শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
উত্তর : শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলোকে একজন মুহাদ্দিছও ছহীহ বলেননি। বরং বিদ্বানগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, হাদীছগুলো মিথ্যা ও তৈরিকৃত এবং সেগুলো কোন নির্ভরযোগ্য হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়নি (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৪/৩২৫-৩২৭ পৃ.)। মুহাদ্দিছগণ‌‌‌ বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত একটি হাদীছও ছহীহ নয় বরং সবগুলোই জাল, অত্যধিক দুর্বল ও বানোয়াট’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৪৭১৭০)। ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে হাদীছটি জাল ও বানোয়াট’ (আল-মাওযু‘আত ২/১১, ১/২৮৩ পৃ.)। ইমাম সাখাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলো খুবই দুর্বল, ভিত্তিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ’ (আল-আযওয়াবাতুল মুরজিয়াহ, ৩/৯৬৮ পৃ.)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ﷺ)-এর পিতা-মাতার ঈমান নিয়ে আসা বিষয়ক হাদীছগুলো জাল ও বানোয়াট এবং এই আক্বীদা কুরআনের মূল ভাবধারার বিপরীত’ (আত-তাযকিরাতু বি আহ্ওয়ালিল মাওতা ওয়াল আখিরাহ, পৃ. ১৪০-১৪১)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছটি জাল ও বানোয়াট’ (আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমূ‘আহ ফিল আহাদিছিল মাওযূ‘আহ, পৃ. ৩২২)।

দ্বিতীয়তঃ এটি কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ্র বিরোধী। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তাওবাহ্‌ তাদের জন্য নয় যারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে সে বলে, ‘আমি এখন তাওবাহ্‌ করছি’ এবং তাদের জন্যও নয়, যাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়। এরাই তারা যাদের জন্য আমি কষ্টদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি’ (সূরা আন-নিসা : ১৮)। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, فَبَيَّنَ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ لا تَوْبَةَ لِمَنْ مَاتَ كَافِرًا ‘সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্ট করে বলে দিলেন যে, নিশ্চয় যে কাফির অবস্থায় মারা যায় তার জন্য তওবাহ্ নেই (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ৪/৩২৫-৩২৭ পৃ.)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার পিতা কোথায় আছেন (জান্নাতে না জাহান্নামে)? রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘জাহান্নামে। বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি যখন চলে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন, ‏ إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ ‘আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৩, ৩৮৮; আবূ দাঊদ, হা/৪৭১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৯২, ১৩৮৩৪)। তাই এ সমস্ত জাল ও বানোয়াট হাদীছ বর্ণনা করা যাবে না।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ মাযহার, বগুড়া।





প্রশ্ন (১৩) : নেশাজাতীয় দ্রব্য ভক্ষণকারীকে সালাম দেয়া যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): গাযওয়াতুল হিন্দ কখন সংঘটিত হবে? না-কি সেটা সংঘটিত হয়ে গিয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮): একজন তরুণী মহিলা ডাক্তার। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের নিকট এমন বিষয় ব্যাখ্যা করেন, যার কারণে তিনি এমন কিছু নড়াচড়া করে থাকেন, যা ছাত্রদের সামনে করা উচিত নয়। প্রশ্ন হল- তার দিকে তাকানোর বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আহলেহাদীছ কাকে বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কখন রসিকতা করা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : যারা ফজরের ফরয ছালাত আদায় করে না ইসলামী শরী‘আতে তাদের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন নাপাক কাপড়ের সাথে অন্য পাক কাপড় থাকলে কিংবা কাপড় থেকে নাপাকি শুকিয়ে গেলে ঐ কাপড় অন্যান্য পাক কাপড়ের সাথে একসাথে ধোয়া যাবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : যে সব হাদীছে ভারত বা হিন্দে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যাকাত বা ওশরের টাকা মাদরাসায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): হায়েযের সময়সীমা ব্যাপারে একেক হাদীছে একেক রকম বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রশ্ন হল- ঠিক কতদিন পর্যন্ত ছালাত আদায় করা যাবে না? যদিও একেক মাসে একেক সময়সীমা থাকে। কখনো ৪ দিন আবার কখনো ৭ দিন। বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ফজরের সুন্নাত ছালাত বাড়িতে পড়ার পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে কি তাহিইয়াতুল মসজিদ/দুখুলুল মসজিদের দু’রাক‘আত আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : আমরা সাধারণ জনগণ হয়ে কিভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ