বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসকের হাতে মুসলিমদের বায়‘আত করা অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ وَسَيَكُوْنُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُوْنَ‏‏ قَالُوْا فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ فُوْا بِبَيْعَةِ الْأَوَّلِ فَالْأَوَّلِ أَعْطُوْهُمْ حَقَّهُمْ فَإِنَّ اللهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا اسْتَرْعَاهُمْ‏‏.‏

‘আমার পরে কোনও নবী‎র আগমন ঘটবে না। বরং খলীফাগণ হবেন এবং তাঁরা সংখ্যায় অনেক হবেন’। তখন ছাহাবীগণ বললেন, ‘তাহলে আপনি (এ ব্যাপারে) আমাদেরকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন’? তিনি বললেন, ‘যার হাতে প্রথম বায়‘আত বা আনুগত্যের শপথ করবে, তাঁরই আনুগত্য করবে এবং তাদেরকে তাদের হক প্রদান করবে। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন ঐ সকল বিষয়ে, যার দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৫৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪২; ইবনু মাজাহ, হা/২৮৭১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৯৬০)। অন্যত্রে ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার যুগ সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়ে তিনি বলেন,

‏تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ فَقُلْتُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ قَالَ‏ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ عَلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ.‏

‘তখন তোমরা মুসলিমদের দল ও তাঁদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে’। আমি বললাম, ‘যদি মুসলিমদের কোন দল ও ইমাম না থাকে’? তিনি বলেন, তখন তুমি তাদের সকল দল-উপদল ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং আমৃত্যু বৃক্ষমূল দাঁতে আঁকড়ে ধরে হলেও দ্বীনের উপর অটল থাকবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৬০৬, ৩৬০৭, ৭০৮৪; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৭; আবূ দাঊদ, হা/৪২৪৪; ইবনু মাজাহ, হা/৩৯৭৯, ৩৯৮১)।

উপরিউক্ত হাদীছে ‘ইমাম’ বলতে ইসলামী খলীফা বা শাসককে বুঝানো হয়েছে  (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৭৩৯)। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইসলামী খলীফা বা আমীরুল মুমিনীন নির্বাচিত হলে সেদিনই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হবে (এবং আনুগত্যের বায়‘আত নিতে হবে)’ (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা, পৃ. ২০-২৩)।

দ্বিতীয়তঃ ইসলামী খলীফা বা মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান ব্যতীত অন্য কোন সাধারণ ইসলামী সংগঠনের নেতা বা আমীরের হাতে বায়‘আত করা নিষিদ্ধ। যেমন শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘মুসলিমদের রাষ্ট্র প্রধান ব্যতীত অন্য কারো হাতে বায়‘আত করা যাবে না। বিভিন্ন সংগঠনের আমীরের হাতে বায়‘আত করা বিদ‘আত। এটিই বিভক্তির মূল কারণ। একই শহর ও দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের উপর অপরিহার্য যে, তাঁদের বায়‘আত একই শাসকের জন্য নির্দিষ্ট হবে। একাধিক বায়‘আত জায়েয নয়’ (আল-মুনতাক্বা ফাতাওয়া শায়খ ছালিহ আল-ফাওযান, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৬৭)।

শায়খ ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘...তবে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান বা মুসলিম দেশের সরকার ছাড়া অন্য কারো হাতে বায়‘আত করা বৈধ নয়। কেননা আমরা যদি প্রত্যেকের পৃথক পৃথক বায়‘আতের কথা বলি, তাহলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হয়ে যাবে এবং প্রত্যেকটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত আমীর সৃষ্টি হবে। মূলত এটিই হচ্ছে বিভক্তি...’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪১-১৪৩, প্রশ্ন নং-৮৭৫ এবং প্রশ্ন নং-২৭, ৫৪, ১৬২ দ্র.)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘সফরে থাকা অবস্থায় আমীর বা দলনেতা নির্বাচন করার দলীল পাওয়া যায়। কিন্তু মুক্বীম অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষের আমীর নির্বাচনের প্রমাণে কোন দলীল পাওয়া যায় না। ... তাই মুক্বীম অবস্থায় আমীর হিসাবে কারো হাতে বায়‘আত করে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের মত তার অনুসরণ করা বিদ‘আত’ (শারহু ছহীহিল বুখারী, পৃ. ৪৮৮-৪৮৯)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘মুক্বীম অর্থাৎ শহর বা দেশে অবস্থান কালে রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁর নিযুক্ত কোন ব্যক্তিই আমীর হবে’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৩তম খণ্ড, পৃ. ৪০২-৪০৩)। শায়খ ছালেহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, البيعة لا تكون إلا لولي أمر المسلمين ‘মুসলিমদের রাষ্ট্রপ্রধান ব্যতীত অন্য কারো হাতে বায়‘আত করা যাবে না’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩৩২০)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘শারহু ছহীহিল মুসলিম’-এর মধ্যে বলেন,

وما ورد في الأحاديث من ذكر البيعة فالمراد بيعة الإمام،...فهذا كله في بيعة الإمام ولا شك

‘হাদীছসমূহের মধ্যে বায়‘আত সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার অর্থ ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বায়‘আত করা...। নিঃসন্দেহে সব হাদীছই মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের বায়‘আতের সাথে সম্পর্কিত (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৪৪, ১৪৫১, ১৮৫৩-এর ব্যাখ্যা দ্র.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-২৩৩২০)। এ মর্মে শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন দল কর্তৃক কাউকে আমীর বানিয়ে তার অনুসরণ করা মারাত্মক ভুল। ওলামায়ে কিরামের উচিত জনসম্মুখে প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা। প্রত্যেকটি জামা‘আত ও সংগঠনের সাথে আলোচনা করা এবং সবাইকে আল্লাহ নির্দেশিত ও রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রদর্শিত সরল পথে চলার আহ্বান করা। যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করবে এবং ব্যক্তিস্বার্থে বা অন্য কোন কারণে নিজের একগুঁয়েমি বজায় রাখবে, তার বিষয়টি জনগণের সামনে প্রকাশ করে দেয়া এবং তাদেরকে তার থেকে সতর্ক করা অপরিহার্য। তাহলে যারা তার সম্পর্কে জানে না, তারা তার থেকে দূরে থাকতে পারবে। ফলে সে কাউকে আল্লাহ নির্দেশিত সরল পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না’ (ইবনু বায, মাজমূউ ফাতাওয়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৩৭)।


প্রশ্নকারী : কামরুল ইসলাম, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : একটি মসজিদের পাশে কবর, মসজিদ এবং কবরের মাঝে দুই থেকে তিন ফিটের একটি রাস্তা আছে, কবরের আলাদা বাউন্ডারি এবং ছাদ আছে। কিন্তু মসজিদ দোতলা করার সময় দোতলার অংশটি পিলার দিয়ে কবরের উপরে করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এই মসজিদে ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমার নামটি জাপানিজ শব্দের। আমি আমার নাম পরিবর্তন করতে চাই। নাম পরিবর্তন করলে আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : জামা‘আতের ছালাতে ইমাম সাহেব জোরে তাকবীর বলা এবং মুক্তাদির নিঃশব্দে তাকবীর বলার দলীল কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যাকাত বা ওশরের টাকা মাদরাসায় দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মহিলার ইমামতিতে তারাবীর ছালাত আদায় করা যাবে কি? মহিলারা ইমাম হয়ে রামাযান মাসে তারাবী বা ঈদের ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : জনৈক ইমাম বলেন, ১০ যিলহজ্জের পরের দিনও অর্থাৎ ১১ যিলহজ্জও আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মাফলার বা হুডি পরে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ছালাত অবস্থায় মোবাইলে রিংটোন বাজলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : একজন সরকারি চাকরি করে প্রতি মাসে বেতন পায়। কিছু টাকা খরচ করে এবং কিছু জমায়। এখন সে কিভাবে যাকাত হিসাব করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ইসলামী শরী‘আতে বিবাহের পদ্ধতি কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ‘ঈমান ও ইসলাম’-এর অর্থ ও পার্থক্য কী? এতোদুভয়ের মধ্যে কোন্টি আগে গ্রহণ করা মানুষের জন্য প্রয়োজন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ