বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সহবাসের আগে যে বিষয়গুলো করা উচিত তার মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর সঙ্গে আদর-খেলাধুলা করা, তাকে চুম্বন করা এবং তার জিহ্বা চোষা’ (যাদুল মা‘আদ, ৪/২৫৩ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে ইচ্ছা উপভোগ করা বৈধ। তার জন্য কেবল দু’টি বিষয় হারাম করা হয়েছে। যথা:
(১) পেছনের পথে অর্থাৎ মলদ্বারে সহবাস করা।
(২) হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস করা। এ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে, যেমন চুম্বন করা, স্পর্শ করা, তাকানো ইত্যাদির মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে। এমনকি যদি স্বামী স্ত্রীর স্তন থেকে দুধ পান করে ফেলে, তাও বৈধ উপভোগের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে না, কারণ প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে না। হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে কেবল সেই দুধপান, যা শিশুকালে- দুই বছরের মধ্যে হয়ে থাকে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৭৭২১)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণ বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর দেহের সব অংশকে উপভোগ করা বৈধ। শুধু মলদ্বার, হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস এবং হজ্জ ও উমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস ব্যতীত। অন্যত্র তাঁরা বলেন, স্বামীর জন্য স্ত্রীর স্তন চোষা বৈধ, এক্ষেত্রে দুধ পেটে পৌঁছালেও কোন হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৯/৩৫১-৩৫২ পৃ.)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মলদ্বারে প্রবেশ ছাড়া নিতম্বদ্বয়ের মাঝখানে উপভোগে কোন সমস্যা নেই। কারণ সুন্নাহতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে কেবল মলদ্বারে সহবাস সম্পর্কে। আর নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল কষ্ট/অপবিত্রতা, যা মলদ্বারের প্রবেশ পথেই সীমাবদ্ধ- তাই নিষেধাজ্ঞাও সেখানেই সীমাবদ্ধ’ (আল-মুগনী, ৭/২২৬ পৃ.)।

ইমাম আল-কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছহীহ বিবাহের বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকানো ও স্পর্শ করা বৈধ; কারণ সহবাস তাকানো ও স্পর্শের চেয়েও উচ্চতর। যখন সহবাস হালাল করা হয়েছে, তখন প্রথমত তাকানো ও স্পর্শও হালাল হওয়াই স্বাভাবিক’ (বাদায়িউছ ছানায়ী, ২/২৩১ পৃ.)। ইমাম ইবনু আবিদীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ ইউসুফ, ইমাম আবূ হানীফাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে এবং স্ত্রী তার স্বামীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে- যাতে তার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়- এতে কি কোনো দোষ আছে? তিনি বলেনঃ না; বরং আমি আশা করি এতে ছাওয়াব বৃদ্ধি পাবে’ (রদ্দুল মুখতার, ৬/৩৬৭ পৃ.)। কাযী আবূ ইয়ালা (ﷺ) বলেন, ‘সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ- কারণ তখন তা অপসন্দনীয়/অসুবিধাজনক হয়ে যায়’ (কাশ্শাফুল কিনা, ৫/২০৯; হাশিয়াতুদ দাসূক্বী, ২/২১৫; মারদাওয়ী, আল-ইনছাফ, ৮/৩৩ পৃ.)। কাযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ’ (আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ, ২৫/৬৭ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

نِسَآؤُکُمۡ حَرۡثٌ لَّکُمۡ  ۪ فَاۡتُوۡا حَرۡثَکُمۡ اَنّٰی شِئۡتُمۡ ۫ وَ قَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّکُمۡ  مُّلٰقُوۡہُ  ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

‘তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২২৩)।

যেহেতু বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল- স্বামী-স্ত্রী বৈধভাবে একে অপর থেকে আনন্দ উপভোগ করা এবং এর মাধ্যমে হারামপন্থা থেকে নিজের লজ্জাস্থান এবং চক্ষু হেফাজত করা। যদিও কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন যে, মুখে যেহেতু আল্লাহর যিকির করা হয় এবং লজ্জাস্থান দিয়ে নাপাকি বের হয়, তাই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের যৌনাঙ্গে মুখ লাগানো ঠিক নয়। আমরা বলব, কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয় তা নির্ধারণকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল। এর বাইরে আমরা কোন কিছুকে হারাম বলার অধিকার রাখি না। তবে অনেক আলিমের মতে, সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, এটি সুস্থ রুচিবোধ ও উন্নত চরিত্র বিরোধী এবং আদব পরিপন্থী কাজ কিন্তু তা হারাম বা এর জন্য গুনাহগার হতে হবে-এমন কোন কথা বলা ঠিক নয়। যেমন, শাইখ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাকে এই প্রশ্ন বহু দেশে করা হয়েছে। আমি বলেছি, এটি পশুর কাজ। আর নবী (ﷺ) মানুষকে পশুর অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন’ (১৭:৭০)।

যদিও আমাদের কাছে এমন কোন স্পষ্ট দলীল নেই, যা এই কাজকে হারাম বলে ঘোষণা করে। কিন্তু আমাদের কাছে এমন দলীল আছে, যা মুসলিমকে পশুর অনুকরণ থেকে নিষেধ করে- বিশেষত নিকৃষ্ট পশু যেমন কুকুরের অনুকরণ থেকে (রিহলাতুন নূর: ২৩ ب/ ০০: ২৯: ১৪, আল-হুদা ওয়ান-নূর: ১৭৪/২১: ১৯: ০০; জামিঊ তুরাছিল আল্লামা আল-আলবানী ফিল ফিক্বহী, ১২/২১৬)। সুতরাং সুস্থ রুচিবোধ ও অনুত্তম হওয়ার দিক বিবেচনায় এ থেকে বিরত থাকা ভালো। তবে যদি লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক বস্তু গিলে ফেলা হয় তাহলে তা হারাম।


প্রশ্নকারী : ফুয়াদ, কাঁঠাল বাগান।





প্রশ্ন (৯) : ইমামের শেষ বৈঠক কিন্তু মুক্তাদির শেষ বৈঠক নয়। এমতাবস্থায় মুক্তাদী ঐ বৈঠকে কী কী পাঠ করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি/আত্মীয় বাড়ি যেতে এবং সেখানে অবস্থান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : জনৈক ব্যক্তির বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে। সেখানে গিয়ে সে কি ছালাত কছর করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক বক্তা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক তাক্বওয়াশীল ব্যক্তির দাদা’। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বিয়ের জন্য সূরা আহযাব লিখে রাখলে ঠিক কতদিনের মধ্যে ফল পাওয়া যায়? এমন কাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ডিফেন্সে চাকরি করতে হলে ট্রেনিংয়ের ছয় মাস নিয়মিত দাড়ি ক্লিন সেভ করতে হয়। আবার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে দাড়ি রাখার সুযোগ আছে। সাময়িকভাবে দাড়ি কেটে এই চাকুরী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : পাশাপাশি দু’টি মাসজিদ আছে। একটি জুমু‘আহ মসজিদ অপরটি ওয়াক্তিয়া। জুমু‘আহ মসজিদের আযানেই উভয় মসজিদে পৃথক পৃথক ইক্বামতে জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্ন হল- জুমু‘আহ মসজিদের আযানে পাঞ্জেগানা মসজিদে আযানবিহীন শুধু পৃথক ইক্বামতে জামা‘আতের সাথে পাঁচ ওয়াক্তের ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ভবনের দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় রংয়ের গুদাম, মসজিদের টয়লেট এবং ওযূখানা। দ্বিতীয় তলায় মসজিদের মিম্বার বরাবর নিচ তলায় হাতের বায়ে দেয়াল ঘেষে একটি কবর। প্রশ্ন হল, উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কোন ব্যক্তি যদি একটি বা দু’টি মাস’আলার কারণে মাযহাব ত্যাগ করে ছহীহ আক্বীদা গ্রহণ করে, তাহলে কি সে মুশরিক হয়ে যাবে? তার উপর কি জান্নাত হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যিলহজ্জ মাসের প্রতিটি দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ করে ভুলে গেছে, তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিবাহের জন্য একাধিক মেয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া জায়েয হবে, না-কি সরাসরি দেখার ক্ষেত্রে একজনের বেশি দেখা যাবে না? মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ