উত্তর : পাথরের মাধ্যমে মসজিদে বা অন্য কোন জায়গায় বরকত চাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক। উক্ত পাথর মসজিদে রাখা যাবে না। ভবিষ্যতে উক্ত পাথরের পূজাঁ করার জন্য মানুষ সেখানে একত্রিত হবে। তবে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায়ে সমস্যা হবে না। তাই এমন পাথর মসজিদে থাকলেও ছালাত শুদ্ধ হবে। তাছাড়া বরকত ও সাহায্য শুধু আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কেবল আল্লাহরই ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করো না’ (সূরা আন-নিসা: ৩৬)। এখানে আল্লাহ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করা যাবে না।। পাথর বা অন্য কোন বস্তু থেকে বরকত চাওয়া হলে তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ছাহাবীদেরকে বরকত ও সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইতে বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে ছেলে! তুমি আল্লাহকে স্মরণে রেখ, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহকে স্মরণে রেখ, আল্লাহ তোমার সহায় হবেন। যখন তুমি কিছু চাইবে, কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন তুমি সাহায্য চাইবে, কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে’ (তিরমিযী, হা/২৫১৬)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং ছাহাবীগণ কখনো কোন বস্তু বা পাথরকে বরকতের জন্য ব্যবহার করেননি। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একবার হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর)-এর সামনে এসে বলেছিলেন, ‘আমি জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কাউকে উপকার বা ক্ষতি করতে পারো না। যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৫৯৭)। এখানে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, পাথর কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না, এটি শুধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নত পালনের জন্য চুম্বন করেছেন।
প্রশ্নকারী : জুবায়ের আহমেদ, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।