রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
উত্তর : ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাহ ও বিদ‘আতীদের মাঝে পার্থক্য বর্ণনায় বলেন,
(১) সুন্নাহপন্থীরা সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে মানুষের মতকে পরিহার করে, আর বিদ‘আতীরা সুন্নাতকে ছেড়ে দেয় এবং মানুষের কথাকে গ্রহণ করে।
(২) সুন্নাহপন্থীরা সর্বদা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতকেই প্রাধান্য দেয়। মানুষের কথা যদি সুন্নাতের সাথে মিলে যায় তাহলে তা গ্রহণ করে আর অমিল হলে তা পরিহার করে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা সুন্নাত পালন করতে গিয়ে মানুষের রায়কেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মতটি সুন্নাতের সাথে মিলে গেলে মেনে নেয়, আর যদি না মানে তাহলে যুক্তি দিয়ে রায়কেই প্রাধান্য দেয়।
(৩) সুন্নাহপন্থীরা শারঈ কোন দ্বন্দ্বের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যায়। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা ইমামদের মতের দিকে ফিরে যেতে চায়।
(৪) সুন্নাহপন্থীরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যদি কোন আমল প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা আমল করতে কোন দ্বিধা করে না। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা এর থেকে অনেক দূরে।
(৫) সুন্নাহপন্থীরা দলীলের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া কোন লেখনী বা কোন ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করে না। বরং তাদের নিসবাত শুধু কুরআন ও সুন্নাহর দিকে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা বলে, অমুক ইমাম এটা বলেছেন, অমুককে জিজ্ঞেস করেছিলাম ইত্যাদি।
(৬) সুন্নাহপন্থীরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীছ এবং সালফে ছালেহীনের পক্ষ থেকে শারঈ বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা ইমামদের রায় এবং মাযহাব অনুপাতে সহযোগিতা নিয়ে থাকে।
(৭) সুন্নাহপন্থীরা কোন সময় কাউকে গালিগালাজ করে না। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা সরাসরি মুসলিমদের কাফির, ফাসিক্ব, মুশরিক ইত্যাদি বলে গালি দেয়।
(৮) সুন্নাহপন্থীদের সম্মুখে যখনই বলা হয় ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’, তখনই তাদের অন্তরে নাড়া দেয় এবং আর অন্য কোন দিকে ঘুরেও দেখে না যে, কোন ব্যক্তি কী বলেছে। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীরা তা করে না।
(৯) সুন্নাহপন্থীদের অনুসরণীয় আদর্শ হলেন স্বয়ং মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সোনালী যুগের ছাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীদের আদর্শ হল ইমাম, মাযহাব ইত্যাদি।
(১০) সুন্নাহপন্থীদের নিকট যখন রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তারা খুশি হয়। পক্ষান্তরে বিদ‘আতীদের কাছে সুন্নাহ ছাড়া মানুষের মত, হেকায়াত বা কাহিনী উপস্থাপন করা হয়, তখন তারা খুশি হয়। এটা যেন ঐ আয়াতের মত, যেখানে আল্লাহ বলেছেন, ‘পক্ষান্তরে যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয়, তখন দেখো! তারা উল্লাস করে’ (সূরা আয-যুমার : ৪৫; (ইবনুল ক্বাইয়িম, আছ-ছাওয়াঈকুল মুরসালাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১৮০-১১৮৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (১২) : ইসলামী শরী‘আতে মা দিবসের উৎসব পালন করার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দু‘আ ইউনুস খতম করা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : জামা‘আতে ছালাত ১/২ রাক‘আত ছুটে গেলে বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়বে, না-কি দুরূদ ও দু‘আ মা’ছুরাও পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোঁকা কোলা কিংবা এমন পণ্য যা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত দেশের তৈরি, অথচ তা সরকার বয়কট করতে বলে না, তা কী ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সামাজিকভাবে বর্জন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে এমন কোন বস্তু রাখা যাবে না, যা মুছল্লীকে আকৃষ্ট করে। তাই কা‘বার ছবি, নববীর ছবি, মিনারের ছবি ইত্যাদি রাখা যাবে না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মাওলানা আবদুল মতীন বিন হুসাইন প্রণীত ‘জান্নাতের দুই রাস্তা : তাকওয়া ও তওবা’ শীর্ষক বইয়ে ‘আওলিয়াগণ আল্লাহপাকের ‘শানে-মাগফেরাত’-এর তাজাল্লীগাহ’ আলোচনায় বলা হয়েছে, আল্লাহওয়ালারা আল্লাহপাকের ‘ছিফাত‘-এর মাযহার’ তথা আল্লাহপাকের গুণাবলীর প্রকাশস্থল। এই কথার ভেতরে কি শিরক আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সন্তানের নাম রাফি, রাব্বি, আবুল কাশেম, মীম, নুন, আলিফ, বাদশা রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহর কাছে মাছির ডানা সমতুল্য নয়, তাহলে আল্লাহর  শাস্তি এত কঠোর কেন? মাথায় এমন প্রশ্ন আসলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ছহীহ হাদীছের অনুসরণ করার কারণে অনেকে ‘জঙ্গী’ বলছে। এ জন্য পরিবারও চিন্তিত। তারাও চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : দোকানের ভাড়া বাবদ ভাড়াটিয়ার নিকট অনেক টাকা পাওয়া যাবে। সে তার বিভিন্ন সমস্যার কারণে দিতে পারছে না। এমতাবস্থায় যদি তাকে দোকান ছাড়তে বলা হয় এবং তাতে যদি সে কষ্ট পায়, তাহলে কি দোকানের মালিকের গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন  (৮) : শা‘বান মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করা যাবে কি? রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সেই দিন দুই রাক‘আত ছালাত পড়বে, প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাছ একশ’বার পড়বে, সালাম ফিরানোর পর একশ’বার নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পড়বে আল্লাহ‌ তার দ্বীন ও দুনিয়ার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন’ মর্মে প্রচলিত হাদীছটি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ঈসা (আলাইহিস সালাম) যার ইমামতিতে ছালাত আদায় করবেন তিনিই কী ইমাম মাহাদী? ছহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদীছে তাকে ‘মুসলিমদের নেতা’ বলা হয়েছে, ‘মাহাদী’ বলা হয়নি। তার নাম কি কোন হাদীছে এসেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ