বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে- যেভাবে পড়লে ব্যক্তির একাগ্রতা বাড়ে সেভাবে তেলাওয়াত করা। যদি মুখস্থ থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়লে কিংবা মোবাইল থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটা করা উত্তম। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া মুখস্থ থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম। আমাদের মাযহাবের আলেমগণ এমনটি বলেছেন। সালাফে ছালেহীনের থেকেও এটাই প্রসিদ্ধ অভিমত। তবে, এটি সর্বক্ষেত্রে নয়। বরং মুখস্থ থেকে তেলাওয়াতকারীর তাদাব্বুর, তাফাক্কুর, মন ও দৃষ্টির উপস্থিতি এভাবে একত্রিত হয় যা মুছহাফ থেকে তেলাওয়াতকারীর হয় না। অতএব, মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করাই উত্তম। আর যদি উভয় প্রকারের পড়া সম-মানের হয় তাহলে মুছহাফ থেকে পড়াই উত্তম। সালাফে ছালেহীনের এটাই উদ্দেশ্য’ (আল-আযকার, পৃ. ৯০-৯১)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া কিংবা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে ছওয়াবের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? যখন মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া হয় তখন কি দুই চোখ দিয়ে পড়াই যথেষ্ট; না-কি ঠোঁট নাড়তে হবে? না-কি শব্দও বের করতে হবে? জবাবে তিনি বলেন, আমি এমন কোন দলীল জানি না যাতে মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া বা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। তবে, শরী‘আতের বিধান হচ্ছে- তাদাব্বুর ও মনোযোগ দিয়ে পড়া। সেটা মুছহাফ থেকে হোক কিংবা মুখস্থ থেকে হোক। পাঠকারী যদি নিজে শুনে তখন এটাকে পড়া বলা হবে। শুধু চোখ দিয়ে দেখা যথেষ্ট নয়। অনুরূপভাবে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়াও যথেষ্ট নয়। সুন্নত হচ্ছে- তেলাওয়াতকারী উচ্চারণ করবে এবং তাদাব্বুর করবে। যেমনটি আল্লাহ‌ তা‘আলা বলেছেন, ‘এক মুবারক কিতাব, আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে তাদাব্বুর করে (গভীরভাবে চিন্তা করে) এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ছোয়াদ: ২৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? না-কি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?’ (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)।

সুতরাং মুখস্থ থেকে পড়া যদি অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনা করার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়া অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আল্লাহ্‌ই তাওফীকদাতা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়াস শাইখ বিন বায, ২৪/৩৫২ পৃ.)। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আপনি যদি একাগ্র চিত্তে ও গভীর চিন্তা-ভাবনাসহ মোবাইল থেকে কুরআন পড়েন তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ আপনার ছওয়াবে কমতি হবে না। কারণ মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্তরের উপস্থিতি ও কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া। উল্লেখ্য, নবী (ﷺ) থেকে মুছহাফে দৃষ্টি দেয়ার ফযীলত সম্পর্কে কিছু দুর্বল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে— যেগুলো দিয়ে দলীল দেয়ার উপযুক্ত নয়।


প্রশ্নকারী : আলাউদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা।





প্রশ্ন (১৭): যাকাতুল ফিতর কখন আদায় করতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ঈদের ছালাতের খুত্ববাহ শেষে দানকৃত অর্থ দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমামকে দেয়া কতটুকু শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী উপায়ে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বৃদ্ধির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে দরিদ্রতা আসে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যে ব্যক্তি আল্লাহর শরী‘আত অনুযায়ী শাসন করে না, তাকে কি রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত করা যাবে? বিশেষত যদি তাকে নির্বাচিত না করলে হয়রানি, এমনকি কখনো গ্রেফতার পর্যন্ত হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : সাতদিনের মধ্যে বাচ্চা মারা গেলে ‘আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : অনেকেই নিজেকে আহলেহাদীছ দাবি করে আবার প্রচলিত রাজনৈতিক দলকেও সাপোর্ট করে। এই নীতি কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ধান, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ইত্যাদি মওজুদ করে রাখার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক মহিলার সাধারণত ৭ম দিনে হায়েয শেষ হয়। কিন্তু মাঝে ১/২ দিন স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। প্রশ্ন হল- উক্ত এক বা দুই দিন সে ছলাত/ছিয়াম পালন করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) :  জনৈক আলেম বলেছেন, মুমিনরা সবাই আল্লাহর ওলী। কিন্তু অন্যজন বলেছেন, কারা আল্লাহর ওলী তা আমরা কেউই জানি না। এ বিষয়ে সঠিক সমাধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : জরায়ু অপারেশন করার পর থেকে সব সময় পেশাবের মত পদার্থ নির্গত হয়। এমতাবস্থায় কিভাবে ছালাত আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ওযূতে কিভাবে কান মাসাহ করতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ