বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : যে ব্যক্তি এ পদ্ধতির অধীনে নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করে, যাতে করে এ আইনসভাতে ঢুকে এর বিরোধিতা করা যায়, এ পদ্ধতির বিপক্ষে দলীল উপস্থাপন করা যায়, সাধ্যানুযায়ী অকল্যাণ ও দুর্নীতি রোধ করা যায়, তখন কল্যাণের দিক বিবেচনা করে ইজতিহাদের ভিত্তিতে এতে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। বরং কোন কোন মুজতাহিদ আলেম মনে করেন, এ ধরনের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা ফরয।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে নির্বাচনে অংশ নেয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন, আমি মনে করি এ নির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়া ফরয। আমরা যাকে ভাল মনে করি তাকে সহযোগিতা করা ফরয। কারণ ভাল লোকেরা যদি ঢিলেমি করে, তাহলে এ স্থানগুলো কে দখল করবে? খারাপ লোকেরাই দখল করবে কিংবা এমন লোকেরা দখল করবে যাদের কাছে না আছে ভাল, না আছে খারাপ, যারা সুবিধাবাদী। তাই আমাদের উচিত যাকে যোগ্য মনে করি, তাকে নির্বাচিত করা। যদি কেউ বলেন, আমরা যাকে নির্বাচিত করলাম আইনসভার অধিকাংশ সদস্য তার বিপক্ষে, তাহলে কতটুকু উপকার হবে? আমরা জবাবে বলব, কোন অসুবিধা নেই। এই একজনের মধ্যে আল্লাহ বরকত দিতে পারেন। তিনি যদি আইনসভার সামনে হক্ব কথা বলতে পারেন, তাহলে অবশ্যই এর প্রভাব থাকবে, প্রভাব থাকতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের অপরাধ যেটা হয় সেটা হচ্ছে, আল্লাহর সাথে বিশ্বস্ত না হওয়া। আমরা শুধু বৈষয়িক বিষয়ের উপর নির্ভর করি। সুতরাং আপনি যাকে ভাল মনে করেন তাকে নির্বাচিত করুন, এরপর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন (লিক্বা’আতুল বাব আল-মাফতূহ থেকে সংক্ষেপিত ও সমাপ্ত)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নির্বাচনে কাউকে মনোনয়ন দেয়া ও ভোট দেয়া জায়েয আছে কি? উল্লেখ্য, আমাদের দেশের শাসনব্যবস্থা আল্লাহর নাযিলকৃত আইন দ্বারা পরিচালিত হয় না। উত্তরে তাঁরা বলেন, যে সরকার আল্লাহর নাযিলকৃত আইন দিয়ে শাসন করে না, শরী‘আহ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে না, কোন মুসলিমের জন্য সে সরকারে যোগ দেয়া বৈধ নয়। তাই এই সরকারের সাথে কাজ করার জন্য কোন মুসলিমের নিজেকে কিংবা অন্য কাউকে নির্বাচিত করা জায়েয নয়। তবে কোন মুসলিম যদি এ উদ্দেশ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয় কিংবা অন্যকে নির্বাচিত করে যে, এর মাধ্যমে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করে ইসলামী শরী‘আহ ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ক্বায়িম করবে, নির্বাচনে অংশ গ্রহণকে তারা যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থার উপর আধিপত্য বিস্তার করার মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে, তাহলে সেটা জায়েয। তবে যে ব্যক্তি প্রার্থী হবেন তিনি এমন কোন পদ গ্রহণ করতে পারবেন না, যা ইসলামী শরী‘আর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৩/৪০৬, ৪০৭ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী কমিটিকে আরো জিজ্ঞেস করা হয় যে, আপনারা জানেন, আমাদের আলজেরিয়াতে ‘আইনসভার নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়। কিছু কিছু দল আছে যারা ইসলামী হুকুমত ক্বায়িমের দিকে আহ্বান করে। আর কিছু কিছু দল আছে যারা ইসলামী রাষ্ট্র চায় না। এখন যে ব্যক্তি এমন কাউকে ভোট দেয়, যে প্রার্থী ইসলামী রাষ্ট্র চায় না সে ব্যক্তির হুকুম কী হবে? তবে এ ব্যক্তি ছালাত আদায় করে। জবাবে তাঁরা বলেন, ‘যে সব দেশে ইসলামী শরী‘আহ ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু নেই, সেসব দেশের মুসলিমেদের উপর ফরয ইসলামী হুকুমত ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা এবং যে দল তাওহীদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় সে দলকে একজোটে সবাই মিলে সহযোগিতা করা।

পক্ষান্তরে, যে দল ইসলামী শরী‘আহ বাস্তবায়ন চায় না সে দলকে সহযোগিতা করা যাবে না। বরং এ ধরনের সহযোগিতা ব্যক্তিকে কুফরের দিকে ধাবিত করে। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী, ‘আর আমি আদেশ করছি যে, আপনি তাদের মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী বিধান দিন, তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, যাতে করে আল্লাহ আপনার প্রতি যা নাযিল করেছেন তারা এর কোন কিছু হতে আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখুন, আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু পাপের শাস্তি দিতে চান। নিশ্চয় মানুষের মধ্যে অনেকেই ফাসিক্ব। তারা কি জাহিলিয়্যাতের বিধান কামনা করে? যারা (আল্লাহর প্রতি) বিশ্বাস রাখে তাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে উত্তম বিধানদাতা কে?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৪৯-৫০)।

এ কারণে যারা ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে না আল্লাহ তাদেরকে কাফির হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাদের সাথে সহযোগিতা করা থেকে সাবধান করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে মু’মিনগণ! আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে তাদেরকে এবং অন্য কাফিরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫৭; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১/৩৭৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৭১৬৬)।


প্রশ্নকারী : ইফাত, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩১) : ব্যবসায়ে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় শপথ করা যাবে কি? যদিও তা সত্য হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সফরে কছর করা কী ওয়াজিব? আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সফরে পূর্ণ ছালাত আদায় করেছেন। এমন বর্ণনা কী ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতের ওয়াক্ত হলেই ছালাত আদায় করা উত্তম। এমন দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মসজিদের মেহরাবের দক্ষিণ দেয়ালে থুথু ফেলার জন্য কি জানালা রাখা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : চোরের হাত কাটার বিধান অপসন্দ করলে, সেকেলে বা অমানবিক বললে বা এ বিশ্বাস করলে কি ঈমান থাকবে? এই বিধান প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ থাকার পরও প্রতিষ্ঠা না করলে কী ধরনের গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি জীবনে অনেকবার একটি পাপ করেছে এবং সে পাপ আর করবে না বলে বহুবার কসমও করেছে। কিন্তু বারবার সে কসম ভঙ্গ করে ফেলেছে। এখন অসুস্থ হয়ে পাপ ছেড়ে দিয়েছে। পরে সে জানতে পেরেছে যে, শপথের কাফ্ফারা দিতে হয়। এখন সে কীভাবে কাফ্ফারা দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়ের নিয়ম জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কুরআন তেলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আসলে কিভাবে সিজদা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কোন বিধবা কিংবা ডিভোর্সি মহিলা কি তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে? যদি বিয়ে করে ফেলে, তাহলে সে বিয়ে কি সঠিক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : নতুন বছরের ১ম দিন নফল ছিয়াম রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : একদিন মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে তার নাতি হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি বড় না আপনি বড়? তখন নবী (ﷺ) বললেন যে, ‘তিনি বড়’। তখন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলল, ‘না, আমি বড়’। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বললেন, ‘আপনার পিতার নাম কী?’ নবী (ﷺ) বললেন, আব্দুল্লাহ। হোসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলল, ‘আমার বাবা আলী, যাকে আল্লাহর সিংহ বলা হয়েছে’। ...পরিশেষে নবী (ﷺ) বলেন, ‘হোসাইন তুমিই বড়’। উক্ত ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : খিযির (আলাইহিস সালাম) কি নবী ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ