রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
উত্তর : শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলোকে একজন মুহাদ্দিছও ছহীহ বলেননি। বরং বিদ্বানগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, হাদীছগুলো মিথ্যা ও তৈরিকৃত এবং সেগুলো কোন নির্ভরযোগ্য হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৪/৩২৫-৩২৭ পৃ.)। মুহাদ্দিছগণ‌‌‌ বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত একটি হাদীছও ছহীহ নয় বরং সবগুলোই জাল, অত্যধিক দুর্বল ও বানোয়াট’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৭১৭০)। ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে হাদীছটি জাল ও বানোয়াট’ (আল-মাওযু‘আত ২/১১, ১/২৮৩ পৃ.)। ইমাম সাখাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলো খুবই দুর্বল, ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ’ (আল-আযওয়াবাতুল মুরজিয়াহ, ৩/৯৬৮ পৃ.)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ﷺ)-এর পিতা-মাতার ঈমান নিয়ে আসা বিষয়ক হাদীছগুলো জাল ও বানোয়াট এবং এই আক্বীদা কুরআনের মূল ভাবধারার বিপরীত’ (আত-তাযকিরাতু বি আহ্ওয়ালিল মাওতা ওয়াল আখিরাহ, পৃ. ১৪০-১৪১)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছটি জাল ও বানোয়াট’ (আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমূ‘আহ ফিল আহাদিছিল মাওযূ‘আহ, পৃ. ৩২২)।

দ্বিতীয়তঃ এটি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ্র বিরোধী। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তাওবাহ্‌ তাদের জন্য নয় যারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, ‘আমি এখন তাওবাহ্‌ করছি’ এবং তাদের জন্যও নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়। এরাই তারা যাদের জন্য আমি কষ্টদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি’ (সূরা আন-নিসা : ১৮)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, فَبَيَّنَ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ لا تَوْبَةَ لِمَنْ مَاتَ كَافِرًا ‘সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে বলে দিলেন যে, নিশ্চয় যে কাফির অবস্থায় মারা যায় তার জন্য তওবাহ্ নেই (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৪/৩২৫-৩২৭ পৃ.)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার পিতা কোথায় আছেন (জান্নাতে না জাহান্নামে)? রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘জাহান্নামে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যখন চলে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন, ‏ إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ ‘আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৩, ৩৮৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৭১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৯২, ১৩৮৩৪)। তাই এ সমস্ত জাল ও বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করা যাবে না।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ মাযহার, বগুড়া।





প্রশ্ন (১৭) : ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে? কেউ কেউ বলে যে, ‘বস্ত্র পরিধান করেই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিয়ামতের দিন উঠবেন’, একথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ইবাদতের মধ্যে বিদ‘আত প্রবেশ করলে সম্পূর্ণ আমল কি বাতিল হয়ে যাবে? না-কি যে অংশে বিদ‘আত প্রবেশ করেছে সেটুকু বাতিল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সকল কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার সাথে সাথে দরুদে ইবরাহীম ছওয়াবের আশায় পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মসজিদের মধ্যে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জন্ম হওয়ার দুই দিন পরে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযার ছালাতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : তাহাজ্জুদ বা তারাবীহর মত নফল ছালাতে কুরআন দেখে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টিকটিকির লালা কি নাপাক? উক্ত লালা কোন কাপড়ে লেগে গেলে তা-কি নাপাক হয়ে যায় এবং নাপাক কাপড় পরে অন্য কোন নাপাক কাপড় ধরলে কি ঐ কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ তাওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। সে যদি অতীতে কাউকে পাপ কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে এখনো কি সেই পাপের সমান ভাগীদার হবে? যাকে পাপ কাজে সহযোগিতা করেছে, সে তাকেও ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু সে ফিরে আসতে চাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রাফ‘ঊল ইয়াদায়েন করার সঠিক নিয়ম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ঋণ দেয়ার সঠিক পদ্ধতি কী? ঋণ দেয়ার সময় যদি কেউ কাউকে সাক্ষী না রাখে, তাহলে কি সে গুনাহগার হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : দাড়ি রাখা সুন্নাত না ওয়াজিব? এটি না রাখার পরিণতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি এক ছাত্রকে মসজিদের ভিতর গণিত ও পদার্থ পড়ায়। প্রশ্ন হল, মসজিদের ভিতরে এই বিষয়গুলো পড়ানো কি মসজিদের আদবের খেলাপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ