মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর :  এটা প্রতারণা এবং কাবীরা গোনাহের শামিল। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘কোন লোক যদি নিজ পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে তার পিতা বলে দাবী করে, তবে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে বংশ সম্পর্কিত দাবী করল যে বংশের সঙ্গে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫০৮, ৩৫০৯, ৬০৩৫)। অন্যত্র বলেন, مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيْهِ وَهُوَ يَعْلَمُ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, তার জন্য জান্নাত হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬, ৬৭৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতার বংশ পরিচয় বাদ দিয়ে অন্য বংশের হওয়ার দাবি করে অথবা নিজের প্রকৃত অভিভাবক ও পরিবারকে বাদ দিয়ে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করে, তার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবিরাম অভিশাপ বর্ষিত হতে থাকবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৫১১৫, সনদ ছহীহ; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২০/৩৭১-৩৭৩ পৃ.)।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছগুলোতে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করার নিষেধাজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জেনে-শুনে নিজের পিতার বংশ পরিচয় গোপন রেখে অন্যের বংশ পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করা’ (ফাৎহুল বারী, ৬/৫৪১ পৃ.; ঊমদাতুত ক্বারী, ১৬/৮০, ২৩/২৬২ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ নিছক সম্মানার্থে কাউকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করা জায়েয। কেননা এটি সৌহার্দ ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। যেমন রাসূল (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের সম্মানার্থে তাঁদেরকে মুমিনদের মা বলে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নবী, মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা-স্বরূপ’ (সূরা আল-আহযাব : ৬; সূরা ইউসুফ : ৯৯-১০০)। অনুরূপভাবে নিজ জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলার কথাও এসেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৩৩; সূরা আল-হজ্জ : ৭৮)। নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ জননী না হয়েও মুমিনদের মাতা। অনুরূপভাবে তিনিও মুমিনদের জনক না হয়েও পিতা।  অন্যদিকে প্রকৃত সন্তান না সত্ত্বেও স্বয়ং নবী (ﷺ) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘হে আমার সন্তান!’ বলে সম্বোধন করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৫১)। সুতরাং যদি কাউকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন করা বা সম্পর্ক ছিন্ন করা না হয়, সেক্ষেত্রে কাউকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করাতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নকারী : সাইফুর রহমান, সিলেট।





প্রশ্ন (২৯) : মসজিদে একই কাতারের বাম পাশ অপেক্ষা ডান পাশে বসা বা ছালাত আদায় করার মধ্যে বিশেষ কোন ফযীলত আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : গ্রামের জুমু‘আর ছালাত হবে না। এই হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : যাদের ঈমান নেই তারাতো চিরকাল জাহান্নামে থাকবে আবার যারা জান্নাতে থাকবে তারাও চিরকাল থাকবে। জাহান্নামের শাস্তিতো অসহনীয় তাহলে জাহান্নামিরা এই শাস্তি অনন্তকাল কীভাবে ভোগ করবে? আল্লাহতো চিরস্থায়ী সত্তা তাহলে জান্নাত-জাহান্নামও চিরস্থায়ী হলে আল্লাহর বিশেষত্ব কোথায়? না-কি এমন হতে পারে অনেক দীর্ঘকাল পরে জান্নাত-জাহান্নামও ধ্বংস হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমরা যখনই কোন ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক আমল করতে যায়, তখনই এক শ্রেণির আলেম ছহীহ আমল করতে বাধা দেন আর বলেন ‘ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৯১)। প্রশ্ন হল- ছহীহ আমল করা কি ফিতনা? আর যদি ফিতনাই হবে, তাহলে রাসূল (ﷺ) কি এমন ফিতনা সৃষ্টি করে গিয়েছেন (নাউজুবিল্লাহ)। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বাম হাতে কোন জিনিস আদান-প্রদান করা কি নাজায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫০) : ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু’-এর ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : হজ্জের সময় মক্কায় প্রবেশ করার পূর্বে যদি তার মাসিক শুরু হয়ে যায়, তাহলে তিনি কী করবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বড় মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক ছোট মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘যে ব্যক্তি বিয়ে করল সে তার দ্বীনদারীর অর্ধেক পূর্ণ করল’। এমন কথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : সন্তান নেশার সাথে জড়িত হলে করণীয় কী? শাসনের জন্য সামাজিক বা প্রশাসনিক সাহায্য নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : একজন কুরআনের হাফেয দশজন বা ততোধিক ব্যক্তিকে জান্নাতে নিতে পারবেন। এই হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : শাসক, লেখক অথবা সরদার না হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সফলকাম হওয়া যায়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ