রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
উত্তর :  সুন্নাহ হচ্ছে মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পূর্বে ছালাতের ওযূর মত ওযূ করানো। যেহেতু উম্মে আতিয়্যা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর মেয়েকে গোসল দেয়ার ব্যাপারে তাদেরকে বলেছেন, ‘আপনারা তার ডান পার্শ্ব থেকে এবং ওযূ করার স্থানগুলো থেকে শুরু করবেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/১২৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩৯)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ হাদীছে মৃত ব্যক্তিকে ওযূ করানো মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে দলীল আছে। এটা সবার মত। তবে ইমাম আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মুস্তাহাব নয়। আর ওযূ গোসলের শুরুতে করাতে হবে; যেভাবে জুনুবী (অপবিত্র ব্যক্তি) ব্যক্তি করে থাকে (শারহুন নববী ছহীহ মুসলিম, ৭/৫ পৃ.)। তবে কুলি করানো ও নাকে পানি দেয়া ওযূ থেকে বাদ যাবে; কেবল ভেজা ন্যাকড়া দিয়ে মোছাই যথেষ্ট হবে। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘অধিকাংশ আলেমের মতানুযায়ী তার (মৃতব্যক্তির) মুখে ও নাকের ছিদ্রে পানি প্রবেশ করাবে না। এই অভিমত দিয়েছেন সাঈদ বিন জুবাইর, নাখঈ, ছাওরী ও আবূ হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ)। যেহেতু মুখে ও নাকে পানি প্রবেশ করালে সে পানি পেটে চলে যাওয়া থেকে নিরাপদ নয়। এতে করে এটি মৃতব্যক্তির শারীরিক কাঠামো বিকৃতির পর্যায়ে পৌঁছতে পারে এবং কাফনের ভেতরে এ পানি বের হওয়া থেকে নিরাপদ নয়’ (আল-মুগনী, ২/১৬৫ পৃ.)।

শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেহেতু জীবিত ব্যক্তি পানি প্রবেশ করালে সেটা দিয়ে সে কুলি করে এবং সেটা ফেলে দেয় ও পানিটা বের হয়ে যায়। আর মৃতব্যক্তির মুখে পানি ঢাললে সে পানি তার পেটে চলে যাবে এবং এতে করে হতে পারে এ পানি স্থির কিছুকে নাড়িয়ে দিবে। একই কথা বলব নাকে পানি দেয়ার ক্ষেত্রেও। মৃতব্যক্তি নাকে পানি টেনে নিতে পারে না এবং নাক থেকে পানি ফেলে দিতে পারে না। সে কারণে আমরা বলব: তার মুখে ও নাকে পানি প্রবেশ করাবেন না’ (আশ-শারহুল মুমতি‘, ৫/১৩১ পৃ.)। শায়খ মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ-শানক্বীতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে মৃতব্যক্তিকে কুলি করানো ও নাকে পানি ঢুকানোর বদলে ভেজা আঙ্গুলদ্বয় দিয়ে তার ঠোঁটদ্বয়ে পানি দিবে। অনুরূপভাবে আঙ্গুলদ্বয় তার দুই নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করাবে। গ্রন্থকার নি¤েœাক্ত টেক্সটে এটাই উল্লেখ করেছেন, ‘পানিতে ভেজানো দুই আঙ্গুল তার ঠোঁটদ্বয়ের মাঝখানে প্রবেশ করাবে এবং তার দাঁতগুলো মুছে দিবে এবং তার নাকের ছিদ্রদ্বয়ে প্রবেশ করাবে ও সে দু’টি পরিষ্কার করে দিবে। কিন্তু সে দুটোতে পানি প্রবেশ করাবে না’। অর্থাৎ মুখে বা নাকে পানি প্রবেশ করাবে না’ (ইসলাম সাওয়াল ও জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫৩৭২০)।


প্রশ্নকারী : জামাল, মেহেরপুর।





প্রশ্ন (৫) : রাসূল (ﷺ) মক্কা বিজয়ের আগে মূর্তি থাকা অবস্থায় কা‘বার পাশে ছালাত আদায় করেছেন মর্মে বক্তব্য কি সঠিক? উল্লেখ্য যে, জানা যায় যে, মক্কা বিজয়ের আগে কা‘বা ঘরের ভিতরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : গর্ভবতী পশু দিয়ে কুরবানী করা কি হালাল? যদি সেটা জায়েয হয়, তাহলে গর্ভস্থিত পশুটির ক্ষেত্রে কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : হতাশা থেকে মুক্তির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ওযূ করার সময় যদি বার বার মনে হয় যে, বায়ু নির্গত হয়েছে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : তিলাওয়াতে সিজদাহর নিয়ম কী এবং এ জন্য কোন নির্দিষ্ট কোন দু‘আ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ব্যক্তি একটি ঘরে বসবাস শুরু করার পর থেকেই  বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্ত হয়েছে আরো বড় বড় কয়েকটি মুছীবতে। এখন সে এই ঘরে বসবাস করাকে অমঙ্গল মনে করে। এই ধারণা করা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : জনৈক আলেম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির এক হাযার বছর পূর্বে সূরা ‘ত্বা-হা’ ও ‘ইয়াসীন’ পাঠ করলেন। তখন ফেরেশতারা শুনে বললেন, ধন্য সেই জাতি, যাদের উপর এটা নাযিল হবে, ধন্য সেই পেট যে সেটা ধারণ করবে এবং ধন্য সেই মুখ যে সেটা উচ্চারণ করবে’। তাঁর উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন মুসাফির ব্যক্তির এমন হতে পারে যে, তার ছিয়াম পালন অবস্থায় বিমান উড্ডয়নের পূর্বে সূর্য অস্ত গেল। ফলে সে ইফতার করল। কিন্তু বিমান উড্ডয়নের পরে সে সূর্য দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী রচিত ‘কাট হুজ্জতির জওবাব’ বইয়ের ২৫ পৃষ্ঠায় একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আহলেহাদীছগণ আমলনামাসহ উপস্থিত হবেন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা আহলেহাদীছ বেহেশতে প্রবেশ কর’ (ত্বাবারাণী, আল-ক্বাওলুল বাদী, পৃ. ১৮৯)। উক্ত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে কুরআন অবমাননাকারীদের শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : যে ব্যক্তি ছালাতের সংরক্ষণ করবে ক্বিয়ামতের দিন তা তার জন্য জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে তার হেফাযত করবে না তার জন্য তা জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে না। ক্বিয়ামতের দিন সে কারূণ, ফেরআঊন, হামান ও উবাই ইবনু খালাফের সাথী হবে (মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৫৭৬; মিশকাত, হা/৫৭৮), বর্ণনাটি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রামাযান মাসে জামা‘আতের সাথে তারাবীহ উত্তম, না একাকী তাহাজ্জুদ উত্তম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ