রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করার ব্যাপারে আলেমগণ দু’টি ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। প্রথম মত: অধিকাংশ আলেম বলেন, ইজমা‘ অনুযায়ী ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা যাবে না’। আবূ হানীফা, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আত্বা, শা‘বী, নাখঈ ও ছাওর (রাহিমাহুমুল্লাহ) একই কথা বলেছেন’ (তুহফাতুল ফুক্বাহা, ১/১৩৭; ফাৎহুল বারী লি ইবনে রজব, ৭/৩৪১; আল-মাজমূঊ লিন-নাবাবী, ৩/৪৬০ পৃ.)। ইবনুল মুনযির, ‘আত্বা ও ত্বাউস (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেন, ‘অনেকেই প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কোন কিছু বৃদ্ধি করাকে মাকরূহ অর্থাৎ অপসন্দনীয় বলেছেন। মূলত প্রথম বৈঠক বলতে তাশাহহুদকেই বুঝানো হয়েছে। ইমাম নাখঈ, ছাওর, আহমাদ, ইসহাক্ব এবং আমাদের অন্যান্য সাথীরা এ কথাই বলেছেন। ইমাম শা‘বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন, যে ব্যক্তি দুই রাক‘আতের বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতুর উপর কোন কিছু বৃদ্ধি করবে তাকে দু’টি সাহু সাজদাহ করতে হবে (আল-আওসাত্ব, ৩/৩৭৯ পৃ.)।

উক্ত অভিমতের দলীল হলো, এ সম্পর্কে নবী (ﷺ) থেকে এমন কোন তথ্য প্রমাণিত নয়, যা প্রমাণ করে যে তিনি এরূপ করতেন এবং তিনি উম্মতকে এ সম্পর্কে শিক্ষাও প্রদান করেননি এবং কোন ছাহাবী যে একে মুস্তাহাব বলেছেন, তাও জানা যায় না (জালাউল আফহাম লি ইবনিল ক্বাইয়িম, পৃ. ৩৬০)।

দ্বিতীয় মত হল, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব’ (আল-মাজমূঊ লিননাবাবী, ৩/৪৬০; রাওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ১/২২৩; আল-ইনছাফ, ২/৫৬; আল-মুবদি‘, ১/৪১৩ পৃ.)। ইমাম ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উভয় বৈঠকেই তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু সম্পূর্ণ করার পর রাসূল (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ করাকে আমরা মুস্তাহাব মনে করি (আল-মুহাল্লা, ৩/৫০ পৃ.)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর যে ব্যক্তি কোন কিছু অতিরিক্ত বৃদ্ধি করবে তাতেও কোন সমস্যা নেই। আর যে কোন কিছু বৃদ্ধি করবে না, তাতেও কোন সমস্যা নেই’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-১২২)।

শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর কেউ যদি দরূদ পাঠ না করে, তবে তা দোষনীয় নয়। কেননা প্রথম বৈঠকে এটি পাঠ করা মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৪ পৃ.)। তিনি আরো বলেন, ‘সঠিক মত এটিই যে, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশার ছালাতের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ ও রাসূল (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা শরী‘আত দ্বারা অনুমোদিত। বাকি অন্যান্য দু‘আ দ্বিতীয় বৈঠকে পঠনীয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১১/১৬১-১৬৩ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আম বা সাধারণ হাদীছের আলোকে উভয় বৈঠকেই শাহাদাতাইন অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর দুরূদ পাঠ করা সুন্নাত’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/৯-১৩ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : সামিঊল, কুলপাড়া, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৩০) : হাদীছে ‘উসফুর’ (কুসুম)-এ রঞ্জিত কাপড় দ্বারা উদ্দেশ্য কী? সবুজ অথবা ধূসরাভ হলুদ রঙের পোশাক কি পরা যাবে, না-কি এগুলো পরা মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রমাণ আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মাগরিবের আযানের পর সুন্নাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : মেয়েদের ক্ষেত্রে আপন দাদার আপন ভাই ও ছেলেদেরে ক্ষেত্রে আপন দাদার আপন বোন কি মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : যার চরিত্র যেমন, তার জীবনসঙ্গী বা স্ত্রী তেমন হবে। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : রাসূল (ﷺ) তাঁর মায়ের কবরের পার্শ্বে গিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করলে আল্লাহ তাকে জীবিত করে দেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-এর উপরে ঈমান আনেন মর্মে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত হাদীছ কি ছহীহ? অনুরূপভাবে নবীজীর ‘পিতা-মাতা’ উভয়ের ঈমান আনার যে বর্ণনা প্রচলিত আছে, সেগুলো ছহীহ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে রুকূ থেকে উঠে দুই হাত উত্তোলন করার পর হাত ছেড়ে দিতে হবে, না-কি আবার বুকে হাত বাঁধতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন ইবাদতেই মন বসে না। এখন করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক ব্যক্তি বিয়ের পর মেয়েকে গর্ভবতী অবস্থায় পেয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : যদি কোন মুসলিম বলে, এটা কুরআনে বলা হয়েছে, অথচ সেটা কুরআনে বলা হয়নি, তাহলে সে কি মুসলিম থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে সেই টাকা দিয়ে ইফতারী খাওয়ানো এবং কাউকে গিফট দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ