উত্তর : প্রয়োজনে তাহাজ্জুদ বা তারাবীর মত দীর্ঘ ক্বিরাআত বিশিষ্ট নফল ছালাতে দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা জায়েয। যেমন, وَكَانَتْ عَائِشَةُ يَؤُمُّهَا عَبْدُهَا ذَكْوَانُ مِنَ الْمُصْحَفِ ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর গোলাম যাক্ওয়ান কুরআনুল কারীম দেখে তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইমামতি করতেন’ (তা‘লীক্ব, ছহীহ বুখারী, হা/৬৯২, অধ্যায়-১০, অনুচ্ছেদ-৫৪; মুছান্নাফু ইবনি আবী শাইবাহ, ২/৩৩৮ পৃ.)। ইবনু শিহাব ও ইমাম জুহুরী (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, রামাযান মাসে লোকদের ইমামতি করার সময় দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করতেন। উত্তরে তাঁরা বলেছিলেন, ‘ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই এই ধারা চলে আসছে। আমাদের যুগের সর্বোত্তম লোকেরাও দেখে তিলাওয়াত করতেন। ইবরাহীম ইবনু সাঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমাকে আমার পিতা রামাযান মাসে নিজ পরিবারকে নিয়ে ক্বিয়ামুল লাইল আদায় করার আদেশ দিতেন এবং কুরআনুল কারীম থেকে দেখে দেখে তিলাওয়াত করারও নির্দেশ দিতেন। আইয়ূব (রাহিমাহুল্লাহ) মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তিনি নফল ছালাতে দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে দোষনীয় মনে করতেন না।
‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনছারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, রামাযান মাসে তারাবীর ইমামতি করার সময় দেখে দেখে কুরআন পাঠ করা দোষনীয় নয়। ইবনু ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এমন একটি গ্রাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে গ্রামে কোন দক্ষ ক্বারী বা হাফিয নেই। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্য হতে কেউ কি দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার মাধ্যমে ইমামতি করতে পারবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটি দোষনীয় নয়’। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ক্বিয়ামুল লাইলের ইমামতি করার সময় দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা দোষনীয় নয়’। ইমাম নববী, ইমাম ইবনু কুদামাহ, শায়খ আব্দুল্লাহ্ ইবনু বায (রাহিমাহুমুল্লাহ), এবং সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি একই ফৎওয়া দিয়েছেন (আল-মাজমূঊ, ৪/২৭ পৃ.; আল-মুগনী, ১/৩৩৫ পৃ.; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, ১/২০০ পৃ.; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ১১/১১৭-১১৮ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬৫৯২৪; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/২০৩-২০৬ পৃ.)।
উল্লেখ্য যে, মুজাহিদ, ইবরাহীম, সুফিয়ান ও শায়খ ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) রামাযান মাসে ক্বিয়ামুল লাইলে দেখে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করাকে অপসন্দ করতেন। কেননা এর মধ্যে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যেমন (১) হাতে কুরআন ধরার কারণে দাঁড়ানো অবস্থায় বুকের উপর দুই হাত রাখার বিধানের উপর আমাল করা যায় না। (২) পৃষ্ঠা উল্টানোর সময় ও পকেটে রাখার সময় নড়াচড়া করতে হয়। (৩) ছালাত থেকে মুছল্লীর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে এর মধ্যে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। (৪) সাজদার জায়গায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করা সম্ভবপর হয় না। (৫) অমনোযোগী হয়ে ছালাত আদায়কারী প্রায় ভুলেই যায় যে, সে ছালাতরত অবস্থায় আছে’ (মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনু উছাইমীন, ১৪/২৩১-২৩৮ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আ;-দায়িমাহ, ৭/২০৪-২০৬)।
প্রশ্নকারী : তরিকুল ইসলাম, শেরপুর।