রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে- যেভাবে পড়লে ব্যক্তির একাগ্রতা বাড়ে সেভাবে তেলাওয়াত করা। যদি মুখস্থ থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়লে কিংবা মোবাইল থেকে পড়লে একাগ্রতা বাড়ে তাহলে সেটা করা উত্তম। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া মুখস্থ থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম। আমাদের মাযহাবের আলেমগণ এমনটি বলেছেন। সালাফে ছালেহীনের থেকেও এটাই প্রসিদ্ধ অভিমত। তবে, এটি সর্বক্ষেত্রে নয়। বরং মুখস্থ থেকে তেলাওয়াতকারীর তাদাব্বুর, তাফাক্কুর, মন ও দৃষ্টির উপস্থিতি এভাবে একত্রিত হয় যা মুছহাফ থেকে তেলাওয়াতকারীর হয় না। অতএব, মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করাই উত্তম। আর যদি উভয় প্রকারের পড়া সম-মানের হয় তাহলে মুছহাফ থেকে পড়াই উত্তম। সালাফে ছালেহীনের এটাই উদ্দেশ্য’ (আল-আযকার, পৃ. ৯০-৯১)।

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, ‘মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া কিংবা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে ছওয়াবের মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? যখন মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া হয় তখন কি দুই চোখ দিয়ে পড়াই যথেষ্ট; না-কি ঠোঁট নাড়তে হবে? না-কি শব্দও বের করতে হবে? জবাবে তিনি বলেন, আমি এমন কোন দলীল জানি না যাতে মুছহাফ থেকে কুরআন পড়া বা মুখস্থ থেকে কুরআন পড়ার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। তবে, শরী‘আতের বিধান হচ্ছে- তাদাব্বুর ও মনোযোগ দিয়ে পড়া। সেটা মুছহাফ থেকে হোক কিংবা মুখস্থ থেকে হোক। পাঠকারী যদি নিজে শুনে তখন এটাকে পড়া বলা হবে। শুধু চোখ দিয়ে দেখা যথেষ্ট নয়। অনুরূপভাবে উচ্চারণ না করে মনে মনে পড়াও যথেষ্ট নয়। সুন্নত হচ্ছে- তেলাওয়াতকারী উচ্চারণ করবে এবং তাদাব্বুর করবে। যেমনটি আল্লাহ‌ তা‘আলা বলেছেন, ‘এক মুবারক কিতাব, আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে তাদাব্বুর করে (গভীরভাবে চিন্তা করে) এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা ছোয়াদ: ২৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা করে না? না-কি তাদের অন্তরসমূহে তালা রয়েছে?’ (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)।

সুতরাং মুখস্থ থেকে পড়া যদি অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনা করার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আর যদি মুছহাফ থেকে পড়া অন্তরের একাগ্রতা ও গভীর চিন্তা-ভাবনার অধিক উপযুক্ত হয় তাহলে সেটাই উত্তম। আল্লাহ্‌ই তাওফীকদাতা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়াস শাইখ বিন বায, ২৪/৩৫২ পৃ.)। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আপনি যদি একাগ্র চিত্তে ও গভীর চিন্তা-ভাবনাসহ মোবাইল থেকে কুরআন পড়েন তাহলে ইনশাআল্লাহ্‌ আপনার ছওয়াবে কমতি হবে না। কারণ মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- অন্তরের উপস্থিতি ও কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া। উল্লেখ্য, নবী (ﷺ) থেকে মুছহাফে দৃষ্টি দেয়ার ফযীলত সম্পর্কে কিছু দুর্বল হাদীছ বর্ণিত হয়েছে— যেগুলো দিয়ে দলীল দেয়ার উপযুক্ত নয়।


প্রশ্নকারী : আলাউদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা।





প্রশ্ন (১৮) : সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, ডান দিক থেকে কাতার পূরণ করা সূন্নাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : পেশাব করার পর ঢিলা কুলুখ নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পায়ের লোম অতিরিক্ত বড় হলে কেটে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক খত্বীব বলেন, মুহাররমের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম রাখলে ৫০ বছর নফল ছিয়াম পালনের নেকী লেখা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : পালক সন্তান কি সম্পদের ওয়ারিছ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : মিসওয়াকের শুরু এবং শেষে পঠিতব্য কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কাফের দেশে ঘুরতে যাওয়ার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : খিলাফাতে রাশিদার রাজনৈতিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যে সমস্ত কারখানায় ইউরোপ আমেরিকার মেয়েদের টি-শার্ট, স্কার্ট, জিন্স প্যান্ট তৈরি করা হয়, সেগুলোতে চাকরি করা বৈধ হবে কি? এ সমস্ত পোশাকে মেয়েদের শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়। অনেক পোশাকে প্রাণীর ছবিও থাকে।   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ইবাদতের মধ্যে বিদ‘আত প্রবেশ করলে সম্পূর্ণ আমল কি বাতিল হয়ে যাবে? না-কি যে অংশে বিদ‘আত প্রবেশ করেছে সেটুকু বাতিল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : পূর্ববর্তী কিতাবগুলো ছহীফা আকারে নাযিল হয়েছিল। এগুলো কি আল্লাহর কালাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছেলে যদি তার টাকা বা স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের উপর যাকাত না দেয়, তাহলে বাবাকে কি তাদের পক্ষ থেকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ