উত্তর : ঘরের মধ্যে যে সব মাকড়সা থাকে এবং ঘরের কোণে ও এখানে-সেখানে জাল বুনে সে সব মাকড়সাকে মেরে ফেলা বা সেগুলোর জাল ভেঙ্গে ফেলায় কোন দোষ নেই। কেননা হাদীছে এ সম্পর্কে কোন নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়নি। তাছাড়া মাকড়সা খাওয়ার জন্য ঘরের মধ্যে টিকটিকি, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি নানা ক্ষতিকর প্রাণীর আগমন ঘটতে পারে-যা নি:ঃসন্দেহে আমাদের জন্য ক্ষতিকর। মাকড়সার জালে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ আটকা পড়ে মারা যায়। মরে শুকিয়ে থাকে। তারপর সেখান থেকে নানা রোগ-ব্যাধি ও জীবাণু ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন কোন মাকড়সা বিষধর। অনেক সময় এগুলো খাদ্যদ্রব্যে মরে পড়ে থাকে। এরা দেয়াল, বই-পুস্তক ইত্যাদিতে মল-মূত্র ত্যাগ করে নোংরা করে। সুতরাং ঘরে মাকড়সা থাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। অতএব, পোকা-মাকড়, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি থেকে ঘর-বাড়ির পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে মাকড়সা মারা ও সেগুলোর জাল ভাঙ্গায় কোন দোষ নেই।
উল্লেখ্য যে, হিজরতের সময় যখন রাসূল (ﷺ) ও তাঁর সঙ্গী আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সওর পর্বতের গর্তে আত্মগোপন করেছিলেন, তখন গর্তের মুখে একটি মাকড়সা জাল বুনেছিল এবং দু’টি কবুতর তার উপর বসে ডিম পেড়ে ডিমে তা দিচ্ছিল... মর্মে যে হাদীছটি শোনা যায়, তা ছহীহ নয় (সিলসিলা যঈফাহ, হা/১১২৯)। এ প্রসঙ্গে শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
ولو فرضنا صحته فإنه لا يمنع من إزالتها من البيوت لأن هذا شيء ساقه الله جل وعلا كرامة لنبيه ومعجزة لنبيه عليه الصلاة والسلام، وحماية له من كيد الكفرة فلا يمنع ذلك إزالتها من البيوت التي ليس لوجودها حاجة فيها ولا حرج في ذلك إن شاء الله
‘এটিকে (মাকড়সা ও কবুতরের ডিম পড়ার হাদীছকে) ছহীহ ধরে নিলেও ঘর থেকে মাকড়সার জাল পরিষ্কার করায় বাধা নেই। কারণ, এটি রাসূল (ﷺ)-কে কাফেরদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ সাহায্য-যা রাসূল (ﷺ)-এর মু’জিযা হিসাবে গণ্য। কিন্তু আমাদের ঘরে মাকড়সা থাকার তো কোন প্রয়োজন নেই। সুতরাং এতে (মাকড়সা মারা ও তার জাল ভাঙ্গায়) কোন অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ’ (শাইখের ওয়েব সাইট)।
সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, ‘ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে অভাব অনটন দেখা দেয়’। অনেকে এটাকে কঠিনভাবে মানে ও বিশ্বাস করে। কিন্তু ইসলামী শরী‘আতে এ কথার কোনও ভিত্তি নেই। এটি কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয়। স্বচ্ছলতা দান বা অভাব-অনটনের মালিক তো কেবল আল্লাহ তা‘আলা। তিনি চাইলে কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন, চাইলে স্বচ্ছলতা দান করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَّشَآءُ وَ يَقْدِرُ١ؕ اِنَّهٗ كَانَ بِعِبَادِهٖ خَبِيْرًۢا بَصِيْرًا ‘নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা যাকে ইচ্ছা অধিক জীবনোপকরণ দান করেন এবং তিনিই তা সংকুচিতও করে দেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে ভালো ভাবে অবহিত,-সব কিছু দেখছেন’ (সূরা বনী ইসরাঈল : ৩০)। সুতরাং এসব অলীক ও ভ্রান্ত কুসংস্কারে বিশ্বাস রাখা কোন মুসলিমের জন্য জায়েয নেই।
প্রশ্নকারী : আব্দুর রাযযাক, দৌলতপুর, চারঘাট, রাজশাহী।