উত্তর : ইসলামে জীবিকা অর্জনের মূল লক্ষ্য হলো হালাল উপার্জন এবং সেই উপার্জন যেন ব্যক্তিকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী চাকরি ও হালাল ব্যবসার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও উপার্জনের বিশুদ্ধতার ওপর।
(১) ব্যবসা : রাসূল (ﷺ) ও ছাহাবীদের অনুসৃত পথ। সাধারণভাবে, হালাল পথে ব্যবসা করাই উত্তম এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্বয়ং ব্যবসা করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ ছাহাবী (ﷺ)-ও এই পথেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। এটিই ছিল স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ। সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীর জন্য হাদীছে বিশেষ মর্যাদা ও প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, التَّاجِرُ الصَّدُوْقُ الأَمِيْنُ مَعَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক (সত্যবাদী) ও শহীদদের সাথে থাকবেন’ (তিরমিযী, হা/১২০৯, সনদ হাসান ছহীহ)। এই শ্রেষ্ঠত্বের মূল শর্ত হলো- ব্যবসায় অবশ্যই ধোঁকা, মিথ্যা, সূদ বা হারাম পণ্য জড়িত থাকা চলবে না।
(২) সরকারী চাকরি : শর্তসাপেক্ষে বৈধ। সরকারী বা বেসরকারী যেকোন হালাল চাকরি বৈধ। তবে শর্তসাপেক্ষে এটি পুণ্যের কাজ হতে পারে। একজন কর্মকর্তা যদি তাঁর দায়িত্বকে ইবাদত মনে করে সম্পূর্ণ সততার সাথে জনকল্যাণ করেন এবং জনগণের হক্ব আদায় করেন, তাহলে এটি জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বড় ধরনের নেক আমল হিসাবে গণ্য হবে। যদি কোন ব্যক্তি চাকরি করার মাধ্যমে শিক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বা স্বাস্থ্যসেবার মত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় যুক্ত থাকেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের চেয়ে বেশি কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তার এই আমল ব্যবসার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ হতে পারে। সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফিতনা হল ঘুষ, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলা। যদি সামান্যতম হারাম উপার্জনের আশঙ্কা থাকে, তবে সেই চাকরি বর্জন করাই ঈমানের দাবি। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির নিয়ত ও ইখলাছের ওপর, যদি হালাল ব্যবসার মাধ্যমে ইবাদতের স্বাধীনতা বজায় থাকে এবং তাতে কোন হারাম প্রবেশ না করে, তবে এটিই সুন্নাহ-অনুসৃত উত্তম পন্থা।
প্রশ্নকারী : জোবায়ের আহমেদ, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।