রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন
উত্তর : দুই স্ত্রী ও তিন কন্যার নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশে ‘আছাবাহ’ সূত্রে দুই ভাই ও এক বোন অংশীদার হবেন। কন্যাদের অংশ : এক্ষেত্রে কন্যারা মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পাবে। যেমনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘কিন্তু দু’এর অধিক কন্যা থাকলে, তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর মাত্র একটি কন্যা থাকলে, তার জন্য অর্ধাংশ’ (সূরা আন-নিসা : ১১)। তাহলে এখানে তিন কন্যা পাবে সমস্ত মালের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ (৭৫স্ট৩ =২৫) মানে ৫০ শতাংশ। এবার ঐ ৫০ শতাংশ তিন কন্যার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করতে হবে। তাহলে প্রত্যেকে (৫০স্ট৩)=১৬.৬৭ শতাংশ করে পাবে।

স্ত্রীদের অংশ : সন্তানের উপস্থিতিতে স্ত্রী পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যা ওয়াছিয়্যাত কর তা কার্যকর ও ঋণ পরিশোধ করার পর’ (সূরা আন-নিসা : ১২)। অর্থাৎ যদি স্বামী মারা যায় এবং তার কোন সন্তান না থাকে, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াসিয়্যাত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি মৃত স্বামীর সন্তান থাকে, এ স্ত্রীর গর্ভজাত হোক কিংবা অন্য স্ত্রীর, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াসিয়্যাত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা এক-অষ্টমাংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও উপরোক্ত বিবরণ অনুযায়ী এক অংশ সকল স্ত্রীর মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রীই যে এক-চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশ পাবে তা নয়, বরং সবাই মিলে এক-চতুর্থাংশ কিংবা এক-অষ্টমাংশে অংশীদার হবে। তাহলে এখানে দুই স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ (৭৫স্ট৮) অর্থাৎ ৯.৩৭৫ শতাংশ পাবে। এবার ৯.৩৭৫ শতাংশকে দুই স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করলে (৯.৩৭৫স্ট২) একেকজন ৪.৬৯ শতাংশ করে পাবে।

স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তাদের অন্যান্য ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তবে প্রথমে দেখা উচিত যে, স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা হয়েছে কি-না, যদি না হয় তবে অন্যান্য ঋণের মতই প্রথমে মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে মোহরানা পরিশোধ করার পরে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। মোহরানা পরিশোধ করার পর যদি মৃত স্বামীর সম্পত্তি অবশিষ্ট না থাকে, তবে অন্যান্য ঋণের মত সম্পূর্ণ সম্পত্তি মোহরানা বাবদ স্ত্রীকে সমর্পণ করা হবে এবং কোন ওয়ারিশই অংশ পাবে না। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭২১, ৫১৫১; ছহীহ মুসলিম হা/১৪১৮; মুসনাদে আহমাদ, ১৭৩০৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৮/৩১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৮৫৫)।

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘সা’দ ইবনু রাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী সা‘দের ঔরসজাত তাঁর দুই কন্যাসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! এরা সা’দ ইবনু রাবীর দুই মেয়ে। এদের বাবা উহুদের যুদ্ধে আপনার সাথে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন। এদের সমস্ত ধন-সম্পদ এদের চাচা নিয়ে নিয়েছে, এদের জন্য সামান্য কিছুও রাখেনি। এদের কোন ধন-সম্পদ না থাকলে এদের বিয়েও তো হবে না। তিনি বললেন, এ বিষয়টি আল্লাহ তা’আলাই সমাধান করে দিবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মীরাছ বন্টন বিষয়ক আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাদের চাচাকে রাসূল (ﷺ) ডেকে এনে বললেন, সা‘দের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ সম্পত্তি দিয়ে দাও, তারপর যেটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার’ (তিরমিযী, হা/২০৯২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৯১)। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ‘আছবাহ’ অর্থাৎ সবচেয়ে নিকটাত্মীয় উত্তরাধিকারী হিসাবে ভাই ও বোনের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং বোনেরা ভাইদের অর্ধেক পাবে (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৩৫৯৭৬৪)। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ ‘আর যদি ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান। তোমরা পথভ্রষ্ট হবে এ আশংকায় আল্লাহ তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছেন এবং আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সবিশেষ অবহিত’ (সূরা আন-নিসা : ১৭৬)। তাহলে এখন অবশিষ্ট ১৫.৬২৫ অংশের মধ্যে থেকে একজন বোন পাবে ৩.১২৫ শতাংশ। আর দুই ভাই পাবে ৬.২৫ শতাংশ করে।


প্রশ্নকারী : জিয়াউল হক, পাঁচদোনা, নরসিংদী।





প্রশ্ন (২১) : মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ছালাত আদায় করে না। এমন ব্যক্তিকে মসজিদের কমিটিতে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বিভিন্ন এলাকায় মানুষ মারা গেলে বাড়ি থেকে জানাযার স্থানে নেয়ার সময় চল্লিশ কদম পর্যন্ত গণনা করা হয়। প্রতি দশ কদম পর পর খাটিয়া বহনকারী লোকদের পরিবর্তন করা হয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : হজ্জ ও ওমরাতে যাওয়া উপলক্ষে সমস্ত আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের মানুষকে দাওয়াত দিয়ে ব্যাপক আকারে খাবার অনুষ্ঠান করা ও তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : মসজিদ, ওয়ায মাহফিলের সভাপতি ও প্রধান অতিথি হওয়ার শর্তে দান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সহশিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ কি হালাল? এই রকম শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ‘যারা এই দুনিয়ায় অন্ধ তারা আখেরাতেও অন্ধ থাকবে’ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : এক ব্যক্তি প্রতি মাসে আমার বিকাশে হাজারে বিশ টাকাসহ টাকা পাঠায়। কিন্তু আমি প্রায় এজেন্ট নাম্বার দিয়ে টাকা ওঠালে আমার খরচ পড়ে চৌদ্দ টাকা পঞ্চাশ পয়সা। বাকী ৫ টাকা ৫০ পয়সা আমার কাছে থেকে যায়। এই টাকাগুলো আমি খরচ করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনিচ্ছাকৃত সূদের অংশ পেলে তা কী করব? নিকট গরিব আত্মীয়দের মাঝে ছাওয়াবের আশা ব্যতীত সূদের টাকা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : সুন্নাত ছালাত সমূহ দুই দুই রাক‘আত করে পড়তে হবে, না-কি এক সালামে চার রাক‘আত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জুমু‘আর ছালাত ছাড়া কোন ছালাত আদায় করে না। এমন বন্ধু বা আত্মীর সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : টিকটিকির লালা কি নাপাক? উক্ত লালা কোন কাপড়ে লেগে গেলে তা-কি নাপাক হয়ে যায় এবং নাপাক কাপড় পরে অন্য কোন নাপাক কাপড় ধরলে কি ঐ কাপড়ও নাপাক হয়ে যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : অমুসলিম পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ