রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত বিবাহ বাতিল। বিবাহের জন্য শর্ত হল- ইসলামিক রীতি-নীতি অনুযায়ী কন্যার সম্মতি, মুসলিম অভিভাবকের অনুমতি, দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতি, প্রচার এবং মুস্তাহাব খুত্ববার পর পাত্রের ক্ববুলের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা (ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম, ১০/৬৮ পৃ.)। কুমারী অথবা বিধবা উভয়ের ক্ষেত্রেই অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ হালাল হবে না (মুখতাছার খালীল, পৃ. ৯৬; আশ-শারহুল কাবীর, ২/২২০; রওযাতুত্ব ত্বালিবীন, ৭/৫০; কাশশাফুল কিনা‘, ৫/৪৮; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২১/৩৯ পৃ.)। আর এ বিষয়ে ছাহাবীগণের মধ্যে কোন মতপার্থক্য ছিল না’ (কিতাবুল আওসাত্ব, ৮/২৬৮ পৃ.; তিরমিযী হা/১১০২)।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘এবং যখন তোমরা স্ত্রীদের (রাজয়ী) ত্বালাক্ব দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পূর্ণ করে, তখন তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তাহলে স্ত্রীগণ নিজেদের স্বামীদেরকে পুনর্বিবাহ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দিও না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩২)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘(তাদেরকে বাধা দিও না) শব্দ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, তারা অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করতে পারবে না। আর যদি কারোর অভিভাবক না থাকে, তাহলে অন্য কেউ তার অভিভাবক হয়ে বিবাহ দেবে’ (লিক্বাউশ শাহরী, লিক্বা নং ৭৬)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘(ইসলাম ধর্মে) বিশ্বাস না করা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষের সাথে (তোমাদের কন্যার) বিবাহ দিয়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘সুতরাং তোমরা তাদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর’ (সূরা আন-নিসা : ২৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিবাহ দিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও’ (সূরা আন-নূর : ৩২)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) ও হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে পুরুষ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে। যেন তারা তাদের অধীনস্ত মহিলাদের বিবাহ দিয়ে দেয়। এখানে কোন মহিলাকে সম্বোধন করা হয়নি’ (তাফসীরে কুরতুবী, ৩/১৬৪; ফাৎহুল বারী, ৯/১৮৭ পৃ.)।

নবী (ﷺ) বলেছেন, لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ ‘অভিভাবক ছাড়া কোন বিয়ে হতেই পারে না’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৮৫; তিরমিযী, হা/১১০১; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৮১, সনদ ছহীহ)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মহিলা তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করলে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। আর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করলে, সে স্বামীর নিকট মোহরানার অধিকারী হবে, তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করার জন্য। যদি উভয় পক্ষের (অভিভাবকদের) মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নেই তার অভিভাবক শাসক’ (তিরমিযী, হা/১১০২; আবূ দাঊদ, হা/২০৮৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৭৯; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৮৪০; সনদ ছহীহ, মিশকাত, হা/ ১৩৩১)।

আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মহিলা অপর কোন মহিলাকে বিবাহ দিবে না এবং কোন মহিলা নিজেকেও বিবাহ দিবে না’ (ইবনু মাজাহ্, হা/১৮৮২; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল, হা/ ১৮৪১)। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছগুলো প্রমাণ করে যে, বিবাহে ওয়ালী বা অভিভাবক শর্ত। ওয়ালী ব্যতীত বিবাহ সম্পাদিত হবে না (নাইলুল আওত্বার, ৬/১৪৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : হাসান মোল্লা, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ভালো কথা না শুনলে কিংবা ছালাত আদায় না করলে নিজের আপন বোনকে ত্যাজ্য বোন করা যাবে কি? শরী‘আতে বোনকে ভাই কর্তৃক এবং ভাইকে বোন কর্তৃক ত্যাজ্য করার কোন বিধান আছে কি? পিতা-মাতা কি তাদের সন্তানকে ত্যাজ্য করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : দোকানে বিড়ি-সিগারেট ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বেই আযান দিলে আযান শুদ্ধ হবে কি? এক্ষেত্রে করণীয় কী?. - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে স্ত্রীর নামে কোন সম্পত্তি বা বাড়ী লিখে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ছিয়াম অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে ইনহেইলার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইক্বামতে ‘ক্বাদ ক্বা-মাতিছ ছালাহ’-এর জবাবে ‘আক্বা-মাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪): প্রচলিত আছে যে, ‘৭০ বছর বয়স হলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কোন পাপ ফেরেশতারা লিখেন না’। উক্ত দাবী কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি অবিবাহিত মেয়ে। ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম মাখি কিন্তু কাউকে ঠকানোর জন্য নয়। প্রশ্ন হল- এমনটা করা যাবে কি এবং এটি করলে আমার ইবাদত কবুল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আছরের ছালাতে যদি ইমামের সাথে দুই রাক‘আত পায়, তবে বাকী দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোন সূরা পড়তে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ওয়াহহাবী কারা? এটা কি কোন মাযহাব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতের শেষ বৈঠকে ভুল করে তাশাহহুদ পাঠ করার পর দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ