শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘পুরুষরা নারীদের কর্তা, কারণ আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং এজন্য যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, কাজেই পূণ্যশীলা স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর হেফাযতে তারা হেফাযত করে। আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, মহান’ (সূরা আন-নিসা: ৩৪)। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

الْمَرْأَةُ إِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَأَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ

‘কোন মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযানের ছিয়াম পালন করে, গুপ্তাঙ্গের হিফাযত করে, স্বামীর একান্ত অনুগত হয়। তার জন্য জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশের সুযোগ থাকবে’ (হিইইয়াতুল আওলিয়া, ৬/৩০৮ পৃ.; মিশকাত, হা/৩২৫৪)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যতীত যদি অন্য কাউকে আমি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম’ (তিরমিযী হা/১১৫৯)।

উক্ত আয়াত ও হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নারীর স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব, অবাধ্য হওয়া হারাম। ইবনু মুফলিহ আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনম, ‘একজন মহিলার জন্য তার স্বামীর ঘর থেকে তার অনুমতি ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ, প্রয়োজন বা শরঈ বাধ্যবাধকতা ছাড়া’ (আল-আদাব আশ-শাঈয়াহ, ৩/৩৭৫)।

সেসব স্ত্রীলোক, যারা স্বামীদের আনুগত্য করে না কিংবা যারা এ ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করে আল্লাহ তা‘আলা সংশোধনের জন্য পুরুষদেরকে যথাক্রমে তিনটি উপায় বাতলে দিয়েছেন। অর্থাৎ স্ত্রীদের পক্ষ থেকে যদি নাফরমানী সংঘটিত হয় কিংবা এমন আশংকা দেখা দেয়, তবে প্রথম পর্যায়ে তাদের সংশোধন হল যে, (ক) নরমভাবে তাদের বোঝাবে। যদি তাতেও বিরত না হয়, (খ) দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের বিছানা নিজের থেকে পৃথক করে দেবে। যাতে এই পৃথকতার দরুন সে স্বামীর অসন্তুষ্টি উপলব্ধি করে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে পারে। তারপর যদি তাতেও সংশোধন না হয়। (গ) তবে মৃদুভাবে মারবে, তিরস্কার করবে। আর তার সীমা হল এই যে, শরীরে যেন সে মারধরের প্রতিক্রিয়া কিংবা যখম না হয়। কিন্তু এই পর্যায়ের শাস্তি দানকেও রাসূল (ﷺ) পসন্দ করেননি, বরং তিনি বলেছেন, ‘ভাল লোক এমন করে না’ (ইবনু হিব্বান, হা/৪১৮৯; আবূ দাঊদ, হা/২১৪৬; ইবনু মাজাহ, হা/১৯৮৫)।


প্রশ্নকারী : মীযান, টাঙ্গাইল।





প্রশ্ন (৪৩) : ঈদগাহে দ্রুত আসার জন্য আহ্বান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : নূহ (আলাইহিস সালাম) ও হূদ (আলাইহিস সালাম) উভয়ের স্ত্রী কাফের, না-কি শুধু কাবীরা গুনাহের জন্য উভয়ে জাহান্নামে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জান্নাতে কি রাত দিন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাজা বা হাঁটুতে ব্যথা বা এক্সিডেন্টে পা ভাঙ্গার কারণে রুকূ‘ ও সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তি চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কোন্ ধরনের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১): ইসলামী রাষ্ট্রে বা ইসলামী (এনজিও) সংস্থার অধীনে যে সমস্ত ওয়াক্বফের সম্পত্তি একত্রিত হয়, পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি থেকে বিনিয়োগ করা হলে তাতে কি যাকাত ওয়াজিব হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জনৈক ব্যক্তি রাগ করে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তিন ত্বালাক্ব দেয় এবং ৯০ দিন পর সিটিকর্পোরেশন থেকে সার্টিফিকেট নেয়। তাদের দাম্পত্য জীবন ১১ বছরের এবং ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তানও আছে। তবে ত্বালাক্ব দেয়ার সময় সে এক ত্বালাক্ব দিয়েছে। এমতাবস্থায় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টিকটিকির লালা কি নাপাক? উক্ত লালা কোন কাপড়ে লেগে গেলে তা-কি নাপাক হয়ে যায় এবং নাপাক কাপড় পরে অন্য কোন নাপাক কাপড় ধরলে কি ঐ কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কুরবানী করার সময় কোন্ দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : ফের্কাবন্দীর পরিণতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ইসলামে মধ্যমপন্থা অবলম্বন বলতে কী বুঝায়? অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিম মনে করেন মধ্যমপন্থা মানে যে সমাজ যে রকম, সেখানে সেভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। যেমন- প্রয়োজন অনুযায়ী পারিবারিক সমাবেশে গায়রে মাহরাম কাজিনদের সাথে খোশগল্প করা, মসজিদে গেলে পাঞ্জাবি-পায়জামা (ছেলেদের ক্ষেত্রে) অথবা খিমার, নিকাব (মেয়েদের ক্ষেত্রে) অন্যদিকে অনুষ্ঠানে গেলে যথাক্রমে গেঞ্জি-টাইট প্যান্ট (ছেলে) অথবা শুধু হিজাব (মেয়ে) পরা, ইত্যাদি। অন্যদিকে যারা কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিকভাবে চোখের হেফাযত করে, ফেৎনা থেকে বাঁচার জন্য পর্দার বিধান মেনে চলে তাদেরকে অনেকে অসামাজিক, বিভ্রান্ত, কট্টরপন্থী ইত্যাদি টাইটেলে আখ্যা দিয়ে থাকে। তাদের উক্ত  দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ