মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ শারীরিক অক্ষমতা, প্রাণনাশের সম্ভাবনা বা মারাত্মক দুর্বলতার কারণে অভিজ্ঞ ডাক্তার যদি সন্তান গ্রহণ থেকে সাময়িক বিরত থাকতে বলেন তবে সর্বসম্মতভাবে তা জায়েয। তবে স্থায়ীভাবে করা যাবে না। ছাহাবীদের যুগে আযল করার পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। তখন অহী নাযিল হলেও তা নিষিদ্ধ করা হয়নি। যেমন জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, كُنَّا نَعْزِلُ وَالْقُرْآنُ يَنْزِلُ ‘আমরা ‘আযল করতাম। সে সময় কুরআন অবতীর্ণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২০৮, ৫২০৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৪০; তিরমিযী, হা/১১৩৭; ইবনু মাজাহ, হা/১৯২৭)। সুতরাং আযল পদ্ধতির অনুপাতে কনডম ব্যবহার, ইনজেকশন, পিল ইত্যাদি ব্যবহার করে সাময়িকভাবে গর্ভনিরোধ করা জায়েয। আল্লাহু আলাম।
উল্লেখ্য, আযল হল, স্ত্রীমিলনের সময় বাইরে বীর্যপাত করা। যার উদ্দেশ্য স্ত্রীকে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখা। শারীরিক অসুস্থতা অথবা দুই সন্তানের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবধান রাখার ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে আযল করা শরী‘আতে বৈধ। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি কৌশল মাত্র। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ চাইলে এর পরেও গর্ভে সন্তান আসতে পারে। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, আমার দাসীর সাথে আমি মিলিত হলেও তার গর্ভধারণ আমি পসন্দ করি না। তিনি বললেন, তুমি চাইলে আযল করতে পার, তবে আল্লাহ তা‘আলা যা তাক্বদীরে লিখেছেন তা হবেই’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩৯; মিশকাত, হা/৩১৮৫)।

দ্বিতীয়তঃ শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে এমন করা দোষনীয় নয়। অন্যথা বিরত থাকাই অপরিহার্য। কেননা রাসূল (ﷺ) বংশবৃদ্ধির ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং উম্মাতের সংখ্যাধিক্যের প্রতি আহ্বান করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রয়োজনের তাকীদে শরী‘আতসম্মত কারণে সাময়িক গর্ভনিরোধক মাধ্যম গ্রহণ করা জায়েয। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টিমূলক কাজ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৯/৪৩৪; ২১/১৯৭-১৯৮ পৃ.)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যদি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ডাক্তারগণ বিপদের আশঙ্কা করেন, তবে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী এবং স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা দোষনীয় নয়’ (ফাতাওয়া আল-মারআতুল মুসলিমাহ, ৫/৯৭৮ পৃ.)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুসলিমদের জানা যরূরী যে, ইসলাম বংশবৃদ্ধির ব্যাপারে উৎসাহ দান করেছে এবং উম্মতের সংখ্যাধিক্যের প্রতি আহ্বান করেছে। যেমন রাসূল (ﷺ) মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্বুদ্ধকরণার্থে বলেন, ‘তোমরা এমন নারীকে বিবাহ কর যে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করব’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৫০; নাসাঈ, হা/৩২২৭, সনদ হাসান)। আর নিঃসন্দেহে উম্মতের আধিক্য জাতির জন্য গর্বের বিষয়। যদিও দুষ্টু ও আগ্রাসী মনোভাবা সম্পূর্ণ মানুষগুলো এটিকে দূর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্যের কারণ মনে করে।  যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর স্মরণ করুন, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ‌ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তা লক্ষ্য কর’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ৮৬)। তবে কোন নারী যদি বেশি সন্তান প্রসব করার ফলে শারীরিকভাবে বিদ্ধস্ত হয়ে যায়, অথবা সে গ্রহস্থালির আবশ্যিক কাজ-কর্মসমূহ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সক্ষম না হয়, অথবা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হয় কিংবা প্রাণনাশের ভয় থাকে। সেক্ষেত্রে সৎ অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভধারণের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে সীমাবদ্ধ করা দোষনীয় নয়। যেমন প্রতি দু’বছর পর একবার গর্ভধারণ। স্বামীর অনুমতিক্রমে এমন সাময়িক নিয়ন্ত্রণ অনুমোদিত। এটি ছাহাবায়ে কিরামের যুগের ‘আযল’ করার অনুরূপ। তিনি আরো বলেন, ‘সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ দু’টি শর্তসাপেক্ষে জায়েয। যথা :
(ক) এটি যেন প্রয়োজনের তাকীদে হয়, যেমন অসুস্থতার কারণে প্রত্যেক বছর সন্তান ধারণে সক্ষম না হওয়া অথবা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া অথবা প্রত্যেক বছর সন্তান ধারণে অন্যান্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
(খ) এটি স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। কেননা স্বামীও সন্তানের অধিকারী। পিল বা কাঠি গ্রহণের মাধ্যমে সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি লাভদায়ক হবে না-কি ক্ষতিকারক সেটি অবশ্যই কোন সুদক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে। কেননা জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে মৌখিক ঔষধ, প্যাচ, যোনি আংটি এবং ইনজেকশনসহ হরমোন ঘটিত গর্ভনিরোধক ব্যবহারে সীমাহীন ক্ষতি রয়েছে।
অথচ রাসূল (ﷺ) বলেছেন,  لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০, ২৩৪১; ছহীহুল জামে‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)। উক্ত শর্ত দু’টি কার্যকর হলে তবেই সাময়িক গর্ভনিরোধক মাধ্যম গ্রহণ করা জায়েয হবে (ফাতাওয়া আল-মারআতুল মুসলিমাহ, ২/৬৫৭-৬৫৮ পৃ.; লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, প্রশ্ন নং-১১৪৭)।

প্রশ্নকারী : সুলতানা, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩৪) : একাকী ফরজ ছালাত আদায় করলে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মক্কায় একদিনের ছিয়াম বাইরের এক লক্ষ ছিয়ামের সমতুল্য। সেখানে এক দেরহাম খরচ করলে এক লক্ষ দেরহামের সমান এবং একটি নেকী করলে এক লক্ষ নেকীর সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদীছে মসজিদে নববীর ছওয়াব সমজিদে আক্বছার চেয়ে অধিক এসেছে। অথচ এখানে উভয় মসজিদের ছওয়াব পঞ্চাশ হাজার বলা হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে, প্রত্যেক মসজিদের ছওয়াব পূর্ববর্তী মসজিদ হিসাবে বলা হইয়াছে অর্থাৎ জামে মসজিদের ছওয়াব পাঁচশ’ ছালাত নয়, বরং মহল্লার মসজিদ হতে পাঁচশ’ গুণ বেশী। এই হিসাব মতে জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০) (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ. ৯২)। তাবলীগী নিসাবের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ কিতাবে বর্ণিত উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭): ন্যায়পরায়ণ মুসলিম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘ষাট বছরের জীবনে কেউ এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দিলেও সে কাফের’। সালাফদের থেকে এরকম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : কুরবানীর চামড়ার টাকা মসজিদ ও মাদরাসায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : আমি একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী। মাসে ৮-১০ দিন আমাকে টানা ২৪ ঘন্টা অফিস করতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অফিসের অনেক হক্ব নষ্ট হয় যেমন অলসতা, গাফেলতি, ঘুম, ছলচাতুরী ও নেট ব্রাউজিং এর মাধ্যমে (যা চেষ্টা করলেও শতভাগ রক্ষা করা প্রায়ই অসম্ভব)। এমতাবস্থায় উপার্জনে হারামের সংশয় নিরসনে- এই হক্ব নষ্টের কোন কাফ্ফারা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : তিন বছর কিংবা পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক জন্ম নিয়ন্ত্রণ কাঠি পড়া গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : শাওয়াল মাসে ছয়টি ছিয়াম পালন করার বিধান ও তার ফযীলাত সম্পর্কে জানাতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের খেলনা হিসাবে বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতির পুতুল বানানো হচ্ছে। বাচ্চাদের এগুলো ক্রয় করে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার মা-বাবার সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়ার কারণে কয়েক বছর আগে সে বাপের বাড়ি চলে যায়। আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি আমাকে নিয়ে সুখী হতে না পার তবে অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখী হও। কিন্তু সে তা করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা সংসার করে আসছি। আর সমস্যা হয়নি। প্রশ্ন হল, এভাবে বললে কি ত্বালাক্ব হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ছালাত আদায় করার সময় শুধু রুকূ‘ পেলেই কি পুরো রাকা‘আত পাওয়া হবে, না-কি পরবর্তীতে ঐ রাক‘আত আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনেকে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-কে শয়তানের শিং বলে অভিহিত করে থাকে। এটা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ