রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ্জ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরজ করেছেন, তাই এটি তার উপরই ওয়াজিব। আর যার সামর্থ নেই, তার উপর হজ্জ ওয়াজিব নয় (তাফসীরে কুরুতুবী, ৪/১৫০;  আল-মুগনী, ৩/২১৩-২১৪; আল-মাজমূঊ, ৭/৬৩)। প্রকৃতপক্ষে হজ্জ ও উমরাহর জন্য সক্ষমতা চার ধরনের। যথা:

(১) যে ব্যক্তি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম, তার উপর নিজের হজ্জ ও উমরাহ আদায় করা ওয়াজিব (ইবনু হায্ম, মারাতিবুল ইজমা‘, পৃ. ৪১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, ৩/২১৩ পৃ.; ইমাম নববী, আল-মাজমূঊ, ৭/৬৩ পৃ.)।
(২) যে ব্যক্তি আর্থিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসামর্থ্যবান, তার উপর হজ্জ ও উমরাহ আদায় করা বাধ্যতামূলক নয় (ইবনু হায্ম, মারাতিবুল ইজমা‘, পৃ. ৪১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, ৩/২১৩ পৃ.; ইমাম নববী, আল-মাজমূঊ, ৭/৬৩ পৃ.)।
(৩) যদি কেউ শারীরিকভাবে সক্ষম কিন্তু আর্থিকভাবে অক্ষম হয়, তাহলে তার উপর হজ্জ ও উমরাহ করা আবশ্যক নয়। তবে যদি হজ্জ ও উমরাহ সম্পাদন করার জন্য অর্থের প্রয়োজন না হয়। যেমন যদি সে মাক্কার বাসিন্দা হয় এবং তাকে মক্কা থেকে মাশায়েরে (হজ্জের স্থানসমূহে) যেতে কষ্ট না হয় (সুবুলুস সালাম, ২/১৮০ পৃ.; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৭/১১ পৃ.)।
(৪) যদি কেউ আর্থিকভাবে সক্ষম হয় কিন্তু শারীরিকভাবে এমন অক্ষম হয় যে তার সুস্থ হওয়ার আশা নেই, তাহলে তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধির মাধ্যমে হজ্জ ও উমরাহ আদায় করা আবশ্যক। অর্থাৎ সে নিজে হজ্জ করতে অক্ষম হলে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে হজ্জ ও উমরাহ করানোর দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, খাশ‘আম গোত্রের জনৈক মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহর বান্দার উপর ফরযকৃত হজ্জ আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ আদায় করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ (আদায় কর)। ঘটনাটি বিদায় হজ্জের সময়ের’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৫১৩, ১৮৫৪, ১৮৫৫, ৪৩৯৯, ৬২২৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৩৪)।

পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য সক্ষমতার শর্তসমূহ:
(১) শারীরিক সক্ষমতা: এতে শরীরের সুস্থতা, হাঁটার ও যানবাহনে চাপার সামর্থ্য অন্তর্ভুক্ত (আছ-ছিহাহ, ১/১৮৪ পৃ.; মিছবাহুল মুনীর, ২/৪১৪ পৃ.)।
(২) আর্থিক সক্ষমতা: এতে ভ্রমণের খরচ, বাহন, প্রয়োজনীয় ঋণ পরিশোধের পর অতিরিক্ত সম্পদ, নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত অর্থ থাকা অন্তর্ভুক্ত।
(৩) নিরাপত্তার শর্ত: এর অর্থ হল- পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। নারীদের জন্য বিশেষ সক্ষমতার শর্ত হল: তাঁর সঙ্গে মাহরাম (অর্থাৎ স্বামী অথবা যার সঙ্গে তার বিবাহ চিরতরে হারাম এমন কোন পুরুষ) সঙ্গী থাকতে হবে এবং ইদ্দত পালনরত না হওয়া। অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়কাল অতিক্রম করা।

মোটকথা হজ্জের সামর্থ্য বলতে বুঝায় ব্যক্তি শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া, মক্কায় পৌঁছানোর মত যানবাহনে ভাড়া দিয়ে চড়ার মত অর্থের মালিক হওয়া, হজ্জ করে ফিরে আসা পর্যন্ত সফরের সম্বল (খাদ্যপানীয়) এর মালিক হওয়া। ব্যক্তির উপর যাদের ভরণপোষণ দেয়া ওয়াজিব হজ্জ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সময়কালের জন্য তাদের ভরণপোষণ দেয়ার পর উপরিউক্ত অর্থ তাঁর কাছে অতিরিক্ত থাকা। আর নারীর ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী বা অন্য কোন মাহারামের সাথে থাকা, যিনি তাঁর সাথে হজ্জ বা উমরার সফরের সঙ্গী হবেন (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৬১)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘আয়াতে সামর্থ্য বলতে, বান্দার শারীরিক সুস্থতা এবং নিজের উপর কোন প্রকার কমতি না করে পাথেয় ও বাহনের খরচ থাকা বুঝায়’ (ফাৎহুল ক্বাদীর, ২/৪১৭; আল-ক্বাওয়ানিনুল ফিক্বহিয়্যাহ, পৃ. ৮৭; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৮/৪৩৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সেলিম, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (১২) : যক্ষা রোগে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি ছিয়াম রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক ব্যক্তি হালাল ব্যবসা করে। উক্ত ব্যবসার সাথে একজন হারাম উপার্জনকারী অংশগ্রহণ করতে চায়। এ অবস্থায় তার সাথে এ ব্যবসা করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : নখে রঙ লাগিয়ে তথা নেইল পলিশ লাগিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : শুক্রবার জুমু‘আর আযান কয়টা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুরআন যেমন আল্লাহর কালাম অনুরূপ হাদীছের ক্ষেত্রে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন বিদ‘আতী মারা গেলে তার জন্য দু‘আ করা এবং তার প্রশংসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আক্বীক্বার সপ্তম দিনে যদি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হয়, তাহলে আক্বীক্বা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ওযূর ফরযের ক্ষেত্রে কেউ বলে চারটি, পাঁচটি, ছয়টি অথবা সাতটি। মূলত ওযূর ফরয কয়টি ও কী কী?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মসজিদের টাইলসে ‘লা ইলা-হা ইল্লা-ল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : আমি মাথায় আগলা চুল ব্যবহার করি। এমতাবস্থায় যদি ওযূর সময় ঐ আগলা চুলের উপর দিয়ে মাথা মাসাহ করি, তাহলে কি ওযূ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ঝাড়-ফুঁক করা কি শরী‘আতে জায়েয? কুরআনের আয়াত লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু’ কিভাবে তাওহীদের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ