বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘সিয়াসাহ’ (السِيَاسَة) অর্থ হল- কোন কিছুকে এমনভাবে তত্ত্বাবধান করা, যাতে তা সংশোধিত ও কল্যাণকর হয়। বলা হয়, ‘সাওওয়াসাহুল ক্বাওম’ অর্থাৎ কোন জাতি কাউকে তাদের শাসক বানিয়েছে, যাতে সে তাদের পরিচালনা করে (লিসানুল ‘আরব, ৬/১০৭; আল-ক্বামুসুল মুহীত্ব, পৃ. ৭১০)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

كَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ....

‘বানী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতকে শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪২)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, (تَسُوْسُهُمْ الأَنْبِيَاءُ- নবীগণ তাদের পরিচালনা করতেন) অর্থাৎ তারা তাদের বিষয়াবলি তত্ত্বাবধান করতেন, যেমন শাসক ও প্রশাসকরা প্রজাদের পরিচালনা করে। আর ‘সিয়াসাহ’ হল- কোন বিষয়কে তার কল্যাণ অনুযায়ী পরিচালনা করা’ (শারহু ছহীহিল মুসলিম, ১৮৪২ নং হাদীছের ব্যাখ্যা দ্র.)। ইবনু নাজীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সিয়াসাহ হল- শাসকের এমন কোন পদক্ষেপ, যা সে মানুষের কল্যাণে উপযুক্ত মনে করে- যদিও সে কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন দলীল না থাকে’ (আল-বাহরুর রায়িক্ব, ৫/১১ পৃ.)।

প্রখ্যাত মনীষী ইবনু খালদূন (রাহিমাহুল্লাহ) শারঈ রাজনীতিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, ‘মানুষকে তাদের পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালনা করা। কারণ দুনিয়ার সব অবস্থা শেষ পর্যন্ত আখিরাতের কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এটি মূলত শরী‘আত প্রণেতার প্রতিনিধিত্ব করে দ্বীনকে সংরক্ষণ করা এবং এর মাধ্যমে দুনিয়াকে পরিচালনা করা’ (মুক্বাদ্দিমাহ, ইবনে খালদূন, পৃ. ৯৭)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আবূ আল-ওফা ইবনু আক্বীল (হাম্বালী) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘সিয়াসাহ (রাজনীতি) হল- এমন কার্য বা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ কল্যাণের অধিক নিকটবর্তী হয় এবং অনিষ্ট থেকে অধিক দূরে থাকে- যতক্ষণ তা শরী‘আতের পরিপন্থী না হয়’। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি কখনোই শরী‘আতের বাণীর বিরোধী হতে পারে না, বরং তা শরী‘আত যা নিয়ে এসেছে তারই অনুগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শরী‘আতেরই একটি অংশ। আপনাদের পরিভাষা অনুসারে আমরা একে ‘সিয়াসাহ’ বললেও প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ন্যায়বিচার’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস- সয়াসাহ আশ-শারঈয়্যাহ, পৃ. ১৩-১৫)। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ রাজনীতির মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। এমনকি ইমাম আবূ হামিদ আল-গাযযালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দুনিয়া হল- আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। দুনিয়া ব্যতীত দ্বীন পূর্ণতা লাভ করে না। রাজত্ব (রাষ্ট্রক্ষমতা) ও দ্বীন- এ দু’টি যমজ। দ্বীন হল মূলভিত্তি আর সুলতান (রাষ্ট্রক্ষমতা) হল প্রহরী। যার কোন ভিত্তি নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর যার কোন প্রহরী নেই তা নষ্ট হয়ে যায়’ (ইহইয়া উলূমুদ্দীন, ১/১৭ পৃ.)। এছাড়াও তাঁরা ইমামত বা খিলাফতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, তা হল- শরী‘আতের প্রবর্তক রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ প্রতিনিধিত্ব, যার দায়িত্ব হল দ্বীনের হিফাযত করা এবং তার মাধ্যমেই দুনিয়ার রাজনীতি পরিচালনা করা (আন-নাযরিয়্যাত আস-সিয়াসিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১২৫)। অতএব, খিলাফত মানে হল দ্বীনের হিফাযত এবং তার ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনা। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, রাজনীতি ইসলামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, ইসলামে রাজনীতি ও দ্বীনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

এই বিবেচনা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে- এবং তাদের পরিভাষা অনুযায়ী বলতে গেলে- নবী (ﷺ) তাঁর শাসনকার্যে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক নীতিনির্ভর রাজনীতি প্রয়োগ করতেন। কারণ তিনি এমন এক শরী‘আত নিয়ে আগমন করেছিলেন, যা কল্যাণ সাধন ও তা পরিপূর্ণ করার জন্য এবং অকল্যাণ দূর করা ও তা হ্রাস করার জন্য কার্যকর। এভাবেই তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ আমল করেছেন (ইবনুল ক্বাইয়্যিম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ১৭-২০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৮১৬৭৩)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৭): আমি বসবাসের জন্য একটি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করেছি এবং সেই সুবাদে ব্যাংকে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে রেখেছি। এই সঞ্চিত সম্পদে কি যাকাত আবশ্যক হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতে সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন দু‘আ পড়ার সময় যদি মাখরাজ বা তাজবীদে ভুল হয়, তাহলে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : তাবলীগ জামা‘আতের ‘ফাযায়েলে আমল’ বইয়ে বর্ণিত আছে যে, সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত এশা ও ফজরের ছালাত একই ওযূ দ্বারা পড়েছেন (ঐ, (বাংলা), পৃ. ১৬০; (উর্দূ), পৃ. ৬৮)। উক্ত বিষয়টি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আধুনিক যুগের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত ও আরামদায়ক হওয়ায় সফর অবস্থায় ছিয়াম রাখা কষ্টকর নয়। এমতাবস্থায় ছিয়ামের বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১): সারা বছর যোহরের ছালাতের সময় হয় ১১:৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১২:১৮ মিনিটের মধ্যে। কিন্তু অধিকাংশ আহলেহাদীছ মসজিদে ১২:৫০ বা ১টায় আযান দিয়ে ছালাত আদায় করা হয়। প্রশ্ন হল- এই সময়ে ছালাত আদায় করলে আওয়াল ওয়াক্ত থাকবে কি বা আওয়াল ওয়াক্তের ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : দর্শনীয় কোন স্থানের ছবি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তোলা অথবা সেই প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে নিজের ছবি তোলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রামাযানের ক্বাযা ছিয়াম দ্রুত আদায় করতে হবে, না-কি বিলম্বে আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : মাহরাম ছাড়া নারীর সফর করা হারাম। প্রশ্ন হল- শরী‘আতের দৃষ্টিতে মাহরামের শর্তাবলী কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : অনেককে দেখা যায় মসজিদে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় না করে ঘরে ৩/৪ জন মিলে জামা‘আতে ছালাত আদায় করে। এটা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : মসজিদে একই কাতারের বাম পাশ অপেক্ষা ডান পাশে বসা বা ছালাত আদায় করার মধ্যে বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দুই সিজদার মাঝে কি রাফউল ইয়াদায়ন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমি আমার এক বন্ধুকে ব্যবসা করার জন্য ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছি। শর্ত হল- এই টাকা দিয়ে সে ব্যবসা করবে, তার ব্যবসার মোট মূলধন ১০ লক্ষ এবং আমার ৫ লক্ষ মোট ১৫ লক্ষ টাকা। শর্ত হল- ব্যবসায়ে মাসে যা ইনকাম হবে তার তিন ভাগের দুই ভাগ পরিচালনা খরচ অর্থাৎ কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি বাবদ কর্তন হবে। বাকি তিন ভাগের এক ভাগ ১৫ লক্ষ টাকার আনুপাতিক হারে আমার ৫ লক্ষ টাকার মুনাফা পাব। যেমন মাসের লাভ হল ৪৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিচালনা খাত অর্থাৎ বেতন, ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি বাবদ। বাকি ১৫০০০ টাকার ভাগ হবে, তাহলে আমি পাব ৫০০০ টাকা। যেহেতু আমার মূলধন ৫ লক্ষ আর সে পাবে ১০০০০। যেহেতু তার মূলধন ১০ লক্ষ, প্রশ্ন হল- উক্ত পদ্ধতিতে ব্যবসা করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ