উত্তর : হঠাৎ ভুলবশত কোনো মানুষের শরীরে পা লাগলে সৌজন্য দেখানো, Sorry বলা বা দুঃখ প্রকাশ করাই যথেষ্ট হবে। কিন্তু নতমস্তক হয়ে সালাম করা বা তার পায়ে স্পর্শ করে চুম্বন করা যাবে না। এগুলো কুসংস্কার। নবী (ﷺ) বলেন, ‘আল্লাহ আমার উম্মতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃত কাজের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৫; ছহীহুল জামি‘, হা/১৮৩৬)। সেই সঙ্গে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাজে দু‘আ করা উচিত। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (ﷺ)-কে তাঁর দুই হাত তুলে দু‘আ করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর দু’আয় বলেন, ইয়া আল্লাহ্! আমি একজন মানুষই। অতএব তুমি আমাকে শাস্তি দিও না। মানুষসুলভ দুর্বলতার কারণে আমি যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি, তবে তুমি সে জন্য আমাকে শাস্তি দিও না (ছহীহ আদাবিল মুফরাদ, হা/৪৭৬)।
দ্বিতীয়তঃ অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি কুরআন কারো হাত থেকে পড়ে যায়, এর জন্য তাকে কোন ধরনের কাফ্ফারা দিতে হবে না। তার জন্য কোন ধরনের শাস্তি এর জন্য নেই। কারণ, সে ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআনুল কারীমের অবমাননা করেনি। বরং এর জন্য অনুতপ্ত হবে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ভুলবশতঃ তোমরা যা করে ফেল সে সম্পর্কে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই। কিন্তু তোমাদের অন্তর যার ইচ্ছা করে তার কথা ভিন্ন’ (সূরা আল-আহযাব : ৫)। তিনি আরো বলেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা হঠাৎ অনিচ্ছাবশতঃ কোন ভুল করে ফেলি তবে আমাদেরকে পাকড়াও করিয়েন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮৬)। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘আমার উম্মতের হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভুল, স্মরণ না থাকার কারণে ঘটে যাওয়া অন্যায় এবং জোরজবরদস্তি করে কৃত অপরাধকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে’ (ইবনু মাজাহ, হা/২০৪৫, সনদ ছহীহ)। আবার অনেককে দেখা যায়, কুরআনে সালাম করে বা কুরআনকে কপাল ও চোখে-মুখে লাগায়, চুমু খায়, বুকে জড়িয়ে ধরে। এগুলো করা উচিত নয় (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত ইবনে বায, ৯/২৮৯ পৃ. ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৩২০)।
প্রশ্নকারী : হাসান, গোপালগঞ্জ।