বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ঋণের দেয়ার সঠিক পন্থা হল :
১- ঋণের সময়সীমা নির্ধারণ অর্থাৎ যে সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
২- ঋণ ও এর সময়সীমা লিখে রাখা।
৩- ঋণ যিনি লিখবেন তিনি যদি ঋণগ্রহীতা ছাড়া অন্য কেউ হন তাহলে ঋণগ্রহীতা তাকে কী লিখবেন তা বলে দিবেন।
৪- ঋণগ্রহীতা যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যা লিখতে হবে তা বলতে না পারেন তাহলে তার অভিভাবক সেটা বলে দিবেন।
৫- ঋণের পক্ষে সাক্ষী রাখা। দু’জন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে সাক্ষী রাখা।
৬- ঋণদাতার এ অধিকার আছে যে, তিনি ঋণের গ্যারান্টি হিসাবে ঋণগ্রহীতার কাছে কোন কিছু বন্ধক রাখবেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮২-২৮৩)।
বন্ধকের উপকারিতা হল ঋণ পরিশোধের সময় আসলে যদি ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ না করে, তাহলে বন্ধকের সামগ্রীটি বিক্রি করে ঋণ আদায় করা হবে। যদি ঋণ আদায় করার পর কিছু অর্থ বাকি থাকে তাহলে সেটা মালিককে তথা ঋণগ্রহীতাকে ফেরত দেয়া হবে। ঋণের গ্যারান্টি তিন পদ্ধতি তথা লেখা, সাক্ষ্য গ্রহণ করা, বন্ধক নেয়ার কোন এক পদ্ধতিতে হতে পারে। গ্যারান্টি প্রদান মুস্তাহাব ও উত্তম। এটি ওয়াজিব নয়। কোন কোন আলেম ঋণ লিখে রাখাকে ওয়াজিব বলেছেন। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে হলো লিখে রাখা মুস্তাহাব। আর এটাই শক্তিশালী অভিমত (তাফসীরুল কুরতুবী, ৩/৩৮৩ পৃ.)।

নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ঋণ যদি লিখে রাখা না হয় এবং ঋণগ্রহীতা ঋণ ফিরিয়ে দিতে বিলম্ব করে বা অস্বীকৃতি জানায়; তখন তার বিরুদ্ধে ঋণদাতার দু‘আ কবুল হয় না। নবী (ﷺ) বলেন, ‘তিনজন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু‘আ করলে তাদের দু‘আ কবুল হয় না’ ... তাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, ‘এমন এক ব্যক্তি অন্য লোকের কাছে যার পাওনা আছে; কিন্তু ঐ ঋণের পক্ষে সে সাক্ষী রাখেনি’ (ছহীহুল জামে‘, হা/৩০৭৫)।

শরয়ী এই বিধানগুলো এবং অন্য বিধানগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করলে যে কেউ ইসলামী শরী‘আতের পূর্ণতা জানতে পারবে এবং ইসলামী আইন মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ও সেগুলো নষ্ট হতে না দেয়ার ব্যাপারে কত সতর্ক; সেটা যত অল্পই হোক না কেন। ‘ছোট হোক কিংবা বড় হোক, ঋণ লেনদেনের বিষয়টি মেয়াদ উল্লেখসহ লিখে রাখতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না’। ইসলামী আইনের মত আর এমন কোন আইন আছে কি, যেটা দ্বীনী ও দুনিয়াবী কল্যাণের মাঝে এতটা পূর্ণাঙ্গরপে সমন্বয় করেছে? কেউ কি এই বিধানগুলোর চেয়ে পূর্ণতর কিছু প্রণয়ন করতে পারবে?! আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চাইতে কে বেশি শ্রেষ্ঠ?’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৫০; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৩১৮০)।


প্রশ্নকারী : মুবারক, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (৪) : কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ত্বালাক্ব দেয়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোর্টের মাধ্যমে স্ত্রী স্বামীকে ত্বালাক্ব দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : অনেক মসজিদে ইমামরা মৃত পিতা-মাতার জন্য সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করেন। এই সময় মুছল্লীরা ‘আমীন, আমীন’ বলে সাড়া দেন। কখনো ইমাম দরূদ শরীফ একবার, সূরা ফাতিহা একবার, ইখলাছ-ফালাক-নাস তিনবার করে পড়ার নির্দেশ দেন। এই পদ্ধতি কি শরী‘আয়তসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কেউ যদি কবিরাজ দ্বারা টাকার বিনিময়ে জাদু করায়, তাহলে সে কি কাফির হয়ে যায়? শরী‘আতে জাদুর বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জুম‘আর খুতবা ও ছালাতের সময় এবং অন্যান্য ছালাতের সময় সামনে, পিছনে কিংবা উপর থেকে ভিডিও করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বেশি নেকীর আশায় বড় মসজিদে গমন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে যে সমস্ত মুসলিম সেক্যুলার রাজনীতির সমর্থক বা কর্মী, তাদের সম্পর্কে আহলেহাদীছদের আকীদা কী হবে এবং তাদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামের দৃষ্টিতে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : সহশিক্ষা আছে এমন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা এবং শিক্ষা গ্রহণ করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ ও ‘বিদ‘আতী’দের মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : আদম (আলাইহিস সালাম) হিন্দুস্তান থেকে পায়ে হেঁটে ১০০০ বার হজ্জ করেছেন (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ ৪১)। উক্ত বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ইহুদী-খ্রিষ্টান ও অন্য বিধর্মীরা কি উম্মতে মুহাম্মাদীর দলভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ