রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
উত্তর : আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যাদের জন্য ছিয়াম রাখা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৪) উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, যাদের জন্য ছিয়াম রাখা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৩-১৮৪)। ‘এ আয়াতটি মানসূখ (রহিত) নয়, বরং আয়াতটি অতিশয় বৃদ্ধ নর ও নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা ছিয়াম পালনে অক্ষম। তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাওয়াবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৫০৫; নাসাঈ, হা/২৩১৭)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অতিশয় বৃদ্ধ নর ও নারীর জন্য ছিয়াম পালন যদি কঠিন ও কষ্টসাধ্য হয় তবে তাঁরা ছিয়াম পালন না করে প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াবেন। আর তাঁরা যদি মিসকীন খাওয়াতেও অক্ষম হন, তাহলে তাঁদের উপর কোন কিছুই বর্তাবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮৬)। আর যে রোগীর আরোগ্য লাভের আশা করা যায় না, সেও ছিয়াম ভঙ্গ করবে এবং প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীনকে খাওয়াবে। কারণ সে রোগীও বৃদ্ধ লোকের পর্যায়ভুক্ত’ (আল-মুগনী, ৪/৩৯৬ পৃ.)।

শায়খ ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাদের জানা উচিত যে, রোগী দুই প্রকার। যথা : (ক) এমন রোগী, যার রোগমুক্তির আশা করা যায়। যেমন, সাময়িক রোগ যা থেকে আরোগ্য লাভের আশা করা যায়। এ শ্রেণীর রোগীর হুকুম হল যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তবে তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৪)। এ শ্রেণীর রোগী সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করতে থাকবে। এরপর সুস্থ হয়ে ছিয়াম পালন করবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার আগেই সে মারা যায়, তবে তার উপর কোন কিছু বর্তাবে না। অর্থাৎ তার পক্ষ থেকে ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তার উপর অন্য দিনগুলোতে ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করা ফরয করেছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ পাওয়ার আগেই সে মারা গেছে। (খ) এমন রোগী যার রোগ স্থায়ী। যেমন ক্যান্সার, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিকস বা এধরনের অন্যান্য স্থায়ী রোগ যা থেকে রোগীর আরোগ্য লাভের আশা করা যায় না। এ শ্রেণীর রোগী রামাযান মাসে ছিয়াম পালন বর্জন করতে পারবে এবং প্রতিদিনের ছিয়ামের বদলে একজন মিসকীন খাওয়ানো তার উপর আবশ্যক হবে। ঠিক যেমন অতিশয় বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা যারা ছিয়াম পালনে সক্ষম নয় তারা করে থাকেন- ছিয়াম না রেখে প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীন খাওয়ান। এর সপক্ষে কুরআনের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী, ‘আর যাদের জন্য ছিয়াম রাখা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৪; ফাতাওয়াউছ ছিয়াম, পৃ. ১১১)।

উল্লেখ্য যে, খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অর্থ প্রদান করলে ফিদিয়া আদায় হবে না। মিসকীনকে স্থানীয় খাদ্য দ্রব্য খাদ্য খাওয়াতে বা প্রদান করতে হবে। প্রতিদিনের ছিয়ামের পরিবর্তে স্থানীয় এলাকায় প্রচলিত খাদ্য দ্রব্যের অর্ধ ছা‘ প্রদান করতে হবে। অর্ধ ছা‘ এর পরিমাণ প্রায় দেড় কেজি। অতএব স্থানীয় খাদ্যদ্রব্য দিয়েই ফিদিয়া দিতে হবে, অর্থ দিয়ে নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর যাদের জন্য ছিয়াম রাখা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য হল এর পরিবর্তে ফিদিয়া স্বরূপ একজন মিসকীনকে খাদ্য দ্রব্য প্রদান করা’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৪)। উক্ত আয়াতে স্পষ্টভাবে খাদ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে (আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান, ৩/১৪০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৬৮৮৬)।

প্রশ্নকারী : তাহমীদ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১০) : আমি সুইডেনের প্রবাসী। রাষ্ট্র থেকে ভাতা পেয়ে থাকি। বাড়ি স্কুল ও বাজার থেকে অনেক দূরে হওয়ায় গাড়ি কিনতে হয়েছে। আমার কিছু প্রতিবেশী গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে টাকা দেয়। অথচ সুইডেনের শ্রম আইন অনুযায়ী এই কাজটি অবৈধ। আমার এখনও রেসিডেন্স পারমিট না থাকায় আমি এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারি না। প্রশ্ন হলো, আমার এই কাজটি কি ইসলামে হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ঘরের ভিতর বিছানা বিছানোর নির্দিষ্ট কোন দিক আছে কি? যেমন- পূর্ব-পশ্চিম না উত্তর-দক্ষিণ। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কিছু আতর আছে, যা অনেক দামী। প্রশ্ন হল- দামী আতর কিনলে কি তা অপচয় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুরতাদ কাকে বলে? ইসলামে মুরতাদের শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : কেউ যদি দুনিয়াবী স্বার্থের কারণে নিজ পিতা-মাতাকে অস্বীকার করে অন্য কাউকে বাবা-মা বলে স্বীকার করে তাহলে তার শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ইটভাটার মালিককে ১ লক্ষ টাকা এক বছরের জন্য প্রদান করি এই শর্তে যে, বছর শেষে আমাকে ১৯ হাজার ইট দেবে। আর ঐ সময় প্রতি হাজার ইটের মূল্য ৭ হাজার টাকা করে নিলে সেক্ষেত্রে আমাকে দিবে ১,৩৩,০০০ টাকা। কিন্তু আমি যদি তার কাছে ইট বিক্রি করে দিই, তবে সেক্ষেত্রে আমাকে দিবে ১,২০,০০০ টাকা। উক্ত টাকা আমার জন্য হালাল হবে, না-কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন, গর্ভবতী মায়ের পেটে কী আছে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। কিন্তু বর্তমানে আল্ট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে। কুরআনের উক্ত আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) :  একটি মসজিদের পশ্চিম দিকে পারিবারিক কবরস্থান আছে। কবরস্থানটি মসজিদের জমির আওতাবহির্ভূত। মসজিদের ক্বিবলার ওয়াল হতে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ ফিট দূরে বেশ কয়েকটি কবর আছে। মসজিদের ক্বিবলার ওয়াল ছাড়া সামনে আর আলাদা ভাবে কোন ওয়াল বা চলাচলের রাস্তা নেই। উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় শুদ্ধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফন করার পর কবরের পাশে আযান দেয়া হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : মৃত ব্যক্তির নামে, মসজিদে হালাকা করা অর্থাৎ দু‘আ বা যিকিরের আয়োজন করা, কোন দু‘আর মাহফিল করা বা কোন হুজুর ডেকে কুরআন খতম পড়ানো ও খাওয়ানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৬) : ঈদ মাঠে মিম্বার নিয়ে যাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ