রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

দারস-তাদরীস ও ইলমী হালাকার পুনর্জাগরণ: বাস্তবতা, সংকট ও দাওয়াতী রূপরেখা 

- আব্দুল হাকীম মাদানী* 



সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য-আলহামদু লিল্লাহ। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হৌক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর।

সঊদী আরবসহ আরব বিশ্বের জনসাধারণের মাঝে ইলম অর্জন ও বিতরণের যে মূলধারা প্রচলিত, তাহল দারস-তাদরীস ও ইলমী হালাকা। মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই শিক্ষাব্যবস্থায় দৈনন্দিন ছালাতের পর সংক্ষিপ্ত দারস, সাপ্তাহিক ও মাসিক ইলমী হালাকা, এমনকি মৌসুমভিত্তিক ইলমী আসর অনুষ্ঠিত হয়। এসব আসরে নেই কোন জাঁকজমক, নেই অপ্রয়োজনীয় খরচ বা বাহ্যিক চাকচিক্য; বরং থাকে আন্তরিকতা, ধারাবাহিকতা এবং গভীরভাবে দ্বীন শেখার পরিবেশ। একজন সাধারণ মুসলিম এই ধারাবাহিক হালাকায় অংশগ্রহণ করে ধীরে ধীরে কুরআন, হাদীছ, আক্বীদা ও ফিকহের প্রাথমিক থেকে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এই পদ্ধতিই ইতিহাসজুড়ে আলেম তৈরির মূল মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছে। কিন্তু ভারত উপমহাদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশে, এই স্বাভাবিক ও ফলপ্রসূ পদ্ধতির জায়গা অনেকাংশে দখল করে নিয়েছে ওয়ায মাহফিলকেন্দ্রিক সংস্কৃতি। গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র এখন ওয়ায মাহফিল, সম্মেলন, ইজতেমা ও কনফারেন্সের ছড়াছড়ি। অনেক ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বড় বড় আয়োজন করা হয়, যেখানে মানুষের ভিড় হয়, আবেগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ইলম অর্জনের ধারাবাহিকতা তৈরি হয় না। ওয়ায শুনে মানুষ সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, নিয়মিত শিক্ষার অভাবে সেই প্রভাব স্থায়ী হয় না এবং দ্বীনের গভীর উপলব্ধিও গড়ে ওঠে না।

এ অবস্থার একটি বড় কারণ হল মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। এখন অনেকেই তাৎক্ষণিক আবেগ ও প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায় ও নিয়মিত ইলম অর্জনের ধৈর্য কমে গেছে। অন্যদিকে, কিছু আলেমও স্থানীয় মসজিদভিত্তিক দারসকে গুরুত্ব না দিয়ে দূর-দূরান্তে ওয়ায মাহফিলে অংশগ্রহণে বেশি আগ্রহী হন, যেখানে সম্মানী ও জনপ্রিয়তার সুযোগ বেশি থাকে। ফলে যাদের নিজ এলাকার মানুষকে নিয়মিত ইলম দেয়ার কথা, তারা সেই দায়িত্ব থেকে অনেকটা সরে যাচ্ছেন। এতে মসজিদভিত্তিক দারস ও ইলমী হালাকা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষ স্থায়ী ইলম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই প্রবণতার ফলে সমাজে একধরনের উপরিভাগী ধর্মীয় চেতনা তৈরি হচ্ছে। মানুষ দ্বীন সম্পর্কে অনেক কথা শুনছে, কিন্তু সুসংগঠিতভাবে শিখছে না। আক্বীদা, ফিকহ ও উছূলের মত মৌলিক বিষয়গুলোতে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইলমী শূন্যতা তৈরি হবে, ভুল আক্বীদা ও বিদ‘আত ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রকৃত আলেমের সংখ্যা কমে যাবে। তখন দ্বীন মানুষের কাছে জ্ঞানভিত্তিক জীবনব্যবস্থা না হয়ে আবেগনির্ভর একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ বন্ধ নয়। সর্বপ্রথম প্রয়োজন মসজিদভিত্তিক দারস ও ইলমী হালাকা পুনরুজ্জীবিত করা। প্রতিদিন ছালাতের পর সংক্ষিপ্ত দারস, সাপ্তাহিক নির্ধারিত হালাকা এবং মাসিক বিশেষ শিক্ষাচক্র চালু করা যেতে পারে। এসব দারসকে পরিকল্পিত ও পাঠ্যসূচিভিত্তিক করতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী ধাপে ধাপে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি আলেমদেরও তাদের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে জনপ্রিয়তার চেয়ে ইলম প্রচারকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজ এলাকার মানুষের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে যে, শুধু ওয়ায শোনা দ্বীন শেখার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং নিয়মিত হালাকায় অংশগ্রহণই প্রকৃত ইলম অর্জনের পথ। বড় বড় মাহফিলে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তার একটি অংশ যদি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজ অনেক বেশি উপকৃত হবে। পাশাপাশি তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রশ্নোত্তরভিত্তিক ক্লাস, আলোচনা সভা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইন দারস চালু করা যেতে পারে। তবে ভারসাম্য রক্ষা করাও যরূরী। ওয়ায মাহফিল সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় নয়; এটি অনেক সময় গাফেল মানুষকে দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করে। কিন্তু এটিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য না ভেবে একটি প্রাথমিক ধাপ হিসাবে দেখা উচিত। প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত ইলমী হালাকা ও ধারাবাহিক দারসের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।

এই প্রেক্ষাপটে দাওয়াতী কাজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। দাওয়াতী কাজ কেবল কিছু বক্তব্য দেয়া বা মানুষকে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করার নাম নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুপরিকল্পিত ও ইলমভিত্তিক প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য মানুষের আক্বীদা, আমল ও চরিত্রে স্থায়ী পরিবর্তন আনা। তাই দাওয়াতকে নতুনভাবে সাজানো সময়ের দাবি। সুতরাং দাওয়াতের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি গুরুত্ব পায়, তা হলো উদ্দেশ্যের বিশুদ্ধতা। দাওয়াতী কাজের মূল লক্ষ্য হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষকে সত্যিকার অর্থে দ্বীনের পথে আনা। এখানে জনপ্রিয়তা, অনুসারীর সংখ্যা বা আর্থিক লাভ কোন লক্ষ্য হতে পারে না। যখন দাওয়াতের উদ্দেশ্য বিশুদ্ধ থাকে, তখন পদ্ধতিও স্বাভাবিকভাবে ইলমভিত্তিক ও স্থায়ী ফলদায়ক হয়। কিন্তু উদ্দেশ্যে যদি খুঁত থাকে, তাহলে দাওয়াত আবেগনির্ভর হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না।

দাওয়াতী কাজের একটি মৌলিক করণীয় হল- ইলমকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনা করা। প্রতিটি এলাকায় মসজিদভিত্তিক নিয়মিত দারস চালু করতে হবে। কুরআন তাফসীর, ছহীহ হাদীছ, আক্বীদা ও ফিকহ এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। দাওয়াতের নামে শুধু বক্তৃতা নয়, বরং একটি শিক্ষা-প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। একজন ব্যক্তি যেন এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শিখতে পারে এই ধরনের পরিকল্পনা যরূরী। এভাবেই একজন সাধারণ মুসলিম ধীরে ধীরে সচেতন, পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে গড়ে উঠবে। একইসাথে দাওয়াতী কাজকে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রত্যেক আলেম ও দাঈর উচিত নিজের এলাকার মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়া। দূর-দূরান্তে গিয়ে বড় বড় মাহফিলে অংশগ্রহণ করার চেয়ে নিজ এলাকার মসজিদে নিয়মিত দারস দেয়া অনেক বেশি ফলপ্রসূ। এতে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাদের সমস্যা জানা যায় এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দেয়া সম্ভব হয়। দাওয়াত তখন একটি জীবন্ত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়, কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়।

তরুণ সমাজকে দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। বর্তমান প্রজন্ম প্রশ্ন করতে চায়, বুঝতে চায়, যুক্তি খুঁজে। তাই তাদের জন্য আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও চিন্তাশীল সেশন আয়োজন করতে হবে। তাদেরকে কেবল শ্রোতা বানিয়ে রাখলে চলবে না; বরং দাওয়াতের অংশীদার বানাতে হবে। যারা শিখবে, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের দাঈ ও আলেম তৈরি হবে।

দাওয়াতী কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারও এখন অপরিহার্য। অনলাইন দারস, রেকর্ডেড ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল কন্টেন্ট এসবের মাধ্যমে ইলমকে সহজলভ্য করা যায়। তবে এখানে সতর্কতা হল, কন্টেন্ট যেন শুধু আকর্ষণীয় না হয়ে সত্যিকার অর্থে উপকারী ও ইলমসমৃদ্ধ হয়।

এবার বর্জনীয় দিকগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় বর্জনীয় বিষয় হল- দাওয়াতকে বিনোদনে পরিণত করা। যদি দাওয়াতী প্রোগ্রাম শুধু আবেগ সৃষ্টি, হাস্যরস বা চমক প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা দ্বীনের উদ্দেশ্য পূরণ করে না। মানুষ সাময়িকভাবে আনন্দ পেলেও তাদের জীবনে কোন স্থায়ী পরিবর্তন আসে না। তাই দাওয়াতের প্রতিটি ধাপেই ইলম ও হিকমাহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আরো একটি বর্জনীয় দিক হল- অতিরিক্ত জাঁকজমক ও অপচয়। দাওয়াতের নামে বড় মঞ্চ, ব্যানার, অপ্রয়োজনীয় খরচ এসব থেকে বিরত থাকা যরূরী। কারণ এই খরচ যদি ইলমী কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়, তাহলে তার সুফল অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। সরলতা ও আন্তরিকতা দাওয়াতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, বাহ্যিক চাকচিক্য নয়। এছাড়াও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা একটি বড় সমস্যা। দাওয়াত যদি কোন ব্যক্তির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই ব্যক্তি না থাকলে কার্যক্রমও দুর্বল হয়ে যায়। তাই ব্যক্তি নয়, বরং পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দাওয়াত গড়ে তুলতে হবে। একটি সুসংগঠিত টিম, নির্ধারিত সিলেবাস এবং ধারাবাহিক কার্যক্রম এসবই দাওয়াতকে স্থায়ী করে।

ভবিষ্যতের দাওয়াতী রূপরেখা হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ। ওয়ায মাহফিলকে পুরোপুরি বাদ দেয়া বাস্তবসম্মত নয়, তবে এর ভূমিকা সীমিত রাখতে হবে। এটি মানুষের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করবে, আর সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে দারস ও হালাকার দিকে নিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ, ওয়ায হবে সূচনা, আর হালাকা হবে পরিপূর্ণতা।

পরিশেষে বলতে চাই, দাওয়াতী কাজের সফলতা নির্ভর করে ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা এবং ইলমের ওপর। যদি আমরা আমাদের দাওয়াতকে ইলমকেন্দ্রিক করতে পারি, মসজিদকে শিক্ষা-কেন্দ্রে রূপান্তর করতে পারি এবং আলেম ও সাধারণ মানুষের মাঝে একটি জীবন্ত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই ইনশাআল্লাহ সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে। অন্যথা আমরা যত বড় আয়োজনই করি না কেন, তা সাময়িক প্রভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অতএব, এখন সময় এসেছে আমাদের দাওয়াতী কাজকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবার, আবেগ থেকে ইলমের দিকে, অনুষ্ঠান থেকে ধারাবাহিক শিক্ষার দিকে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে উম্মাহকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে অগ্রসর হওয়ার। তবেই ইনশাআল্লাহ আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও শক্তিশালী মুসলিম সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে হক্ব বুঝার তাওফীক্ব দান করুন এবং আমাদের দাওয়াতী প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমীন!


* পরিচালক, ইলম একাডেমী।




প্রসঙ্গসমূহ »: দাওয়াত শিক্ষাব্যবস্থা
আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে শাসক ও জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
মুসলিমদের সাহায্য করা ও তার পদ্ধতি - শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
উপদেশ প্রদানের আদব ও শর্তসমূহ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কোটা নয়, মেধাই হোক প্রকৃত মূল্যায়ন - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
রাজনৈতিক সংস্কার - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
দারস-তাদরীস ও ইলমী হালাকার পুনর্জাগরণ: বাস্তবতা, সংকট ও দাওয়াতী রূপরেখা - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
বিদ‘আতীদের ব্যাপারে সালাফীদের অবস্থান - ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন
ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ - হাসিবুর রহমান বুখারী
মুসলিম নারীর সৌন্দর্য ও বিয়েতে পর্দাবিধি - মাহদী হাসান মানিক
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (শেষ কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ