রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
উত্তর :  এটা প্রতারণা এবং কাবীরা গোনাহের শামিল। নবী করীম (ﷺ) বলেন, ‘কোন লোক যদি নিজ পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অন্য কাউকে তার পিতা বলে দাবী করে, তবে সে আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করল এবং যে ব্যক্তি নিজেকে এমন বংশের সঙ্গে বংশ সম্পর্কিত দাবী করল যে বংশের সঙ্গে তার কোন বংশ সম্পর্ক নেই, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৫০৮, ৩৫০৯, ৬০৩৫)। অন্যত্র বলেন, مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيْهِ وَهُوَ يَعْلَمُ فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে অন্যকে নিজের পিতা বলে দাবী করে, তার জন্য জান্নাত হারাম’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩২৬, ৬৭৬৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৩)। তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতার বংশ পরিচয় বাদ দিয়ে অন্য বংশের হওয়ার দাবি করে অথবা নিজের প্রকৃত অভিভাবক ও পরিবারকে বাদ দিয়ে অন্যের পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করে, তার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবিরাম অভিশাপ বর্ষিত হতে থাকবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৫১১৫, সনদ ছহীহ; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২০/৩৭১-৩৭৩ পৃ.)।

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীছগুলোতে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করার নিষেধাজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, জেনে-শুনে নিজের পিতার বংশ পরিচয় গোপন রেখে অন্যের বংশ পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করা’ (ফাৎহুল বারী, ৬/৫৪১ পৃ.; ঊমদাতুত ক্বারী, ১৬/৮০, ২৩/২৬২ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ নিছক সম্মানার্থে কাউকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করা জায়েয। কেননা এটি সৌহার্দ ও উত্তম শিষ্টাচারের নিদর্শন। যেমন রাসূল (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের সম্মানার্থে তাঁদেরকে মুমিনদের মা বলে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নবী, মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা-স্বরূপ’ (সূরা আল-আহযাব : ৬; সূরা ইউসুফ : ৯৯-১০০)। অনুরূপভাবে নিজ জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলার কথাও এসেছে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৩৩; সূরা আল-হজ্জ : ৭৮)। নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ জননী না হয়েও মুমিনদের মাতা। অনুরূপভাবে তিনিও মুমিনদের জনক না হয়েও পিতা।  অন্যদিকে প্রকৃত সন্তান না সত্ত্বেও স্বয়ং নবী (ﷺ) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘হে আমার সন্তান!’ বলে সম্বোধন করতেন (ছহীহ মুসলিম, হা/২১৫১)। সুতরাং যদি কাউকে বাবা-মা ডাকার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন করা বা সম্পর্ক ছিন্ন করা না হয়, সেক্ষেত্রে কাউকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করাতে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্নকারী : সাইফুর রহমান, সিলেট।





প্রশ্ন (১০) : বদ নযর কি সত্য? আর যদি বদ নযর লেগেই যায়, তাহলে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জিন এবং মানুষের ইবাদতের পার্থক্য কী? জিন জাতির উপরও কি ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতগুলো মানুষের মতই ফরয? তাদের ইবাদতের ধরণ কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মাওলানা আবদুল মতীন বিন হুসাইন প্রণীত ‘জান্নাতের দুই রাস্তা : তাকওয়া ও তওবা’ শীর্ষক বইয়ে ‘আওলিয়াগণ আল্লাহপাকের ‘শানে-মাগফেরাত’-এর তাজাল্লীগাহ’ আলোচনায় বলা হয়েছে, আল্লাহওয়ালারা আল্লাহপাকের ‘ছিফাত‘-এর মাযহার’ তথা আল্লাহপাকের গুণাবলীর প্রকাশস্থল। এই কথার ভেতরে কি শিরক আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক আলেম বলেন, কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর নখ ও চুল না কাটলে সে আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে। তিনি দলীল হিসাবে মিশকাত হা/১৪৭৯ পেশ করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। তবে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। এখন আমরা দুই শায়খের মধ্যে কার তাহক্বীক্বকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং -এর কাজ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মহিলারা কি জানাযা ও কাফন-দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইলম গ্রহণের ক্ষেত্রে সালাফদের মূলনীতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক ব্যক্তির জখম ছিল, সে আত্মহত্যা করল। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা তার প্রাণ নিয়ে আমার সাথে তাড়াহুড়া করল। কাজেই আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৬৪)। প্রশ্ন হল- যেখানে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত হারাম করে দিলেন, সেখানে বলা হয়, ‘সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়’। উক্ত বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৮) : পুরুষের জন্য পরচুলার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): গাযওয়াতুল হিন্দ কখন সংঘটিত হবে? না-কি সেটা সংঘটিত হয়ে গিয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘ইহুদীরা সালাম দেয় আঙ্গুলের ইশারায় আর খ্রিষ্টানরা সালাম দেয় হাতের তালুর ইশারায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ