বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে জীবিকা অর্জনের মূল লক্ষ্য হলো হালাল উপার্জন এবং সেই উপার্জন যেন ব্যক্তিকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে না সরিয়ে দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকারী চাকরি ও হালাল ব্যবসার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও উপার্জনের বিশুদ্ধতার ওপর।

(১) ব্যবসা : রাসূল (ﷺ) ও ছাহাবীদের অনুসৃত পথ। সাধারণভাবে, হালাল পথে ব্যবসা করাই উত্তম এবং শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) স্বয়ং ব্যবসা করেছেন এবং তাঁর অধিকাংশ ছাহাবী (ﷺ)-ও এই পথেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। এটিই ছিল স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ। সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ীর জন্য হাদীছে বিশেষ মর্যাদা ও প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, التَّاجِرُ الصَّدُوْقُ الأَمِيْنُ مَعَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ ‘সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক (সত্যবাদী) ও শহীদদের সাথে থাকবেন’ (তিরমিযী, হা/১২০৯, সনদ হাসান ছহীহ)। এই শ্রেষ্ঠত্বের মূল শর্ত হলো- ব্যবসায় অবশ্যই ধোঁকা, মিথ্যা, সূদ বা হারাম পণ্য জড়িত থাকা চলবে না।

(২) সরকারী চাকরি : শর্তসাপেক্ষে বৈধ। সরকারী বা বেসরকারী যেকোন হালাল চাকরি বৈধ। তবে শর্তসাপেক্ষে এটি পুণ্যের কাজ হতে পারে। একজন কর্মকর্তা যদি তাঁর দায়িত্বকে ইবাদত মনে করে সম্পূর্ণ সততার সাথে জনকল্যাণ করেন এবং জনগণের হক্ব আদায় করেন, তাহলে এটি জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বড় ধরনের নেক আমল হিসাবে গণ্য হবে। যদি কোন ব্যক্তি চাকরি করার মাধ্যমে শিক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বা স্বাস্থ্যসেবার মত গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় যুক্ত থাকেন এবং সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের চেয়ে বেশি কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তার এই আমল ব্যবসার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ হতে পারে। সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফিতনা হল ঘুষ, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলা। যদি সামান্যতম হারাম উপার্জনের আশঙ্কা থাকে, তবে সেই চাকরি বর্জন করাই ঈমানের দাবি। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির নিয়ত ও ইখলাছের ওপর, যদি হালাল ব্যবসার মাধ্যমে ইবাদতের স্বাধীনতা বজায় থাকে এবং তাতে কোন হারাম প্রবেশ না করে, তবে এটিই সুন্নাহ-অনুসৃত উত্তম পন্থা।


প্রশ্নকারী : জোবায়ের আহমেদ, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।





প্রশ্ন (১১) : বিতর ছালাতে দু‘আ কুনুত কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : দেশের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কেউ মারা গেলে, তাকে শহীদ বলা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : খাঁচার ভিতরে পাখি রাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : অনেকেই গ্রামের বাড়ির আশেপাশে থেকে ছোট ছোট মাছ ধরে থাকে। এসব মাছ কেউ চাষ করে না কিংবা টাকা দিয়ে জমিতে ছাড়েও না। জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া এসব মাছ ধরা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : ছিয়াম অবস্থায় ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ছিয়াম ও ওযূ ভঙ্গ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : শৈশব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা কাফির ও মুশরিকদের সন্তানরা জান্নাতী, না-কি জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ডান হাঁটু ও হিপ জয়েন্ট ভেঙ্গে গেছে। ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আমি হাঁটু ভাঁজ করতে পারি না, ফলে দাঁড়িয়ে বা বসে ছালাত আদায় করতে পারি না। কখনো বসে ছালাত আদায় করতে হলে আমাকে ডান পা সোজা করে দিতে হয় এবং বাম পা গুছিয়ে নিতে পারি। সেক্ষেত্রে ছালাতের পর আমার বাম পা অবশ হয়ে যায়। আমি কি টুলে বা চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক ব্যক্তির পিতা সূদী ব্যাংকে টাকা রেখে সেই টাকার সূদ ভক্ষণ করে। তাকে বুঝালেও সে বুঝে না। তিনি মারা যাওয়ার পর যদি তার কবরের পাশে গিয়ে তার সন্তান ৪০ দিন পর্যন্ত সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে, তবে তার পিতার কবরের আযাব মাফ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টার্কী মুরগীর গোশত খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি একটি মসজিদ তৈরি করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করবেন’ মর্মে হাদীছ দ্বারা কি একজন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, না-কি সম্মিলিত সকলকে বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : রামাযান মাসের প্রথম দশদিন রহমত, দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় দশদিন নাজাত- এ মর্মে পুরা মাসকে তিনভাগে ভাগ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : যদি সূদ বা হারামে জড়িত থাকা অবস্থায় হারাম ছাড়া দু‘আ করে, তাহলে দু‘আ কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ