বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত বিবাহ বাতিল। বিবাহের জন্য শর্ত হল- ইসলামিক রীতি-নীতি অনুযায়ী কন্যার সম্মতি, মুসলিম অভিভাবকের অনুমতি, দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতি, প্রচার এবং মুস্তাহাব খুত্ববার পর পাত্রের ক্ববুলের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা (ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম, ১০/৬৮ পৃ.)। কুমারী অথবা বিধবা উভয়ের ক্ষেত্রেই অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ হালাল হবে না (মুখতাছার খালীল, পৃ. ৯৬; আশ-শারহুল কাবীর, ২/২২০; রওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ৭/৫০; কাশশাফুল কিনা‘, ৫/৪৮; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৩৯ পৃ.)। আর এ বিষয়ে ছাহাবীগণের মধ্যে কোন মতপার্থক্য ছিল না’ (কিতাবুল আওসাত্ব, ৮/২৬৮ পৃ.; তিরমিযী হা/১১০২)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এবং যখন তোমরা স্ত্রীদের (রাজয়ী) ত্বালাক্ব দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পূর্ণ করে, তখন তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তাহলে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে পুনর্বিবাহ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩২)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘(তাদেরকে বাধা দিও না) শব্দ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তারা অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করতে পারবে না। আর যদি কারোর অভিভাবক না থাকে, তাহলে অন্য কেউ তার অভিভাবক হয়ে বিবাহ দেবে’ (লিক্বাউশ শাহরী, লিক্বা নং ৭৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘(ইসলাম ধর্মে) বিশ্বাস না করা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সাথে (তোমাদের কন্যার) বিবাহ দিয়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর’ (সূরা আন-নিসা : ২৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও’ (সূরা আন-নূর : ৩২)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে পুরুষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। যেন তারা তাদের অধীনস্ত মহিলাদের বিবাহ দিয়ে দেয়। এখানে কোন মহিলাকে সম্বোধন করা হয়নি’ (তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১৬৪; ফাৎহুল বারী, ৯/১৮৭ পৃ.)।

নবী (ﷺ) বলেছেন, لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ ‘অভিভাবক ছাড়া কোন বিয়ে হতেই পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; তিরমিযী, হা/১১০১; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১, সনদ ছহীহ)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মহিলা তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করলে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। আর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করলে, সে স্বামীর নিকট মোহরানার অধিকারী হবে, তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করার জন্য। যদি উভয় পক্ষের (অভিভাবকদের) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নেই তার অভিভাবক শাসক’ (তিরমিযী, হা/১১০২; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৪০; সনদ ছহীহ, মিশকাত, হা/ ১৩৩১)।

আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং কোন মহিলা নিজেকেও বিবাহ দিবে না’ (ইবনু মাজাহ্, হা/১৮৮২; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল, হা/ ১৮৪১)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, বিবাহে ওয়ালী বা অভিভাবক শর্ত। ওয়ালী ব্যতীত বিবাহ সম্পাদিত হবে না (নাইলুল আওত্বার, ৬/১৪৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : হাসান মোল্লা, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (২৭) : মানুষের একথা বলা যে, যদি এ কুকুর না থাকত তবে রাত্রে চোর আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ত, যদি হাঁস বাড়ীতে না থাকত তবে চুরি হয়ে যেত, কারও একথা বলা যে, যা আল্লাহ চান ও আপনি চান, যদি আল্লাহ না হতেন অমুক না হতো ইত্যাদি জাতীয় কথা বলা কি শিরকের অন্তর্ভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০): আল্লাহর পবিত্র নাম ও কুরআনের আয়াত আছে এরকম বই বা ইসলামিক পাঠ্যপুস্তক কেজি দরে অন্যান্য সাধারণ বইয়ের মত বিক্রি করা কি কুফরী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : তাহাজ্জুদ পড়ার পরে ফজরের সময় হওয়ার আগেই যদি কেউ ফজরের সুন্নাত পড়ে ফেলে তাহলে তা ছহীহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ বললেন, কদ্‌র তথা তাক্বদীর সম্পর্কে লিখ। সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল (আবূ দাঊদ, হা/৪৭০০; মিশকাত, হা/৯৪)। এ হাদীছ দ্বারা প্রথম সৃষ্টি কোন্টি, তা কিভাবে বুঝব? কারণ প্রথম সৃষ্টি তার আগে যা ছিল তা লিখেছে। সুতরাং প্রথম সৃষ্টি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কেউ যদি কারো গীবত, নিন্দা, সমালোচনা করে ফেলে এবং পরে যদি সে অনুতপ্ত হয় যে, আমি ঠিক করিনি। তখন যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে যদি সে ক্ষমা চাইতে চায়, কিন্তু যার গীবত করেছে তাকে যদি না পায়, তাহলে আল্লাহর কাছে সে কিভাবে ক্ষমা চাইবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যে ব্যক্তি ছালাত ছেড়ে দিল সে শিরক করল। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ছালাতে অবহেলাকারীদের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার সমস্যা সমাধান করার কোন উপায় আছে কি? অর্থাৎ আমি যখন নির্দিষ্ট কোন সূরা খুব খুশুর (মনোযোগের) সাথে পড়ি কিছুদিন গত হওয়ার পর আমি অনুভব করি যে, আমার সেই খুশু দুর্বল হয়ে গেছে। যেন আমার অন্তর অর্থ বুঝা ও অনুবাধন করার বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এটাকেই যথেষ্ট হিসাবে গ্রহণ করেছে। অনুরূপ অবস্থা অন্য দু‘আগুলো পড়ার ক্ষেত্রেও ঘটে। এর কোন সমাধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ঈদের দিনে কুরবানীর পশুর রক্ত ঝরানোর চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পসন্দনীয় কোন আমল নেই। সে ক্বিয়ামত দিবসে উক্ত পশুর শিং, খুর, লোম প্রভৃতি নিয়ে উপস্থিত হবে এবং তার রক্ত যমীনে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর নির্ধারিত মর্যাদার স্থানে পতিত হয়। অতএব তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কুরবানী কর’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মেয়েদের বাচ্চা প্রসবের পর সাধারণত ৪০ দিন নাপাক থাকে এবং ছালাত, ছিয়াম ও কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকে। প্রশ্ন হল- এই সময় তারা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত বা স্মরণ করবে? সরাসরি কুরআন না পড়ে মোবাইল ধরে তাতে কুরআন পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত ফরয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ