উত্তর : গীবত বা পরনিন্দা করা ইসলামে হারাম। আল্লাহ বলেন, وَ لَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُکُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُکُمۡ اَنۡ یَّاۡکُلَ لَحۡمَ اَخِیۡہِ مَیۡتًا فَکَرِہۡتُمُوۡہُ ‘তোমাদের কেউ কি চায় যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? অথচ তোমরা তো একে ঘৃণা করো! (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তুমি কি জান গীবত কী? ছাহাবীরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই ভালো জানেন। তিনি বললেন, তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে অপসন্দ করে। লোকেরা বলল, যদি সত্যিই আমার ভাইয়ের মধ্যে সেই দোষ থাকে? তিনি বললেন, যদি তার মধ্যে সেই দোষ থাকে, তবে সেটাই গীবত। আর যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা অপবাদ (বুহতান)’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮৯)। যদি কেউ গীবত করে ফেলে, তাহলে তার করণীয় হলো:
১. খাঁটি অন্তরে তওবা করা। তওবা করার জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। যথা: (ক) অনুতপ্ত হওয়া বুঝতে হবে যে, এটি গুনাহ হয়েছে। (খ) ভবিষ্যতে আর গীবত না করার দৃঢ় সংকল্প করা।(গ) আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
২. যার গীবত করা হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া (যদি সম্ভব হয়)। যদি আপনি তার কাছে গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চাইতে পারেন, তাহলে সেটিই উত্তম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের (অধিকার) ওপর যুল্ম করেছে, সে যেন আজই তার কাছে ক্ষমা চায়, এমন সময় আসার আগে, যখন তার কাছে কোন দিরহাম-দীনার থাকবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। তবে সরাসরি বলার কারণে যদি সম্পর্কের ক্ষতি হয়, তাহলে সরাসরি না বলে, তার জন্য দু‘আ করা ও ভালো কথা বলা উত্তম।
৩. যদি তাকে না পাওয়া যায়, তাহলে তার জন্য দু‘আ করা, তার জন্য ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা চাওয়া, তাকে ভালোভাবে স্মরণ করা ও তার প্রশংসা করা, তার জন্য দান-ছাদাক্বাহ করা, যেন তার প্রতি করা অন্যায়ের কাফফারা হয়। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি গীবত করা ব্যক্তি জীবিত থাকে কিন্তু তার কাছে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তার ভালো দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরবে’ (রিয়াদুছ ছালিহীন)।
প্রশ্নকারী : জান্নাতুল ফেরদাঊস, পাবনা।