রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-নীতি বজায় রেখে শেয়ার বাজারের মাধ্যমে জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয। শারঈ ব্যবসার একটি নিয়ম হল- ‘মানুষ তার মালিকানাধীন ও অধিকারভুক্ত জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করবে’। কিন্তু শেয়ার বাজারে দেখা যায় অধিকাংশ সময় মানুষ এমন জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করে, যা তার মালিকানাধীন ও অধিকারভুক্ত নয়, এবং সেটি তার আয়ত্তেও নেই। শরী‘আতের আলোকে এরূপ ব্যবসা নিষিদ্ধ। সাধারণত শেয়ার ব্যবসায় পণ্য নিজ আয়ত্ত্বে না নিয়েই ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। অথচ শরী‘আতের দৃষ্টিতে ক্রয়কৃত বস্তু হস্তগত হওয়ার পূর্বে বিক্রয় করা হারাম। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ)-এর যুগে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতাম। তখন তিনি আমাদের নিকট এ মর্মে আদেশ দিয়ে লোক পাঠাতেন যে, ঐ ক্রয়কৃত মাল বিক্রয় করার পূর্বেই যেন ক্রয়ের স্থান হতে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বরং নিজেদের ঘরে তুলে নেয়ার আগেই বিক্রয় করলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৭, ২১৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করবে সে তা নিজ আয়ত্ত্বে নেয়ার পূর্বে বিক্রয় করতে পারবে না (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৬; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৫)। রাবী তাঊস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এটি কিভাবে হয়ে থাকে? তিনি বললেন, এটি এভাবে হয়ে থাকে যে, দিরহামের বিনিময়ে আদান-প্রদান হয় অথচ পণ্যদ্রব্য অনুপস্থিত থাকে (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩২, ২১৩৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৫২৫)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেক পণ্যের ব্যাপারে অনুরূপ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২১৩৫, ২১৩২; তাবয়ীনুল হাকায়িক, ৪/১১৯; আল মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ২৫/২১৮-২১৯)।

১৪০৪ হিজরীতে শেয়ারের মার্কেটের ভয়াবহতা সম্পর্কে ‘মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ’-এর অধীনস্থ ‘ইসলামী ফিক্বাহ একাডেমী’-এর একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁদের সুদীর্ঘ আলোচনায় হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ ও কল্যাণ-অকল্যাণের বিবিধ দিক নিয়ে যে সমস্ত মতামত ও শর্তাবলী পেশ করেছেন, সেগুলো মেনে আজকের দিনে শেয়ার বাজারের ব্যবসা করা অসম্ভব (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৪৩১১)। এছাড়াও আরো অসংখ্য কারণে প্রচলিত শেয়ার বেচাকেনার ব্যবসা জায়েয নয়। যেমন: (১) ক্রেতার অনেক সময় সম্যক জ্ঞান থাকে না বা জানতে পারেন না যে কী বস্তুর শেয়ার তিনি ক্রয় করেছেন। অথচ রাসূল (ﷺ) হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৪৮৪, ৩৪৮৫, ৩৪৮৮, ৩৪৯০)। (২) যে বস্তুর শেয়ার কেনা-বেচা হয়, তা অস্পষ্ট ও অজ্ঞাত থাকে। হাদীছের মধ্যে নবী (ﷺ) প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করতে এবং কাঁকর নিক্ষেপে ক্রয়-বিক্রয় নির্ধারিত করতে নিষেধ করেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫১৩; আবূ দাঊদ, হা/৩৩৭৬)। (৩) শেয়ার ব্যবসায় ফাটকাবাজারীর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ পণ্য দেখে না। অথচ প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে, মিনিটে মিনিটে দর উঠা-নামা হয়। কেউ কেউ কয়েক মিনিটের মধ্যে শেয়ার বিক্রয় করে দেয়। বাস্তবে কিন্তু কেউ কোন কোম্পানীতে কয়েক মিনিটের জন্য অংশীদার হয় না। সেখানে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া অনেক সময় কোম্পানী প্রকৃত তথ্য গোপন রাখে। কখনো কারখানা তৈরি না করেই বাজারে তার শেয়ার ছাড়া হয় এবং নতুন শেয়ারে অধিক লাভ ধারণা করে সেটিকে লোকেরা অধিক মূল্যে ক্রয় করে। এছাড়াও নিত্যনতুন ছলচাতুরী শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। (৪) এতে সূদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ শেয়ার ব্যবসা সূদী ঋণের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। অতএব শেয়ার ব্যবসা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উল্লেখ্য যে, যদি সাধারণভাবে কোন শেয়ার ব্যবসা সূদমুক্ত, ধোঁকাবাজি, ঠকবাজি, জুয়াচুরি ও ছলচাতুরী মুক্ত হয়, তাহলে তা জায়েয। যৌথ ব্যবসার মুশারাকাহ্ বা শরীকানা ব্যবসা পদ্ধতি ইসলামে বৈধ। যাতে উভয়ে সম্পদ ও শ্রমে আনুপাতিক অংশীদার হবে  (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৪/২৯৯-৩০০ পৃ.)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শেয়ার বাজার সম্পর্কে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, সেটি হল- ‘হাওয়ায় কেনাবেচা’। শেয়ার বাজার তো আসলে কোন বাজারই নয়। এ এমন একটি বাজার যেখানে কোন মাল নেই, দোকান নেই। আছে কেবলই ক্রেতা। কাগজের রসিদ দেখিয়ে কেনাবেচা হয়। শেয়ার ব্যবসা একটি জুয়া মাত্র। যা হারাম ও নিষিদ্ধ। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ মাল দেখে না। অথচ অনবরত দর উঠা-নামা করে। একটি গ্রুপ কাজ করে হুজুগ লাগানোর জন্য। তারা ছোট ছোট বিনিয়োগকারীদের অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতারিত করে। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার রঙিন স্বপ দেখিয়ে তাদেরকে শেয়ার কিনতে প্রলুব্ধ করে। তারপর তাদের টাকাগুলো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ হলেই তা লোপাট করে এই গোষ্ঠী সরে পড়ে। এটি নিষিদ্ধ, এটি অগ্রহণযোগ্য ব্যবসা, এটি ঠিক নয় (ফাতাওয়া আল-জামিউল কাবীর, ইবনে বায অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, যঃঃঢ়ং://নরহনধু.ড়ৎম.ংধ/ভধঃধিং/১৮৭৩/%উ৮%অউ%)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, বরিশাল।





প্রশ্ন (১) : ইসলামের দৃষ্টিতে (السِيَاسَة) ‘রাজনীতি’ বলতে কী বোঝায়? কুরআন-হাদীছে এর ভিত্তি আছে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ঘুমের কারণে যদি আছরের ছালাত ছুটে যায় এবং ঘুম থেকে উঠেই আছরের ছালাত আদায় করা হয়, তাহলে কি পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় এই হাদীছের আওতাভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩): আমি একজন চাকুরিজীবী। আমার মাসিক বেতন ২০,০০০/- টাকা। আমার পরিবারে সবাই আমার উপর নির্ভর করে। আমি আমার বেতন থেকে সব খরচ প্রদান করি। আমার স্ত্রী, মেয়ে, বাবা, ভাই ও বোন আছে, যাদের খরচ আমি বহন করি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো আমি আমার সম্পদের যাকাত কীভাবে দিব? আমার সম্পদের উৎস শুধু এই বেতন। কিন্তু আমার সমস্ত বেতন আমার পরিবারে ব্যয় হয়ে যায়। অতএব, আমি কখন যাকাত দিব? কিছু মানুষ বলে যে, বেতন কৃষি ফসলের মত। এতে বর্ষপূর্তির বিষয়টি বিবেচ্য নয়। সুতরাং যখন বেতন পাবেন তখনই যাকাত আবশ্যক হবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : তাওহীদ ৩ প্রকার। তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ, আসমা ওয়াছ ছিফাত। এভাবে তাওহীদের প্রকার করা ও এই নামগুলো কখন থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কেক ও চকলেটের উপর ‘আল্লাহ’ লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : কেউ যদি কোন ছালাতের জামা‘আতে এক রাক‘আত পেয়ে যায়, তাহলে সে উক্ত ছালাত পেয়ে গেল; এমনকি সে পুরো ছালাতই পেয়ে গেল (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮০; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০৭; মিশকাত, হা/১৪১২)। প্রশ্ন হল- ২, ৩ অথবা ৪ রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতের বাকী রাক‘আতগুলো কি পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দুনিয়াতে আপন ভাই-বোনের মাঝে সম্পর্কই নাকি শেষ। পরকালে পরস্পরের মাঝে আর নাকি কখনো দেখা হবে না। এটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কখন এবং কোন্ দান সর্বোত্তম? দান কবুল হওয়ার প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছালাতে হাত বাঁধা সম্পর্কে সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফাতাওয়া বোর্ড এবং শায়খ ইবনু বায, আলবানী, শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন? নাভীর নিচে বাঁধতে বলেছেন, না-কি বুকের উপর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, ‘ছালাতুয যুহা’ এবং ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলতে কোন্ কোন্ ছালাতকে বুঝানো হয় এবং এই সকল ছালাতের ফযীলত কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : হারাম ভক্ষণকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ