শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
উত্তর : ইসলামে জীবিকা অর্জনের মূল লক্ষ্য হলো হালাল উপার্জন এবং সেই উপার্জন যেন ব্যক্তিকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী চাকরি ও হালাল ব্যবসার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও উপার্জনের বিশুদ্ধতার ওপর।

(১) ব্যবসা : রাসূল (ﷺ) ও ছাহাবীদের অনুসৃত পথ। সাধারণভাবে, হালাল পথে ব্যবসা করাই উত্তম এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্বয়ং ব্যবসা করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ ছাহাবী (ﷺ)-ও এই পথেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। এটিই ছিল স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ। সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীর জন্য হাদীছে বিশেষ মর্যাদা ও প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, التَّاجِرُ الصَّدُوْقُ الأَمِيْنُ مَعَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক (সত্যবাদী) ও শহীদদের সাথে থাকবেন’ (তিরমিযী, হা/১২০৯, সনদ হাসান ছহীহ)। এই শ্রেষ্ঠত্বের মূল শর্ত হলো- ব্যবসায় অবশ্যই ধোঁকা, মিথ্যা, সূদ বা হারাম পণ্য জড়িত থাকা চলবে না।

(২) সরকারী চাকরি : শর্তসাপেক্ষে বৈধ। সরকারী বা বেসরকারী যেকোন হালাল চাকরি বৈধ। তবে শর্তসাপেক্ষে এটি পুণ্যের কাজ হতে পারে। একজন কর্মকর্তা যদি তাঁর দায়িত্বকে ইবাদত মনে করে সম্পূর্ণ সততার সাথে জনকল্যাণ করেন এবং জনগণের হক্ব আদায় করেন, তাহলে এটি জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বড় ধরনের নেক আমল হিসাবে গণ্য হবে। যদি কোন ব্যক্তি চাকরি করার মাধ্যমে শিক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বা স্বাস্থ্যসেবার মত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় যুক্ত থাকেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের চেয়ে বেশি কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তার এই আমল ব্যবসার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ হতে পারে। সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফিতনা হল ঘুষ, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলা। যদি সামান্যতম হারাম উপার্জনের আশঙ্কা থাকে, তবে সেই চাকরি বর্জন করাই ঈমানের দাবি। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির নিয়ত ও ইখলাছের ওপর, যদি হালাল ব্যবসার মাধ্যমে ইবাদতের স্বাধীনতা বজায় থাকে এবং তাতে কোন হারাম প্রবেশ না করে, তবে এটিই সুন্নাহ-অনুসৃত উত্তম পন্থা।


প্রশ্নকারী : জোবায়ের আহমেদ, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি আগে মিউজিসিয়ান ছিল। আল্লাহর রহমতে সেগুলো এখন সব বাদ দিয়েছে। কিন্তু আগের কিছু বাদ্যযন্ত্র রয়েছে। সেগুলো বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ কল্যাণকর কাজে লাগাতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক বক্তা বলেন, ক্বদরের রাতে মানুষের বার্ষিক রিযিক, হায়াত, মউত ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশে কেউ হাযারে ২০ টাকা খরচ দিয়ে পাঠালে, টাকা তোলার পর একাউন্টে ২/৩ টাকা থেকে যায়, কোম্পানি পুরো ২০ টাকা কাটে না। এই অবশিষ্ট টাকা গ্রহণ হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সকল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার সাথে সাথে দরুদে ইবরাহীম ছওয়াবের আশায় পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : তাওহীদ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : পিতা-মাতার জন্য কুরআনে বর্ণিত দু‘আ ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি ছগীর’ রয়েছে। কিন্তু মৃত আত্মীয়-স্বজন বা মৃত কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য আরবীতে কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বিভিন্ন এলাকায় মানুষ মারা গেলে বাড়ি থেকে জানাযার স্থানে নেয়ার সময় চল্লিশ কদম পর্যন্ত গণনা করা হয়। প্রতি দশ কদম পর পর খাটিয়া বহনকারী লোকদের পরিবর্তন করা হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ‘আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকেই আনন্দময় করে তুলতে পারি’, এরূপ বলা কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : কারো সাথে আলাপ করার পর বিদায়ের সময় ‘আল্লাহ হাফেয’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সোস্যাল মিডিয়াতে মেয়েদের বেপর্দা ছবি দেখা যায়। মহিলারা এসব ছবি দেখলে কি গুনাহ হবে? একজন মেয়ের সামনে আরেক মেয়ের পর্দার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আমাদের গ্রামে ঈদের ছালাতের আগে মাইকে অনেক ডাকাডাকি করে। এমনকি ছালাত শুরুর আগে ৩০/৪০ মিনিট বয়ান করে। ইসলামে এর কোন প্রমাণ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কুরবানীর চামড়ার টাকা কিভাবে বণ্টন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ