বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ঈমানের সাথে মৃত্যু লাভ করা ও সুন্দর পরিণতি প্রাপ্তিÑপ্রতিটি মুসলিমের সবচেয়ে বড় কামনা। এই মহান নে‘মত অর্জনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে, যেগুলো কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নির্ধারিত’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৫৯১২৭)। যেমন-
(১) সৎকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : বিশেষ করে ফরয ইবাদতসমূহ পালন করা, যেমন ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ ও যাকাত। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যদি তার কোন বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক্ব প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হল- হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তিনি কিভাবে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক্ব দেন? তিনি বললেন, তিনি সেই বান্দাকে মৃত্যুর পূর্বে সৎকাজ করার সুযোগ দান করেন’ (তিরমিযী, হা/২১৪২)

(২) নিয়মিত অধিকহারে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করা : স্বয়ং রাসূল (ﷺ) প্রতিদিন ১০০ বার করে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩০৭)। সুতরাং মৃত্যু আসার পূর্বেই তাওবাহ করতে হবে। কারণ তাওবাহ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া যায় (সূরা আত-তাহরীম : ৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০)

(৩) মৃত্যুর স্মরণ ও দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা : মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করলে দুনিয়ার মোহ কমে যায় এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বাড়ে (তিরমিযী, হা/২৩০৭; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫৮)

(৪) বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় দু‘আর মাধ্যমে উত্তম মৃত্যুর কামনা করা: আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে, اللَّهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتْ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا كَانَتْ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِيْ ‘হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দিন, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়’ (ছহীহ বুখারী হা/৫৬৭১, ৬৩৫১, ৭২৩৩; ছহীহ মুসলিম হা/২৬৮০)

(৫) গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ থেকে বিরত থাকা ও তাক্বওয়া অবলম্বন করা : কাবীরা গুনাহগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কাবীরা গুনাহ তা থেকে বিরত থাকলে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো ক্ষমা করব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব’ (সূরা আন-নিসা : ৩১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যারা ছোটো-খাটো অপরাধ ব্যতীত গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হতে বিরত থাকে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক অপরিসীম ক্ষমাশীল’ (সূরা আন-নাজম : ৩২)

(৬) মৃত্যুর সময় কালিমা পাঠের তাওফীক্ব চাওয়া : মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যার সর্বশেষ বাক্য হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩১১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২০৩৪)। এজন্য মৃত্যুর সময় কালিমার শব্দ উচ্চারণের তাওফীক্ব চাওয়া উচিত।

(৭) আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা : আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, ক্ষমাকারী ইত্যাদি। তার প্রতি সুধারণা পোষণ করা যে, তিনি অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং সৎ আমলের পুরষ্কার দিবেন। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর ইন্তিকালের তিনদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছেন, ‘আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৭৭)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, বরিশাল।





প্রশ্ন (২৯) : আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত। আমার প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে একটি ক্যাফিটেরিয়া আছে, যেখানে সরকারীভাবে শুধু ব্যাচেলর সৈনিকদের খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ খাবার অতিরিক্ত থেকে যায়। নিধার্রিত সময় শেষ হলে ঐ খাবারগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে ঐ খাবার নিয়ে এসে খেলে হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাত সঠিক হওয়ার পরেও ইমাম যদি সাহু সিজদা দেন তাহলে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কোন মুসলিম কি আহলে কিতাবকে কোন পুরস্কার কিংবা কুরবানীর গোশত হাদিয়া স্বরূপ দিতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : মহিলারা যদি তারাবীহর ছালাতে ইমামতি করে, তাহলে সরবে ক্বিরাআত পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ‘আহলেহাদীছ’ নামে কোন মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার সমস্যা সমাধান করার কোন উপায় আছে কি? অর্থাৎ আমি যখন নির্দিষ্ট কোন সূরা খুব খুশুর (মনোযোগের) সাথে পড়ি কিছুদিন গত হওয়ার পর আমি অনুভব করি যে, আমার সেই খুশু দুর্বল হয়ে গেছে। যেন আমার অন্তর অর্থ বুঝা ও অনুবাধন করার বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এটাকেই যথেষ্ট হিসাবে গ্রহণ করেছে। অনুরূপ অবস্থা অন্য দু‘আগুলো পড়ার ক্ষেত্রেও ঘটে। এর কোন সমাধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বিদেশে কাজের কারণে আমরা কয়েকজন জুমু‘আর ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারি না। এখন আমরা কি যোহরের ছালাত আদায় পারব, না-কি জুমু‘আর ছালাত আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : তাবলীগ জামাতের জনৈক ব্যক্তি বলেন, হাদীছে এসেছে, ‘সর্বপ্রথম রহমত অবতীর্ণ হয় বাইতুল্লাহ তথা কা‘বা ঘরের উপর। তারপর সেখান থেকে অন্যান্য মসজিদে তা ভাগ করা হয়’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : নাভির নিচের পশম কোন্ জায়গা থেকে কাটতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কেউ কেউ বলেন, ছাগলকে খাসি করানো যাবে না এবং এমন ছাগল কুরবানী করা যাবে না। কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : সন্তানের উপর হজ্জ ফরয হলে সেই টাকা দিয়ে পিতা-মাতাকে হজ্জে পাঠানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ইবলীশ শয়তানের আর কোন নাম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ