রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ঋণের দেয়ার সঠিক পন্থা হল :
১- ঋণের সময়সীমা নির্ধারণ অর্থাৎ যে সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
২- ঋণ ও এর সময়সীমা লিখে রাখা।
৩- ঋণ যিনি লিখবেন তিনি যদি ঋণগ্রহীতা ছাড়া অন্য কেউ হন তাহলে ঋণগ্রহীতা তাকে কী লিখবেন তা বলে দিবেন।
৪- ঋণগ্রহীতা যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যা লিখতে হবে তা বলতে না পারেন তাহলে তার অভিভাবক সেটা বলে দিবেন।
৫- ঋণের পক্ষে সাক্ষী রাখা। দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে সাক্ষী রাখা।
৬- ঋণদাতার এ অধিকার আছে যে, তিনি ঋণের গ্যারান্টি হিসাবে ঋণগ্রহীতার কাছে কোন কিছু বন্ধক রাখবেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮২-২৮৩)।
বন্ধকের উপকারিতা হল ঋণ পরিশোধের সময় আসলে যদি ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ না করে, তাহলে বন্ধকের সামগ্রীটি বিক্রি করে ঋণ আদায় করা হবে। যদি ঋণ আদায় করার পর কিছু অর্থ বাকি থাকে তাহলে সেটা মালিককে তথা ঋণগ্রহীতাকে ফেরত দেয়া হবে। ঋণের গ্যারান্টি তিন পদ্ধতি তথা লেখা, সাক্ষ্য গ্রহণ করা, বন্ধক নেয়ার কোন এক পদ্ধতিতে হতে পারে। গ্যারান্টি প্রদান মুস্তাহাব ও উত্তম। এটি ওয়াজিব নয়। কোন কোন আলেম ঋণ লিখে রাখাকে ওয়াজিব বলেছেন। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে হলো লিখে রাখা মুস্তাহাব। আর এটাই শক্তিশালী অভিমত (তাফসীরুল কুরতুবী, ৩/৩৮৩ পৃ.)।

নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ঋণ যদি লিখে রাখা না হয় এবং ঋণগ্রহীতা ঋণ ফিরিয়ে দিতে বিলম্ব করে বা অস্বীকৃতি জানায়; তখন তার বিরুদ্ধে ঋণদাতার দু‘আ কবুল হয় না। নবী (ﷺ) বলেন, ‘তিনজন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু‘আ করলে তাদের দু‘আ কবুল হয় না’ ... তাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, ‘এমন এক ব্যক্তি অন্য লোকের কাছে যার পাওনা আছে; কিন্তু ঐ ঋণের পক্ষে সে সাক্ষী রাখেনি’ (ছহীহুল জামে‘, হা/৩০৭৫)।

শরয়ী এই বিধানগুলো এবং অন্য বিধানগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে যে কেউ ইসলামী শরী‘আতের পূর্ণতা জানতে পারবে এবং ইসলামী আইন মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও সেগুলো নষ্ট হতে না দেয়ার ব্যাপারে কত সতর্ক; সেটা যত অল্পই হোক না কেন। ‘ছোট হোক কিংবা বড় হোক, ঋণ লেনদেনের বিষয়টি মেয়াদ উল্লেখসহ লিখে রাখতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না’। ইসলামী আইনের মত আর এমন কোন আইন আছে কি, যেটা দ্বীনী ও দুনিয়াবী কল্যাণের মাঝে এতটা পূর্ণাঙ্গরপে সমন্বয় করেছে? কেউ কি এই বিধানগুলোর চেয়ে পূর্ণতর কিছু প্রণয়ন করতে পারবে?! আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চাইতে কে বেশি শ্রেষ্ঠ?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৩১৮০)।


প্রশ্নকারী : মুবারক, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (১৪) : ‘কট জমি’ তথা টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে জমি বাবদ টাকা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হুজুরকে ‘মাওলানা’ বলা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : বালতিতে বা আবদ্ধ পাত্রে নাপাক কাপড় ধৌত করলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে? অনেকে বলে ৩ বার ধৌত করলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে। এ কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আমি নির্জনে সংঘটিত একটি গোপন পাপে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হতে পারছি না। কিছুদিন ছেড়ে দিই, আবার ফিরে যাই। এভাবেই বারবার ঘটছে। আমি চিন্তিত যে, এই গুনাহ নিয়ে কীভাবে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হব? আমার পরিণতি খারাপ হয়ে যেতে পারে। তবে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত মসজিদে আদায় করি, সুন্নাত ছালাত পড়ি, ছালাত-পরবর্তী যিকির এবং সকাল-সন্ধ্যার যিকির পাঠ করি, ছালাতুদ-দুহা ও তাহাজ্জুদ পড়ি, ছাদাক্বাহ করি, নফল ছিয়াম রাখি, কুরআনের নিয়মিত তিলাওয়াত বজায় রাখার চেষ্টা করি, কুরআন হিফয করছি এবং শরয়ী ইলম অর্জনের চেষ্টা করছি। তাহলে আমি গোপনে আল্লাহর অবাধ্যতা করার পরও কি আল্লাহ এসব আমল কবুল করবেন? না-কি এগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার মতো করে দেবেন? এই গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত (২) ‘আরাফার রাত (৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : পীর ছাড়া না-কি আল্লাহর দেখা পাওয়া যাবে না। জীবনে একবার হলেও না-কি পীরের কাছে যেতে হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মুসাফির অবস্থায় স্টেশনে বা বাসস্ট্যান্ডের পাশের কোন মসজিদে জামা‘আত চলাকালীন প্রবেশ করলে জামা‘আতে শামিল না হয়ে একা একা ক্বছর আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং সেদিন কেউ মারা গেলে বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামের দৃষ্টিতে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ইসলামে মধ্যমপন্থা অবলম্বন বলতে কী বুঝায়? অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিম মনে করেন মধ্যমপন্থা মানে যে সমাজ যে রকম, সেখানে সেভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়া। যেমন- প্রয়োজন অনুযায়ী পারিবারিক সমাবেশে গায়রে মাহরাম কাজিনদের সাথে খোশগল্প করা, মসজিদে গেলে পাঞ্জাবি-পায়জামা (ছেলেদের ক্ষেত্রে) অথবা খিমার, নিকাব (মেয়েদের ক্ষেত্রে) অন্যদিকে অনুষ্ঠানে গেলে যথাক্রমে গেঞ্জি-টাইট প্যান্ট (ছেলে) অথবা শুধু হিজাব (মেয়ে) পরা, ইত্যাদি। অন্যদিকে যারা কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিকভাবে চোখের হেফাযত করে, ফেৎনা থেকে বাঁচার জন্য পর্দার বিধান মেনে চলে তাদেরকে অনেকে অসামাজিক, বিভ্রান্ত, কট্টরপন্থী ইত্যাদি টাইটেলে আখ্যা দিয়ে থাকে। তাদের উক্ত  দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : যদি কেউ তার স্ত্রীকে একসাথে তিন ত্বালাক্ব দেয়, তখন তার জন্য করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : মায়ের সম্পদে মেয়েদের বা বোনদের অংশ কি বেশি থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ