রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন
উত্তর : ‘সিয়াসাহ’ (السِيَاسَة) অর্থ হল- কোন কিছুকে এমনভাবে তত্ত্বাবধান করা, যাতে তা সংশোধিত ও কল্যাণকর হয়। বলা হয়, ‘সাওওয়াসাহুল ক্বাওম’ অর্থাৎ কোন জাতি কাউকে তাদের শাসক বানিয়েছে, যাতে সে তাদের পরিচালনা করে (লিসানুল ‘আরব, ৬/১০৭; আল-ক্বামুসুল মুহীত্ব, পৃ. ৭১০)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

كَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ....

‘বানী ইসরাঈলের নবীগণ তাঁদের উম্মাতকে শাসন করতেন। যখন কোন একজন নবী মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪২)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, (تَسُوْسُهُمْ الأَنْبِيَاءُ- নবীগণ তাদের পরিচালনা করতেন) অর্থাৎ তারা তাদের বিষয়াবলি তত্ত্বাবধান করতেন, যেমন শাসক ও প্রশাসকরা প্রজাদের পরিচালনা করে। আর ‘সিয়াসাহ’ হল- কোন বিষয়কে তার কল্যাণ অনুযায়ী পরিচালনা করা’ (শারহু ছহীহিল মুসলিম, ১৮৪২ নং হাদীছের ব্যাখ্যা দ্র.)। ইবনু নাজীম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সিয়াসাহ হল- শাসকের এমন কোন পদক্ষেপ, যা সে মানুষের কল্যাণে উপযুক্ত মনে করে- যদিও সে কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন দলীল না থাকে’ (আল-বাহরুর রায়িক্ব, ৫/১১ পৃ.)।

প্রখ্যাত মনীষী ইবনু খালদূন (রাহিমাহুল্লাহ) শারঈ রাজনীতিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, ‘মানুষকে তাদের পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণের ক্ষেত্রে শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালনা করা। কারণ দুনিয়ার সব অবস্থা শেষ পর্যন্ত আখিরাতের কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং এটি মূলত শরী‘আত প্রণেতার প্রতিনিধিত্ব করে দ্বীনকে সংরক্ষণ করা এবং এর মাধ্যমে দুনিয়াকে পরিচালনা করা’ (মুক্বাদ্দিমাহ, ইবনে খালদূন, পৃ. ৯৭)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আবূ আল-ওফা ইবনু আক্বীল (হাম্বালী) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘সিয়াসাহ (রাজনীতি) হল- এমন কার্য বা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ কল্যাণের অধিক নিকটবর্তী হয় এবং অনিষ্ট থেকে অধিক দূরে থাকে- যতক্ষণ তা শরী‘আতের পরিপন্থী না হয়’। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) আরও উল্লেখ করেছেন যে, ‘ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি কখনোই শরী‘আতের বাণীর বিরোধী হতে পারে না, বরং তা শরী‘আত যা নিয়ে এসেছে তারই অনুগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শরী‘আতেরই একটি অংশ। আপনাদের পরিভাষা অনুসারে আমরা একে ‘সিয়াসাহ’ বললেও প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ন্যায়বিচার’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস- সয়াসাহ আশ-শারঈয়্যাহ, পৃ. ১৩-১৫)। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ রাজনীতির মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। এমনকি ইমাম আবূ হামিদ আল-গাযযালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘নিশ্চয় দুনিয়া হল- আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। দুনিয়া ব্যতীত দ্বীন পূর্ণতা লাভ করে না। রাজত্ব (রাষ্ট্রক্ষমতা) ও দ্বীন- এ দু’টি যমজ। দ্বীন হল মূলভিত্তি আর সুলতান (রাষ্ট্রক্ষমতা) হল প্রহরী। যার কোন ভিত্তি নেই তা ধ্বংসপ্রাপ্ত, আর যার কোন প্রহরী নেই তা নষ্ট হয়ে যায়’ (ইহইয়া উলূমুদ্দীন, ১/১৭ পৃ.)। এছাড়াও তাঁরা ইমামত বা খিলাফতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, তা হল- শরী‘আতের প্রবর্তক রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ প্রতিনিধিত্ব, যার দায়িত্ব হল দ্বীনের হিফাযত করা এবং তার মাধ্যমেই দুনিয়ার রাজনীতি পরিচালনা করা (আন-নাযরিয়্যাত আস-সিয়াসিয়্যাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১২৫)। অতএব, খিলাফত মানে হল দ্বীনের হিফাযত এবং তার ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনা। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, রাজনীতি ইসলামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, ইসলামে রাজনীতি ও দ্বীনের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

এই বিবেচনা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে- এবং তাদের পরিভাষা অনুযায়ী বলতে গেলে- নবী (ﷺ) তাঁর শাসনকার্যে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজ্ঞাপূর্ণ ও সঠিক নীতিনির্ভর রাজনীতি প্রয়োগ করতেন। কারণ তিনি এমন এক শরী‘আত নিয়ে আগমন করেছিলেন, যা কল্যাণ সাধন ও তা পরিপূর্ণ করার জন্য এবং অকল্যাণ দূর করা ও তা হ্রাস করার জন্য কার্যকর। এভাবেই তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীন এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ আমল করেছেন (ইবনুল ক্বাইয়্যিম, আত্ব-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ১৭-২০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৮১৬৭৩)।


প্রশ্নকারী : আনোয়ার, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : প্যান্টের সাথে সংযুক্ত মোজার উপর মাসেহ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) স্বামী যদি স্ত্রীকে পীরের মুরীদ হতে বলে এবং পীরকে সিজদা করতে বাধ্য করে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : খুৎবাহ শুনা কি ওয়াজিব? যদি ওয়াজিব হয়, তাহলে খুৎবাহ চলাকালীন ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : প্রচলিত আছে যে, বিবাহের পূর্বে হজ্জ করা উচিত। উক্ত কথার পক্ষে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ছালাত এ রুকূর সময় দৃষ্টি কোথায় থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে যায় এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখে, তাহলে ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : পালক পুত্রকে, তার পালক বাবা-মা সম্পত্তি লিখে দিতে পারবে? যদি দেয় তাহলে কি গুনাহগার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : পানির ঘাট, চলাচলের রাস্তা ও মানুষ যে স্থানের ছায়ায় আশ্রয় নেয় সেখানে পেশাব-পায়খানা করা কি লা‘নতের স্থান? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত একটা ব্যাবসা হচ্ছে, কম মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রেতার নিকট থেকে আগেই পণ্যের টাকা নিয়ে নেয়। অতঃপর ২/৩ মাস বা আরো বেশি সময়ের পর পণ্য দেয়। মানুষের প্রয়োজনীয় যত পণ্য আছে প্রায় সবই দিয়ে থাকে বিভিন্ন অফারে। যেমন ৫০%, ১০০%, কোন কোনটা ১৫০% ছাড়। যেমন : ২৫ হাজার টাকার ফ্রীজ ১২ হাজার টাকায়- ডেলিভারি দিবে ২/৩ মাস পর। এভাবে মোবাইল, মোটর সাইকেল ইত্যাদি। এই ব্যবসা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মসজিদে সুতরা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক ব্যক্তি চাকুরীরত অবস্থায় মালিককে না জানিয়ে উত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু পণ্য নিয়েছিল। লজ্জার কারণে মালিককে বলতেও পারছে না। কী পরিমাণ জিনিস নিয়েছে সেটাও জানা নেই। আনুমানিক যতটুকু ধারণা আছে তার উপর ভিত্তি করে কি টাকা দিলে হবে না-কি? এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ