রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
উত্তর : একজন সৎ মহিলা যদি সাক্ষ্য দেয় যে, শিশুর দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে পাঁচবার দুধপান করিয়েছেন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। কারণ সে মহিলা যদি সৎ হয় এবং দুই বছরের মধ্যে পান করানোর কথা স্বীকার করে, তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু পাঁচবার দুধপান করানো ও দুই বছরের মধ্যে সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া অপরিহার্য (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২১/৫৬; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২/২৪০; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৪৫৬ পৃ.)। উক্ববা ইবনুল হারিছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি আবূ ইহাব ইবনু আযীয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বললেন, আমি ‘উক্ববাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) স্তন্যপান করিয়েছি। উক্ববাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, আমি জানি না আপনি আমাকে স্তন্যপান করিয়েছেন, আর (ইতোপূর্বে) আপনি আমাকে একথা জানানওনি।
অতঃপর তিনি মদীনায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এ কথার পর তুমি কীভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮, ২০৫২; নাসাঈ, হা/৩৩৩০)। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) ও ছানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, একজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা জায়েয (তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ৭০; সুবুলুস সালাম, ২/৩১৭; নাইলুল আওত্বার, ৬/৩৭৯; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৪৫৬; মাত্বালিবু আওলান নূহা, ৫/৬১২ পৃ.)।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন বাচ্চা দু’বছর বয়সের মধ্যে কোন মহিলার স্তন থেকে পাঁচবার স্তন্যপান করে, তবেই ঐ মহিলা তার দুধমাতা হিসাবে সাব্যস্ত হবে’ (ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩/১৫৯-১৬৩; মাজমূূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৪/৫৭ পৃ.)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছহীহ বুখারী, মুয়াত্তা মালিক ও আহমাদ এ পাঁচবারের কথাই বর্ণিত হয়েছে। অতএব পাঁচবারের কমে দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে না (নাইলুল আওত্বার, ৬/৩৬৭-৩৭৩; আস-সাইলুল জার্রার, পৃ. ৪৭১)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, কুরআনে এ আয়াতটি নাযিল হয়েছিল عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ অর্থাৎ ‘দশবার স্তন্যপানে হারাম সাব্যস্ত হয়’। অতঃপর তা মানসূখ বা রহিত হয়ে যায় ‘خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ’ এর দ্বারা অর্থাৎ ‘পাঁচবার পান দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়’। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৫২; নাসাঈ, হা/৩৩০৭)।


প্রশ্নকারী : আসাদুযযামান, যশোর।





প্রশ্ন (৩) : মুসলিম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক অমুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইসলামে দাড়ি রাখার প্রয়োজনীয়তা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হলে সে সূর্যকে অস্তমিত হতে দেখতে পায়। তখন সে উঠে বসে এবং তার চক্ষুদ্বয় মলতে মলতে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি ছালাত আদায় করব (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৭২)। অনেকেই উক্ত হাদীছের আলোকে বলে থাকে যে, মৃত ব্যক্তি কবরে ছালাত পড়ে। তাদের দাবি কি গ্রহণযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী রাষ্ট্রে সংবিধানের ভিত্তি কী হবে- মানব রচিত আইন, না-কি শরী‘আত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : পূর্ববর্তী কিতাবগুলো ছহীফা আকারে নাযিল হয়েছিল। এগুলো কি আল্লাহর কালাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রামাযান শব্দের অর্থ কী? রামাযানের উদ্দেশ্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অধিকাংশ মানুষ ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট গুটিয়ে নিয়ে ছালাত আদায় করে থাকে। প্রশ্ন হল- শুধু ছালাতের সময় লুঙ্গি, প্যান্ট ইত্যাদি গুটিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেউ অনিয়মিতভাবে ছালাত পড়লে তার ছাদাক্বাহর ছাওয়াব কি বিফলে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা বৃদ্ধির জন্য তাবীয-কবয করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাইয়েতকে কবর দেয়ার সময় কবরের চার পাশে চারটি খেজুরের ডাল পোঁতা হয় এবং চার কুল পড়া হয়। এর কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে দেখতে ও গোসল করতে দেয়া হয় না। বিষয়টি কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জান্নাতের হূরগণ বলবে, نَحْنُ الْخَالِدَاتُ فَلَا نَبِيْدُ وَنَحْنُ النَّاعِمَاتُ فَلَا نَبْأَسُ وَنَحْنُ الرَّاضِيَاتُ فَلَا نَسْخَطُ طُوْبَى لِمَنْ كَانَ لَنَا وَكُنَّا لَهُ ‘আমরা চিরদিন থাকব, কখনও ধ্বংস হব না। আমরা হামেশা সুখে-সানন্দে থাকব, কখনও দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পতিত হবে না। আমরা সর্বদা সন্তুষ্ট থাকব, কখনও নাখোশ হব না। সুতরাং তাকে ধন্যবাদ, যার জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি’ (তিরমিযী, হা/২৫৬৪; মিশকাত, হা/৫৬৪৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৫৪০৭, ১০/১৫০ পৃ.) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ