উত্তর : আল্লাহর ব্যাপারে মনের এই কুমন্ত্রণা বান্দার ঈমানকে নষ্ট করে দেয় না। কেননা এটা স্রেফ শয়তানী কুমন্ত্রণা মাত্র (আবূ দাঊদ, হা/৫১১২; মিশকাত, হা/৭৩)। শয়তান মুমিনদের মাঝে প্রবেশ করে, যাতে সে বান্দার ঈমানকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং তাদেরকে মানসিক অস্থিরতায় ফেলে দিয়ে ঈমানী শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। শুধু তাই নয় অনেক সময় মুমিনের সাধারণ জীবনকে বিপন্ন করে তুলে। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ছাহাবীদের একদল রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে জিজ্ঞেস করল, আমরা আমাদের অন্তরে কখনো কখনো এমন বিষয় অনুভব করি, যা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা আমাদের কাছে খুব কঠিন মনে হয়। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, সত্যিই কি তোমরা এ রকম পেয়ে থাক? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, আমরা এরকম অনুভব করে থাকি। রাসূল (ﷺ) বললেন, এটি তোমাদের ঈমানের স্পষ্ট প্রমাণ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৩২)।
অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের কারো কাছে শয়তান আগমন করে বলে, কে এটি সৃষ্টি করেছে? কে ঐটি সৃষ্টি করেছে? এক পর্যায়ে বলে, কে তোমার প্রতিপালককে সৃষ্টি করেছে? তোমাদের কারও অবস্থা যদি এরকম হয়, তাহলে সে যেন শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এরূপ চিন্তা-ভাবনা করা হতে বিরত থাকে (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৭৬; মিশকাত, হা/৬৫)। অতএব যখন বুঝা যাবে যে, এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা, তখন তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে। কেননা যদি কেউ তার পিছনে না ছুটে, তাহলে সে কোন ক্ষতি করতে পারবে না। যেমন নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘কাজে পরিণত করা অথবা মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের মনের কুমন্ত্রণাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২৫২৮; মিশকাত, হা/৬৩)।
প্রশ্নকারী : সুমন, রাজশাহী।