রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘সিয়াসাহ’ (السِيَاسَة) অর্থ হল- কোন কিছুকে এমনভাবে তত্ত্বাবধান করা, যাতে তা সংশোধিত ও কল্যাণকর হয়। বলা হয়, ‘সাওওয়াসাহুল ক্বাওম’ অর্থাৎ কোন জাতি কাউকে তাদের শাসক বানিয়েছে, যাতে সে তাদের পরিচালনা করে (লিসানুল ‘আরব, ৬/১০৭; আল-ক্বামুসুল মুহীত্ব, পৃ. ৭১০)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

كَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ....

‘বানী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতকে শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪২)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, (تَسُوْسُهُمْ الأَنْبِيَاءُ- নবীগণ তাদের পরিচালনা করতেন) অর্থাৎ তারা তাদের বিষয়াবলি তত্ত্বাবধান করতেন, যেমন শাসক ও প্রশাসকরা প্রজাদের পরিচালনা করে। আর ‘সিয়াসাহ’ হল- কোন বিষয়কে তার কল্যাণ অনুযায়ী পরিচালনা করা’ (শারহু ছহীহিল মুসলিম, ১৮৪২ নং হাদীছের ব্যাখ্যা দ্র.)। ইবনু নাজীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সিয়াসাহ হল- শাসকের এমন কোন পদক্ষেপ, যা সে মানুষের কল্যাণে উপযুক্ত মনে করে- যদিও সে কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন দলীল না থাকে’ (আল-বাহরুর রায়িক্ব, ৫/১১ পৃ.)।

প্রখ্যাত মনীষী ইবনু খালদূন (রাহিমাহুল্লাহ) শারঈ রাজনীতিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, ‘মানুষকে তাদের পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালনা করা। কারণ দুনিয়ার সব অবস্থা শেষ পর্যন্ত আখিরাতের কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এটি মূলত শরী‘আত প্রণেতার প্রতিনিধিত্ব করে দ্বীনকে সংরক্ষণ করা এবং এর মাধ্যমে দুনিয়াকে পরিচালনা করা’ (মুক্বাদ্দিমাহ, ইবনে খালদূন, পৃ. ৯৭)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আবূ আল-ওফা ইবনু আক্বীল (হাম্বালী) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘সিয়াসাহ (রাজনীতি) হল- এমন কার্য বা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ কল্যাণের অধিক নিকটবর্তী হয় এবং অনিষ্ট থেকে অধিক দূরে থাকে- যতক্ষণ তা শরী‘আতের পরিপন্থী না হয়’। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি কখনোই শরী‘আতের বাণীর বিরোধী হতে পারে না, বরং তা শরী‘আত যা নিয়ে এসেছে তারই অনুগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শরী‘আতেরই একটি অংশ। আপনাদের পরিভাষা অনুসারে আমরা একে ‘সিয়াসাহ’ বললেও প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ন্যায়বিচার’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস- সয়াসাহ আশ-শারঈয়্যাহ, পৃ. ১৩-১৫)। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ রাজনীতির মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। এমনকি ইমাম আবূ হামিদ আল-গাযযালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দুনিয়া হল- আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। দুনিয়া ব্যতীত দ্বীন পূর্ণতা লাভ করে না। রাজত্ব (রাষ্ট্রক্ষমতা) ও দ্বীন- এ দু’টি যমজ। দ্বীন হল মূলভিত্তি আর সুলতান (রাষ্ট্রক্ষমতা) হল প্রহরী। যার কোন ভিত্তি নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর যার কোন প্রহরী নেই তা নষ্ট হয়ে যায়’ (ইহইয়া উলূমুদ্দীন, ১/১৭ পৃ.)। এছাড়াও তাঁরা ইমামত বা খিলাফতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, তা হল- শরী‘আতের প্রবর্তক রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ প্রতিনিধিত্ব, যার দায়িত্ব হল দ্বীনের হিফাযত করা এবং তার মাধ্যমেই দুনিয়ার রাজনীতি পরিচালনা করা (আন-নাযরিয়্যাত আস-সিয়াসিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১২৫)। অতএব, খিলাফত মানে হল দ্বীনের হিফাযত এবং তার ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনা। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, রাজনীতি ইসলামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, ইসলামে রাজনীতি ও দ্বীনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

এই বিবেচনা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে- এবং তাদের পরিভাষা অনুযায়ী বলতে গেলে- নবী (ﷺ) তাঁর শাসনকার্যে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক নীতিনির্ভর রাজনীতি প্রয়োগ করতেন। কারণ তিনি এমন এক শরী‘আত নিয়ে আগমন করেছিলেন, যা কল্যাণ সাধন ও তা পরিপূর্ণ করার জন্য এবং অকল্যাণ দূর করা ও তা হ্রাস করার জন্য কার্যকর। এভাবেই তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ আমল করেছেন (ইবনুল ক্বাইয়্যিম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ১৭-২০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৮১৬৭৩)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৯) : বাড়ির মধ্যে পুরুষরা হাফপ্যান্ট পরতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : যদি কোন মুসলিম বলে, এটা কুরআনে বলা হয়েছে, অথচ সেটা কুরআনে বলা হয়নি, তাহলে সে কি মুসলিম থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : একটি হিমাগারে অগ্রিম ভাড়া দিয়েছি ৬,০০,০০০ টাকা। আলু সংরক্ষণ করলে ডেলিভারি নেয়ার সময় ভাড়া দিতে হবে না। আর যদি আলু সংরক্ষণ না করি তাহলে ৮ মাস পরে আমাকে ৮,০০,০০০ টাকা ফেরত দিবে। আলু সংরক্ষণ না করে ৮,০০,০০০ টাকা ফেরত নেয়া বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : সক্ষম পিতার সন্তান যদি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে পিতা কি তার পাপ থেকে বাঁচতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ‘হস্তমৈথুন’-এর শাস্তি কী? এর থেকে ত‌ওবা করার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ভালো কথা না শুনলে কিংবা ছালাত আদায় না করলে নিজের আপন বোনকে ত্যাজ্য বোন করা যাবে কি? শরী‘আতে বোনকে ভাই কর্তৃক এবং ভাইকে বোন কর্তৃক ত্যাজ্য করার কোন বিধান আছে কি? পিতা-মাতা কি তাদের সন্তানকে ত্যাজ্য করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : খারেজী, শী‘আ ও কাদিয়ানীরা কি কালেমা পড়া মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মায়ের সম্পদে মেয়েদের বা বোনদের অংশ কি বেশি থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত সংক্রান্ত কথা বলা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনার সুযোগ দেয়া হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : খুৎবাহ শুনা কি ওয়াজিব? যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে খুৎবাহ চলাকালীন ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীয় দাড়ি প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্য হতে ছেঁটে নিতেন (তিরমিযী, হা/২৭৬২)। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ