বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হেজবতু তওহীদ একটি ভ্রান্ত ফের্কা। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন বায়াজীদ খান পন্নী। তিনি করোটিয়া, টাঙ্গাইলের পন্নী পরিবারে ১৯২৫ সনের ১১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার।

এই ফের্কার প্রধান টার্গেট এবং সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেন সকল আলেম সমাজ। তাদের সকল বক্তব্য ও লেখনির মূল কথা হল- আলেম সমাজই বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ লোক। এরাই ইসলামকে বিকৃত করেছে। এই আলেম সমাজের হাত থেকে রক্ষার জন্য ‘এমামুয যামান’ (পন্নী) এর আনুগত্য করতে হবে। তারা যুবতী মেয়েদেরকে তাদের প্রচার কাজে ব্যবহার করে থাকে। নিম্নে তাদের বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাস উল্লেখ করা হল-

(ক) তারা মনে করে, মানুষের ভিতরে আছে আল্লাহ্র রূহ, আল্লাহর আত্মা, এজন্য মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ জীব (আসুন-সিস্টেমটাকেই পাল্টাই, পৃ. ১১)। (খ) ‘দ্বীনের মূলনীতি হল জেহাদ ও কেতাল (সংগ্রাম ও সশস্ত্র সংগ্রাম)। এই দুই মূলনীতি যদি মূলনীতি হিসাবে না থাকে তবে বাকি আর যা কিছু আছে সবই বৃথা ও অর্থহীন’ (এসলামের প্রকৃত রূপরেখা, পৃ. ২৯)। (গ) ছালাত হচ্ছে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণ করার ট্রেনিং কোর্স (প্রাগুক্ত)। (ঘ) মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রেসালাত পূর্ণ করতে পারেননি (আকিদা, পৃ. ১২)। (ঙ) তারা মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাওয়াতকে সশস্ত্র সংগ্রাম হিসাবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ব্যাখ্যানুযায়ী নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন এবং একদল সশস্ত্র যোদ্ধা বাহিনী তৈরি করেছেন। এমনকি এই সশস্ত্র সংগ্রামকে তারা সুন্নাহ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে (প্রাগুক্ত, পৃ. ১২-১৩)। (চ) তারা বর্তমানে অনুসরণীয় ইসলামকে অস্বীকার করে বলে, ‘বর্তমানে সারা দুনিয়ায় এসলাম হিসাবে যে ধর্মটি চালু আছে সেটি আল্লাহর দেয়া প্রকৃত এসলাম নয়, বরং প্রকৃত এসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত (আল্লাহ্র মো‘জেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা, পৃ, ১০)। (ছ) তারা বলে, প্রকৃত ইসলামকে তাদের ইমাম মু‘জেযার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ‘গত ২ ফেব্রুয়ারী, ২০০৮ তারিখে হেযবুত তওহীদ ও তাঁর এমামকে সত্যায়ন করার জন্য আল্লাহ নিজে ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ডের মধ্যে অন্তত আটটি মো‘জেজা সংঘটিত কোরলেন’ (আল্লাহ্র মো‘জেজা হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা, পৃ. ১০-১৪)। (জ) তারা মনে করে, আল্লাহ সত্যায়ন কোরেছেন যে, আমাদের এমামুয্যামান তাঁরই মনোনীত সত্য এমাম। হেযবুত তওহীদ যেমন হক্ব, তেমনি তাঁর এমামও হক্ব’ (প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫)। (ঝ) তারা তাদের ইমামের বক্তব্যকে সরাসরি আল্লাহ্র কথা বলে দাবি করে (প্রাগুক্ত, পৃ. ২৫-২৬)। (ঞ) তারা তাদের ইমামের বক্তব্যকে কুরআনের সাথে তুলনা করে (প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৪)। (ট) তারা দাবি করে যে, হেযবুত তওহীদের জনৈক ভক্ত আল্লাহকে দেখেছেন (প্রাগুক্ত, পৃ. ৮৬)। (ঠ) তারা দাজ্জাল সংক্রান্ত হাদীছগুলোকে রূপক অর্থে গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ ফ-এর সুন্নাতকে অস্বীকার করে থাকে (প্রাগুক্ত, পৃ. ৬, ১১)। (ড) তারা ইমাম মাহদী-এর আগমনকে অস্বীকার করে (প্রাগুক্ত, পৃ. ১২)।

উক্ত আক্বীদাসমূহ সবই ভ্রান্ত। যেগুলো ইসলামের অপব্যাখ্যা ও মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তার বর্হিপ্রকাশ মাত্র। যা সালাফে ছালেহীনের বুঝের বিপরীত বুঝ। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে ইসলামকে বিকৃত করেছে। সুতরাং হেযবুত তওহীদের শয়তানী প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা প্রতিটি মসুলিমের ঈমানী দায়িত্ব।


প্রশ্নকারী : হাফিযুর রহমান, দিনাজপুর।




প্রশ্ন (১০) : ‘তোমরা হজ্জ ও উমরাহ পরপর একত্রে পালন কর। কেননা এ দু’টি (হজ্জ ও উমরাহ) দারিদ্র্য ও গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন কামারের হাপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর হজ্জে মাবরূরের বিনিময় জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : অপবিত্র অবস্থায় কুরআন বা হাদীছ অডিও শুনা যাবে কি? অথবা মোবাইলে দেখে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ফজরের ওয়াক্ত পুরো সময় বায়ু বের হয় এমনকি মাঝে মধ্যে ওযূতেও বায়ু বের হয়। অন্য ওয়াক্তে মাঝে মাঝে এমনটি হয়। এখন উক্ত ব্যক্তি কি মা‘যূর? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬): মাতাল বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ত্বালাক্ব দিলে, ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : পিতা-মাতার কর্মের কারণে সন্তান পঙ্গু অবস্থায় জন্ম নেয়। এমন বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বহু ব্যবসায়ী খাবারে বিষাক্ত কেমিক্যাল বা ভেজাল মিশিয়ে ব্যবসা করছে। এদের পরিণাম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যারা নিজেকে ‘আহলে কুরআন’ দাবী করে বলে, আমরা কেবল কুরআন মানব, হাদীছ মানব না। এমন ব্যক্তিদেরকে কাফির বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : কিছু বাড়ি আছে যেখানে কল এবং গৃহস্থালির বাসনপত্র সোনার তরল দিয়ে প্রলেপ দেয়া আছে, সেগুলো নেয়া এবং ব্যবহার করা কি হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : একজন মহিলা হয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতার চাকুরী করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ইসলাম বলতে কী বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : যাকাতের টাকা কি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের (যারা গরীব, বেতনের টাকা দিয়ে চলতে কষ্ট হয়) তাদের দেয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কোন্ কোন্ উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ