রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর :আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে,

‏الْفِطْرَةُ خَمْسٌ الْخِتَانُ وَالاِسْتِحْدَادُ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الآبَاطِ

‘জন্মগত স্বভাব পাঁচটি। যথা : ১- খাতনা বা মুসলমানি করা, ২- গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করার লৌহের ক্ষুর ব্যবহার করা, ৩- গোঁফ ছোট করা, ৪- নখ ছেদন করা ও ৫- বগলের লোম উপড়ানো বা সমূলে উৎপাটন করা’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৯, ৫৮৯০, ৫৮৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭, ৪৮৫-৪৯৩)। সঙ্গে সঙ্গে এর সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,

وُقِّتَ لَنَا فِيْ قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيْمِ الْأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِيْنَ لَيْلَةً

‘গোঁফ ছাঁটা, নখ কর্তন করা, বোগলের লোম সমূলে নির্মূল করা এবং গুপ্তাঙ্গের পশম মুণ্ডন করার জন্য আমাদেরকে সময়সীমা নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছিল, যেন আমরা তা চল্লিশ দিনের অধিক না রাখি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪৮৭, ২৫৭)। লক্ষণীয় বিষয় হল, উপরিউক্ত হাদীছ দু’টিতে গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করার ধরণ বুঝাতে যে দু’টি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তা হল- (১) اَلْإِسْتِحْدَادُ ‘লোহার ক্ষুর ব্যবহার করা’। (২) حَلْقٌ ‘মুণ্ডন, ক্ষৌরকর্ম, শেভিং’। পক্ষান্তরে বোগলের লোম পরিষ্কার করার ধরণ বুঝাতে যে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা হল, نَتْفٌ ‘উৎপাটন করা, উপড়ানো, তুলে ফেলা’।

তাই সুন্নাত হল, বোগলের লোম উপড়ে ফেলা, আর গুপ্তাঙ্গের লোম ক্ষুর বা ব্লেড দ্বারা অপসারণ করা। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছের আলোকে সুন্নাতী পদ্ধতি হল গুপ্তাঙ্গের লোম ক্ষুর বা ব্লেড দ্বারা পরিষ্কার করা, আর বোগলের লোম উপড়ে ফেলা বা সমূলে উৎপাটন করা। কিন্তু যদি কারোর পক্ষে এরূপ করা সম্ভবপর না হয়, সেক্ষেত্রে অন্যান্য সুবিধাজনক পদ্ধতি প্রয়োগ করা জায়েয। যেমন বিভিন্ন প্রকারের ক্রিম ব্যবহার করা কিংবা বোগলের লোম উপড়াতে না পারলে ব্লেড ব্যবহার করা। কেননা আদেশের মূল উদ্দেশ্য হল লোম পরিষ্কার করা বা অপসারণ করা। তাই বিশেষ প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতিও মূল উদ্দেশ্যের সহায়ক হিসাবে জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২৯/৪৯ পৃ; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১৮৩)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ রাকিবুল ইসলাম, রংপুর।





প্রশ্ন (২১) : রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য কোন গাছের  শিকড় মাদুলীর মধ্যে ঢুকিয়ে গলায় ঝুলিয়ে ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সমাজে প্রচলিত আছে যে, ৪০ দিনের মধ্যে শরীরের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার না করলে ছালাত-ছিয়াম কোন ইবাদত কবুল হবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ঈদুল ফিতরের ছালাত আদায়ের পর পরিবারের সবাই মিলে কবর যিয়ারত করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছিয়াম পালনকারীর শ্বাসকষ্ট উপশমকারী স্প্রে (ইনহেইলার বা পাফার) ব্যববারের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোন ছেলে সন্তান না থাকায় পিতা কি তার জীবদ্দশায় সব সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দিতে পারবে?   - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সালাম ফেরানোর পর ইমাম ছাহেব দীর্ঘ সময় মুছাল্লায় বসে থাকতে পারবেন কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, যার নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? কতটুকু খাবার থাকলে ফিতরা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : দাঁতের কোন সমস্যা নেই তবে দাঁতগুলো হলদে। যার কারণে সংকোচবোধ হয়। এমতাবস্থায় স্থায়ীভাবে দাঁতকে সাদা রং করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : তারাবীহর ছালাত কয় রাক‘আত? কেউ ৮ রাক‘আত পড়ে, কেউ পড়ে ২০ রাক‘আত। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): খ্রিস্টানদের স্থাপিত স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ যে খাবার খেয়েছেন, তার মধ্যে পেঁয়াজ ছিল অন্যতম। বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : ইয়াযীদ ইবনু মু‘আবিয়া সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ