বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে- যেভাবে পড়লে ব্যক্তির একাগ্রতা বাড়ে সেভাবে তেলাওয়াত করা। যদি মুখস্থ থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়লে কিংবা মোবাইল থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটা করা উত্তম। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া মুখস্থ থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম। আমাদের মাযহাবের আলেমগণ এমনটি বলেছেন। সালাফে ছালেহীনের থেকেও এটাই প্রসিদ্ধ অভিমত। তবে, এটি সর্বক্ষেত্রে নয়। বরং মুখস্থ থেকে তেলাওয়াতকারীর তাদাব্বুর, তাফাক্কুর, মন ও দৃষ্টির উপস্থিতি এভাবে একত্রিত হয় যা মুছহাফ থেকে তেলাওয়াতকারীর হয় না। অতএব, মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করাই উত্তম। আর যদি উভয় প্রকারের পড়া সম-মানের হয় তাহলে মুছহাফ থেকে পড়াই উত্তম। সালাফে ছালেহীনের এটাই উদ্দেশ্য’ (আল-আযকার, পৃ. ৯০-৯১)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া কিংবা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে ছওয়াবের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? যখন মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া হয় তখন কি দুই চোখ দিয়ে পড়াই যথেষ্ট; না-কি ঠোঁট নাড়তে হবে? না-কি শব্দও বের করতে হবে? জবাবে তিনি বলেন, আমি এমন কোন দলীল জানি না যাতে মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া বা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। তবে, শরী‘আতের বিধান হচ্ছে- তাদাব্বুর ও মনোযোগ দিয়ে পড়া। সেটা মুছহাফ থেকে হোক কিংবা মুখস্থ থেকে হোক। পাঠকারী যদি নিজে শুনে তখন এটাকে পড়া বলা হবে। শুধু চোখ দিয়ে দেখা যথেষ্ট নয়। অনুরূপভাবে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়াও যথেষ্ট নয়। সুন্নত হচ্ছে- তেলাওয়াতকারী উচ্চারণ করবে এবং তাদাব্বুর করবে। যেমনটি আল্লাহ‌ তা‘আলা বলেছেন, ‘এক মুবারক কিতাব, আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে তাদাব্বুর করে (গভীরভাবে চিন্তা করে) এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ছোয়াদ: ২৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? না-কি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?’ (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)।

সুতরাং মুখস্থ থেকে পড়া যদি অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনা করার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়া অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আল্লাহ্‌ই তাওফীকদাতা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়াস শাইখ বিন বায, ২৪/৩৫২ পৃ.)। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আপনি যদি একাগ্র চিত্তে ও গভীর চিন্তা-ভাবনাসহ মোবাইল থেকে কুরআন পড়েন তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ আপনার ছওয়াবে কমতি হবে না। কারণ মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্তরের উপস্থিতি ও কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া। উল্লেখ্য, নবী (ﷺ) থেকে মুছহাফে দৃষ্টি দেয়ার ফযীলত সম্পর্কে কিছু দুর্বল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে— যেগুলো দিয়ে দলীল দেয়ার উপযুক্ত নয়।


প্রশ্নকারী : আলাউদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা।





প্রশ্ন (৭) : কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের সফরে গিয়ে ওমরাহ আদায় করে মদীনা বা মীক্বাতের বাইরে কোন স্থানে সফর করে, তবে তিনি কি মক্কায় আগমনের সময় পুনরায় ওমরাহ করতে পারবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মসজিদের ক্বিবলা বরাবর টয়লেট বা পেশাবখানা থাকলে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায়ে কোন বাধা আছে কি? উল্লেখ্য, মসজিদের দেয়াল এবং টয়লেট ও পেশাবখানার দেয়াল একটাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে বায়‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : চাকুরীর বাধ্যবাধকতার কারণে পানি থাকা সত্ত্বেও হাত ও মুখে কসমেটিকস থাকায় তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কাউকে বিদায় দেয়ার সময় কোন্ দু‘আ পড়ার কথা হাদীছে এসেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইলম অর্জনের পর তদনুযায়ী আমল না করলে কেমন শাস্তি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : নিয়তের খবর কি দু’কাঁধের ফেরেশতারা জানে? একটি হাদীছে এসেছে যে, ‘মানুষের ভাল কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে একটি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর ঐ কাজ বাস্তবায়ন করলে দু’টি ছাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়। আর মানুষের মন্দ কাজের নিয়ত করার সাথে সাথে পাপ লেখা হয় না, বরং তা বাস্তবায়নের পরে লেখা হয়’। এ হাদীছের ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪): উটপাখির গোশত খাওয়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ভিসা প্রসেসিং ব্যবসা কি জায়েয? এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মালাকুল মাওত কিভাবে একসাথে একাধিক ব্যক্তির জান কবয করেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আমার মা আমার নানার একমাত্র মেয়ে। নানার আর কোন ছেলেমেয়ে নেই। তবে ভাতিজা, ভাগিনা আছে। নানা এখনো জীবিত। আমার নানা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আমার মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এটা কি ঠিক হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ