রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামী শরী‘আতের আলোকে চুল কাটার সঠিক পদ্ধতি হল- চতুর্দিক থেকে সমানভাবে চুল কাটা। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) ‘ক্বাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নাফি‘ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ক্বাযা’ কী? তিনি বললেন, শিশুর মাথার (চুল) কিছু কামানো এবং কিছু রেখে দেয়া (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯২০-৫৯২১; ছহীহ মুসলিম, হা/২১২০)।

অন্যত্র বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা নবী (ﷺ) দেখলেন যে, একটি শিশুর মাথার কিছু অংশ কামানো আর কিছুটা অবশিষ্ট রাখা আছে। তিনি তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, হয় সবটুকু কামিয়ে ফেলো নতুবা সবটুকু রেখে দাও (আবূ দাঊদ, হা/৪১৯৫; নাসাঈ, হা/৫০৪৮)। আলেমগণ বলেন, ‘ক্বাযা’ বলতে বোঝায় ‘মাথার কিছু অংশ কাটা ও কিছু অংশ অবশিষ্ট রাখা, অথবা মধ্যস্থলের চুলগুলো কাটা এবং চতুর্দিকের চুলগুলো অবশিষ্ট রাখা, যেমন : খ্রীষ্টানরা করে থাকে, অথবা চারিধারের চুল কাটা এবং মধ্যস্থলের চুলগুলো অবশিষ্ট রাখা।

যেমন : অধিকাংশ নির্বোধেরা করে থাকে। অনুরূপভাবে মাথার অগ্রভাগ কেটে পশ্চাৎদেশ অবশিষ্ট রাখা। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এগুলো অগ্নিপূজকদের কর্ম, আর যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। সুতারাং বুঝা গেল যে, চুলের কিছু অংশ কাটা ও কিছু অংশ বাকি রাখা নাজায়েয’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫/১৭১ পৃ.)।

উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফূ‘ হাদীছে এসেছে- ‘হিজামা ছাড়া শুধু ঘাড়ের পেছনের চুল মুণ্ডন করা অগ্নিপূজকদের কাজ’। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি তার এক গোলামকে দেখলেন, যার মাথায় দুই পাশে ঝুঁটি বা চুলের গোছা ছিল। তখন তিনি বললেন, ‘এই দুটো মুণ্ডন করে দাও অথবা ছোট করে কেটে দাও। কারণ এটা ইয়াহুদীদের বেশভূষা’। আর মারূযী বলেন- আমি আবূ আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল)-কে ঘাড়ের পেছনের চুল মুণ্ডন করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ‘এটা মাজূসীদের কাজ। আর যে কোন জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’ (ফাতাওয়া আল-মারআতিল মুসলিমাহ, ২/৫১০ পৃ.)।

উল্লেখ্য যে, উপমহাদেশে রাসূল (ﷺ)-এর চুল রাখার পদ্ধতিকে বাবরী চুল বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এই পরিভাষাটি সঠিক নয়। অভিধানে বাবরী শব্দটি এসেছে ফার্সি শব্দ বাবর বা বাব্বার থেকে- যার অর্থ সিংহ। বাবরী মানে সিংহ সদৃশ বা সিংহের কেশরের মত কাঁধে ছাড়ানো চুল। কাঁধ পর্যন্ত প্রলম্বিত কুঞ্চিত কেশদাম, বড় কোঁকড়া চুল।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূল (ﷺ) অধিকাংশ সময় চুল লম্বা রাখতেন (ফাৎহুল বারী, ১০/৩৬০; ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব, ২২/০২ পৃ.)। এমনকি কোন কোন সময় তাঁর চুলে চারটি বেণী করা যেত (আবূ দাঊদ, হা/৪১৯১; তিরমিযী, হা/১৭৮১)। হাদীছের পরিভাষায় রাসূল (ﷺ)-এর লম্বা চুল রাখার পদ্ধতিকে তিনটি শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। যথা : (১) ‘ওয়াফরাহ’ তথা কানের লতি পর্যন্ত লম্বা চুল। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর চুল তাঁর দুই কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল (আবূ দাঊদ, হা/৪১৮৫, ৪১৮৭; তিরমিযী, হা/১৭৫৫)।

(২) ‘লিম্মাহ’ তথা গর্দান ও কানের লতির মাঝামাঝি বরাবর লম্বা চুল। বার’আহ ইবনু আযীব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি কোন ব্যক্তিকে ‘লিম্মা’ অর্থাৎ কান পর্যন্ত বাবরীধারী চুলে ও লাল ইয়ামানী চাদরের আবরণে রাসূল (ﷺ) থেকে অধিক সুন্দর দেখিনি। রাবী মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, তাঁর চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৩৭; আবূ দাঊদ, হা/৪১৮৩; তিরমিযী, হা/১৭২৪, ৩৬৩৫)।

(৩) ‘জুম্মাহ’, তথা ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত বা ঘাড় পর্যন্ত আলম্বিত চুল (নাসাঈ, হা/৫০৬৬; আবূ দাঊদ, হা/৪১৮৫, ৪১৮৭; তিরমিযী, হা/১৭৫৫; ইবনু মাজাহ, হা/৩৬৩৫)। অতএব রাসূল (ﷺ) কখনো তাঁর চুল কাঁধ সমান লম্বা রাখতেন আবার কখনো ছোট করতেন। দুটোই বৈধ, এমন নয় যে, লম্বা চুল রাখলে ছাওয়াব পাওয়া যাবে, আর ছোট চুল রাখলে গুনাহ হবে, কিংবা এর বিপরীত। তবে তিনি চুলের যত্ন নিতে বলেছেন। রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ ‘যার মাথায় চুল আছে সে যেন এর যত্ন নেয়’ (আবূ দাঊদ, হা/৪১৬৩; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৫০০)। আনাস (ﷺ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর মাথার চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হত (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯০৩-৫৯০৪)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ﷺ)-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল না একেবারে সোজা, না বেশি কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত (ছহীহ বুখারী, হা/৫৯০৫; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৯৮২২)।


প্রশ্নকারী : মাসুম বিল্লাহ, আটুয়া দক্ষিণপাড়া, পাবনা।





প্রশ্ন (২০) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূল (ﷺ) নবজাতক অবস্থায় একদিন তাঁর মা বাড়ীর আঙ্গিনায় শুইয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে তাঁর জন্মের পূর্বে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তিকাল করাই মা আমিনার মন খারাপ ছিল। এমতাবস্থায় চাচা আবূ তালিব বলেন, আমি ঐ অবস্থায় লক্ষ্য করলাম যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) যখন তার হাত ডানদিকে নিচ্ছে তখন চন্দ্র ডান দিকে যাচ্ছে, আর যখন হাত বাম দিকে যাচ্ছে তখন চন্দ্র বাম দিকে যাচ্ছে। আর যখন উভয় হাত নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে, তখন চন্দ্রও তাঁর নিকটবর্তী হচ্ছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির পর চাচা আবূ তালিব এ সম্পর্কে রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জন্মের পূর্বে আমার পিতা মারা যাওয়ায় আমার মায়ের মন খারাপ ছিল। তাই ঐ সময়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলা চন্দ্রকে আমার খেলনাস্বরূপ বানিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে আমার আনন্দের কোন ঘাটতি না পড়ে’। উক্ত ঘটনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন্ কোন্ দিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : স্ত্রী প্রচণ্ড রাগী স্বভাবের হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে যদি স্বামী কোন ঘটনায় নিজের দোষ না থাকার পরেও নিজেরই ভুল হয়েছে বলে মেনে নেন, তাহলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘শীতকাল মুমিনদের জন্য বসন্তকাল’ কথাটি কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : গান শুনা ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : প্রতিবেশীরা বিভিন্ন হারাম কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের কিছু হালাল উপার্জন থাকলেও তা হারাম মিশ্রিত। তারা অনেক সময় খাবার হাদিয়া পাঠায়। কিন্তু সেটা হালাল না হারাম থেকে দিয়েছে তা বুঝা যায় না। তাদের দেয়া উক্ত খাবার খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কোন রোগের কারণে চিকিৎসক যদি অল্প পরিমাণে মদ্যপান বা অন্য কোন হারাম বস্তু খাওয়ার নির্দেশনা দেয়, তবে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফজরের ওয়াক্ত পুরো সময় বায়ু বের হয় এমনকি মাঝে মধ্যে ওযূতেও বায়ু বের হয়। অন্য ওয়াক্তে মাঝে মাঝে এমনটি হয়। এখন উক্ত ব্যক্তি কি মা‘যূর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কোন অমুসলিম যদি কালেমা পাঠ করে মুসলিম হয়, তাহলে তার কি সুন্নাতে খাৎনা করা এবং এভিডেভিট করা যরূরী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম, শিং ও ক্ষুর  উপস্থিত হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : কোন ব্যক্তি যদি কুরআনের মাছহাফ ব্যতীত মুখস্থ কুরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য এক হাযার মর্যাদার সমান নেকী রয়েছে। আর যদি মাছহাফে কুরআন পড়া মুখস্থ পড়ার চেয়ে দুই হাজার মর্যাদার সমান রয়েছে (ত্বাবারাণী, আল-জামেঊল কাবীর হা/৬০১)। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ