বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ‘পিতা-মাতার দু‘আ আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দেন না’ মর্মে বক্তব্য সঠিক (আবূ দাঊদ, হা/১৫৩৬; তিরমিযী, হা/১৯০৫, ৩৪৪৮; ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৬২; সনদ হাসান, ছহীহুল জামে‘, হা/৩০৩১)। তবে মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির কোন কল্যাণ বা উপকার করতে পারে না। বরং তাঁরাই জীবিত ব্যক্তির দু‘আর মুখাপেক্ষী। তাই সন্তান হিসাবে তাঁদের জন্যই দু‘আ করতে হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৩১; আবূ দাঊদ, হা/২৮৮০)। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের কবুলযোগ্য দু‘আ থেকে বঞ্চিত হলেও আপন খালার সেবা এবং তার সাথে সদাচরণের মাধ্যমেও কবুলযোগ্য দুআ প্রাপ্তির অধিকারী হওয়ার আশা করা যায়। আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, الَخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ ‘খালা মায়ের ন্যায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৯, ৪২৫১; আবূ দাঊদ, হা/২২৮০; মিশকাত, হা/৩৩৭৭)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّيْ أَصَبْتُ ذَنْبًا عَظِيْمًا فَهَلْ لِيْ مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ؟ قَالَ لَا قَالَ لَكَ مِنْ خَالَةٍ؟ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَبِرَّهَا.

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি একটি খুব জঘন্য পাপ করেছি, আমার জন্য তওবার কোন ব্যবস্থা আছে কি? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা আছে কি? লোকটি বলল, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কোন খালা আছে কি? লোকটি বলল, হ্যাঁ। তখন নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যাও, তাঁর খেদমত কর (তিরমিযী, হা/২০২৭; মিশকাত, হা/৪৯৩৫; সনদ ছহীহ, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২৫০৪; তুহফাতুল আহওয়াযী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২৬)। এছাড়া বেশি বেশি ছিয়াম পালনে অভ্যস্ত হওয়া এবং ছিয়াম অবস্থায় দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয়। আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ لَا تُرَدُّ دَعْوَةُ الْوَالِدِ وَدَعْوَةُ الصَّائِمِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ.

‘তিনজনের দু‘আ ফিরিয়ে দেয়া হয় না। সন্তান-সন্ততির জন্য পিতা-মাতার দু‘আ, ছিয়াম পালনকারীর দু‘আ এবং মুসাফির ব্যক্তির দু‘আ’ (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৬১৮৫; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৭৫৭)।


প্রশ্নকারী : হাফীযুর রহমান, সিরাজগঞ্জ।





প্রশ্ন (২২) : কোন জরুরী কারণে মুক্বীম অবস্থায় ছালাত জমা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পিতা-মাতার দিকে রহমতের নযরে তাকালে একটি কবুল হজ্জের ছওয়াব পাওয়া যায়। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : যে রুমে কুরআনের মাছহাফ রাখা আছে সে রুমে স্ত্রী সহবাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কেউ যদি কবিরাজ দ্বারা টাকার বিনিময়ে জাদু করায়, তাহলে সে কি কাফির হয়ে যায়? শরী‘আতে জাদুর বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : জনৈক ছাহাবী রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বিনীতভাবে বললেন, দুনিয়া আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ তিনি দারিদ্র্যের কথা বলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি সেই তাসবীহ মুখস্থ করনি, যা ফেরেশতাদের তাসবীহ এবং এর বরকতে রিযিক প্রদান করা হয়? এই দুনিয়ার চাহিদা তোমার কাছে প্রচুর পরিমাণে আসবে। প্রতিদিন ভোরবেলা তথা সুবহে ছাদিকের পর এই তাসবীহটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ুন। তাসবীহটি হল- ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি, সুবহা-নালল্ল-হিল আযীম ওয়াবিহামদিহি এবং আস্তাগফিরুল্লাহ’। অতঃপর সাতদিন পর, সেই একই ছাহাবী আবার এলেন এবং বিনীতভাবে বললেন, হে আল্লাহ রাসূল (ﷺ)! দুনিয়া (সম্পদ) আমার কাছে এত বেশি পরিমাণে আসছে যে আমি জানি না কিভাবে বহন করতে হবে বা কোথায় রাখব। আমি একেবারে বিস্মিত যে, এটা দিয়ে কী করা যায়’ (লিসানুল মীযান, ৪/৩০৪ পৃ., হা/৫১০০)। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং বলে, যা তোকে ছেড়ে দিলাম, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব বলে তিনবার উচ্চারণ করে। ভুল বুঝতে পেরে পরে ক্ষমা চায়। উক্ত ত্বালাক্ব কি সাব্যস্ত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সরকারি চাকরিজীবীরা কল্যাণ পদ্ধতিতে (কল্যাণ ফান্ড/কল্যাণ তহবিল) প্রতি মাসে বেতন থেকে টাকা রাখেন, এবং চাকরি শেষে সেই টাকায় সরকার অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে ফেরত দেয়- এটা কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আমার চাচা আমার সামনে আমার মাকে গালিগালাজ করে। তাই আমি আল্লাহর কসম করে বলি যে, সে মারা গেলে তার জানাযায় আমি যাব না। এ রকম কসম করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : জনৈক বক্তা বলেছেন, দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। দাজ্জাল অচিরেই আগমন করবে। এভাবে বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ