উত্তর : ইসলামে মন্দ বা ক্ষতিকর খাদ্য বা পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এমন পণ্যের বেচাকেনা নিষিদ্ধ হতে পারে; যা মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হয়। এটি উল্লিখিত পণ্যগুলোর ওপর প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সেগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বাস্থ্যহানি হয় এবং যদি এর বিক্রি করা এক ধরনের সমাজে ক্ষতি বা হুমকি সৃষ্টি করে। ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমাহর মতে, ‘যেকোন পণ্য বিক্রয় তখনই নিষিদ্ধ হবে, যদি সেটি সরাসরি হারাম অথবা মানুষের শরীরের জন্য প্রমাণিতভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর হয়। অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হলে বিক্রি জায়েয, তবে নৈতিকতা বজায় রেখে বিক্রি করা উচিত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমাহ, ১৩/৩৪-৩৫ পৃ)। ইমাম ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘খাবারের বিক্রি জায়েয যতক্ষণ না তা নাপাক বা হারাম। অতিরিক্ত ব্যবহার যদি ক্ষতির কারণ হয়, তবে বিক্রেতার দায়িত্ব এটি গ্রাহকদের সতর্ক করা’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনি উছাইমীন, ২৮/১০০-১০২ পৃ.)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নেকি ও আল্লাহভীতিতে একে অপরকে সাহায্য কর, কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সাহায্য করো না’ (সূরা আল-মায়িদা: ২)। এ আয়াতের ভিত্তিতে, যদি পণ্য ক্ষতিকর বা হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বিক্রি করা নিষিদ্ধ। ইসলামিক স্কলারদের মতে, ‘সরাসরি ক্ষতিকারক প্রমাণিত না হলে এমন পণ্য বিক্রি করা বৈধ’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং- ৮৫৬০২)। মূলত এই পণ্যগুলোর বিক্রি ইসলামে বৈধ। তবে ব্যবসায়ীদের উচিত নৈতিকতা রক্ষা করা এবং পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করা। আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞানী।
প্রশ্নকারী : লুৎফাতুল ইসলাম নোবেল, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।