রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
উত্তর : তারতীলসহ ধীরস্থিরতার সাথে তেলাওয়াত করে তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করা ভাল। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতমের বিষয়টি প্রমাণিত নয়। কারণ নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাত্র তিনদিন জামা‘আত সহকারে ক্বিয়ামুল লাইল কিংবা তারাবীহর ছালাত আদায় করেছিলেন। তবে তিনি এক রাক‘আতেই সূরা আল-বাক্বারাহ, সূরা আন-নিসা ও সূরা আলে ‘ইমরান পড়ে (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৭২) বরং লম্বা ক্বিরায়াত ও খতমে কুরআনের দিকেই ইঙ্গিত করে গেছেন। তাছাড়া রামাযান মাসে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও জিবরীল (আলাইহিস সালাম) একে অপরকে কুরআন শুনাতেন (ছহীহ বুখারী, হা/৬, ১৯০২, ৩২২০, ৩৫৫৪, ৪৯৯৭; মুসলিম হা/৩২০৮)। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তো এই লম্বা ক্বিরাআতে ক্লান্ত হয়ে ভেবেই বসেছিলেন যে, তিনি বসে যাবেন নতুবা এই ছালাতই ছেড়ে দিবেন (ছহীহ বুখারী, হা/১১৩৫; ছহীহ মুসলিম,  হা/৭৭৩)।

তারাবীহতে সালাফগণ কত চমৎকারভাবে কুরআন খতম করতেন তা ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন (জালাউল আফহাম, পৃ. ৪০২-৪০৩)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেন যে, ফযল ইবনু যিয়াদ আহমাদ ইবনু হান্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করব, না-কি বিতরের ছালাতে? প্রতুত্তরে তিনি বললেন, তারাবীহর ছালাতে’ (আল-মুগনী, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৯৬)।

খতমে তারাবীহ সম্পর্কে শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ধীরস্থিরতার সাথে শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ চিন্তা করে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতম তারাবীহ পড়া ভালো। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) পসন্দ করতেন যে,  রামাযান মাসে ইমাম মুক্তাদীদের পুরো কুরআন শুনাবে। এ আমল সালাফে ছালিহীনের যুগ থেকে চলে আসছে। কিন্তু একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা ও ধীরস্থিরতাকে ত্যাগ করে, দ্রুতগতিতে তুফানের বেগে তিলাওয়াত করে, খতম না করাই উত্তম’ (ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৩৩১-৩৩৩)।

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালেহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তারাবীহতে কুরআন খতম করা ইমামের প্রতি ওয়াজিব নয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন ‘তোমাদের জন্য যা সহজসাধ্য তাই পাঠ কর’ (সূরা আল-মুযযাম্মিল : ২০)। অতঃপর  তিনি বলেন, ‘যদি ইমাম তারাবীহর ছালাতে এই উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করে যে, তার পিছনে অংশগ্রহণকারী মুছল্লীবৃন্দ মহান আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কিতাব শ্রবণ করবে তবে তা অতি উত্তম হবে’ (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ দার্ব, ১৬১/১৬)। উল্লেখ্য, তারাবীহর ছালাত জামা‘আত সহকারে আদায় করা উত্তম (তিরমিযী, হা/৮০৬;, আবূ দাঊদ, হা/১৩৭৫, সনদ ছহীহ; ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব, প্রশ্ন নং-৪৮৯৫৭ )।


প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, বগুড়া।





প্রশ্ন (১৫) : যে ব্যক্তি রাসূলের উপর দরূদ পাঠ করতে ভুলে যাবে, সে জান্নাতের পথ ভুলে যাবে’। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিয়ের সময় পাত্র পক্ষের কাছে থেকে মসজিদ ও সমাজ খরচ হিসাবে পাত্রী পক্ষের মোড়লেরা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আদায় করে থাকেন। পাত্রী পক্ষের দেয়ার ক্ষমতা না থাকলে হেনস্তা বা অপমান করা হয়। এভাবে টাকা নেয়া শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জুমু‘আর পূর্বে কত রাক‘আত এবং পরে কত রাক‘আত ছালাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : যাদুমন্ত্রের প্রতিরোধক হিসাবে যাদু করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতে সূরা ফাতিহা কিংবা অন্য কোন দু‘আ পড়ার সময় যদি মাখরাজ বা তাজবীদে ভুল হয়, তাহলে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯): নগদ অর্থের যাকাত হিসাব করার পদ্ধতি কী? ধরুন আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা আছে। এই অর্থের উপর এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই সম্পদে যাকাতের পরিমাণ কতটুকু? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : হায়েযগ্রস্ত নারী ক্বদরের রাতগুলো কিভাবে জাগবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি ওয়েব সাইট ডেভলপার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মৌলিকভাবে এসব কাজ হারাম না। তবে স্পষ্ট হারাম যেমন সূদ ভিত্তিক ব্যাংক, মাদক, জুয়া, যৌনতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে যেকোন ওয়েব সাইটের কাজ করলে কি তা হালাল হবে? এছাড়া কোন্ কোন্ বিষয়ের সংমিশ্রণ হলে ইনকাম হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জুম‘আর দিন চুপ থেকে খুত্ববাহ শুনলে ৭ কোটি ৭ লক্ষ ৭০ হাযার নেকী হবে। উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘ইহুদীরা সালাম দেয় আঙ্গুলের ইশারায় আর খ্রিষ্টানরা সালাম দেয় হাতের তালুর ইশারায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : জুম‘আর দিন কবর যিয়ারত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ