বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : একজন সৎ মহিলা যদি সাক্ষ্য দেয় যে, শিশুর দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে পাঁচবার দুধপান করিয়েছেন, তাহলে বিবাহ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। কারণ সে মহিলা যদি সৎ হয় এবং দুই বছরের মধ্যে পান করানোর কথা স্বীকার করে, তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। কিন্তু পাঁচবার দুধপান করানো ও দুই বছরের মধ্যে সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া অপরিহার্য (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২১/৫৬; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২/২৪০; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৪৫৬ পৃ.)। উক্ববা ইবনুল হারিছ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি আবূ ইহাব ইবনু আযীয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বললেন, আমি ‘উক্ববাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) স্তন্যপান করিয়েছি। উক্ববাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, আমি জানি না আপনি আমাকে স্তন্যপান করিয়েছেন, আর (ইতোপূর্বে) আপনি আমাকে একথা জানানওনি।
অতঃপর তিনি মদীনায় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এ কথার পর তুমি কীভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮, ২০৫২; নাসাঈ, হা/৩৩৩০)। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) ও ছানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, একজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা জায়েয (তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ৭০; সুবুলুস সালাম, ২/৩১৭; নাইলুল আওত্বার, ৬/৩৭৯; আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/৪৫৬; মাত্বালিবু আওলান নূহা, ৫/৬১২ পৃ.)।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন বাচ্চা দু’বছর বয়সের মধ্যে কোন মহিলার স্তন থেকে পাঁচবার স্তন্যপান করে, তবেই ঐ মহিলা তার দুধমাতা হিসাবে সাব্যস্ত হবে’ (ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩/১৫৯-১৬৩; মাজমূূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ৩৪/৫৭ পৃ.)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছহীহ বুখারী, মুয়াত্তা মালিক ও আহমাদ এ পাঁচবারের কথাই বর্ণিত হয়েছে। অতএব পাঁচবারের কমে দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে না (নাইলুল আওত্বার, ৬/৩৬৭-৩৭৩; আস-সাইলুল জার্রার, পৃ. ৪৭১)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, কুরআনে এ আয়াতটি নাযিল হয়েছিল عَشْرُ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ অর্থাৎ ‘দশবার স্তন্যপানে হারাম সাব্যস্ত হয়’। অতঃপর তা মানসূখ বা রহিত হয়ে যায় ‘خَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ’ এর দ্বারা অর্থাৎ ‘পাঁচবার পান দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হয়’। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন অথচ ঐ আয়াতটি কুরআনের আয়াত হিসাবে তিলাওয়াত করা হত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৫২; নাসাঈ, হা/৩৩০৭)।


প্রশ্নকারী : আসাদুযযামান, যশোর।





প্রশ্ন (৩৪) : মেয়েরা লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কাগজ নকল করে কোনো দেশের ভিসা করে টাকা উপার্জন করলে, সেই টাকা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছালাতে সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি সন্দেহ হয় একটা সিজদা হয়েছে না-কি দু’টি সিজদা হয়েছে? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : সানস্ক্রিন ক্রীম সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং এতে ত্বক ফর্সা হওয়ার লেয়ার থাকে। পুরুষের জন্য এ ধরনের ক্রীম ব্যবহার করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : মানুষ বিপদে পতিত হলে হতাশা প্রকাশ করে চিন্তিত হয়ে পড়ে। অনেকেই অসন্তুষ্টি প্রকাশও করে। প্রশ্ন হল- বিপদে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রুক্বিয়া বা ঝাড়ফুঁক করে টাকা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : একইসাথে টয়লেট ও গোসল খানা। সে ক্ষেত্রে টয়লেটের ভিতরে বসে ওযূ করলে বসা অবস্থায় ওযূর দু‘আ সমূহ পাঠ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামী অর্থনীতির ভিত্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : দেওবন্দী মানহাজের লোকেরা বলে থাকে যে, চার ইমামের প্রত্যেকেই ২০ রাক‘আত তারাবীহ আদায় করেছেন এবং অন্যদেরকে পড়তে বলেছেন। প্রশ্ন হল- তাদের দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা গেলে করণীয় কী? তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি আছে, ঐ সম্পত্তি থেকে অন্যান্য ওয়ারিছগণ দিতে নারাজ। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মীমাংসামূলক ছালাতের  বিশুদ্ধ আাছে কি? সেটা হচ্ছে: দুই রাক‘আত ছালাত পড়া। প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া এবং সাতবার ‘সম্ভবত আল্লাহ তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা আছে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছই করতে সক্ষম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ আয়াতটি পড়া। ছালাত শেষ করার পর এই দু‘আ করা, ‘হে আল্লাহ! অমুকের ছেলে অমুকের (স্বামীর নাম) অন্তর অমুকের মেয়ে অমুকের (স্ত্রীর নাম) উপর কোমল করে দিন; যেভাবে আপনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে কোমল করে দিয়েছেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : অফিসে কাজ করার সময় বিনা-অনুমতিতে নিজের কাজে ব্যস্ত থাকা বা সময় অপচয় করার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ