বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাহ ও বিদ‘আতীদের মাঝে পার্থক্য বর্ণনায় বলেন,
(১) সুন্নাহপন্থীরা সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে মানুষের মতকে পরিহার করে, আর বিদ‘আতীরা সুন্নাতকে ছেড়ে দেয় এবং মানুষের কথাকে গ্রহণ করে।
(২) সুন্নাহপন্থীরা সর্বদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতকেই প্রাধান্য দেয়। মানুষের কথা যদি সুন্নাতের সাথে মিলে যায় তাহলে তা গ্রহণ করে আর অমিল হলে তা পরিহার করে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা সুন্নাত পালন করতে গিয়ে মানুষের রায়কেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মতটি সুন্নাতের সাথে মিলে গেলে মেনে নেয়, আর যদি না মানে তাহলে যুক্তি দিয়ে রায়কেই প্রাধান্য দেয়।
(৩) সুন্নাহপন্থীরা শারঈ কোন দ্বন্দ্বের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যায়। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা ইমামদের মতের দিকে ফিরে যেতে চায়।
(৪) সুন্নাহপন্থীরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যদি কোন আমল প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা আমল করতে কোন দ্বিধা করে না। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা এর থেকে অনেক দূরে।
(৫) সুন্নাহপন্থীরা দলীলের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া কোন লেখনী বা কোন ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করে না। বরং তাদের নিসবাত শুধু কুরআন ও সুন্নাহর দিকে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা বলে, অমুক ইমাম এটা বলেছেন, অমুককে জিজ্ঞেস করেছিলাম ইত্যাদি।
(৬) সুন্নাহপন্থীরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছ এবং সালফে ছালেহীনের পক্ষ থেকে শারঈ বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা ইমামদের রায় এবং মাযহাব অনুপাতে সহযোগিতা নিয়ে থাকে।
(৭) সুন্নাহপন্থীরা কোন সময় কাউকে গালিগালাজ করে না। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা সরাসরি মুসলিমদের কাফির, ফাসিক্ব, মুশরিক ইত্যাদি বলে গালি দেয়।
(৮) সুন্নাহপন্থীদের সম্মুখে যখনই বলা হয় ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’, তখনই তাদের অন্তরে নাড়া দেয় এবং আর অন্য কোন দিকে ঘুরেও দেখে না যে, কোন ব্যক্তি কী বলেছে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা তা করে না।
(৯) সুন্নাহপন্থীদের অনুসরণীয় আদর্শ হলেন স্বয়ং মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সোনালী যুগের ছাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীদের আদর্শ হল ইমাম, মাযহাব ইত্যাদি।
(১০) সুন্নাহপন্থীদের নিকট যখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তারা খুশি হয়। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীদের কাছে সুন্নাহ ছাড়া মানুষের মত, হেকায়াত বা কাহিনী উপস্থাপন করা হয়, তখন তারা খুশি হয়। এটা যেন ঐ আয়াতের মত, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ‘পক্ষান্তরে যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয়, তখন দেখো! তারা উল্লাস করে’ (সূরা আয-যুমার : ৪৫; (ইবনুল ক্বাইয়িম, আছ-ছাওয়াঈকুল মুরসালাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১৮০-১১৮৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (৭) : আমি যদি বর্তমানে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মোতাবেক পর্দা শুরু করি এবং পূর্ববর্তী জীবনধারার জন্য তওবা করার পর মৃত্যুবরণ করি, তাহলে আমার মৃত্যুর পর কোন নন-মাহরাম আমার হিজাব বিহীন ছবি দেখলে কবরের আযাব হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন  (৫) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে ঝাড়ফুঁক কত প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, মা, বোন দাফনের পরে কবরস্থানে যেতে পারে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মৃত ব্যক্তির নামে ইফতার মাহফিল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যে ব্যক্তির কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন তার ডায়ালেসিস করতে হয়। সে ছিয়াম রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : পোশাকে রংধনুর ছাপ থাকলে তা পরিধান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মসজিদ কে কি masque বলা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বিয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কী কী? স্বামীর আক্বীদা ছহীহ না হলে বিবাহ দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : কেউ অন্যের নামে মিথ্যা কথা প্রচার করে থাকলে ক্ষমা নেওয়ার উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : নিম্নের হাদীছটি কি ছহীহ? لَا تَقْرَأِ الحَائِضُ وَلَا الجُنُبُ مِنَ القُرْآنِ شَيْئًا ‘ঋতুবতী নারী ও জুনুবী ব্যক্তি (যার ওপর গোসল ফরয) কুরআনের কিছুই পাঠ করবে না’। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : গীবতকারীর আমল যার নামে গীবত করা হয়েছে তার আমলনামায় চলে যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মূল জামা‘আতের পর ছালাত আদায়ের সময় ইক্বামত দিয়ে শুরু করায় মসজিদের খাদিম বলেন যে, মূল জামা‘আত হয়ে গেলে পরে ইক্বামত দেয়া যাবে না। তার উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ