বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা এবং তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সবাই সমান (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। তাই আপনার উচিত দ্রুত তওবাহ করা এবং বেশি বেশি ক্ষমাপ্রার্থনা, আমলে ছালিহ, ছালাত আদায় ও ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করা। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তবে যারা তওবা করে, বিশ্বাস আনয়ন করে ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-ফুরক্বান : ৬৮-৭০)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বোহা : ৮২)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সূদী ঋণগ্রহীতার উপর অপরিহার্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করা। নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এই ধ্বংসাত্মক ও মহাপাপে পুনরায় লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা। অতঃপর সৃদী ঋণের মূলধন পরিশোধ করা আপনার উপর অপরিহার্য। পক্ষান্তরে হারাম সূদ পরিশোধ করা অপরিহার্য নয় এবং আপনার কাছ থেকে সূদ গ্রহণ করা ঋণদাতার জন্য হারাম হবে। কিন্তু যদি অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তাওবাহ ও ঘৃণার সাথে সূদসহই ঋণ পরিশোধ করবেন (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৬০১৮৫)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির উপর অপরিহার্য যে, সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ করবে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে সে ব্যাংককে সূদ ব্যতীত শুধু মূলধন পরিশোধ করবে। আর যদি ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ সূদ ছাড়তে রাজি না হয় তাহলে সূদসহ ঋণ পরিশোধ করবে। আর সূদী ঋণ দ্বারা যা কিছু ক্রয় করেছে তা বিক্রয় করা অপরিহার্য নয় এবং সে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির মাধ্যমে ধীরস্থিরতার সাথে ঋণ পরিশোধ করবে (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৬৫২৬১, ৯৫০০২)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি গোনাহের সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তাওবাহ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যেমন (১) পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। (২) কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। (৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরিউক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছালিহীন, পৃ. ১৪-২২, ‘তাওবাহ’ অনুচ্ছেদ)। উল্লেখ্য, তাওবাহ কবুলের প্রথম শর্তে আমরা জানতে পারলাম যে, ‘পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

কিন্তু কিস্তি হিসাবে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে দু’টি সমস্যা হতে পারে। ১- প্রচেষ্টা করার পরও সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করতে সামর্থ্যবান না হওয়া। ২- চাইলেও এক সঙ্গে সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার ব্যবস্থা না থাকা। সুতরাং আপনি যেহেতু উপরিউক্ত সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনার তাওবাহ ক্ববুল করবেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৮৬)। কিন্তু যদি সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও ঋণ পরিশোধ করে নিজেকে সূদ থেকে মুক্ত না করেন, সেক্ষেত্রে কিন্তু তাওবাহ বিশুদ্ধ হবে না এবং স্বাভাবিক ভাবেই আপনি গুনাহগার হবেন।


প্রশ্নকারী : ইমরান শাহ, রংপুর।





প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে ছালাত না পড়ে বসলে কোন গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ব্যবসায়ে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় শপথ করা যাবে কি? যদিও তা সত্য হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জান্নাতী ব্যক্তি কি অন্য জাহান্নামী ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করতে পারবেন? কারণ জান্নাতে যা চাইবে তাইতো পাওয়া যাবে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : ঈদের রাতে ইবাদত করার কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : জনৈক ইমাম বলেন, যে ব্যক্তি ক্বদরের রাত্রে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে এবং প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর ২১ বার করে সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ন্যায় করে দিবেন। আর তার জন্য জান্নাতে এক হাজার মনোরম বালাখানা তৈরি করা হবে (আশরাফ আলী থানবী, পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা, পৃঃ ৩০৯)। উক্ত মর্মে ছহীহ কোন বর্ণনা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : বর্তমানে ছোট বাচ্চাদের পোশাক মানেই বিভিন্ন প্রাণীর কার্টুনযুক্ত পোশাক। এরূপ ছবি ও কার্টুনযুক্ত পোশাক বাচ্চাদের পরানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা বলেন, নবীজি (ﷺ) হাজির নাযির। তারা দলীল দেয় যে, ‘যখনই যে কেউ আমাকে সালাম করেন তখনই আল্লাহ আমার রূহকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, যেন আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি’। তাহলে নবী (ﷺ) কি কবরে জীবিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : সূদী ব্যাংকে চাকুরী করে সেই টাকা দিয়ে ইফতারী খাওয়ানো এবং কাউকে গিফট দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জুমু‘আর খুৎবাহ বসে বসে দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক ব্যক্তি রাগ সংবরণ করতে না পেরে তার স্ত্রীকে মাঝে মাঝেই এক ত্বালাক্ব দুই ত্বালাক্ব, তিন ত্বালাক বলে উল্লেখ করত। পরক্ষণে আবার স্বাভাবিক হত এবং পূর্বের অবস্থায় সংসার চলত। প্রশ্ন হল, তাদের মাঝে কি তালাক সংঘটিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মেয়েদের বাচ্চা প্রসবের পর সাধারণত ৪০ দিন নাপাক থাকে এবং ছালাত, ছিয়াম ও কুরআন পড়া থেকে বিরত থাকে। প্রশ্ন হল- এই সময় তারা কিভাবে আল্লাহর ইবাদত বা স্মরণ করবে? সরাসরি কুরআন না পড়ে মোবাইল ধরে তাতে কুরআন পড়তে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত পেশ করবে সে জাহান্নামে যাবে। যুগ যুগ ধরে মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসীর করতে কুরআন, হাদীছ, ছাহাবী, তাবেঈদের উক্তির পাশাপাশি নিজ চিন্তা, গবেষণা ও মত প্রকাশ করেন। তাহলে হাদীছে নিজ মত প্রকাশ করা বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ