শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সহবাসের আগে যে বিষয়গুলো করা উচিত তার মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর সঙ্গে আদর-খেলাধুলা করা, তাকে চুম্বন করা এবং তার জিহ্বা চোষা’ (যাদুল মা‘আদ, ৪/২৫৩ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে ইচ্ছা উপভোগ করা বৈধ। তার জন্য কেবল দু’টি বিষয় হারাম করা হয়েছে। যথা:
(১) পেছনের পথে অর্থাৎ মলদ্বারে সহবাস করা।
(২) হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস করা। এ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে, যেমন চুম্বন করা, স্পর্শ করা, তাকানো ইত্যাদির মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে। এমনকি যদি স্বামী স্ত্রীর স্তন থেকে দুধ পান করে ফেলে, তাও বৈধ উপভোগের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে না, কারণ প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে না। হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে কেবল সেই দুধপান, যা শিশুকালে- দুই বছরের মধ্যে হয়ে থাকে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৭৭২১)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণ বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর দেহের সব অংশকে উপভোগ করা বৈধ। শুধু মলদ্বার, হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস এবং হজ্জ ও উমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস ব্যতীত। অন্যত্র তাঁরা বলেন, স্বামীর জন্য স্ত্রীর স্তন চোষা বৈধ, এক্ষেত্রে দুধ পেটে পৌঁছালেও কোন হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৯/৩৫১-৩৫২ পৃ.)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মলদ্বারে প্রবেশ ছাড়া নিতম্বদ্বয়ের মাঝখানে উপভোগে কোন সমস্যা নেই। কারণ সুন্নাহতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে কেবল মলদ্বারে সহবাস সম্পর্কে। আর নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল কষ্ট/অপবিত্রতা, যা মলদ্বারের প্রবেশ পথেই সীমাবদ্ধ- তাই নিষেধাজ্ঞাও সেখানেই সীমাবদ্ধ’ (আল-মুগনী, ৭/২২৬ পৃ.)।

ইমাম আল-কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছহীহ বিবাহের বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকানো ও স্পর্শ করা বৈধ; কারণ সহবাস তাকানো ও স্পর্শের চেয়েও উচ্চতর। যখন সহবাস হালাল করা হয়েছে, তখন প্রথমত তাকানো ও স্পর্শও হালাল হওয়াই স্বাভাবিক’ (বাদায়িউছ ছানায়ী, ২/২৩১ পৃ.)। ইমাম ইবনু আবিদীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ ইউসুফ, ইমাম আবূ হানীফাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে এবং স্ত্রী তার স্বামীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে- যাতে তার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়- এতে কি কোনো দোষ আছে? তিনি বলেনঃ না; বরং আমি আশা করি এতে ছাওয়াব বৃদ্ধি পাবে’ (রদ্দুল মুখতার, ৬/৩৬৭ পৃ.)। কাযী আবূ ইয়ালা (ﷺ) বলেন, ‘সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ- কারণ তখন তা অপসন্দনীয়/অসুবিধাজনক হয়ে যায়’ (কাশ্শাফুল কিনা, ৫/২০৯; হাশিয়াতুদ দাসূক্বী, ২/২১৫; মারদাওয়ী, আল-ইনছাফ, ৮/৩৩ পৃ.)। কাযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ’ (আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ, ২৫/৬৭ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

نِسَآؤُکُمۡ حَرۡثٌ لَّکُمۡ  ۪ فَاۡتُوۡا حَرۡثَکُمۡ اَنّٰی شِئۡتُمۡ ۫ وَ قَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّکُمۡ  مُّلٰقُوۡہُ  ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

‘তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২২৩)।

যেহেতু বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল- স্বামী-স্ত্রী বৈধভাবে একে অপর থেকে আনন্দ উপভোগ করা এবং এর মাধ্যমে হারামপন্থা থেকে নিজের লজ্জাস্থান এবং চক্ষু হেফাজত করা। যদিও কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন যে, মুখে যেহেতু আল্লাহর যিকির করা হয় এবং লজ্জাস্থান দিয়ে নাপাকি বের হয়, তাই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের যৌনাঙ্গে মুখ লাগানো ঠিক নয়। আমরা বলব, কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয় তা নির্ধারণকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল। এর বাইরে আমরা কোন কিছুকে হারাম বলার অধিকার রাখি না। তবে অনেক আলিমের মতে, সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, এটি সুস্থ রুচিবোধ ও উন্নত চরিত্র বিরোধী এবং আদব পরিপন্থী কাজ কিন্তু তা হারাম বা এর জন্য গুনাহগার হতে হবে-এমন কোন কথা বলা ঠিক নয়। যেমন, শাইখ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাকে এই প্রশ্ন বহু দেশে করা হয়েছে। আমি বলেছি, এটি পশুর কাজ। আর নবী (ﷺ) মানুষকে পশুর অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন’ (১৭:৭০)।

যদিও আমাদের কাছে এমন কোন স্পষ্ট দলীল নেই, যা এই কাজকে হারাম বলে ঘোষণা করে। কিন্তু আমাদের কাছে এমন দলীল আছে, যা মুসলিমকে পশুর অনুকরণ থেকে নিষেধ করে- বিশেষত নিকৃষ্ট পশু যেমন কুকুরের অনুকরণ থেকে (রিহলাতুন নূর: ২৩ ب/ ০০: ২৯: ১৪, আল-হুদা ওয়ান-নূর: ১৭৪/২১: ১৯: ০০; জামিঊ তুরাছিল আল্লামা আল-আলবানী ফিল ফিক্বহী, ১২/২১৬)। সুতরাং সুস্থ রুচিবোধ ও অনুত্তম হওয়ার দিক বিবেচনায় এ থেকে বিরত থাকা ভালো। তবে যদি লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক বস্তু গিলে ফেলা হয় তাহলে তা হারাম।


প্রশ্নকারী : ফুয়াদ, কাঁঠাল বাগান।





প্রশ্ন (১৬) : রাতে ছালাত আদায়ের সময় মুছল্লীর ছায়া সামনে পড়লে কি কোন সমস্যা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি? কিছু ইসলামী সংগঠন বলছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এরূপ জিহাদ ব্যতীত অন্য কোন পথ খোলা নেই। এক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : অনেকেই হাতের আঙ্গুলে চুমু দিয়ে বা ফুঁ দিয়ে চোখ স্পর্শ করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মানুষের শরীরে পা লাগলে অথবা বই হাত থেকে পড়ে গেলে উঠিয়ে সালাম করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে সকল দেশে মানবরচিত বিধান দ্বারা বিচার কার্র্য পরিচিালিত হয়, সেখানে বিচারক হওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : একজন ব্যক্তি সিমেন্ট বা রডের দোকানে অগ্রিম টাকা দিয়ে সিমেন্ট বা রড দর করে টাকা দিয়ে রাখলো। কিন্তু সে এখন নিবে না, সিজিনাল সময়ে নিবে যখন দাব বেশি হবে। এই রকম ক্রয় বিক্রয় জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : হাদীছ থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা আল-ফালাক্ব ও সূরা আন-নাস পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীর মাসাহ করতেন। কিন্তু অনেকে বুকে ফুঁ দেয়। এটা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হানাফী মাযহাব ফলো করে বা আক্বীদাগত সমস্যা রয়েছে এমন কোন উস্তাযের থেকে তাজবীদ বিষয়ে জ্ঞান নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে খ্রিস্টানদের ক্রুশ চিহ্নযুক্ত ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক, সেগুলো পড়ালেখা করা যাবে কি? এক্ষেত্রে  পিতা-মাতার আদেশ অমান্য করলে অবাধ্যতা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শরী‘আতে মুমিন নারী এবং পুরুষকে তাদের দৃষ্টি হেফাযত করতে বলা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত চোখ পরে যাওয়া গুনাহ নয়; তাহলে অনলাইনে আলেমগণের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক লেকচার শোনার সময়, অনেক সময় এমন হয় যে, এক দৃষ্টিতে আলেমদের মুখের দিকে তাকিয়ে লেকচার শুনতে হয়। তখন শুধু তারা কী বলছেন সেদিকেই মনোযোগ থাকে। এখন জিজ্ঞাসা হলো, এতে কি একজন নারীর গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : অনেক আগের তৈরি করা মসজিদ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি সেই মসজিদের ক্বিবলা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই মসজিদে ছালাত আদায় করলে ছালাত আদায় হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ