উত্তর : মাদকদ্রব্য সেবন করা হারাম। কারণ এটি অপবিত্র এবং এতে বহু ক্ষতিকর দিক রয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য কেবল পবিত্র খাদ্য ও পানীয় বস্তুই হালাল করেছেন (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২৩/৫০ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন কুরআন, সুন্নাহ এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ দ্বারা হারাম’ (ফাতাওয়া নূর ‘আলাদ্-দারব, ১১/৩৫০ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলিমগণ বলেন, ধূমপান হারাম। আর যে ব্যক্তি ধূমপানে আক্রান্ত হয়েছে, তার উচিত মসজিদে যাওয়ার সময় মুখ পরিষ্কার করাÑ এর অপ্রীতিকর দুর্গন্ধ দূর করার জন্য এবং ছালাত আদায়কারীদের থেকে এর ক্ষতি ও কষ্ট দূর করার জন্য (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫/৩০৯ পৃ.)।
জর্দা-গুল সরাসরি তামাক থেকে তৈরি। আর তামাক বা তামাকজাত যে কোন নেশাদার দ্রব্য খাওয়া সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। রাসূল (ﷺ) বলেন, كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ، وكُلُّ خَمْرٍ حَرامٌ ‘মাদকতা আনয়নকারী প্রত্যেক বস্তুই মদ এবং প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০০৩)। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেন, مَا أسْكرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرَامٌ ‘যার বেশিতে মাদকতা আনে, তার অল্পটাও হারাম’ (নাসাঈ, হা/৫৬০৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৯৪; আহমাদ, হা/৬৫৫৮)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘পবিত্র বস্তু তাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করা হয়েছে’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ১৫৭)। এছাড়া তামাক শুধু মানুষ নয়, সকল প্রাণীর জন্যই ক্ষতিকর। ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা’র হিসাব মতে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লক্ষ লোক তামাকজনিত রোগে মারা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জর্দা দিয়ে পান খেলে মুখে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ (৯.৯ গুণ) এবং জর্দা ছাড়া শুধু চুন, সুপারি, খয়ের দিয়ে পান খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় আট গুণ (৮.৪ গুণ) বেড়ে যায়। যে কয়েকটি কারণে জর্দা খাওয়া হারাম তা নিম্নরূপ :
(ক) বিবিধ রোগের কারণ : আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর এবং নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। আর সৎকর্ম কর। নিশ্চয় আল্লাহ সুকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৯৫)। অনুরূপভাবে রাসূল (ﷺ) বলেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০,২৩৪১; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)।
(খ) অপচয় : মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ’ (সূরা বানী ইসরাঈল : ২৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘এবং খাও, পান কর ও অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পসন্দ করেন না’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ৩১)।
(গ) প্রত্যেক খাদ্যের মধ্যে দু’টি গুণের কমপক্ষে একটি অবশ্যই থাকে। গুণ দু’টি হল : (১) পুষ্টির জোগান (২) ক্ষুধা নিবারণ। কিন্তু জর্দা পুষ্টিও সরবারহ করে না, ক্ষুধাও নিবারণ করে না, যা জাহান্নামের খাদ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে। তাদেরকে উত্তপ্ত প্রস্রবণ হতে (পানি) পান করানো হবে। তাদের জন্য বিষাক্ত কণ্টক ব্যতীত কোন খাদ্য নেই। যা পুষ্টও করে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করে না’ (সূরা আল-গাশিয়াহ : ৪-৭)। শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ), শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিঃসন্দেহে তামাক জাতীয় দ্রব্য পান করা বা সেবন করা হারাম’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/১২৩-১২৭, ৬/৪০০; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৫/প্রশ্ন নং-১০০৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭০৩০৫)।
প্রশ্নকারী : হাফেয সামিউল ইসলাম, জামালপুর।