বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা এবং তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। তাই আপনার উচিত দ্রুত তওবাহ করা এবং বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা, আমলে ছালিহ, ছালাত আদায় ও ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তবে যারা তওবা করে, বিশ্বাস আনয়ন করে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ৬৮-৭০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বোহা : ৮২)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সূদী ঋণগ্রহীতার উপর অপরিহার্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করা। নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এই ধ্বংসাত্মক ও মহাপাপে পুনরায় লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। অতঃপর সৃদী ঋণের মূলধন পরিশোধ করা আপনার উপর অপরিহার্য। পক্ষান্তরে হারাম সূদ পরিশোধ করা অপরিহার্য নয় এবং আপনার কাছ থেকে সূদ গ্রহণ করা ঋণদাতার জন্য হারাম হবে। কিন্তু যদি অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তাওবাহ ও ঘৃণার সাথে সূদসহই ঋণ পরিশোধ করবেন (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬০১৮৫)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির উপর অপরিহার্য যে, সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করবে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে সে ব্যাংককে সূদ ব্যতীত শুধু মূলধন পরিশোধ করবে। আর যদি ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ সূদ ছাড়তে রাজি না হয় তাহলে সূদসহ ঋণ পরিশোধ করবে। আর সূদী ঋণ দ্বারা যা কিছু ক্রয় করেছে তা বিক্রয় করা অপরিহার্য নয় এবং সে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির মাধ্যমে ধীরস্থিরতার সাথে ঋণ পরিশোধ করবে (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৬৫২৬১, ৯৫০০২)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি গোনাহের সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তাওবাহ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যেমন (১) পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। (২) কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরিউক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছালিহীন, পৃ. ১৪-২২, ‘তাওবাহ’ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য, তাওবাহ কবুলের প্রথম শর্তে আমরা জানতে পারলাম যে, ‘পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

কিন্তু কিস্তি হিসাবে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে দু’টি সমস্যা হতে পারে। ১- প্রচেষ্টা করার পরও সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করতে সামর্থ্যবান না হওয়া। ২- চাইলেও এক সঙ্গে সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা না থাকা। সুতরাং আপনি যেহেতু উপরিউক্ত সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার তাওবাহ ক্ববুল করবেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮৬)। কিন্তু যদি সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও ঋণ পরিশোধ করে নিজেকে সূদ থেকে মুক্ত না করেন, সেক্ষেত্রে কিন্তু তাওবাহ বিশুদ্ধ হবে না এবং স্বাভাবিক ভাবেই আপনি গুনাহগার হবেন।


প্রশ্নকারী : ইমরান শাহ, রংপুর।





প্রশ্ন (৬) : আমি একজন সিএনজি চালক। দিনের বেলায় যে জায়গার ভাড়া ২০ টাকা- রাতের বেলায় সে একই জায়গায় অনেক চালক ৪০ টাকা নিয়ে থাকে। এভাবে রাতে ভাড়া বাড়ানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে কাকে দাওয়াত দেয়া বেশি উত্তম? আলেমগণকে, না গরীব-মিসকীনদেরকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইলিয়াসী তাবলীগের এক ব্যক্তি বলেন, নাফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হল, বড় জিহাদ। আর যুদ্ধের মাঠে কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ছোট জিহাদ। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : পরীক্ষার হলে অন্য সহপাঠী পরীক্ষার্থী যদি প্রশ্নের উত্তর ইচ্ছা করে বলে দেয় অথবা হলে শিক্ষকরা উত্তর বলে সাহায্য করে দেন তাহলে প্রতারণ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : স্বামী থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী যদি অন্যজনের সাথে মেলা-মেশা করে, তাহলে ইসলামী শরী‘আতে তার বিধান কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : আযানের সময় মাথায় কাপড় দেয়ার কোন গুরুত্ব আছে কী? না দিলে পাপ হবে কি?  - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : নকশাযুক্ত টাইলস্ বা এ জাতীয় কিছু মসজিদের ফ্লোরে লাগানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হিন্দু বিয়েতে গিফট দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদের কাতারের মাঝে পিলার থাকলে ঐ কাতারে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : দুগ্ধদানকারিণী মা ছিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে কি? ভঙ্গ করলে কখন তা পূরণ করবে, না-কি ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আপেল ভিনেগার যদি বাড়িতে আপেল দিয়ে তৈরি করা হয়। সেটা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সূরা নিসার ৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে’। আর হাদীছে আছে, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান আছে সে একদিন জান্নাতে যাবে’। চিরকাল মানে অনন্তকাল বোঝায়। প্রশ্ন হল- এক জায়গায় বলা হচ্ছে চিরকাল জাহান্নামে যাবে আর এক জায়গায় বলা হচ্ছে যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এই দু’টি কি বিরোধী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ