রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
উত্তর : উক্ত বিবাহ বাতিল। বিবাহের জন্য শর্ত হল- ইসলামিক রীতি-নীতি অনুযায়ী কন্যার সম্মতি, মুসলিম অভিভাবকের অনুমতি, দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতি, প্রচার এবং মুস্তাহাব খুত্ববার পর পাত্রের ক্ববুলের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা (ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম, ১০/৬৮ পৃ.)। কুমারী অথবা বিধবা উভয়ের ক্ষেত্রেই অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ হালাল হবে না (মুখতাছার খালীল, পৃ. ৯৬; আশ-শারহুল কাবীর, ২/২২০; রওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ৭/৫০; কাশশাফুল কিনা‘, ৫/৪৮; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৩৯ পৃ.)। আর এ বিষয়ে ছাহাবীগণের মধ্যে কোন মতপার্থক্য ছিল না’ (কিতাবুল আওসাত্ব, ৮/২৬৮ পৃ.; তিরমিযী হা/১১০২)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এবং যখন তোমরা স্ত্রীদের (রাজয়ী) ত্বালাক্ব দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পূর্ণ করে, তখন তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তাহলে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে পুনর্বিবাহ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩২)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘(তাদেরকে বাধা দিও না) শব্দ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তারা অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করতে পারবে না। আর যদি কারোর অভিভাবক না থাকে, তাহলে অন্য কেউ তার অভিভাবক হয়ে বিবাহ দেবে’ (লিক্বাউশ শাহরী, লিক্বা নং ৭৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘(ইসলাম ধর্মে) বিশ্বাস না করা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সাথে (তোমাদের কন্যার) বিবাহ দিয়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর’ (সূরা আন-নিসা : ২৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও’ (সূরা আন-নূর : ৩২)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে পুরুষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। যেন তারা তাদের অধীনস্ত মহিলাদের বিবাহ দিয়ে দেয়। এখানে কোন মহিলাকে সম্বোধন করা হয়নি’ (তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১৬৪; ফাৎহুল বারী, ৯/১৮৭ পৃ.)।

নবী (ﷺ) বলেছেন, لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ ‘অভিভাবক ছাড়া কোন বিয়ে হতেই পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; তিরমিযী, হা/১১০১; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১, সনদ ছহীহ)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মহিলা তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করলে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। আর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করলে, সে স্বামীর নিকট মোহরানার অধিকারী হবে, তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করার জন্য। যদি উভয় পক্ষের (অভিভাবকদের) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নেই তার অভিভাবক শাসক’ (তিরমিযী, হা/১১০২; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৪০; সনদ ছহীহ, মিশকাত, হা/ ১৩৩১)।

আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং কোন মহিলা নিজেকেও বিবাহ দিবে না’ (ইবনু মাজাহ্, হা/১৮৮২; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল, হা/ ১৮৪১)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, বিবাহে ওয়ালী বা অভিভাবক শর্ত। ওয়ালী ব্যতীত বিবাহ সম্পাদিত হবে না (নাইলুল আওত্বার, ৬/১৪৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : হাসান মোল্লা, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (১১) : পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহর কাছে মাছির ডানা সমতুল্য নয়, তাহলে আল্লাহর  শাস্তি এত কঠোর কেন? মাথায় এমন প্রশ্ন আসলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : দোকানের চতুর্দিকে অনেক ছবি আছে। এমন স্থানে ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ফী নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা বৈধ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : প্রচলিত আছে যে, রাসূল (ﷺ)-এর যে নিয়মে চুল রাখতেন সেই নিয়মকে ‘বাবরী চুল’ বলা হয়। আসলে ‘বাবরী চুল’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : নমরূদ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনে নিক্ষেপ করলে আগুন ফুলবাগানে পরিণত হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : নিজেকে সংশোধনের উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : হারাম ভক্ষণকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শ্বশূর বাড়ির আত্মীয়রা আমাদের সাথে হিংসা করে। আমি তাদের অনেক উপকার করলেও তারা আমাদের ভালো চায় না। বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়। এই অবস্থায় তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে কি পাপ গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কটুক্তি করার প্রতিবাদে যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তারা কি শহীদ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : যদি কোন ব্যক্তি কোন পাপ করে এবং সেই মুহূর্তে মনে করে বা অনুভব করে যে ‘এতে কোন দোষ নেই’, কিন্তু পরে বুঝতে পারে ও স্বীকার করে যে এটি আসলে পাপ ছিল- তাহলে এটি কি কুফরি হিসাবে গণ্য হবে? এবং এমন অবস্থার জন্য কীভাবে তাওবা (অনুতাপ) করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩): তুরস্কের অধিবাসীদের আক্বীদা কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আম বা যেকোন ফলের গাছ ২/৫ বছরের চুক্তিতে অগ্রিম বিক্রি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ