বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করার ব্যাপারে আলেমগণ দু’টি ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। প্রথম মত: অধিকাংশ আলেম বলেন, ইজমা‘ অনুযায়ী ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা যাবে না’। আবূ হানীফা, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আত্বা, শা‘বী, নাখঈ ও ছাওর (রাহিমাহুমুল্লাহ) একই কথা বলেছেন’ (তুহফাতুল ফুক্বাহা, ১/১৩৭; ফাৎহুল বারী লি ইবনে রজব, ৭/৩৪১; আল-মাজমূঊ লিন-নাবাবী, ৩/৪৬০ পৃ.)। ইবনুল মুনযির, ‘আত্বা ও ত্বাউস (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘অনেকেই প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু বৃদ্ধি করাকে মাকরূহ অর্থাৎ অপসন্দনীয় বলেছেন। মূলত প্রথম বৈঠক বলতে তাশাহহুদকেই বুঝানো হয়েছে। ইমাম নাখঈ, ছাওর, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আমাদের অন্যান্য সাথীরা এ কথাই বলেছেন। ইমাম শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন, যে ব্যক্তি দুই রাক‘আতের বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতুর উপর কোন কিছু বৃদ্ধি করবে তাকে দু’টি সাহু সাজদাহ করতে হবে (আল-আওসাত্ব, ৩/৩৭৯ পৃ.)।

উক্ত অভিমতের দলীল হলো, এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) থেকে এমন কোন তথ্য প্রমাণিত নয়, যা প্রমাণ করে যে তিনি এরূপ করতেন এবং তিনি উম্মতকে এ সম্পর্কে শিক্ষাও প্রদান করেননি এবং কোন ছাহাবী যে একে মুস্তাহাব বলেছেন, তাও জানা যায় না (জালাউল আফহাম লি ইবনিল ক্বাইয়িম, পৃ. ৩৬০)।

দ্বিতীয় মত হল, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব’ (আল-মাজমূঊ লিননাবাবী, ৩/৪৬০; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ১/২২৩; আল-ইনছাফ, ২/৫৬; আল-মুবদি‘, ১/৪১৩ পৃ.)। ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উভয় বৈঠকেই তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু সম্পূর্ণ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করাকে আমরা মুস্তাহাব মনে করি (আল-মুহাল্লা, ৩/৫০ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর যে ব্যক্তি কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করবে তাতেও কোন সমস্যা নেই। আর যে কোন কিছু বৃদ্ধি করবে না, তাতেও কোন সমস্যা নেই’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-১২২)।

শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কেউ যদি দরূদ পাঠ না করে, তবে তা দোষনীয় নয়। কেননা প্রথম বৈঠকে এটি পাঠ করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৪ পৃ.)। তিনি আরো বলেন, ‘সঠিক মত এটিই যে, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশার ছালাতের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ ও রাসূল (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা শরী‘আত দ্বারা অনুমোদিত। বাকি অন্যান্য দু‘আ দ্বিতীয় বৈঠকে পঠনীয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৬১-১৬৩ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আম বা সাধারণ হাদীছের আলোকে উভয় বৈঠকেই শাহাদাতাইন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর দুরূদ পাঠ করা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/৯-১৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সামিঊল, কুলপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১৪) : খুলা ত্বালাক্বের কোন ইদ্দত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩): পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য জাদু, তন্ত্রমন্ত্র ও বশীকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কুরআনের হাফিয ১০/৭০ জনের জন্য সুপারিশ করবে এ মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আমাদের এলাকায় অনেকেই ফজর ছালাতের পর ১৯ বার ‘বিসমিল্লা-হ’ পাঠ করে থাকে। এটা কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : আমি একজন দোকানদার। বিক্রিত পণ্যগুলোর গায়ে অনেকসময় মানুষের ছবি থাকে। প্রশ্ন হল- এই ছবিযুক্ত পণ্য বিক্রি করা যাবে কি, যদিও সেই পণ্য হালাল এবং উক্ত দোকানে কি ছালাত আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জনৈক খত্বীব বলেছেন, যুবতী মেয়ে রেখে হজ্জে গেলে হজ্জ কবুল হবে না। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : কোন ব্যক্তি যদি রামাযানের রাত্রিতে স্ত্রী সহবাস করে ঘুমিয়ে যায় এবং অপবিত্র অবস্থায় সাহারী খেয়ে ছিয়াম রাখে, তাহলে ছিয়াম শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ‘আরাফার ময়দানে হাজ্জীগণ ছালাত ক্বছর করবে, না-কি পুরো ছালাত আদায় করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হিজড়ারা জিনের সন্তান। এ দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত কোন অমুসলিম জিম্মিকে হত্যা করার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে ঋণদাতা যদি তাকে পাফ করে দেয় তাহলে তার ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ