচার-ফায়সালা গ্রহণ করতে হবে। বৈধতার নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম সকল মানবসৃষ্ট ব্যবস্থা ও দর্শনের আগেই পথপ্রদর্শক হয়েছে- যে নীতির অধীনে শাসক ও শাসিত সবাই সমানভাবে বাধ্য, কোন ব্যতিক্রম নেই।[১] তাই রাসূল (ﷺ) আল্লাহপ্রদত্ত অহীর ভিত্তিতেই বিচার করতেন। আদতে ইসলামী আইনব্যবস্থার মূল উৎস হল কুরআন, ছহীহ সুন্নাহ, ইজমা‘ তথা আলিমদের ঐকমত্য, ইজতিহাদ তথা শারঈ দলীলের আলোকে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত। কুরআনুল কারীম হুকুম অর্থাৎ শাসন/বিধান একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করেছে, আইন প্রণয়নের পূর্ণ অধিকার কেবল তাঁরই এবং নিঃশর্ত আনুগত্যের অধিকারও তাঁরই। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় হুকুম কেবল আল্লাহরই; তিনি আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁরই ইবাদত কর’ (সূরা ইউসুফ : ৪০)।
সুতরাং আল্লাহর হাকিমিয়্যাহ অর্থাৎ শাসনাধিকারের একত্বে বিশ্বাস করা হল- তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যে তাওহীদের ভিত্তি। আয়াতে উল্লেখিত ‘আদেশ’ (أمر) শব্দটি ‘হুকুম’-এর একটি অংশ ও ধরন। যেহেতু শাসনাধিকার আল্লাহরই এবং এটি তাঁর এমন অধিকার, যাতে কেউ শরিক হতে পারে না- তাই তিনি আদেশ করেছেন, কেবল তাঁরই ইবাদত করতে। আল্লাহর বিধান ছাড়া তাওহীদ ও শিরক, আনুগত্য ও অবাধ্যতা, ঈমান ও কুফরের পার্থক্য নির্ণয় করা যায় না। যে ব্যক্তি এই মহান ঈমানী মূলনীতি অর্থাৎ আল্লাহর একচ্ছত্র শাসনাধিকারে বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করে না, তার ইবাদত, আনুগত্যে ও তাওহীদ শুদ্ধ হয় না। কারণ ইবাদত ও আনুগত্য কেবল আল্লাহর বিধান ও শরী‘আতের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। আল্লাহর হুকুম মান্য করার উপায় হল- এ কথা স্বীকার ও বিশ্বাস করা যে, আইন প্রণয়ন, বিধান ও আদেশের অধিকার একমাত্র তাঁরই, যেমন সৃষ্টির অধিকারও তাঁরই। ‘জেনে রাখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ৫৪)।[২]

এ কথাও উল্লেখ করা যরূরী যে, ‘শরী‘আতের সার্বভৌমত্বের নীতি সরকারকে প্রশাসনিক বিধি-বিধান প্রণয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। কারণ শারঈ দলীলগুলো সীমিত, কিন্তু ঘটনা অসীম, মানুষের জীবন বিভিন্ন ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা দাবি করে। যেমন- বিদেশ ভ্রমণ, যানবাহন চলাচল, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব, শিকার, চাকরী ইত্যাদি জীবনের নানা বিষয়ে শৃঙ্খলা প্রয়োজন, যাতে বিশৃঙ্খলা ও অপব্যবহার রোধ করা যায়। তাই সরকারের অধিকার আছে প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রণয়নের- তবে শর্ত একটাই, তা যেন কোন শারঈ দলীলের বিরোধী না হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই খলীফা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সৈন্যবাহিনীর জন্য দিওয়ান ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা আগে প্রচলিত ছিল না। তেমনি কিছু খলীফা মুদ্রা প্রবর্তনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন’।[৩]

(২) ন্যায়বিচার ও ন্যায়নীতি (আদল ওয়া ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা

ইসলামী বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হল ন্যায়নীতি। এটি আল্লাহপ্রদত্ত নির্দেশ এবং শাসনের একটি মৌলিক দাবি, বরং রাষ্ট্রের টিকে থাকা ও স্থায়িত্বের প্রধান ভিত্তি। ন্যায়বিচার হারিয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর কোন অর্থ থাকে না। আর যদি শাসক নিজেই অত্যাচারী হয়ে ওঠে, তবে তার শাসনের সমাপ্তি ঘোষণা করাই যথাযথ। ‘বিচারে ন্যায়পরায়ণতা এবং বণ্টনে সমতা- এসবই সেই মৌলিক নীতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার উপর প্রাথমিক ইসলামী রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা অবতীর্ণ দ্বীনের শিক্ষার প্রতিফলন। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বহু আয়াতে এই নীতিকে জোরালোভাবে নিশ্চিত করেছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়বিচার করবে’ (সূরা আন-নিসা : ৫৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার করতে বিরত না রাখে; ন্যায়বিচার করো, এটিই তাক্বওয়ার অধিক নিকটবর্তী’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৮)।[৪] আরও বলা হয়েছে, ‘শরী‘আত সামগ্রিকভাবে ও সার্বিকভাবে প্রত্যেক কল্যাণ, ন্যায় ও মঙ্গলের নির্দেশ দেয় এবং প্রত্যেক অনাচার, যুল্ম ও অকল্যাণ থেকে নিষেধ করে। অতএব, যে কোন নীতি বা রাজনীতি যদি এই দিকেই অগ্রসর হয়, তবে তা শারঈ রাজনীতি, আর যে কোন পদক্ষেপ যদি এই পরিসরে পড়ে, তবে তা শারঈ কাজ হিসাবে গণ্য হবে’।[৫] খুলাফায়ে রাশিদীন তাদের কথা ও কাজে এই ভিত্তির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। জনগণের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত খুত্ববায় তারা এই মূলনীতির উপর জোর দিয়েছেন এবং তাদের নিয়োজিত শাসনকর্তাদেরও এর প্রতি বাধ্য করেছেন। এই ভিত্তি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকাশ পেয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-

প্রথমতঃ সকল মুসলিমের জন্য ন্যায়বিচারের সর্বজনীনতা। সকল মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাদের আন্তরিকতা স্পষ্ট ছিল। তারা এমন গভর্নর (ওয়ালী) নির্বাচন করতেন, যারা সৎ চরিত্র ও উত্তম আচরণের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তারা শাসকদের অন্যায়ভাবে মানুষের উপর কর্তৃত্ব ফলাতে দিতেন না, বরং তাদের তদারকি করতেন এবং সীমালঙ্ঘন করলে জবাবদিহির আওতায় আনতেন। তাওউস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘তোমরা বল তো, যদি আমি তোমাদের উপর এমন একজনকে নিয়োগ করি যাকে আমি সর্বোত্তম জানি, তারপর তাকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিই, তাহলে কি আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? লোকেরা বলল, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, ‘না, যতক্ষণ না আমি তার কাজ পর্যবেক্ষণ করি- সে আমার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে কি না’।[৬] এছাড়া উছমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গভর্নরদেরকে জনগণের প্রতি ন্যায়বিচার করতে এবং তাদের প্রাপ্য হক্ব আদায় করে দিতে ও তাদের উপর অযথা যুল্ম না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রথম যে পত্র লিখেছিলেন, তাতে বলেন, ‘সর্বোত্তম ন্যায়নিষ্ঠ নীতি হল- তোমরা মুসলিমদের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখবে; তাদের প্রাপ্য হক্ব তাদের দেবে এবং তাদের উপর যা কর্তব্য, তা আদায় করবে’।[৭]

দ্বিতীয়তঃ অমুসলিম ও চুক্তিবদ্ধদের সাথে ন্যায়বিচার। এই ক্ষেত্রে আবূ বকর ছিদ্দীক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আহলে কিতাবদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দেন এবং তাঁর সেনাপতি যায়িদ ইবনু ছাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে কিছু উপদেশ দেন, যার মধ্যে ছিল-  ‘তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে যারা নিজেদেরকে উপাসনালয়ে নিবেদিত করেছে, তাদের এবং তারা যে কাজে নিবেদিত হয়েছে, তা ছেড়ে দিয়ো’।[৮] আর উছমান ইবনু আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের প্রতি যুল্ম ও অবিচার থেকে সতর্ক করে বলেন, ওয়াদা পূর্ণ করো, ওয়াদা পূর্ণ করো। ইয়াতীম ও চুক্তিবদ্ধদের উপর যুলম করো না; কারণ আল্লাহ তাদের প্রতি যুলমকারীর বিরুদ্ধে নিজেই প্রতিপক্ষ’।[৯]

তৃতীয়তঃ আহলে যিম্মার সাথে ন্যায়বিচার। খিলাফতে রাশিদার যুগে আহলে যিম্মার প্রতিও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত ছিল। এ সংক্রান্ত বহু বর্ণনা রয়েছে। যেমন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক আনছারী ছাহাবীকে একটি অঞ্চলের কোন দায়িত্বে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি হীরা নগরের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি- আব্দুল মাসীহ ইবনে বাক্বিলা-এর আতিথ্যে অবতরণ করেন। গৃহস্বামী তাঁর জন্য খাবার-দাবারের যে ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছিল, তা উদারভাবে পরিবেশন করেন। কিন্তু সেই আমীল (কর্মকর্তা) হালকা রসিকতা করতে গিয়ে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রাখেন এবং ডেকে এনে তার দাড়িতে হাত বুলিয়ে দেন (অর্থাৎ অপমানজনক আচরণ করেন)। তখন সে ব্যক্তি উমার ইবনে খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এসে বলল, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! আমি কিসরা ও কায়সারের দরবারেও কাজ করেছি, কিন্তু তাদের শাসনামলেও আপনার শাসনের মত এমন আচরণের শিকার হইনি’।

উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘কী ঘটনা’? সে বলল, আপনার অমুক কর্মচারী আমার অতিথি হয়েছিল। আমরা তার জন্য তার চাওয়া অনুযায়ী খাবার ও পানীয় পরিবেশন করেছি। তারপর সে আমাকে ডেকে এনে আমার দাড়িতে হাত বুলিয়েছে’। তখন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেই কর্মচারীকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেনঃ এই যে! সে কি তোমার জন্য চাওয়া অনুযায়ী খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করেনি? তারপরও তুমি তার দাড়িতে হাত দিলে? আল্লাহর কসম! যদি এটা কোন প্রচলিত রীতি (বা ক্বিছাছের বিধান) না হত, তবে আমি তোমার দাড়ির একটি লোমও অবশিষ্ট রাখতাম না- সব উপড়ে ফেলতাম। কিন্তু যাও, আল্লাহর কসম! তুমি আর কখনো আমার পক্ষ থেকে কোন দায়িত্ব পাবে না।[১০] এছাড়া আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মা‘কিল ইবনে ইয়াসারকে বনু নাজিয়ার বিরুদ্ধে প্রেরণের সময় উপদেশ দেন, ‘ক্বিবলামুখী (মুসলিমদের) বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করো না এবং আহলে যিম্মার উপর যুল্ম কর না’।[১১] যে ব্যক্তি খুলাফায়ে রাশিদীনের শাসনব্যবস্থার ভিত্তিগুলো গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে- এসব ছিল ধর্মীয় ফরয ও আল্লাহপ্রদত্ত বিধান। পরবর্তীকালে এই উম্মাহ যে স্বৈরাচার ও শাসকদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে, তা ইসলামের অংশ নয়, বরং এসবই এই নীতিমালা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফল।

(৩) আইনের সামনে সকলের সমতা

মানবজাতির মূল এক। মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত, যে অধিক তাক্বওয়াবান’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১৩)। মানুষ চিরুনির দাঁতের মত সমান- তাই বিচারালয়ের সামনে সকল মানুষ সমান। ইসলাম তাদের সম্পদের অধিকার সংরক্ষণ করেছে এবং তাদের রক্তপণ (দিয়াত) সমান নির্ধারণ করেছে। অতএব ন্যায়বিচারই সমতা নিশ্চিত করে, বরং সেটিই সমতার শর্ত। ন্যায়বিচার ছাড়া প্রকৃত সমতা সম্ভব নয়। যখন ন্যায়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন সমতাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। সমতার মূল অর্থ হল- কেউ জন্মগত কারণে বিশেষ অধিকার বা বিশেষ সুবিধা পাবে না। যদি কেউ এমন সুবিধা পায়, তবে ন্যায় নষ্ট হয় এবং সমতা বিলুপ্ত হয়। পূর্ণাঙ্গ বা পরম সমতা বাস্তবে নেই এবং তা কাম্যও নয়, বরং প্রয়োজন হল- সমজাতীয়দের মধ্যে সমতা। অন্যথা তা যুল্ম ও অবিচার। শত্রু ও মিত্রকে এক কাতারে দাঁড় করানো নিজেই বিশৃঙ্খলা এবং তা বিপর্যয় ডেকে আনে।[১২]

সুতরাং ইসলামী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সমতার বৈশিষ্ট্য হল- আইনের সামনে কোন ব্যতিক্রম নেই, যেমন শাসক, কূটনীতিক বা অন্য কেউ বিচারব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি পায় না। কারণ শরী‘আত শাসক ও শাসিত উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলামে শাসক ও সাধারণ নাগরিক- সকলেই আইনের অধীন। ইসলামী রাষ্ট্রে একজন সাধারণ মানুষও যদি শাসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন! তাহলে শাসককে সাধারণ মানুষের মত আদালতে হাজির হতে হবে- এটিই ইসলামী রাষ্ট্রে আইনের সমতার বাস্তব উদাহরণ, যার প্রমাণ প্রাথমিক যুগের ইসলামী রাষ্ট্রের আইন ব্যবস্থাপনায় অসংখ্য রয়েছে। এমনকি শত্রুর বিরুদ্ধেও অন্যায় করা যাবে না। বিচার হবে প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে- কোন ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা সামাজিক অবস্থান দেখে নয়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

إنَّما أهْلَكَ الَّذِيْنَ قَبْلَكُمْ، أنَّهُمْ كَانُوْا إذَا سَرَقَ فِيْهِمُ الشَّرِيْفُ تَرَكُوْهُ، وإذَا سَرَقَ فِيْهِمُ الضَّعِيْفُ أقَامُوْا عَلَيْهِ الْحَدَّ

‘তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগণ ধ্বংস হয়েছিল এ কারণে যে, তাদের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তি চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল ব্যক্তি চুরি করলে তার উপর শাস্তি কার্যকর করত’।[১৩]

(৪) বিচারকের (কাযী) স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা

রাসূল (ﷺ) ছিলেন রাষ্ট্রের শাসক ও প্রথম বিচারক। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দ্বারা বিচার কর, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, এবং সতর্ক থাকো- তারা যেন তোমাকে আল্লাহ যা তোমার প্রতি নাযিল করেছেন তার কোন অংশ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৯)। তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয় আমরা তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে তুমি আল্লাহ তোমাকে যা দেখিয়েছেন তার দ্বারা মানুষের মধ্যে বিচার কর এবং তুমি খিয়ানতকারীদের পক্ষসমর্থক হয়ো না’ (সূরা আন-নিসা : ১০৫)।

ইসলামী রাষ্ট্রে বিচারক রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে শারঈ দলীলের ভিত্তিতে রায় দেবেন। রাসূল (ﷺ) ও খুলাফায়ে রাশিদীনগণ বিভিন্ন স্থানে বিচারক নিয়োগ করতেন এবং তাঁদেরকে আল্লাহভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ দিতেন। রাসূল (ﷺ) দূরবর্তী অঞ্চলে তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের পাঠাতেন, যারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে এবং ‘আত্তাব ইবনু আসীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মক্কায় প্রেরণ করেছিলেন। কাযী নিয়োগের পূর্বে তিনি তাঁদের উপদেশ দিতেন। একবার তিনি আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে উপদেশ দিয়েছিলেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে বিচারক হিসাবে প্রেরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি আমাকে বিচারক করে ইয়ামানে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন নব যুবক, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেন, আল্লাহ নিশ্চয় তোমার অন্তরকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পথ দেখাবেন এবং তোমার কথাকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। যখন তোমার সামনে বাদী-বিবাদী বসবে তখন তুমি যেভাবে এক পক্ষের বক্তব্য শুনবে অনুরূপভাবে অপর পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিবে না। এতে তোমার সামনে মোকদ্দমার আসল সত্য প্রকাশিত হবে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সন্দেহ পতিত হইনি।[১৪]

বিচারব্যবস্থার সংগঠন ও একে শাসনক্ষমতা থেকে স্বাধীন রাখার গুরুত্ব

খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে বিচারব্যবস্থা ছিল শরী‘আতের বিধান বাস্তবায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিচারকার্য ছিল শাসনক্ষমতা থেকে স্বাধীন, ন্যায়নিষ্ঠ ও সৎ চরিত্রভিত্তিক। (অমুসলিমদের মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণা খ্রিস্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে পরিচিত ছিল না)। উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচারসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো যুগে যুগে অনুসরণীয় সংবিধানের মত বিবেচিত হয়েছে। তাঁর আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘তোমার চেহারায়, বসার আসনে ও বিচারে মানুষের মধ্যে সমতা বজায় রাখবে; যেন দুর্বল ব্যক্তি তোমার ন্যায়বিচার থেকে নিরাশ না হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি তোমার পক্ষপাতের আশায় লোভী না হয়। দাবি উপস্থাপনকারীর উপর প্রমাণের দায়িত্ব এবং অস্বীকারকারীর উপর শপথ। মুসলিমদের মধ্যে আপোস বৈধ- তবে এমন আপোস নয় যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে। গতকাল তুমি যে রায় দিয়েছিলে, পরে যদি তা পুনর্বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাও, তবে সত্যে ফিরে আসতে দ্বিধা করবে না; কারণ সত্য প্রাচীন (চিরস্থায়ী), মুসলিমরা পরস্পরের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষ্যদাতা- তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে শরী‘আতী শাস্তি প্রাপ্ত, মিথ্যা সাক্ষ্যে অভ্যস্ত, বা পক্ষপাতদুষ্ট। মানুষের কারণে অস্থিরতা, বিরক্তি বা বিরূপ আচরণ থেকে বিরত থাকবে; কারণ ন্যায়ের স্থানে সঠিক আচরণ আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও সঞ্চিত সওয়াবের কারণ’।[১৫]

উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চিন্তাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নীতি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। কুরআনকে একক মুছহাফে সংকলন করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠানোর মাধ্যমে তিনি মুসলিম সমাজের ঐক্য সংরক্ষণ করেন এবং বিভক্তি ও মতভেদের পথ রুদ্ধ করেন আলী ইবনু আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বসরার গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাকে মহান আল্লাহর তাক্বওয়ার উপদেশ দিচ্ছি এবং যাদের উপর আল্লাহ তোমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমার চেহারা, জ্ঞান ও ফয়সালার মাধ্যমে মানুষের জন্য প্রশস্ত হও (অর্থাৎ সদাচরণ ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে তাদের জন্য সহজ ও অনুকূল হও)’।[১৬] সে যুগের বিচারব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত। বিচারকার্যে হস্তক্ষেপ বা পক্ষপাতের সুযোগ ছিল না। বাদী ও বিবাদী- উভয়েই আইনের দৃষ্টিতে সমান ছিলেন, এমনকি খলীফা ও গভর্নররাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না, সকলেই আইনের চোখে সমান ছিলেন। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর একটি বর্ম নিয়ে এক আহলে যিম্মির সঙ্গে বিরোধে জড়ান। তিনি বিষয়টি তাঁর নিযুক্ত কাযী শুরাইহ আল-কাযী-এর কাছে উপস্থাপন করেন। কাযী শুরাইহ রায় দেন সেই যিম্মির পক্ষে।[১৭]

ইসলামে বিচারব্যবস্থার সাধারণ নীতিমালা

রাসূল (ﷺ)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীন ও ন্যায়পরায়ণ শাসকদের সময়ে বিচারব্যবস্থার সাধারণ নীতিমালা ছিল অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, উন্নত ও মহান। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক হল-

(ক) শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী বিচার

বিচারক ইসলামী শরী‘আতের বিধান অনুসারে রায় প্রদান করবেন (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৯; সূরা আন-নিসা : ১০৫)।

(খ) বিচারকার্যে যুলম থেকে সতর্কতা

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘বিচারক যতক্ষণ অন্যায় (যুল্ম) না করে, আল্লাহ তার সাথে থাকেন, কিন্তু যখন সে অন্যায় করে, তখন আল্লাহ তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং শয়তান তাকে গ্রাস করে’।[১৮]

(গ) ন্যায়বিচারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিষয় থেকে দূরে থাকা

বিচারক এমন সব অবস্থা থেকে দূরে থাকবেন যা তার ন্যায়বিচারে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি মানসিকভাবে শান্ত, প্রশান্ত ও স্থির অবস্থায় বিচার করবেন, দুঃখ, দুঃশ্চিন্তা, রাগ, ক্ষুধা বা তৃষ্ণা যেন তার রায়ে প্রভাব না ফেলে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচার করবে না’।[১৯]

(ঘ) ঘুষ প্রদান ও গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা

বিচারককে ঘুষ দেয়া বা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম। যদি কোন অভিযুক্ত ঘুষ দিতে চায়, তবে বিচারক তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারেন। এ কারণেই ইসলামের বিচারকগণ বিবাদমান পক্ষ বা তাদের কারো আতিথ্য গ্রহণ করতেন না এবং তাদের উপহারও নিতেন না- যাতে বিচার প্রভাবিত না হয়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আমরা কাউকে কোন দায়িত্বে নিয়োগ করে তাকে তার উপযুক্ত ভাতা নির্ধারণ করে দিলে, এরপর সে যা গ্রহণ করবে তা খিয়ানত (অবৈধ সম্পদ) হবে’।[২০] অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী, ঘুষ প্রদানকারী এবং তাদের মধ্যস্থতাকারী সকলকেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লা‘নত বা অভিসম্পাত করেছেন’।[২১]

(ঙ) বিবাদমান পক্ষকে মিথ্যা দাবি থেকে সতর্ক করা

আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ)-কে কাবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া’।[২২]

(চ) মামলার উপস্থাপনায় সত্য অনুসন্ধান

দীর্ঘদিনের একটি উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিরোধে দুই ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর সামনে উপস্থিত হলেন। তাদের কারও কাছেই প্রমাণ ছিল না। তখন তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে এসেছো, আমি তো একজন মানুষ। তোমাদের কেউ কেউ তার বক্তব্য উপস্থাপনায় অন্যের চেয়ে বেশি সাবলীল হতে পারে। আমি যা শুনি তার ভিত্তিতেই তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করি। সুতরাং আমি যদি কারও পক্ষে তার ভাইয়ের অধিকার থেকে কিছু ফায়সালা করে দিই, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কারণ আমি তো তার জন্য জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরোই নির্ধারণ করে দিচ্ছি, যা সে ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় বহন করবে’। এ কথা শুনে দু’জনই কেঁদে ফেললেন এবং প্রত্যেকে বললেন, ‘আমার অধিকার আমার ভাইকে দিয়ে দিলাম’। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যেহেতু তোমরা এ কথা বলেছ, তবে যাওÑ তোমরা ন্যায়ভাবে সম্পদ বণ্টন কর, তারপর লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ কর (যাতে প্রত্যেকে তার ভাগ পায়), এরপর পরস্পরকে মাফ করে দিও’।[২৩] অর্থাৎ মানুষ বিচারকের কাছে মামলা নিয়ে আসে, বিচারক চেষ্টা করেন ন্যায়বিচার করতে, কিন্তু কখনও প্রকৃত সত্য তার কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাই বিচারকের রায় কারও জন্য এমন কিছু হালাল করে দেয় না, যা প্রকৃতপক্ষে তার অধিকার নয়।

(ছ) রায়ের আগে আপোস-মীমাংসাকে অগ্রাধিকার দেয়া

ইসলামী বিচারব্যবস্থার মহত্ত্বের একটি দিক হল- বিচারের আগে আপোস-মীমাংসাকে উৎসাহিত করা। কারণ অনেক সময় আদালতের রায় পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। যতক্ষণ মুসলিমদের মধ্যে আপোস বৈধ, ততক্ষণ তা শয়তানের সৃষ্ট বিভেদ দূর করার উত্তম উপায়। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘মুসলিমদের মধ্যে আপোস বৈধ, তবে এমন আপোস নয় যা হালালকে হারাম করে বা হারামকে হালাল করে’।[২৪] উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, ‘বিবাদমান পক্ষদের ফেরত পাঠাও যাতে তারা আপোস করে নেয়, কারণ চূড়ান্ত রায় তাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে’।[২৫]

ইসলামের মহত্ত্বের আরেকটি দিক হল- বিচারক চাইলে বিবাদমান পক্ষদের একজনের পক্ষে অন্যজনের কাছে সুপারিশ করতে পারেন। বর্ণিত আছে, কা‘ব ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পাওনা ঋণ আদায়ের জন্য আবূ হাদরাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মসজিদে কথা বলছিলেন। তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেলে রাসূল (ﷺ) ঘর থেকে শুনতে পান। তিনি কা‘ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাকলেন। কা‘ব বললেন, ‘লাব্বাইক, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! রাসূল (ﷺ) হাতের ইশারায় বললেন, তোমার ঋণের অর্ধেক মাফ করে দাও। কা‘ব বললেন, আমি তা করে দিলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তখন নবী (ﷺ) আবূ হাদরাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, ‘উঠে দাঁড়াও এবং বাকি ঋণ পরিশোধ কর’।[২৬]

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

* মুর্শিদাবাদ, ভারত।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-হুর্রিয়্যাতু আও আত্ব-তূফান, পৃ. ৬২।
[২]. আল-হুর্রিয়্যাতু আও আত্ব-তূফান, পৃ. ৬৩।
[৩]. আন-নিযামুস সিয়াসী ফিল ইসলাম, পৃ. ১৬।
[৪]. আল-হুর্রিয়্যাতু আও আত্ব-তূফান, পৃ. ৭৪।
[৫]. মাক্বাছিদুল মাক্বাছিদি, পৃ. ১৩৪।
[৬]. বাইহাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, ‘ন্যায়পরায়ণ ইমামের ফযীলাত ও শাসকদের যুলুম প্রসঙ্গে’, হা/৭৩৯৫।
[৭]. তাবারী, তারীখুল উমাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৯০।
[৮]. তাবারী, তারীখুল উমাম, ­ ৩য় খণ্ড, পৃ. ২২৭।
[৯]. তাবারী, তারীখুল উমাম, ­ ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৯১।
[১০]. ইবনে শাব্বাহ, তারীখুল মাদীনাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৮১৩।
[১১]. তাবারী, তারীখুল উমাম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪৩; ইবনুল আসির, আল-কামিল, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৩৮।
[১২]. আন-নিযামুস সিয়াসী ফিল ইসলাম, পৃ. ২০৭।
[১৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৭৫, ৪৩০৪, ৬৭৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৮৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৩৭৩; তিরমিযী, হা/১৪৩০; নাসাঈ, হা/৪৮৯৯, ৪৯০৩।
[১৪]. আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৮২, ইবনু মাজাহ, হা/২৩১০।
[১৫]. দারাকুতনী, আস-সুনান, উমারের চিঠি আবূ মূসা আল-আশ‘আরী প-এর নিকট, হা/৪৪৭১।
[১৬]. ইবনু কুতাইবা আদ-দীনাওয়ারী, আল-ইমামাহ ওয়াস-সিয়াসাহ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৭৯।
[১৭]. সুয়ূত্বী, তারীখুল খুলাফা, পৃ. ১৪২।
[১৮]. তিরমিযী, হা/১৩৩০; ইবনু মাজাহ, হা/২৩১২; ছহীহুল জামি’, হা/১৮২৭।
[১৯]. ছহীহ বুখারী হা/৭১৫৮; ছহীহ মুসলিম হা/১৭১৭।
[২০]. আবূ দাঊদ, হা/২৯৪৩।
[২১]. আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮০; তিরমিযী, হা/১৩৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/২৩১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৫৩২।
[২২]. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৭৬, ৬২৭৩; ছহীহ মুসলিম হা/৮৭; তিরমিযী, হা/১৯০১।
[২৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৭১৬৯, ৭১৮৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৩।
[২৪]. আবূ দাঊদ, হা/৩৫৯৪; তিরমিযী, হা/১৩৫২; ইবনু মাজাহ, হা/২৩৫৩।
[২৫]. আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ, ৭০শ খণ্ড, পৃ. ৪৩৩।
[২৬]. ছহীহ বুখারী, হা/২৭১০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৫৮।




প্রসঙ্গসমূহ »: রাজনীতি
ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ - হাসিবুর রহমান বুখারী
কোটা নয়, মেধাই হোক প্রকৃত মূল্যায়ন - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (শেষ কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
মুসলিমদের সাহায্য করা ও তার পদ্ধতি - শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
উপদেশ প্রদানের আদব ও শর্তসমূহ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
বিদ‘আতীদের ব্যাপারে সালাফীদের অবস্থান - ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন
আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে শাসক ও জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
রাজনৈতিক সংস্কার - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান

ফেসবুক পেজ