বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ঈমানের সাথে মৃত্যু লাভ করা ও সুন্দর পরিণতি প্রাপ্তিÑপ্রতিটি মুসলিমের সবচেয়ে বড় কামনা। এই মহান নে‘মত অর্জনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে, যেগুলো কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নির্ধারিত’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৫৯১২৭)। যেমন-
(১) সৎকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা : বিশেষ করে ফরয ইবাদতসমূহ পালন করা, যেমন ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ ও যাকাত। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা যদি তার কোন বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক্ব প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হল- হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তিনি কিভাবে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক্ব দেন? তিনি বললেন, তিনি সেই বান্দাকে মৃত্যুর পূর্বে সৎকাজ করার সুযোগ দান করেন’ (তিরমিযী, হা/২১৪২)

(২) নিয়মিত অধিকহারে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করা : স্বয়ং রাসূল (ﷺ) প্রতিদিন ১০০ বার করে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩০৭)। সুতরাং মৃত্যু আসার পূর্বেই তাওবাহ করতে হবে। কারণ তাওবাহ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া যায় (সূরা আত-তাহরীম : ৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০)

(৩) মৃত্যুর স্মরণ ও দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা : মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করলে দুনিয়ার মোহ কমে যায় এবং আখিরাতের প্রস্তুতি বাড়ে (তিরমিযী, হা/২৩০৭; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫৮)

(৪) বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় দু‘আর মাধ্যমে উত্তম মৃত্যুর কামনা করা: আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে, اللَّهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتْ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا كَانَتْ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِيْ ‘হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দিন, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়’ (ছহীহ বুখারী হা/৫৬৭১, ৬৩৫১, ৭২৩৩; ছহীহ মুসলিম হা/২৬৮০)

(৫) গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ থেকে বিরত থাকা ও তাক্বওয়া অবলম্বন করা : কাবীরা গুনাহগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমদেরকে যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কাবীরা গুনাহ তা থেকে বিরত থাকলে আমরা তোমাদের ছোট পাপগুলো ক্ষমা করব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব’ (সূরা আন-নিসা : ৩১)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যারা ছোটো-খাটো অপরাধ ব্যতীত গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হতে বিরত থাকে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক অপরিসীম ক্ষমাশীল’ (সূরা আন-নাজম : ৩২)

(৬) মৃত্যুর সময় কালিমা পাঠের তাওফীক্ব চাওয়া : মু‘আয ইবনু জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যার সর্বশেষ বাক্য হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩১১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২০৩৪)। এজন্য মৃত্যুর সময় কালিমার শব্দ উচ্চারণের তাওফীক্ব চাওয়া উচিত।

(৭) আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা : আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, ক্ষমাকারী ইত্যাদি। তার প্রতি সুধারণা পোষণ করা যে, তিনি অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং সৎ আমলের পুরষ্কার দিবেন। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর ইন্তিকালের তিনদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছেন, ‘আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮৭৭)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪০৫)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, বরিশাল।





প্রশ্ন (৫) : কোন ব্যক্তি এক ছেলেসহ তার স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয়। পরে সেই ব্যক্তি এমন এক মহিলাকে বিয়ে করে যে মহিলার আগের পক্ষের এক মেয়ে আছে। প্রশ্ন হল- এই ব্যক্তির পূর্বের স্ত্রীর ছেলের সাথে নতুন বিবাহিত স্ত্রীর আগের পক্ষের মেয়ের সাথে বিবাহ বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক আলেম বলেন, আরাফার দিন ছিয়াম রাখলে ১০০০ ছিয়ামের সময় নেকী পাওয়া যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হারাম মাস কয়টি? এই মাসগুলোকে হারাম বলা হয় কেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বড় মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক ছোট মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত একটা ব্যাবসা হচ্ছে, কম মূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রেতার নিকট থেকে আগেই পণ্যের টাকা নিয়ে নেয়। অতঃপর ২/৩ মাস বা আরো বেশি সময়ের পর পণ্য দেয়। মানুষের প্রয়োজনীয় যত পণ্য আছে প্রায় সবই দিয়ে থাকে বিভিন্ন অফারে। যেমন ৫০%, ১০০%, কোন কোনটা ১৫০% ছাড়। যেমন : ২৫ হাজার টাকার ফ্রীজ ১২ হাজার টাকায়- ডেলিভারি দিবে ২/৩ মাস পর। এভাবে মোবাইল, মোটর সাইকেল ইত্যাদি। এই ব্যবসা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কোন রোগের কারণে চিকিৎসক যদি অল্প পরিমাণে মদ্যপান বা অন্য কোন হারাম বস্তু খাওয়ার নির্দেশনা দেয়, তবে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাব আছে যেমন ঢাকা, উত্তরা, গুলশান ক্লাব ইত্যাদি। এগুলোতে চাকুরী করলে বেতন বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ত্বালাক্বপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অন্যের কাছে রেখে হালালা করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাবা-মা জান্নাতী নাকি জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যে সমস্ত ব্যক্তি নারী-পুরুষের সাদৃশ্য পোশাক পরিধান করে তাদের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিত দু‘আ না করে কেউ যদি নির্ধারিত যিকির-আযকার মুখস্থ না থাকায় মোবাইল থেকে দেখে দেখে পাঠ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : এক রাক‘আত বিতর ছালাতে কোনদিনও দু‘আ কুনূত না পড়লে কি বিতর ছালাত হবে? বিতর ছালাতে কুনূত পড়ার সময় কেউ যদি কুনূতে নাজেলা পড়ে, তাহলে কি সুন্নত পরিপন্থী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ