রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : তারতীলসহ ধীরস্থিরতার সাথে তেলাওয়াত করে তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করা ভাল। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতমের বিষয়টি প্রমাণিত নয়। কারণ নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাত্র তিনদিন জামা‘আত সহকারে ক্বিয়ামুল লাইল কিংবা তারাবীহর ছালাত আদায় করেছিলেন। তবে তিনি এক রাক‘আতেই সূরা আল-বাক্বারাহ, সূরা আন-নিসা ও সূরা আলে ‘ইমরান পড়ে (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭২) বরং লম্বা ক্বিরায়াত ও খতমে কুরআনের দিকেই ইঙ্গিত করে গেছেন। তাছাড়া রামাযান মাসে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও জিবরীল (আলাইহিস সালাম) একে অপরকে কুরআন শুনাতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭; মুসলিম হা/৩২০৮)। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তো এই লম্বা ক্বিরাআতে ক্লান্ত হয়ে ভেবেই বসেছিলেন যে, তিনি বসে যাবেন নতুবা এই ছালাতই ছেড়ে দিবেন (ছহীহ বুখারী, হা/১১৩৫; ছহীহ মুসলিম,  হা/৭৭৩)।

তারাবীহতে সালাফগণ কত চমৎকারভাবে কুরআন খতম করতেন তা ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন (জালাউল আফহাম, পৃ. ৪০২-৪০৩)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ফযল ইবনু যিয়াদ আহমাদ ইবনু হান্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করব, না-কি বিতরের ছালাতে? প্রতুত্তরে তিনি বললেন, তারাবীহর ছালাতে’ (আল-মুগনী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৬)।

খতমে তারাবীহ সম্পর্কে শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ধীরস্থিরতার সাথে শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তা করে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতম তারাবীহ পড়া ভালো। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) পসন্দ করতেন যে,  রামাযান মাসে ইমাম মুক্তাদীদের পুরো কুরআন শুনাবে। এ আমল সালাফে ছালিহীনের যুগ থেকে চলে আসছে। কিন্তু একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা ও ধীরস্থিরতাকে ত্যাগ করে, দ্রুতগতিতে তুফানের বেগে তিলাওয়াত করে, খতম না করাই উত্তম’ (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৩৩১-৩৩৩)।

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তারাবীহতে কুরআন খতম করা ইমামের প্রতি ওয়াজিব নয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন ‘তোমাদের জন্য যা সহজসাধ্য তাই পাঠ কর’ (সূরা আল-মুযযাম্মিল : ২০)। অতঃপর  তিনি বলেন, ‘যদি ইমাম তারাবীহর ছালাতে এই উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করে যে, তার পিছনে অংশগ্রহণকারী মুছল্লীবৃন্দ মহান আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কিতাব শ্রবণ করবে তবে তা অতি উত্তম হবে’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ১৬১/১৬)। উল্লেখ্য, তারাবীহর ছালাত জামা‘আত সহকারে আদায় করা উত্তম (তিরমিযী, হা/৮০৬;, আবূ দাঊদ, হা/১৩৭৫, সনদ ছহীহ; ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব, প্রশ্ন নং-৪৮৯৫৭ )।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, বগুড়া।





প্রশ্ন (২০) : আল্লাহ তা‘আলাকে রব হিসাবে মানা বলতে কী বুঝায়? মক্কার কাফেররা কি আল্লাহ তা‘আলাকে রব্ব হিসাবে মেনে নিয়েছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোনটা নফসের ধোঁকা আর কোনটা শয়তানের ধোঁকা এটা কিভাবে বুঝা যাবে? নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার পথ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য কুকুর পালন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বগলের পশম ও নাভীর নিচের পশম কত দিন পর কাটতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুনূতে নাযেলা পড়ার সময় আমীন আমীন বলা যাবে কি? কুনূতে নাযেলার সাথে কুরআন বা হাদীছের অন্যান্য দু‘আ পড়া কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কখন এবং কোন্ দান সর্বোত্তম? দান কবুল হওয়ার প্রতিবন্ধকতাগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : যদি কোন ব্যক্তি নতুন বাড়িতে ওঠে এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লোকজনকে দাওয়াত করে খাওয়ায়, তাহলে জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : তৃতীয় সিজারের সময় ডাক্তাররা মহিলার নাড়ি উল্টিয়ে দেয়। কারণ ৪র্থ সন্তান আসলে মহিলার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : জনৈক ব্যক্তি রাগের বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীকে বলে যে, আমার সাথে দেখা করলে কিংবা আমার সাথে কথা বললে ‘তুই আমার মা আর আমি তোর ছেলে’। তারা ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। এক্ষণে তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : বিবাহ করে আমল করলে দ্বিগুন ছওয়াব পাওয়া যায় এই কথা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) মনে মনে কুরআন তেলাওয়াত করলে ছওয়াব পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ