রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সহবাসের আগে যে বিষয়গুলো করা উচিত তার মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর সঙ্গে আদর-খেলাধুলা করা, তাকে চুম্বন করা এবং তার জিহ্বা চোষা’ (যাদুল মা‘আদ, ৪/২৫৩ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে ইচ্ছা উপভোগ করা বৈধ। তার জন্য কেবল দু’টি বিষয় হারাম করা হয়েছে। যথা:
(১) পেছনের পথে অর্থাৎ মলদ্বারে সহবাস করা।
(২) হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস করা। এ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে, যেমন চুম্বন করা, স্পর্শ করা, তাকানো ইত্যাদির মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীকে উপভোগ করতে পারে। এমনকি যদি স্বামী স্ত্রীর স্তন থেকে দুধ পান করে ফেলে, তাও বৈধ উপভোগের অন্তর্ভুক্ত। এতে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে না, কারণ প্রাপ্তবয়স্কের দুধপান হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে না। হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে কেবল সেই দুধপান, যা শিশুকালে- দুই বছরের মধ্যে হয়ে থাকে’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৭৭২১)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণ বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর দেহের সব অংশকে উপভোগ করা বৈধ। শুধু মলদ্বার, হায়িয ও নিফাসের সময় সহবাস এবং হজ্জ ও উমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস ব্যতীত। অন্যত্র তাঁরা বলেন, স্বামীর জন্য স্ত্রীর স্তন চোষা বৈধ, এক্ষেত্রে দুধ পেটে পৌঁছালেও কোন হারাম সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৯/৩৫১-৩৫২ পৃ.)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মলদ্বারে প্রবেশ ছাড়া নিতম্বদ্বয়ের মাঝখানে উপভোগে কোন সমস্যা নেই। কারণ সুন্নাহতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে কেবল মলদ্বারে সহবাস সম্পর্কে। আর নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল কষ্ট/অপবিত্রতা, যা মলদ্বারের প্রবেশ পথেই সীমাবদ্ধ- তাই নিষেধাজ্ঞাও সেখানেই সীমাবদ্ধ’ (আল-মুগনী, ৭/২২৬ পৃ.)।

ইমাম আল-কাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছহীহ বিবাহের বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকানো ও স্পর্শ করা বৈধ; কারণ সহবাস তাকানো ও স্পর্শের চেয়েও উচ্চতর। যখন সহবাস হালাল করা হয়েছে, তখন প্রথমত তাকানো ও স্পর্শও হালাল হওয়াই স্বাভাবিক’ (বাদায়িউছ ছানায়ী, ২/২৩১ পৃ.)। ইমাম ইবনু আবিদীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবূ ইউসুফ, ইমাম আবূ হানীফাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে এবং স্ত্রী তার স্বামীর লজ্জাস্থান স্পর্শ করে- যাতে তার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়- এতে কি কোনো দোষ আছে? তিনি বলেনঃ না; বরং আমি আশা করি এতে ছাওয়াব বৃদ্ধি পাবে’ (রদ্দুল মুখতার, ৬/৩৬৭ পৃ.)। কাযী আবূ ইয়ালা (ﷺ) বলেন, ‘সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ- কারণ তখন তা অপসন্দনীয়/অসুবিধাজনক হয়ে যায়’ (কাশ্শাফুল কিনা, ৫/২০৯; হাশিয়াতুদ দাসূক্বী, ২/২১৫; মারদাওয়ী, আল-ইনছাফ, ৮/৩৩ পৃ.)। কাযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, সহবাসের আগে নারীর লজ্জাস্থান চুম্বন করা জায়েয, আর সহবাসের পরে তা মাকরূহ’ (আরশীফ মুলতাক্বা আহলিল হাদীছ, ২৫/৬৭ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

نِسَآؤُکُمۡ حَرۡثٌ لَّکُمۡ  ۪ فَاۡتُوۡا حَرۡثَکُمۡ اَنّٰی شِئۡتُمۡ ۫ وَ قَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِکُمۡ ؕ وَ اتَّقُوا اللّٰہَ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّکُمۡ  مُّلٰقُوۡہُ  ؕ وَ بَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ

‘তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর’ (সূরা আল-বাক্বারা : ২২৩)।

যেহেতু বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল- স্বামী-স্ত্রী বৈধভাবে একে অপর থেকে আনন্দ উপভোগ করা এবং এর মাধ্যমে হারামপন্থা থেকে নিজের লজ্জাস্থান এবং চক্ষু হেফাজত করা। যদিও কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন যে, মুখে যেহেতু আল্লাহর যিকির করা হয় এবং লজ্জাস্থান দিয়ে নাপাকি বের হয়, তাই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের যৌনাঙ্গে মুখ লাগানো ঠিক নয়। আমরা বলব, কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয় তা নির্ধারণকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল। এর বাইরে আমরা কোন কিছুকে হারাম বলার অধিকার রাখি না। তবে অনেক আলিমের মতে, সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে, এটি সুস্থ রুচিবোধ ও উন্নত চরিত্র বিরোধী এবং আদব পরিপন্থী কাজ কিন্তু তা হারাম বা এর জন্য গুনাহগার হতে হবে-এমন কোন কথা বলা ঠিক নয়। যেমন, শাইখ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাকে এই প্রশ্ন বহু দেশে করা হয়েছে। আমি বলেছি, এটি পশুর কাজ। আর নবী (ﷺ) মানুষকে পশুর অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন’ (১৭:৭০)।

যদিও আমাদের কাছে এমন কোন স্পষ্ট দলীল নেই, যা এই কাজকে হারাম বলে ঘোষণা করে। কিন্তু আমাদের কাছে এমন দলীল আছে, যা মুসলিমকে পশুর অনুকরণ থেকে নিষেধ করে- বিশেষত নিকৃষ্ট পশু যেমন কুকুরের অনুকরণ থেকে (রিহলাতুন নূর: ২৩ ب/ ০০: ২৯: ১৪, আল-হুদা ওয়ান-নূর: ১৭৪/২১: ১৯: ০০; জামিঊ তুরাছিল আল্লামা আল-আলবানী ফিল ফিক্বহী, ১২/২১৬)। সুতরাং সুস্থ রুচিবোধ ও অনুত্তম হওয়ার দিক বিবেচনায় এ থেকে বিরত থাকা ভালো। তবে যদি লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক বস্তু গিলে ফেলা হয় তাহলে তা হারাম।


প্রশ্নকারী : ফুয়াদ, কাঁঠাল বাগান।





প্রশ্ন (৩২) : ইবলীশ শয়তানের আর কোন নাম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তির জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। কাজেই আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬৪)। প্রশ্ন হল- যেখানে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিলেন, সেখানে বলা হয়, ‘সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়’। উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ঝাড়বাতি ঝুলানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুসাফির অবস্থায় স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডের পাশের কোন মসজিদে জামা‘আত চলাকালীন প্রবেশ করলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে একা একা ক্বছর আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একটি মসজিদের পাশে কবর, মসজিদ এবং কবরের মাঝে দুই থেকে তিন ফিটের একটি রাস্তা আছে, কবরের আলাদা বাউন্ডারি এবং ছাদ আছে। কিন্তু মসজিদ দোতলা করার সময় দোতলার অংশটি পিলার দিয়ে কবরের উপরে করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এই মসজিদে ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কোন নারীর আওরাত কোন পুরুষের সামনে প্রকাশ করার বিধান কী? অনুরূপভাবে কোনো পুরুষের আওরাত কোন নারীর সামনে চিকিৎসার জন্য প্রকাশ করার বিধান কী? আর যদি একজন খ্রিস্টান মহিলা ডাক্তার (নারী চিকিৎসক) এবং একজন মুসলিম পুরুষ ডাক্তার ছাড়া আর কেউ না থাকে, তাহলে কার কাছে চিকিৎসা নেয়া উত্তম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইমাম আবূ হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : মদ পান করে যদি বিয়ে করে, তাহলে কি বিয়ে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জুম‘আর দিন আছর ছালাতের পর উক্ত স্থানে বসে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি‘আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মী ওয়া ‘আলা আলিহী ওয়া সাল্লিম তাসলীমা’ এ দরূদটি ৮০ বার পাঠ করলে আল্লাহ ৮০ বছরের ছগীরা গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের নফল ইবাদতের ছওয়াব লিপিবদ্ধ করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : বিদ‘আত মিশ্রিত আমল যদি বাতিল হয় তাহলে যারা ঘাড় মাসাহ করে তাদের নিশ্চয় ওযূ বাতিল হয়ে যায় আর ওযূ বাতিল মানে ছালাতও বাতিল হয়ে যায়। বক্তব্যটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ইমাম সূরা ফাতিহা শুরু করার পর ছালাতে দাঁড়ালে ছানা পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ