বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করার ব্যাপারে আলেমগণ দু’টি ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। প্রথম মত: অধিকাংশ আলেম বলেন, ইজমা‘ অনুযায়ী ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা যাবে না’। আবূ হানীফা, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আত্বা, শা‘বী, নাখঈ ও ছাওর (রাহিমাহুমুল্লাহ) একই কথা বলেছেন’ (তুহফাতুল ফুক্বাহা, ১/১৩৭; ফাৎহুল বারী লি ইবনে রজব, ৭/৩৪১; আল-মাজমূঊ লিন-নাবাবী, ৩/৪৬০ পৃ.)। ইবনুল মুনযির, ‘আত্বা ও ত্বাউস (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘অনেকেই প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু বৃদ্ধি করাকে মাকরূহ অর্থাৎ অপসন্দনীয় বলেছেন। মূলত প্রথম বৈঠক বলতে তাশাহহুদকেই বুঝানো হয়েছে। ইমাম নাখঈ, ছাওর, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আমাদের অন্যান্য সাথীরা এ কথাই বলেছেন। ইমাম শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন, যে ব্যক্তি দুই রাক‘আতের বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতুর উপর কোন কিছু বৃদ্ধি করবে তাকে দু’টি সাহু সাজদাহ করতে হবে (আল-আওসাত্ব, ৩/৩৭৯ পৃ.)।

উক্ত অভিমতের দলীল হলো, এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) থেকে এমন কোন তথ্য প্রমাণিত নয়, যা প্রমাণ করে যে তিনি এরূপ করতেন এবং তিনি উম্মতকে এ সম্পর্কে শিক্ষাও প্রদান করেননি এবং কোন ছাহাবী যে একে মুস্তাহাব বলেছেন, তাও জানা যায় না (জালাউল আফহাম লি ইবনিল ক্বাইয়িম, পৃ. ৩৬০)।

দ্বিতীয় মত হল, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব’ (আল-মাজমূঊ লিননাবাবী, ৩/৪৬০; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ১/২২৩; আল-ইনছাফ, ২/৫৬; আল-মুবদি‘, ১/৪১৩ পৃ.)। ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উভয় বৈঠকেই তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু সম্পূর্ণ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করাকে আমরা মুস্তাহাব মনে করি (আল-মুহাল্লা, ৩/৫০ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর যে ব্যক্তি কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করবে তাতেও কোন সমস্যা নেই। আর যে কোন কিছু বৃদ্ধি করবে না, তাতেও কোন সমস্যা নেই’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-১২২)।

শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কেউ যদি দরূদ পাঠ না করে, তবে তা দোষনীয় নয়। কেননা প্রথম বৈঠকে এটি পাঠ করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৪ পৃ.)। তিনি আরো বলেন, ‘সঠিক মত এটিই যে, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশার ছালাতের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ ও রাসূল (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা শরী‘আত দ্বারা অনুমোদিত। বাকি অন্যান্য দু‘আ দ্বিতীয় বৈঠকে পঠনীয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৬১-১৬৩ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আম বা সাধারণ হাদীছের আলোকে উভয় বৈঠকেই শাহাদাতাইন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর দুরূদ পাঠ করা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/৯-১৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সামিঊল, কুলপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৪২) : মহিলারা পৃথকভাবে ঈদের জামা‘আত করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জামা‘আতের ছালাতে ইমাম সাহেব জোরে তাকবীর বলা এবং মুক্তাদির নিঃশব্দে তাকবীর বলার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সম্মেলন, সমাবেশ, সভা-সমিতি, খতমে বুখারী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে দলবদ্ধ মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কেউ যঈফ হাদীছের উপর আমল করলে কি গুনাহগার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আল্লাহ যদি কারো দুই চোখ কেড়ে নেন, তবে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ইবলীশ শয়তানের আর কোন নাম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বিভিন্ন মুসলিম দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন পরিচালিত হয় এবং শাসক নির্বাচন করা হয়। উক্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? এ ব্যাপারে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’-এটি কি ছহীহ হাদীছ? দলীল জানালে উপকৃত হব। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মানুষের মৃত্যুর পর তাকে সামনে রেখে বলা হয় যে, মানুষটি ভাল ছিল, না-কি খারাপ ছিল? প্রচলিত পদ্ধতি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আল্লাহর পথে দাওয়াতের হুকুম ও ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জোরপূর্বক ধর্ষণ করলে এক মহিলা গর্ভবতী হয় এবং অবৈধ বাচ্চা হয়, যার বাবার পরিচয় নেই। এদিকে অবৈধ সন্তান নাকি ইসলাম বিদ্বেষী হয়। আবার বাচ্চাকে হত্যা করাও যাবে না। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : এমপিও ভুক্ত বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে ১০% করে টাকা কেটে রাখা হয় এবং চাকুরি শেষে সর্বশেষ বেতন স্কেলের ১০০ মাসের সমপরিমাণ টাকা দেয়া হয়। উক্ত টাকা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ